ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:১৮ পিএম

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক পার করল বাংলাদেশ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট; নারী ও তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতি গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের পক্ষে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত রচনা করেছে।  দলগুলোর প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, স্থিতিশীলতা ও নতুন রাজনৈতিক পরিবেশের আকাঙ্ক্ষা এতে বড় ভূমিকা রেখেছে।


শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া ফল অনুযায়ী ২৯৯ আসনের মধ্যে বিএনপি ২১২টিতে জয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ৬৮, এনসিপি ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২, গণঅধিকার পরিষদ ১ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া  ১০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। 


ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তাদের দল দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে ১৫১ আসন প্রয়োজন। পাশাপাশি দুই শতাধিক আসন পাওয়া দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সংসদে সংবিধান পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 


যদিও এবারের সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে’ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে এক কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে রূপান্তরের প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে। বিভাগভিত্তিক আসনে ফলাফলের তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো - 


ঢাকা বিভাগ: ঢাকা বিভাগের ৭০টি আসনের মধ্যে ৫২টির প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ৪৮টি, জামায়াতের প্রার্থীরা তিনটি এবং এনসিপির প্রার্থীরা একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকার ছয়টি আসনের মধ্যে রাত ১১টা পর্যন্ত ঘোষিত কেন্দ্রগুলোর প্রাথমিক ফলাফলে তিনটিতে বিএনপির প্রার্থী, দুটিতে জামায়াতের প্রার্থী ও একটিতে এনসিপির প্রার্থী এগিয়ে আছেন। আসনগুলো হলো ঢাকা-৬, ঢাকা-৭, ঢাকা-৪, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৮। প্রাথমিক এই ফল প্রকাশ করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

ঢাকা-৬ আসনে ১০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ২০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৩৫ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন।

ঢাকা-৭ আসনে ১৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লাহ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬২১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ৯ হাজার ৩৯৭ ভোট। মোট ভোটার চার লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৮ জন।

ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন।

ঢাকা-৪ আসনে মোট ১১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে চারটির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন দুই হাজার ৩৪৩ এবং বিএনপির তানভীর আহমেদ পেয়েছেন দুই হাজার ২৯৬ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬২ হাজার ৫০৬ জন।

ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এ আসনে ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থির চেয়ে ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি।

ঢাকা-১৮ আসনের ২১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টির ফলাফলে এগিয়ে আছেন বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৮৩৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৮৯ ভোট।

ঢাকা-১৭ আসনের ১২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টির ফলাফলে এগিয়ে আছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসব কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন আট হাজার ৪৫৪ ভোট। এসব কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬ হাজার ২০৫ ভোট।

ঢাকা-১১ আসনে ১৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টির ফলাফলে এগিয়ে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এসব কেন্দ্রে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮৫৭। এসব কেন্দ্রে বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪০০ ভোট।

রাজবাড়ী-১ আসনে বিজয়ী আলী ধানের শীষ প্রতীকে নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম পেয়েছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ২৭০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম ৯৯ হাজার ৭৮৫; রাজবাড়ী-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির হারুন অর রশিদ দুই লাখ ৩৫ হাজার ৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির জামির হিজাযী ৫৩ হাজার ৮৪৯ ভোট।

ফরিদপুর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম এক লাখ ২১ হাজার ৮১ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আকরাম আলী ৮৭ হাজার ২৫০; ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির শহিদুল ইসলাম এক লাখ ২৬ হাজার ৫৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সরোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৬২৩ ভোট।

গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ প্রামাণিক ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন।

মাদারীপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নাদিরা আক্তার ৬৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে জামায়াত জোটের প্রার্থী সাঈদ আহমেদ হানজালা ৬৩ হাজার ৫১২ ভোট পেয়েছেন।

মাদারীপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান ৬০ হাজার ৭৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯২০ ভোট। জামায়াত জোটের প্রার্থী আব্দুস সোবহান (রিকশা) ৩৩ হাজার ২৮৬ ভোট পেয়েছেন।

মাদারীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ৭৮ হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মো. রফিকুল ইসলাম ৬৭ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়েছেন।

শরীয়তপুর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সাঈদ আহমেদ (ধানের শীষ) ৭৭ হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জালালুদ্দিন আহমেদ (রিকশা) ৬২ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়েছেন। শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত শফিকুর রহমান কিরণ এক লাখ ২৯ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাহমুদ হোসেন পেয়েছেন ৭০ হাজার ৮৯২ ভোট।


শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু এক লাখ সাত হাজার ৫১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার   মুহাম্মাদ আজাহারুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬৮৪ ভোট।


টাঙ্গাইল-১ আসনের বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এক লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে বিজীয় হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর ডা. আবদুল্লাহ হেল কাফি ৯২ হাজার ৭৮১ ভোট পেয়েছেন।


টাঙ্গাইল-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম; টাঙ্গাইল-৩ বিজয়ী বিএনপির বিদ্রোহী লুৎফর রহমান খান আজাদ, নিকটতম বিএনপির ওবায়দুল হক নাসির, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) বিজয়ী বিএনপির লুৎফর রহমান মতিন ৯১ হাজার ৫৯২ ভোট, নিকটতম স্বতন্ত্র আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ৫৩ হাজার ৬৭৪; টাঙ্গাইল-৫ (সদর) বিএনপির সুলতান সালাউদ্দিন টুকু পেয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৯৪৩ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ ৭৮ হাজার ৫১৫; টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) রবিউল আওয়াল বিএনপি এক লাখ ৪৯ হাজার ২০৯, নিকটতম জামায়াত ইসলামীর একেএম আব্দুল হামিদ ৮৭ হাজার ৯০৪ ভোট; টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর)  আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বিএনপি এক লাখ ৪১ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর আবদুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন ৭১ হাজার ২৬৭; টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) বিএনপির অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এক লাখ ১৩ হাজার ২১৪ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র)  সালাউদ্দিন আলমগীর পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৪৮ ভোট।


