জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচনের ঘোষণা করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের এ তারিখ ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
জাতির উদ্দেশে ভাষণে কী বললেন সিইসি
১২ মিনিটের ভাষণে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি সিইসি। একইসঙ্গে জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতির শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার শান্তির দোয়া করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার সব আন্দোলনে যারা আহত নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি জানাই আমার আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং স্বাভাবিক জীবনের জন্য প্রার্থনা করছি।
সিইসি বলেন, জাতি হিসেবে আমাদের অমোঘ শক্তি হচ্ছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের জন্য আমাদের ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ। জাতির প্রত্যাশাকে ধারণ করে আমাদের সংবিধান রাষ্ট্রের উপর জনগণের একচ্ছত্র মালিকানা নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল মালিকানা প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হচ্ছে নির্বাচন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে মানসম্মত নির্বাচনের অনুপস্থিতি প্রায়শই আমাদের ঐতিহ্য এবং সামষ্টিক প্রত্যাশাকে ম্লান করেছে।
নাসির উদ্দিন বলেন, এমনই এক প্রেক্ষাপটে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। আমাদের ভাই-বোন সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের অঙ্গীকার হচ্ছে, একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠান, যা জাতি হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং বিশ্ব-দরবারে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারা একই প্রত্যাশা ধারণ করেন এবং একই অঙ্গীকারে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
দেশবাসীর উদ্দেশে ভোটের পথে কমিশনের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত এক বছরে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ভোট বিমুখ এবং বাদ পড়া প্রায় ৪৫ লাখ ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লক্ষাধিক মৃত ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিইসি বলেন, নারী ভোটারদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তির অভাবে পুরুষের সাথে নারী ভোটারের ব্যবধান বেড়ে প্রায় ২৯ লাখে গিয়ে দাঁড়ায়। বাদ পড়া নারী ভোটারদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সেই ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।
আইন সংশোধন করে ভোটার যোগ্যতার তারিখ প্রতি বছর পয়লা জানুয়ারির পরিবর্তে কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত দিনে নির্ধারণ করার কথা বলেন তিনি। বলেন, এসব কাজ সম্পন্ন করার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন ভোটারের তালিকা চূড়ান্ত করার কথা জানান সিইসি। বলেন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪২ জন।
নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহিতা বাড়াতে বহুবিধ আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার শেষ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধিতে যথাযথ পরিবর্তন সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
সিইসি আরও বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব মূল্যায়ন ও অংশীজনের পরামর্শের ভিত্তিতে এসব সংস্কার করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য আমি অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনসহ সব অংশীজনদের জানাই আমার কৃতজ্ঞতা।
চার কারণে এবারের নির্বাচনকে ‘জাতির ইতিহাসে অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ’ হিসাবে অভিহিত করে তিনি বলেন, প্রথমত, প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কাঙ্খিত সংস্কার প্রশ্নে সিদ্ধান্তের নির্বাচন এটি। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে, যা একটি নতুন অভিজ্ঞতা।
দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রীয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই নির্বাচন হচ্ছে সক্ষমতা প্রমাণ করে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের অনন্য সুযোগ।
তৃতীয়ত, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের পর দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলসমূহের মাঝে সৌহার্দ্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ধারা প্রবর্তনের দাবি রাখে এই নির্বাচন।
চতুর্থ কারণ হিসাবে প্রবাসী ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের ভোটের আওতায় আনার কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, প্রায় অকার্যকর পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে পরিমার্জন করে এই নির্বাচনে একটি কার্যকরী রূপ দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম চালিকাশক্তি আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা তথা প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের প্রথমবারের মত ভোটের আওতায় আনা হচ্ছে। একইভাবে প্রথমবারের মত ভোটের আওতায় আসছেন আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা। এছাড়াও নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এবার ভোট দিবেন বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট আপনার শুধু নাগরিক অধিকারেই নয়; বরং পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সচেতনভাবে আপনারা পালন করবেন এ আমার বিশ্বাস। যে-কোনো ভয়ভীতি, প্রলোভন, প্রবঞ্চনা এবং সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে নিঃসংকোচে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনাদের নিরাপদ ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণকল্পে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও বাহিনী কাজ করবে।
নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ধর্ম, গোত্র, গোষ্ঠী, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই এই আনন্দ আয়োজনে অংশগ্রহণ করুন। পরিবারের প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও সন্তান সম্ভবা মাসহ সবাইকে নিয়ে ভোট দিতে আসুন। আমি আশা করি, আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের অনুষ্ঠান উৎসবে রূপ নেবে।
প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন কার্যক্রম ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে ভোটদানের জন্য আপনারা নিবন্ধন করতে পারবেন। আপনারা এই সুযোগ গ্রহণ করে ভোটে অংশ নিন। দেশ গঠনে আপনাদের অধিকার বুঝে নিন।
প্রবাসী ভোটারদের পাশাপাশি দেশের ভিতরের তিন ধরনের ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ করার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সিইসি বলেন, প্রবাসী ভোটারদের পাশাপাশি এই তিন ধরনের ভোটাররা আগামীকাল থেকে শুরু করে আগামী ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ এর মাধ্যমে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
