দেশের পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা বন্ধ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:০৮ এএম

গত দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই হিসাব শিল্প পুলিশ ও উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর। কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব এবং সে কারণে উৎপাদন সক্ষমতা কমে আসা। এমন পরিস্থিতিতে আরও অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।


উদ্যোক্তা ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, কারখানা বন্ধের কারণে বহু শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। শুধু পোশাক খাতেই কাজ হারিয়েছেন দেড় লাখ শ্রমিক। অন্যান্য খাত হিসাবে নিলে এ সংখ্যা অনেক বড় হবে।


শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার প্রভাবে রপ্তানি আয়ও কমছে। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আগের অর্থছরের চেয়ে ১ শতাংশের মতো কমেছে। আর রপ্তানি আয় কমেছে আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। 


পাশাপাশি এই সময়ে নতুন রপ্তানি আদেশ কমেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ উপাত্ত বলছে, গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে। 


শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অভিঘাত বলছেন অর্থনীতিবিদরা। গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এত শিল্পকারখানা বন্ধ থাকা এবং আরও বড় সংখ্যক কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে থাকা দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য অনেক বড় অভিঘাত। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। 


তাঁর মতে, সরকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করলেও অনেক শিল্পকারখানাই এখন আর উৎপাদনে ফেরার মতো অবস্থায় নেই। কিছু কারখানার জন্য টাকাই যথেষ্ট নয়। তাদের জন্য ‘এক্সিট পলিসি’ নেওয়া যেতে পারে। আর প্রণোদনায় প্রাণ ফিরবে এমন কারখানায় পরিচালন পুজি জোগান ও গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিকের একটু ভালো রাখার জন্য শিল্প এলাকায় ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা দরকার। 


কাজ হারিয়েছেন দেড় লাখ শ্রমিক


ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন ট্রেড ইউনিয়নের একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। ১৩০টি দেশে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার মনে করেন, দুই বছরে বন্ধ কারখানার প্রকৃত সংখ্যা ৫০০ নয়, এর দ্বিগুণ হবে। 


বড় কারখানার বাইরে ছোট কারখানা বন্ধ হলে সরকারি সংস্থা বা বাহিনী তা নথিভুক্ত করে না। তাঁর দাবি, গত দু্‌ই বছরে শুধু পোশাক খাতেই দেড় লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। 


উদ্যোক্তা ও শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব এবং উৎপাদন সক্ষমতা কমে আসা। কিছু কারখানার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা ও সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারা বন্ধ হওয়ার কারণ। আন্তর্জাতিক কারণের মধ্যে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে জ্বালানিসহ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা; রাশিয়া, ইউক্রেনের যুদ্ধের অভিঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং এর জেরে বিশ্ববাণিজ্যের ওলট-পালট পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী চাহিদা। 


পরিসংখ্যান কী বলে 


শিল্প পুলিশের হিসাবে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছরে ৪৫৭টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে ১৭০টি। বাকি ২৮৭টি পোশাকবহির্ভূত। বন্ধ হওয়ার তালিকায় তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১০৮টি, নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর কারখানা ৩৫টি, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর কারখানা আটটি। বাকি ১৯টি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজার অধিভুক্ত কারখানা। 


তবে শিল্প পুলিশের তথ্যের সঙ্গে পোশাক ও বস্ত্র খাতের তিন সংগঠনের তথ্যের ফারাক রয়েছে। বিজিএমইএর উপাত্ত বলছে, দুই বছরে সংগঠনের ২২১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। 


এর মধ্যে গত বছর সর্বাধিক ১৪১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। আগের বছর ২০২৪ সালে বন্ধ হয় ৭৭টি কারখানা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জোন মিলে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা এখন ২ হাজার ১২৭টি। 


শিল্পাঞ্চলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট


গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। চাহিদার তুলনায় সাভার ও আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর সরবরাহ প্রায় ৪০ শতাংশ কম। ফলে লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়। 


অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জেনারেটর চালাতে হয়। সে ক্ষেত্রেও গ্যাস ও ডিজেল চাহিদামতো না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের ডজন খানেক স্টিল রি-রোলিং মিল এবং সিরামিক কারখানা গ্যাসের চাপ সংকটের কারণে তাদের চুল্লি ঠিকমতো চালু রাখতে পারছে না।