কিশোরগঞ্জ-১ বিএনপি প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম, নিকটতম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়েত উল্লাহ হাদী; কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন ৭০ হাজার ৫১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২০৯ ভোট। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৭৬০ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩৮৯ ভোট।


কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ৭৭ হাজার ৭০০ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮০০ ভোট। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে (বাজিতপুর-নিকলি) এগিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল হাঁস প্রতীকে ২৫ হাজার ৩৯২। নিকটতম ধানের শীষের সৈয়দ এহসানুল হুদা ২৩ হাজার ৮৮ ভোট পেয়েছেন।


কিশোরগঞ্জ-৬ বিজয়ী (ভৈরব-কুলিয়ারচর) জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯৮ ভোট। নিকটতম বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে আতাউল্লাহ আমীন পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫২৫ ভোট। মানিকগঞ্জ-১ (দৌলতপুর-শিবালয়) আসনে বিএনপির বিজয়ী এস এ জিন্নাহ কবির ধানের শীষ ১ লাখ ৬ হাজার ৮৬১ ভোট, নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী তোজাম্মেল হক তোজা পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১১ ভোট।


মানিকগঞ্জ-২ ধানের শীষের বিএনপির প্রার্থী মইনুল ইসলাম খান ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত জোটের খেলাফত মজিলসের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে মো. সালাহউদ্দিন পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৩৯ ভোট। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে (সদর সাটুরিয়া) আফরোজা খানম রীতা ১৫২ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭ কেন্দ্রে ধানের শীষ ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৮ ভোট, নিকটতম বংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. সাঈদ নূর রিকশা প্রতীক ৪২ হাজার ৯১১ ভোট।


গাজীপুর-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মজিবুর রহমান। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৮১টি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহ আলহ বখশি পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪৭ ভোট। গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির এম মঞ্জুরুল করিম রনি ১ লাখ ১৭ হাজার ২০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির আলী নাছের খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৩৩ ভোট। গাজীপুর-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপির এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২১৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা মার্কার এহসানুল হক  পেয়েছেন ৬৬ হাজার ২০২ ভোট। গাজীপুর-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের সালাউদ্দিন আইয়ুবি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৯৯ হাজার ৪০৯টি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ৯০ হাজার ১৬০ ভোট।


গাজীপুর-৫ আসনে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির ফজলুল হক মিলন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের খায়রুল হাসান পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৬১ ভোট।


নরসিংদী-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির খায়রুল কবির খোকন পেয়েছেন ৬২ হাজার ৩৭৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইব্রাহিম ভূঁইয়া পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৪২ ভোট। নরসিংদী-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬১ ভোট।


নরসিংদী-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপির মঞ্জুর এলাহী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪১৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আরিফুল ইসলাম মৃধা পান ৪৫ হাজার ৪০১ ভোট। নরসিংদী-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল পান ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জাহাঙ্গীর আলম পান ৭৫ হাজার ৩৯৫ ভোট। নরসিংদী-৫ আসনে বিএনপির বিজয়ী আশরাফ উদ্দিন বকুল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা মার্কার তাজুল ইসলাম পান ৪৩ হাজার ৬৮২ ভোট।


নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট।  নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ার হোসেন মোল্লা পান ৯০ হাজার ২৮৯ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ ইলিয়াস মোল্লা পান ৮১ হাজার ৫৪ ভোট।


নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ১০৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইকবাল হোসেন পান ১ লাখ ৩২ হাজার ২৩ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির আবুল কালাম, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এবিএম সিরাজুল মামুন। রাত আড়াইটার সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ফল পাওয়া যায়নি। 


ময়মনসিংহ বিভাগ: ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের মধ্যে শেরপুর-৩-এর নির্বাচন স্থগিত আছে। বাকি ২৩টি আসনের সবগুলোর বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপির ১৮টি, জামায়াত ৩টি, খেলাফত মজলিস ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টিতে নির্বাচিত হয়েছেন।


জামালপুর

জামালপুর-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির রশিদুজ্জামান মিল্লাত (১৭২১১৫), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট নাজমুল সাঈদী (৯৩৬৬১), জামালপুর-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু (৯৫৮৬০), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ড. সামিউল হক ফারুকী (৬২৪৩৪), জামালপুর-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল (২০৭৪১২), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মজিবুর রহমান আজাদী (৮১৪৩০), জামালপুর-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির ফরিদুল কবীর শামীম (১৪৭৪০৬), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট আবদুল আউয়াল (৪৪৯৪৭), জামালপুর-৫ আসনে বিজয়ী বিএনপির ওয়ারেস আলী মামুন (১৯৮৯৭৬), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা আবদুস সাত্তার (১০৯২৯৮)।


শেরপুর: 

শেরপুর-১ আসনে বিজয়ী জামায়াতের রাশেদুল ইসলাম (১২৫৯৪১), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা (৭৭৮০৮), শেরপুর-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী (১১৮৪৭২), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. গোলাম কিবরিয়া (১০৮৩৩৬)।


ময়মনসিংহ: 

ময়মনসিংহ-১ আসনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল (১০৮২৬৫), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ (১০১৯২৬), ময়মনসিংহ-২ আসনে বিজয়ী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ (৮০৭৭১), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদার (৫৪৫২২), ময়মনসিংহ-৩ বিজয়ী বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন (৭৭১৫২), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহম্মদ তাহেবুর রহমান (৬৪৫৩৪), ময়মনসিংহ-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ (১৭৯৬৬৭), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ কামরুল আহসান (১৭১৮৮০), ময়মনসিংহ-৫ আসনে বিজয়ী বিএনপির জাকির হোসেন বাবলু (১২৭৯১০), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. মতিউর রহমান আকন্দ (১০৮৭৬), ময়মনসিংহ-৬ আসনে বিজয়ী জামায়াতের কামরুল হাসান (৭৫৯৪৬), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আখতার সুলতানা (৫২৬৬৯), ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিজয়ী বিএনপির ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন (৯৮৫৭৯), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আসাদুজ্জামান সোহেল (৮২৯৬২), ময়মনসিংহ-৮ আসনে বিএনপির বিজয়ী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, (১০৭৫৭৭), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির আওরঙ্গজেব বেলাল (৪৫৭৯১), ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিজয়ী বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী (৮৪৮৮৭), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিডিপির এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম (৬৬৮৯১), ময়মনসিংহ-১০ আসনে বিজয়ী বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান (৭৫৫৭৩), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র এবি সিদ্দিকুর রহমান (৬৬৯৯৯), ময়মনসিংহ-১১ আসনের বিজয়ী বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু (১১০২১৪), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম (৬৪৫৯১)।