ব্যক্তি ভোটার ও প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতি আমার আহ্বান- আসুন, আমরা আমাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করি এবং ভোটে অংশ নেই।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ভোট আপনার শুধু নাগরিক অধিকারেই নয়। বরং, পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সচেতনভাবে আপনারা পালন করবেন এ আমার বিশ্বাস। যে কোনো ভয়ভীতি, প্রলোভন, প্রবঞ্চনা এবং সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে নিঃসংকোচে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনাদের নিরাপদ ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণকল্পে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও বাহিনী কাজ করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে সিইসি বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়ে থাকে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অসত্য তথ্য ও অপতত্ত্বের বিস্তার দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। প্রতিপক্ষ দল ও প্রার্থীকে হেয় করার পাশাপাশি নারীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক প্রচারণা আমাদের ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করে এবং নির্বাচনকে কলুষিত করে।
তিনি আরও বলেন, যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে- তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ- অসত্য এবং অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচারিত কোনো তথ্যে কান দিবেন না, গ্রহণ করবেন না। মনে রাখবেন, অসত্য তথ্য শেয়ার করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থী এবং দলসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই কর্মকর্তা বলেন, আসুন, আমরা আচরণবিধি মেনে একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে ভোটারদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনই হোক আপনাদের লক্ষ্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর কমিশনের অংশ হিসেবে আপনারা নির্ভয়ে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। মনে রাখবেন, এ ব্যাপারে কোনো শিথিলতা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
তপশিলের পর থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত দেশবাসীর সহায়তা কামনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ ভোটারদের আন্তরিক অংশগ্রহণ ও সক্রিয়তা কামনা করছি। সবার প্রতি আমার আহ্বান- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফল করে আমাদের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
সংবাদকর্মী পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যম ও পর্যবেক্ষক সংস্থার সহকর্মীদের ভূমিকা অপরিসীম। আপনারা স্বাধীনভাবে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন এটি আমাদের প্রত্যাশা।
তপশিল
ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর; মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ সাল পর্যন্ত।
রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৬। কমিশনে দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি ২০২৬। নির্বাচনি প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।
ভাষণটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতেও এ সফর অবদান রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।
সরকারি-ছুটি
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় দুদিনের ছুটি নির্ধারিত আছে। পূজার ছুটির পর একদিন অফিস খোলা থাকবে, এরপর আবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে কর্মদিবসটিতেও ছুটি ঘোষণা করবে সরকার।
খোলা থাকা দিনটিতে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবছর টানা পাঁচদিনের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে।
এরপর ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা। পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার (২৩ ও ২৪ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটি।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। এরপর ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা। পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার (২৩ ও ২৪ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটি।
সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এয়ারবাস কিনছি। ১০টি কিনছি। ইনশা আল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ নিয়ে মোট চুক্তি স্বাক্ষর হলো ২৫টি। অনেকের প্রশ্ন এতগুলো বোয়িং এই মুহূর্তে কেন কেনা হলো। চুক্তি স্বাক্ষর করা মানেই কিন্তু এখন নেওয়া নয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম এয়ারক্রাফটটি আসবে ২০৩১ সালে। এই ২৫টি আসতেও ১১ থেকে ১২ বছর লাগবে। আর এখন কোনো টাকাও দেওয়া লাগছে না। একটা করে এলে তারপরে টাকা।
মন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পর দেশের এভিয়েশন খাত কোথায় যাবে সেই চিন্তা করেই এই স্বাক্ষরগুলো করা হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোত্থেকে কী কিনব, এটা তো ডেফিনেটলি আমাদের নিজস্ব একটা বিষয় থাকে। কোন এয়ারক্রাফটটা কীভাবে আমাদের জন্য সুইটেবল, সেটা চিন্তা করেই কিন্তু আমরা করছি। কারও লেভেল প্লেইং ফিল্ড হলো কি হলো না- সেটা দেখার বিষয় আমাদের নয়।’
মন্ত্রী বলেন, দেশের এভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা দরকার। ইথিওপিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে জিডিপির হার অনেক কম। কিন্তু তাদের এয়ারলাইনস এখন ১৬৭টি ফ্লিট নিয়ে চলছে। তাদের জিডিপিতে এভিয়েশন থেকে একটা বড় ধরনের কন্ট্রিবিউশন করতে পারছে। সেই হিসাবে বাংলাদেশ খুবই পিছিয়ে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং সংকটকালীন ও পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরও শুধু জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ ছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে নিশ্চিত হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৩৯ জন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৫৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজার ৫১৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৩৯২ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট এক হাজার তিনজন মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) এর লোগো
শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’বই বিক্রি নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকে তুলে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় বলেও পাওয়া গেছে অভিযোগ। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইউপিএল-এর বিক্রয়কেন্দ্রে দুই যুবক ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিনতে চাইলে তাদের বইটি দেখানো হয়। এ সময় তারা বইটিকে ‘নিষিদ্ধ’ দাবি করে এটি কেন বিক্রি করা হচ্ছে, তা জানতে চান। একপর্যায়ে তারা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন এবং আশপাশের লোকজন জড়ো করেন। পরে বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, তুলে নেওয়া দুই কর্মীকে থানায় আনা হয়নি। তাদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার পর সেখান থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই যুবক বাংলাবাজারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি কিনতে চান।
বিক্রয়কর্মীরা তাদের বইটি বের করে দিলে ওই দুই যুবক বইটি বিক্রি নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন, ‘বইটি নিষিদ্ধ’। এ সময় তারা আশপাশের লোকজন জড়ো করে ওই বিক্রয়কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এদিকে প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযোগকারীদের জানানো হয়েছে যে, বইটি নিষিদ্ধ নয়। ইউপিএল তার প্রকাশিত প্রতিটি বইকে ধারণ করে। কোনো বইকে নিষিদ্ধ করতে হলে একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবাইকে জানাতে হয়। কিছু আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়। এ বইয়ের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেছে বলে ইউপিএল জানে না। সরকার বা আদালতের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিলে ইউপিএল সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।