আরও কারখানা ঝুঁকিতে


বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বন্ধ হওয়া দুই শতাধিক কারখানার বাইরে আরও দুই শতাধিক কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। কারখানাগুলো এখন আংশিক সচল। যে কোনো সময় এগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার আগ্রহ দেখানো এই ৪০০ কারখানার সক্ষমতা যাচাইয়ে দুটি অডিট ফার্মকে এরই মধ্যে কাজ দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলো পরিদর্শন করে বিজিএমইএর কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে তারা। অডিট ফার্মগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে বিজিএমইএ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তালিকা দিয়ে ঋণ সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানাবে। 


বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘যদি আমাকে ৫০০ বার প্রশ্ন করেন, শিল্পের জন্য কী চান? প্রতিবারই আমি বলব নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ।’ গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে ঋণ সহায়তা দিয়ে শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না।’


বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সদস্য ২৩৪টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। অবশ্য এই হিসাব ২০১৯ সাল থেকে গতকাল পর্যন্ত। বন্ধ কারখানার মধ্যে ১১৪টি স্পিনিং অর্থাৎ সুতা উৎপাদনের কারখানা। বন্ধ থাকা বাকি কারখানাগুলো কাপড় তৈরি, ডায়িং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিংয়ের। বন্ধ হওয়ার পর বিটিএমএর কারখানার সংখ্যা এখন ১ হাজার ৮৬৯টি। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সম্প্রতি জানিয়েছেন, তাঁরই পাঁচটি স্পিনিং মিল বন্ধ রয়েছে। 


বিটিএমএ সূত্র জানিয়েছে, কারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ১২১ কারখানায় আংশিক উৎপাদনে রয়েছে। সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হচ্ছে কারখানাগুলোতে। বিজিএমইএর এ মুহূর্তে আংশিক সচল কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৩২১টি। আংশিক চালু কারখানাগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। 


আশুলিয়ার লিটিল স্টার স্পিনিং মিল দীর্ঘদিন ধরে সক্ষমতার ৫০ শতাংশ কম উৎপাদন করছে। মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খোরশেদ আলম বলেন, তাঁর কারখানায় গ্যাসের চাপ থাকার কথা ১০ পিএসআইজি। অথচ বেশির ভাগ দিনই ১ বা ২ পিএসআইজির বেশি থাকে না। এ কারণে মেশিন চালু করা যায় না। কোনো রকমে সক্ষমতার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। 


রপ্তানি আদেশ কমছে


রপ্তানি আদেশের পরিস্থিতি বোঝা যায় ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন- ইউডির উপাত্তে। রপ্তানি আদেশ পাওয়ার পর পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি করে থাকে কারখানাগুলো। আদেশে উল্লিখিত পোশাকের পরিমাণ অনুযায়ী কাঁচামালের প্রয়োজনীয়তার সনদ হচ্ছে ইউডি। এ সনদ সরকারের পক্ষে পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ দিয়ে থাকে।


উপাত্তে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি ইউডি সংখ্যা ও অর্থমূল্যে ব্যাপক হারে কমেছে। গত বছরের মার্চ মাসে ইউডির সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৬৯৭টি। অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৫ কোটি ডলার। এ বছরের মার্চে ইউডি কমে হয়েছে ২১ হাজার ৪৪১টি। অর্থমূল্য ২০০ কোটি ডলারের কিছু কম। 


গত বছরের এপ্রিলে ইউডির সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৪৮৮টি। এর বিপরীতে পণ্যের অর্থমূল্য ছিল ২৩৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এ বছরের এপ্রিলে ইউডি ছিল ২৭ হাজার ৫১৫টি। অর্থমূল্য ২৮৫ কোটি ডলারের কম। গত বছরের মে মাসে ইউডি ছিল ২৬ হাজার ৫৪১টি। অর্থের পরিমাণ ২২৭ কোটি ডলার।


এ বছরের একই মাসে ইউডি কমে হয় ২৬ হাজার ৬৮টি। অর্থমূল্য কমে দাঁড়ায় ২৫৪ কোটি ডলার। গত বছরের জুনে ছিল ১৮ হাজার ৩৭২টি। অর্থের পরিমাণ ছিল ২২৭ কোটি ডলারের বেশি, যা গেল জুনে হয়েছে ১৭৯ কোটি ডলার। 