নেত্রকোনা: নেত্রকোনা-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (১৫৮৩৪৩), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানী (৮৭৪৮৮), নেত্রকোনা-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির ডা. মো. আনোয়ারুল হক (১৭১৩৯৯), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান (৬৭৩৬৭), নেত্রকোনা-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপির রফিকুল ইসলাম হিলালী (১১৮৪৬৯), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া (৬৮৯৬১), নেত্রকোনা-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির মো. লুৎফুজ্জামান বাবর (১৬০৮০২), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আল হেলাল (৩৯৮৪০), নেত্রকোনা-৫ আসনে বিজয়ী জামায়াতের মাছুম মোস্তফা (৮২১৭৭), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আবু তাহের তালুকদার (৭৯৪১২)।


খুলনা বিভাগ: 

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ২৫টি আসন পেয়েছেন। আর বিএনপি পেয়েছে ১১টি আসন।

মেহেরপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লার তাজউদ্দিন খান এক লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপি প্রার্থী মাসুদ অরুণ পেয়েছেন এক লাখ ৪ হাজার ২২৪ ভোট। মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াতের মো. নাজমুল হুদা ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপির মো. আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট।


কুষ্টিয়া-১ আসনে এগিয়ে আছেন বিএনপির রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা; পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট। নিকটতম দাঁড়িপাল্লার বেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট। কুষ্টিয়া-২ বিজয়ী দাঁড়িপাল্লার আবদুল গফুর পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৬ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮২ ভোট। কুষ্টিয়া-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লার আমীর হামজা পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৯ ভোট। কুষ্টিয়া-৪ বিজয়ী জামায়াতের আফজাল হোসেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৬ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী পেয়েছেন এক লাখ ৩৯ হাজার ৫৬ ভোট।


চুয়াডাঙ্গা-১ বিজয়ী হয়েছন দাঁড়িপাল্লার মো. মাসুদ পারভেজ– ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৯৬ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের মো. শরীফুজ্জামান শরীফ পেয়েছেন এক লাখ ৫২ হাজার ৬৫৯ ভোট। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. রুহুল আমিন ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী বিএনপির মাহমুদ হাসান খান পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট।


ঝিনাইদহ-১ আসনে বিজয়ী বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট। নিকটতম জামায়াতের আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। ঝিনাইদহ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর পেয়েছেন এক লাখ ৯৫ হাজার ৭০২ ভোট। নিকটতম বিএনপির মো. আবদুল মজিদ পেয়েছেন এক লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট।


ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম ধানের শীষের মোহাম্মদ মেহেদী হাসান পেয়েছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৮২১ ভোট। ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতের মাওলানা আবু তালিব এক লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট। এই আসনে বিএনপির রাশেদ খান পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট।


যশোর-১ জামায়াতের আজীজুর রহমান এক লাখ ১৯ হাজার ৯৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৪৫৬ ভোট। যশোর-২ বিজয়ী জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ পেয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের মোছা. সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৩২২ ভোট। যশোর-৩ বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. আবদুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ১২৯ ভোট। যশোর-৪ আসনে জামায়াতের মো. গোলাম রছুল এক লাখ ৮০ হাজার ৫১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপির মতিয়ার রহমান ফরাজী পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার ৭৫১ ভোট।


যশোর-৫ আসনে জামায়াতের অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন কলস প্রতীকে পরিজিত হয়েছেন। যশোর-৬ বিজয়ী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধ্যাপক মোক্তার আলী পেয়েছেন ৯১ হাজার ৩৭ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৫৯ ভোট।


মাগুরা-১ বিজয়ী ধানের শীষের মনোয়ার হোসেন খান এক লাখ ৮৪ হাজার ১৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৮৩ হাজার ৭৮৩ ভোট। মাগুরা-২ বিজয়ী বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার ১৮০ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৮০৭ ভোট।


নড়াইল-১ আসনে বিএনপির বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট। নড়াইল-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার মো. আতাউর রহমান বাচ্চু ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র কলস মার্কার মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৭৭ ভোট।


বাগেরহাট-১ আসনে এগিয়ে আছেন দাঁড়িপাল্লার মো. মশিউর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কপিল কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। বাগেরহাট-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন। বাগেরহাট-৩ আসনের বিজয়ী বিএনপির ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট। তাঁর প্রতিবন্ধী জামায়াতে ইসলামীর শেখ আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট। বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতের মো. আব্দুল আলীম এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোম নাথ দে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট।


খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমি এজাজ খান এক লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। খুলনা-২ আসনে জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়েছেন।


খুলনা-৩ আসনে বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। খুলনা-৪ বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল এক লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন এক লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার (লবি)। ধানের শীষ প্রতীকে আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৬ ভোট।


খুলনা-৬ জামায়াতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম বিএনপির এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট।


সাতক্ষীরা-১ বিজয়ী দাঁড়িপাল্লার অধ্যাক্ষ ইজ্জত উল্যাহ পেয়েছেন দুই লাখ সাত হাজার ৫৯৪ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের হাবিবুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ৮১ হাজার ৯৬৮ ভোট। সাতক্ষীরা-২ বিজয়ী দাঁড়িপাল্লার মুহাদ্দিস আবদুল খালেদ পেয়েছেন দুই লাখ ৬০ হাজার ৪২৩ ভোট। ধানের শীষের আব্দুর রউফ পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৯১ ভোট। সাতক্ষীরা-৩ আসনে এগিয়ে আছেন দাঁড়িপাল্লার মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এক লাখ ৩২ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের ডা. শহীদুল আলম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৩৪ ভোট। সাতক্ষীরা-৪ আসনে বিজয়ী দাঁড়িপাল্লার গাজী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৬২ ভোট। নিকটতম ধানের শীষের ড. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৪ ভোট।


রংপুর বিভাগ: 

রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩৩টির বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ১৪টি, জামায়াতের প্রার্থীরা ১৬টি, এনসিপির প্রার্থীরা দুটি এবং স্বতন্ত্র একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। পঞ্চগড়-১ বিএনপির মুহাম্মদ নওশাদ জমির বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির সারজিস আলম এক লাখ ৬৮ হাজার ৪৯; পঞ্চগড়-২ বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৭৪ হাজার ৬৫০, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর সফিউল আলম এক লাখ ২৭ হাজার ৬০৮; ঠাকুরগাঁও-১ বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হয়েছেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ৩০৮, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন এক লাখ ৩৬ হাজার ৪১২; ঠাকুরগাঁও-২ বিএনপির ডা. আব্দুস সালাম বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৪৬২, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিম এক লাখ ১২ হাজার ৬৮১; ঠাকুরগাঁও-৩ বিএনপির জাহেদুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৮৮৬, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মিজানুর রহমান ৯০ হাজার ৭৬৭; দিনাজপুর-১ বিএনপির মনজুরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান এক লাখ ১৭ হাজার ৪৮১; দিনাজপুর-২ বিএনপির সাদিক রিয়াজ বিজয়ী হয়েছেন ৬০ হাজার ৯২৪, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর একেএম আফজালুল আনাম ৩৪ হাজার ৭৪২; দিনাজপুর-৩ বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৬০৮, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মাইনুল আলম ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯; দিনাজপুর-৪ বিএনপির আখতারুজ্জামান মিয়া বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭, নিকটতম জাময়াতে ইসলামীর আফতাব উদ্দিন মোল্লা এক লাখ ২৯ হাজার ৫৬; দিনাজপুর-৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী ও সদ্য বহিষ্কৃত) এ জেড এম রেজওয়ানুল হক বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪, নিকটতম এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ এক লাখ ১০ হাজার ১৯৫; দিনাজপুর-৬ বিএনপির ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দুই লাখ পাঁচ হাজার ১১৮, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম এক লাখ ৯০ হাজার ৭০৩; কুড়িগ্রাম-১ জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৮, নিকটতম বিএনপির সাইফুর রহমান রানা এক লাখ ১৭ হাজার ৩৫৬; কুড়িগ্রাম-২ এনসিপির ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৩২৯; প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৯; কুড়িগ্রাম-৩ জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুল আলম সালেহী বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ১৯৪, নিকটতম বিএনপির তাসভীর উল ইসলাম ৭৮ হাজার ৪০৩; কুড়িগ্রাম-৪ জামায়াতে ইসলামীর মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৪৩, নিকটতম বিএনপির আজিজুর রহমান ৫৭ হাজার ৯৪৫।


রংপুর-১ জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৮৮ ভোটে, নিকটতম বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ৬৯ হাজার ৪০৭।

রংপুর-২ জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০, নিকটতম বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৮৭০।


রংপুর-৩ জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ী মাহবুবুর রহমান বেলাল এক লাখ ৭৫ হাজার, নিকটতম বিএনপির সামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ পেয়েছেন।

রংপুর-৪ এনসিপির আখতার হোসেন বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোটে, নিকটতম বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা এক লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ পেয়েছেন।

রংপুর-৫ জামায়াতে ইসলামী গোলাম রব্বানী বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোটে, নিকটতম বিএনপির গোলাম রব্বানী এক লাখ ১৪ হাজার ১৪১ পেয়েছেন।

রংপুর-৬ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা নুরুল আমীন বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ১৮ হাজার ৮৯০, নিকটতম বিএনপির সাইফুল ইসলাম এক লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ পেয়েছেন।


লালমনিরহাট-১ বিএনপির হাসান রাজীব প্রধান বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ ভোটে, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম রাজু এক লাখ ২৯ হাজার ৫৭২ পেয়েছেন; লালমনিরহাট-২ বিএনপির রোকন উদ্দিন বাবুল বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ১৮ হাজার ৩৫৯ ভোটে, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর ফিরোজ হায়দার লাভলু এক লাখ সাত হাজার ৮৮৬ ভোট পেয়েছেন; লালমনিরহাট-৩ বিএনপির আসাদুল হাবিব দুলু বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ভোটে, নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর আবু তাহের ৫৫ হাজার ৩৮৭ পেয়েছেন; নীলফামারী-১ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুস সাত্তার বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোটে, নিকটতম জমিয়তে উলামায়ের মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি এক লাখ ১৯ হাজার ৫৯ ভোট পেয়েছেন।


নীলফামারীর-২ জামায়াতে ইসলামীর আল ফারুক আব্দুল লতিফ বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৪৩০ ভোটে, নিকটতম বিএনপির শাহরিন ইসলাম তুহিন এক লাখ ৩৫ হাজার ৪১৮ ভোট পেয়েছেন। নীলফামারী-৩ জামায়াতে ইসলামীর ওবায়দুল্লাহ সালাফী বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৯ হাজার ৬৮৬, নিকটতম বিএনপির সৈয়দ আলী ৮৯ হাজার ৮০৭ ভোট পেয়েছেন; নীলফামারী-৪ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মুনতাকিম বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ২৬ হাজার ২২২ ভোটে, নিকটতম বিএনপির আবদুল গফুর সরকার ৮২ হাজার ৮৬ ভোট পেয়েছেন।