সর্বশেষ সব খবর

রুমিন ফারহানা, মির্জা আব্বাস ও ওসমান ফারুক (ওপরে বাঁ থেকে) মোস্তফা কামাল পাশা, আবুল হাসান ও গাজী নজরুল ইসলাম (নিচে)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন ভোট দেননি। এর মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন।


বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক ও খেলাফত মজলিসের আবুল হাসানও ভোট দিতে আসেননি। আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাঁর দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের জানিয়েছেন। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।


আদালতের আদেশের কারণে চট্টগ্রাম–৬ আসনের ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে ওই আসনের বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। ফলে বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারীসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।


ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই নির্বাচন অর্থহীন এবং প্রহসনের। ভোট না দেওয়ার পক্ষে তিনি তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন। 


তিনি বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’


বৃহস্পতিবার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’



ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।’


তৃতীয় কারণকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?’


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। এ ছাড়া নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। তবে একবার শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেই নির্বাচনে আবার অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।


ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন। কারণ হিসেবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় এই নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন। তবে পরে ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সব খবর

সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫১ পিএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। অন্য প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন।


জয়ের পর সংসদে বিপুল করতালিতে অভিনন্দিত হয়েছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। নির্বাচনী কর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের ফল ঘোষণা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 


ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পর্যায়ক্রমে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। 


বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।


দুপুরে ভোটগ্রহণ শুরু হলে প্রথমে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।


সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপা ব্যালট পেপারে ভোট দেন ভোটাররা। সংসদ অধিবেশনের কক্ষে তিনটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ভোট দেন তারা। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করবেন।


৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।



রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছে। এর আগে টানা কয়েকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৬ পিএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোট হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার; যদিও এটি অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ, বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে ভোটের হিসাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই রাষ্ট্রপতি হয়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন, তা একপ্রকার নিশ্চিতই।


আজ বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে ভোট গ্রহণ চলবে। সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ আদালতের নির্দেশে বাতিল রয়েছে।


এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ। ১১-দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।


সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যা ২৪৭। অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের মোট সদস্য ৯০ জন। অন্যরা স্বতন্ত্র, বিএনপি জোটের শরিক এবং ইসলামী আন্দোলনের সদস্য।


রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁর নামেই রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 


তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত রাষ্ট্রপ্রধানের, সরকারপ্রধানের নয়। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটির মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব যতটা, নির্বাহী ক্ষমতা ততটা নয়। এখন অনেকের কৌতূহল, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু এবং তিনি কী কী সুবিধা পান?


সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। পদ ছাড়ার পরও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কিছু সুবিধা পান।


দুটি নিয়োগে রাষ্ট্রপতি স্বাধীন


সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীন ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এর একটি হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্যটি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এ বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।


সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কে সরকার গঠন করতে পারবেন, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে বাধ্য নন। সংবিধান তাঁকে এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ক্ষমতা দিয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পেশ করতে অনুরোধ জানালে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না এবং দিয়ে থাকলে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে সম্পর্কে কোনো আদালত কোনো প্রশ্নের তদন্ত করতে পারবেন না।


ক্ষমা করার বিশেষ ক্ষমতা


রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন; যদিও সংসদীয় ব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির অন্যান্য দায়িত্বের মতো এ ক্ষমতার প্রয়োগ সরকারের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে।


দায়িত্ব পালনে দায়মুক্তি


রাষ্ট্রপতির পদটির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সাংবিধানিক দায়মুক্তি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। তাঁর কার্যকাল চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাঁকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না।


তবে এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্রপতিকে কোনোভাবেই পদ থেকে সরানো যায় না। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁকে অভিশংসন করা যায়। আবার শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাঁকে পদ থেকে অপসারণের বিধান রয়েছে।


সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হলে সংসদের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংসদে বিবেচিত হয়। রাষ্ট্রপতির অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকে। অভিযোগ বিবেচনার পর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।


শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের ক্ষেত্রেও প্রায় একইভাবে সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করে রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। এরপর দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যায়।


বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য নজির হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা নেই।


মেয়াদ পাঁচ বছর, সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ


রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরপর এবং সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেন।


রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য থাকেন না। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়। এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। পরে সেই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়, তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আগে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য নন।