গাইবান্ধা-১ জামায়াতে ইসলামীর মাজেদুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোটে, নিকটতম বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়েছেন। গাইবান্ধা-২ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করিম বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ২১ হাজার ৯৮ ভোটে, নিকটতম বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু ৯১ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়েছেন; গাইবান্ধা-৩ জামায়াতে ইসলামীর আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৫৫২ ভোটে, নিকটতম বিএনপির ডা. মইনুল হাসান সাদিক এক লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ ভোট পেয়েছেন; গাইবান্ধা-৪ বিএনপির শামিম কায়সার লিংকন বিজয়ী হয়েছেন এক লাখ ৪২ হাজার ৭৭২ ভোটে এবং নিকটতম জামায়াতের ড. আব্দুর রহিম এক লাখ ৩৯ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়েছেন; গাইবান্ধা-৫ জামায়াতে ইসলামীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ বিজয়ী হয়েছেন ৮৭ হাজার ৬১৭ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফারুক আলম সরকার ৭৩ হাজার ২৮৯ ভোট পেয়েছেন।


সিলেট বিভাগ: 

সিলেট-১ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর (বিএনপি), সিলেট-২ তাহসিনা রুশদীর লুনা (বিএনপি), সিলেট-৩ আব্দুল মালিক (বিএনপি), সিলেট-৪ আরিফুল হক চৌধুরী (বিএনপি), সিলেট-৫ মাওলানা মুফতি আবুল হাসান (খেলাফত, জামায়াত জোট), সিলেট-৬ এমরান আহমদ চৌধুরী (বিএনপি), সুনামগঞ্জ-১ কামরুজ্জামান কামরুল (বিএনপি), সুনামগঞ্জ-২ নাসির উদ্দীন চৌধুরী (বিএনপি), সুনামগঞ্জ-৩ কয়সর আহমেদ (বিএনপি), সুনামগঞ্জ-৪ নুরুল ইসলাম নুরুল (বিএনপি), সুনামগঞ্জ-৫ কলিম উদ্দিন আহমদ (বিএনপি), হবিগঞ্জ-১ রেজা কিবরিয়া (বিএনপি), হবিগঞ্জ-২ আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান (বিএনপি), হবিগঞ্জ-৩ জি কে গউছ (বিএনপি), হবিগঞ্জ-৪ সৈয়দ মো. ফয়সল (এগিয়ে, বিএনপি), মৌলভীবাজার-১ নাসির উদ্দিন মিঠু (বিএনপি), মৌলভীবাজার-২ শওকতুল ইসলাম (বিএনপি),

মৌলভীবাজার-৩ এম নাসের রহমান (বিএনপি), মৌলভীবাজার-৪ মুজিবুর রহমান চৌধুরী (বিএনপি)।


বরিশাল বিভাগ: 

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপন  (৫৮৬৫০), বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) বিএনপির এস সরফুদ্দিন সান্টু ১,৪১,২৮০, বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১, বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আবুল হোসেন খান (৮১০৮৭), পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতের  ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (৯৩৯৫৪), ভোলা-৩ (লালমোহন ও তজুমদ্দিন) আসনে বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (১৫১৭৭৪), ভোলা-৪ (চরফ্যাসন ও মনপুরা) আসনে বিএনপির নুরুল ইসলাম নয়ন (১৮৯৭১১), বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওলি উল্লাহ (১৪০২৯১), বরগুনা-২ (বামনা-বেতাগী-পাথরঘাটা) আসনে বিএনপির নুরুল ইসলাম মনি (৮৯২৪৪), পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসনে জামায়াতের মাসুদ সাঈদী (১,২৭,৮২৮), পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে বিএনপির রুহুল আমীন দুলাল (৬৩,৭৮৫)।


চট্টগ্রাম বিভাগ: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) রুমিন ফারহানা (১১৭৪৯৫), নিকটতম জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবীব (৭৯৯২৭); ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (৯৮২৩১), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো. মহসিন (৩৭৯৬৫); কুমিল্লা-১ আসনে বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (১৪০৩০৫), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মনিরুজ্জামান বাহালুল (৯০৪৯৯); কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপি অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া (৭৬২৬৮), নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী এম এ মতিন খান (৬২৩৮৫); কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ (১৫৮০৯৩), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো. ইউছুফ সোহেল (১৪৫০৮০); কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মো. আবুল হাসনাত (১৬০৫২৭), নিকটতম গণঅধিকার পরিষদের মো. আ. জসিম উদ্দিন (৪৯৬৪৪); কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির মো. জসীম উদ্দিন (১৩২৬৭০), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মোবারক হোসাইন (১২২৫০১); কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মো. মনিরুল হক চৌধুরী (১৯৯৩১০), নিকটতম জামায়াতে ইসলামী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ (১১৪০৩০); কুমিল্লা-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) আতিকুল আলম শাওন (৯০৮১৯), নিকটতম বিএনপির রেদোয়ান আহমেদ (৪৭৯২৫); কুমিল্লা-৮ আসনে বিএনপির জাকারিয়া তাহের সুমন (১৬৭৪৩১), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর ড. মো. শফিকুল আলম হেলাল (৪১৩৪৫); কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির মো. আবুল কালাম (২০৪০৫৪), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর ছৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দিকী পেয়েছেন (১৩৩২৫১); কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া (১১০৬৯০), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত (৭৫২৮৪); কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (১৩৩৩০৮), নিকটতম বিএনপির মো. কামরুল হুদা (৭৬৬৩৮); চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপির আ ন ম এহছানুল হক মিলন (১৩৩১৬২), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদ (৬৭০৭৭); চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির মো. জালাল উদ্দিন (১৭০৫৯৩), নিকটতম এলডিপির মো. বিল্লাল হোসেন (৫৪৭৩৩); চাঁদপুর-৩ আসনে বিএনপির শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক (১৬৫৪০৪), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মিয়া (১০৮০৬৫); চাঁদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) আব্দুল হান্নান (৭৪১৭৫), নিকটতম বিএনপির মো. হারুনুর রশিদ (৬৯১৫৫); চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির মো. মমিনুল হক (১৮১৯১১), নিকটতম এলডিপির নেয়ামুল বশির (৭১৮৫০); ফেনী-১ আসনে বিএনপির মুন্সী রফিকুল আলম (১১৭২৩১), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর এস এম কামাল উদ্দীন (৮০৬৬১); ফেনী-২ আসনে বিএনপির জয়নাল আবদিন (১৩১২১০), নিকটতম এবি পার্টি মজিবুর রহমান মঞ্জু (৮০০৫৮); ফেনী-৩ আসনে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু (১৫৭৪২৫), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক (১০৮১৬০);


নোয়াখালী-১ আসনে বিএনপির এএম মাহবুব উদ্দিন (১২৬৮৩৩), নিকটতম জামায়াতে ইসলামী মো. ছাইফ উল্যাহ (৯৮০৩৬); নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুক (৮৩৯৮২), নিকটতম জাতীয় নাগরিক পার্টির সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (৬৭০৫৪); নোয়াখালী-৩ আসনে ২৫ কেন্দ্রে বিএনপির মো. বরকত উল্লাহ বুলু (১৭৮৮৬), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো. বোরহান উদ্দিন (১৭৭৬২); নোয়াখালী-৪ আসনে ১৯৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪ কেন্দ্রে বিএনপির মো. শাহজাহান (৬০২৭১), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো. ইসহাক খন্দকার (৩৮৫৮৮); নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (১৪৭৮০৮), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (১২০৪৫৩); নোয়াখালী-৬ আসনে ১০৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১২ কেন্দ্রে জাতীয় নাগরিক পার্টির আবদুল হান্নান মাসউদ (৯৩২২), নিকটতম বিএনপির মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম (৬২৩৮);


লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম (৮৪২৫৪), নিকটতম জাতীয় নাগরিক পার্টির মো. মাহবুব আলম (৫৫৩০১); লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া (১৪৫৯১৩), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া (১৩৪০৪২); লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে (১৩০ কেন্দ্রের মধ্যে ১২২) বিএনপির মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী (১২৫৬৪০), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর ড. মো. রেজাউল করিম (১১০৭৪৩); লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিএনপির এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (১১৪০৫৯), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো. আশরাফুর রহমান হাফিজউল্লা (৭০২৪৯);


চট্টগ্রাম-১ আসনে বিএনপির নুরুল আমিন (১২৭৬৪৫), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান (৮১২২৭); চট্টগ্রাম-২ আসনে ১৪০ কেন্দ্রের মধ্যে ১০১ কেন্দ্রে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর (৯৬১২২), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন (৪০২৬৯); চট্টগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা (৭২৫১৯), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলাউদ্দীন (৩৬৮১৮); চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (১৪২৬৭৪), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক (৮৯২৬৮); চট্টগ্রাম-৫ আসনে ১৪৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৮১ কেন্দ্রে বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (৯০৪২২), নিকটতম খেলাফত মজলিসের নাছির উদ্দিন মুনীর (২৬১৬২); চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (১১১২০১), নিকটতম ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নুরী (২৬৬৯৬); চট্টগ্রাম-৭ আসনে ৯২ কেন্দ্রের মধ্যে ২৬ কেন্দ্রে বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী (২৯১৪০), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিম (১০৪২৭); চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৮২ কেন্দ্রে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ (৭২৫৩০), নিকটতম ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান (২২৫৩২); চট্টগ্রাম-৯ আসনে ১২১ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬ কেন্দ্রে বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (৬৬৪১৭), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর ডা. একেএম ফজলুল হক (৩১৩৩০); চট্টগ্রাম-১০ আসনে ১৩৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১১১ কেন্দ্রে বিএনপির সাঈদ আল নোমান (৯৬৮২১), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী (৫৮০০০); চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১৪৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৩১ কেন্দ্রে বিএনপির আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (২১৮৮১); নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শফিউল আলম (১৫০৩৩); চট্টগ্রাম-১২ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক (১৩৪৮০৬), নিকটতম ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (২৮৮০৬); চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম (১২৫৪৬০), নিকটতম ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান (৫১০৬২); চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ১০০ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৪ কেন্দ্রে বিএনপির আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদ (৭৬৪৯৩), নিকটতম এলডিপির ওমর ফারুক (৭৫৪৬৭); চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী (১৭২০৬১), নিকটতম বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন (১২৭০২৫); চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (৮৯৯৬০), নিকটতম বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (৮২২১০);


কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ (২২০৫৬৬), নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুখ (১২৪৭২৬); কক্সবাজার-২ আসনে বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (১২৫২৬২), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ (৭৯৬৩৪); কক্সবাজার-৩ আসনে বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল (১৮১৪৬০), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর শহীদুল আলম বাহাদুর (১৫২৯৯৪); কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী (১২২০৮৩), নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর নুর আহমদ আনোয়ারী (১১৮৭২৬); খাগড়াছড়িতে বিএনপির আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইঞা (১৪৮২১২), নিকটতম ধর্মজ্যোতি চাকমা (৫৮১৩৬); রাঙামাটি আসনে বিএনপির দীপেন দেওয়ান (১৯৯৮৪০), নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা (৩০৯৯২); বান্দরবান আসনে বিএনপির সাচিং প্রু (১৪১৪৫৫), নিকটতম জাতীয় নাগরিক পার্টির আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন (২৬১৬২)।


রাজশাহী বিভাগ: 

রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৭টির বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থীরা ১৬টি, জামায়াতের প্রার্থীরা ১১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া ছয়টি আসনে আংশিক ফলাফল পাওয়া গেছে। এগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।


রাজশাহী-১ বিজয়ী জামায়াতের মো মুজিবুর রহমান (১৭১৭৮৬), নিকটতম বিজয়ী বিএনপির মো শরীফ উদ্দিন (১৬৯৯০২); রাজশাহী-২ বিজয়ী বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু (১২৮৫৪৬), নিকটতম জামায়াতের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (১০০৩৭০); রাজশাহী-৩ বিজয়ী বিএনপির শফিকুল হক মিলন (১৭৬৩১৮), নিকটতম ‎জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ (১৩৭৯২৭); রাজশাহী-৪ বিজয়ী জামায়াতের আব্দুল বারী (১১৮২৪৮), নিকটতম বিএনপির ডি এম জিয়াউর রহমান (১০৯৭৫৯); রাজশাহী-৫ বিজয়ী বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম (১৫৩৪২৫), নিকটতম জামায়াতের মো. মনজুরুল ইসলাম (৭৩৪৪৫); রাজশাহী-৬ বিজয়ী বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ (১৪৮৬৭২), নিকটতম জামায়াতের নাজমুল হক (৯২৯৬৫)।