আজকের ভোটে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। এ জন্য তিনি ভোটের সময় সংসদের সভাকক্ষে থাকতে এবং ভোট দিতে পারবেন না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিতে পারবেন।


যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন


বর্তমান সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাঁকে নির্বাচিত করেন। একজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং আরেকজন তা সমর্থন করেন।


একজন প্রার্থী থাকলে এবং তাঁর মনোনয়ন বৈধ হলে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সমান ভোট হলে সংবিধান অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।


একাধিক প্রার্থী থাকায় ৩৫ বছর পর আজ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হলেন নির্বাচনী কর্তা।


বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আয়করমুক্ত


ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার বিপরীতে রাষ্ট্রপতির পদটির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বেশ বিস্তৃত। রাষ্ট্রপতি কী সুযোগ-সুবিধা পান, তা বলা আছে দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্টে। রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বেতন আয়করমুক্ত। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বেতন বাড়ানো হয়। আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকলে তিনি কোনো সরকারি সুবিধা পান না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি অবসর বা পদত্যাগের পরও কিছু সরকারি সুবিধা পান।


রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্যও বার্ষিক ভাতা রয়েছে। এই ব্যয়ের নিরীক্ষা করা হয় না।


রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন নির্ধারিত। এর সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রপতির সরকারি যাতায়াতের জন্য গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধাও সরকার দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতি সরকারি কাজে বিদেশ সফরে গেলে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পান।


স্বেচ্ছাধীন তহবিল বছরে দুই কোটি টাকা


রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাধীন তহবিল। বছরে এ তহবিলের পরিমাণ দুই কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ অর্থ ব্যয় করা যায়।


এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।


রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্য বিমাসুবিধাও রয়েছে। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এর পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ টাকা।


অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির বেতন ছাড়াও বাসভবন, গাড়ি, চিকিৎসা, বিদেশ সফরের ভাতা, আপ্যায়ন, বিমানভ্রমণের বিমাসহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য বিস্তৃত সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।


রাষ্ট্রপ্রধান, কিন্তু সরকারপ্রধান নন


বাংলাদেশের সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির পদটির মূল বৈশিষ্ট্য এখানেই-তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ব্যক্তি, কিন্তু সরকারের প্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।


ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর আনুষ্ঠানিক মর্যাদা ও বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতাকে আলাদা করে দেখা জরুরি। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে অধিকাংশ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও তৈরি করেছে।


এ কারণে জাতীয় নির্বাচন বা বড় রাজনৈতিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির পদটি নতুন করে আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সংসদে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে রাষ্ট্রপতির সেই বিবেচনামূলক পরিসর অনেকটাই সীমিত থাকে।


সুতরাং রাষ্ট্রপতির পদটি একদিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার সাংবিধানিক পদ, অন্যদিকে সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাকলেও এখনো পর্যন্ত তা হয়নি।


রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। 


গত মাসে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এভাবে সংবিধান রাষ্ট্রপ্রধানের পদটির ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

বঙ্গভবন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ। ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ গ্রহণ করবেন।


জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ তথ্য জানান। গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি জানান।  


দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হচ্ছে। এর আগে টানা কয়েকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত পরিবেশন, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।


এ ছাড়া, সরকারি কর্মসূচির আওতায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয় এবং ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।


বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হবে। এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষ্যে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

কলেরা ক্যাম্পেইন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় প্রায় ৫২ লাখ মানুষকে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা দেয়ার কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ক্যাম্পেইন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এক বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে এ টিকা দেয়া হচ্ছে।


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির আওতায় ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানার প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দফায় তাদের টিকা দিতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার ডোজ।


কর্মসূচির আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শের-ই-বাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও; মুন্সীগঞ্জ সদর; কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল; নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর।


সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এসব এলাকা কোনো অনুমানের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়নি। বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগুলোকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, অতীতে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্ক থাকা জরুরি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে দ্রুত জীবনহানি ঘটতে পারে। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি কলেরা প্রতিরোধে টিকাও গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য উপকরণ।


তিনি আরও বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং বিভিন্ন এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় ভবিষ্যতে ১৪৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় এ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিটির ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব হাবিবুর রহমান খান এবং আইসিডিডিআর,বির গবেষক ফিরদউসী কাদরী।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

সর্বশেষ সব খবর