নওগাঁ-১ বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (১ লাখ ৪৯ হাজার ২০২), নিকটতম জামায়াতের মাহবুবুল আলম (এক লাখ ২৬ হাজার ৯৩); নওগাঁ-২ বিজয়ী জামায়াতের এনামুল হক (১৪১৫২৬), নিকটতম বিএনপির শামসুজ্জোহা খান (১৩৪৫৩৩); নওগাঁ-৩ বিজয়ী বিএনপির ফজলে হুদা (১ লাখ ৬২ হাজার), নিকটতম জামায়াতের মাহফুজুর রহমান (১১৩২৬); নওগাঁ-৪ বিজয়ী বিএপির ইকরামুল বারী (১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১), নিকটতম জামায়াতের আব্দুর রাকিব (৯৬ হাজার ৮১৪); নওগাঁ-৫ বিজয়ী বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু (১২৮৩৬৬), নিকটতম জামায়াতের আ স ম সায়েম (১০৩২০৯); নওগাঁ-৬ বিজয়ী বিএনপির রেজাউল ইসলাম রেজু (১০৮০৭০), নিকটতম জামায়াতের মো. খবিরুল ইসলাম (৯৫৮৮৬)।


পাবনা-১ বিজয়ী জামায়াতের ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন (১২৮৪৬৭), নিকটতম বিএনপির ভিপি শামসুর রহমান (১০৩৬৬৩); পাবনা-২ বিজয়ী বিএনপির অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব (২১৩৯৫০), নিকটতম জামায়াতের কে এম হেসাব উদ্দিন (৩৭৯১৬); পাবনা-৩ বিজয়ী জামায়াতের মাওলানা আলী আছগার (১,৪৭,৪৭৫), নিকটতম বিএনপির হাসান জাফির তুহিন (১,৪৪,২০৬); পাবনা-৪ বিজয়ী জামায়াতের অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল (১৩৭৭৭৫), নিকটতম বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব (১৩৪০২৩); পাবনা-৫ বিজয়ী বিএনপির অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (১৭১১৫৬), নিকটতম জামায়াতের ইকবাল হোসাইন (১৫৮৬৭৯)। 


বগুড়া-১-এ বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম এগিয়ে রয়েছেন। বগুড়া-২ বিজয়ী বিএনপির মীর শাহে আলম (১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ ভোট), নিকটতম জামায়াতের মাওলানা শাহাদুজ্জামান (৯২ হাজার ৪৩৩);  বগুড়া-৩ বিজয়ী বিএনপির আব্দুল মোহিত তালুকদার (১ লাখ ২৭ হাজার ২১৩), নিকটতম জামায়াতের নুর মোহাম্মদ (১ লাখ ৯ হাজার ১৩৭), বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির মোশারফ হোসেন এগিয়ে আছেন; বগুড়া-৫ বিজয়ী বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ  (২ লাখ ১৫ হাজার ৫৫), নিকটতম জামায়াতের দবিবুর রহমান (১ লাখ ৫ হাজার ৩৫৯); বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির মোরশেদ মিল্টন এগিয়ে আছেন।


সিরাজগঞ্জ-১ বিজয়ী বিএনপির সেলিম রেজা (১,১৬,৫০৩), নিকটতম জামায়াতের শাহিনুর আলম দাঁড়িপাল্লা (১,০৭,৪৪৩); সিরাজগঞ্জ-২ বিজয়ী বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ (ভোট ১৭৭৫৭৮), নিকটতম জামায়াতের মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম (১৩৮৭৯৭); সিরাজগঞ্জ-৩ বিজয়ী বিএনপির আয়নাল হক  (১৭৪৪৩০), নিকটতম খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুর রউফ (১১৬৮০২); সিরাজগঞ্জ-৪ বিজয়ী বিএনপির এম আকবর আলী (১৬১২৭৮), নিকটতম জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান (১৬১৮৭২)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ বিজয়ী জামায়াতের মো কেরামত আলী বেসরকারি (২০৬৮৯৬), নিকটতম বিএনপির শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন (১৮৯৬৪০); চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ বিজয়ী জামায়াতের মো মিজানুর রহমান (১৭১২২৭), নিকটতম বিএনপির আমিনুল ইসলাম (১৫৫১১৯); চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ বিজয়ী জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুল (১৮৯৬৪০), নিকটতম বিএনপির হারুনুর রশিদ পেয়েছেন (১২৭০৩৭)।



সর্বশেষ সব খবর

রাখাইনে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৮ এএম

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আবারও 'বাঙালি' দাবি করে নতুন একটি বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদেরই ফেরত নেওয়া হবে বলে এতে বলা হয়েছে।


মিয়ানমারের দেওয়া ওই বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যের "নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে" বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা তিন লাখের কিছু বেশি 'বাস্তুচ্যুত' মানুষকে ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক হওয়ার কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকায় যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে- তা নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছে দেশটি। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে 'বাঙালি' হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমার দাবি করেছে, যে জাতিগত নামে (রোহিঙ্গা) তাদেরকে পরিচয় করানো হচ্ছে সেই নামে কোনো গোষ্ঠী দেশটিতে নেই।


মিয়ানমারের এই বিবৃতি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ। তবে বিবৃতিটিকে পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিবৃতিতে যে-সব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তার মাধ্যমে কেবল নিজস্ব ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার। একইসঙ্গে, এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আবারও আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হলো বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।


বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শনিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, এই ইস্যুতে গণমাধ্যমে "একপেশে, ভুল তথ্য ও অপতথ্য" প্রচার করা হচ্ছে। তাদের জাতিগত পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি দেশটির।


তারা বলছে, অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের "মিয়ানমারে কখনো না থাকা একটি জাতিগত পরিচয়" দিয়ে পরিচিত করা হচ্ছে। "বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা সবাইকে মিয়ানমারের বলে প্রচার করা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের- মিয়ানমারে কখনো না থাকা একটি জাতিগত পরিচয় দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে," বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে মিয়ানমার। এছাড়া বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে সমাধানের বিষয় হলেও এটিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


মিয়ানমারের দাবি, ২০১৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আরসা "সন্ত্রাসী গোষ্ঠী" পুলিশ ফাঁড়ি ও ব্যাটালিয়নে সমন্বিত হামলা চালায়। যার "প্রতিরক্ষামূলক জবাব" হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় দেশটির রাষ্ট্রীয় বাহিনী। আরসার হুমকির কারণে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অন্য শহর ও গ্রামে চলে যায়, আর "বিপুল সংখ্যক বাঙালি" বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।


মিয়ানমারের দাবি, আরসার হামলার আগে বুথিদং, মংডু ও রাথিডং টাউনশিপে সাত লাখ ৪০ হাজারের বেশি "বাঙালি" বসবাস করত। ঘটনার পর সেখানে দুই লাখের বেশি থেকে যায় এবং ৫ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশে চলে যায়। এই হিসাবের ভিত্তিতে মিয়ানমারের দাবি, "রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত" — এই তথ্যটি সঠিক নয়।


বিবৃতি অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী তিন দফায় তাদেরকে ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও "একজনও" ফেরত যায়নি বলে দাবি করেছে নেপিদো। বাংলাদেশের দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১শে জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমার চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে। যার মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা বলে প্রমাণিত, চার হাজার ২৪১ জন "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত" বলে চিহ্নিত এবং এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। যাচাই হওয়া বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত ফেরত নিতে "আন্তরিক সদিচ্ছা" নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।


তারা বলছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই হওয়া রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দাদের গ্রহণ করা হবে। মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে শনিবার রাত পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।


পুরোনো কৌশল

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে ও পরে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। গত ২৮শে এপ্রিল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার।


রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের তৎকালিন বেসামরিক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্যস্থতা করেছিল চীন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০১৯ সালে অগাস্টে চীনের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়নি।


২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আট লাখ রোহিঙ্গার একটি তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বি-পাক্ষিক, বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় এলেও বাস্তব রূপ পায়নি। এবার যে বিবৃতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছে, সেটিকে সময়ক্ষেপণের পুরোনো কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ যে অবস্থান তৈরি করেছে, তার বিপরীতে নিজেদের একটি পাল্টা অবস্থান এই বিবৃতির মাধ্যমে তৈরির চেষ্টা মিয়ানমার করেছে বলেও মত অনেকের। মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলছেন, অতীতে নানাভাবে সময়ক্ষেপণের যে চেষ্টা মিয়ানমারের ছিল, এবারও সেই পথেই হেটেছে তারা।


তিনি বলছেন, অতীতেও বাংলাদেশ যখন আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকা পাঠিয়েছিল, তখনও সেটি নিয়ে যাচাইবাছাইয়ের নামে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল মিয়ানমার। "অতীতে যখন তারা প্রত্যাবাসনে রাজি হলো তখনও এমন একটি সংখ্যা তারা উল্লেখ করেছিল। যেখানে একই পরিবারের দুইজনকে হয়ত বৈধ বলেছে, আর একজনকে বলেছে অবৈধ। অর্থাৎ বাবাকে নিচ্ছে, মা বাদ; আবার মা-বাবা বৈধ, কিন্তু সন্তান বাদ। এরকম একটা দুষ্টু বুদ্ধির কারণে পরে আর রিপাট্রিয়েশন হয়নি," বলেন তিনি।


এবারও মিয়ানমার সেই কৌশল নিয়েছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে নিজেদের অবস্থানও মিয়ানমার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে বলে মনে করেন শরণার্থী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। তিনি বলছেন, "আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস সমাধান নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, তার কাউন্টার হিসেবে মূলত এই ন্যারেটিভটা তারা সামনে এনেছে।"


রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই, এই বিষয়টিও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করারও একটি চেষ্টা এই বিবৃতিতে রয়েছে বলে মনে করেন মুনীর। ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। তারা রোহিঙ্গাদের বারবরই 'বাঙালি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। "এটা তাদের এক ধরনের ছক, যেটা আমরা আগেও দেখেছি। এটা বিশ্বাস করার আসলে তেমন কারণ নেই যে তারা সত্যিকার অর্থেই ফেরত নেবে," বলেন তিনি।


এছাড়া এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা, তারা বাঙালি না রোহিঙ্গা এসব নিয়ে এই বিবৃতিতে নানা বক্তব্য থাকলেও তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রস্তুতি বা নিরাপত্তার বিষয়গুলো রয়েছে তা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। মুনীর বলছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ইতিবাচক অবস্থান দেখানোর একটি চেষ্টা হতে পারে।


"মিয়ানমারে কদিন আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন হয়েছে। যদিও অভিযোগ রয়েছে যে, এটি তাদের যে মিলিটারি গভর্নমেন্ট তাদেরই স্বীকৃতি দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। এই গণতান্ত্রিক রূপটিকেও তারা এই বিবৃতির মাধ্যমে জায়েজ করার চেষ্টা করেছে," বলেন তিনি। অবশ্য মিয়ানমারের এই বিবৃতি দেওয়ায় দীর্ঘদিন পরে হলেও এই ইস্যুতে আলোচনার একটি সুযোগ আবারও তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সর্বশেষ সব খবর

এসএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৭ পিএম

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 


নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সময়সূচি পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়েই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগে নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


সরকারের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এসএসসির টেস্ট বা নির্বাচনী পরীক্ষা আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরীক্ষার ফলাফল ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। ফলে টেস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এসএসসির প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই মাস সময় পাবে। 


তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতির সময় কিছুটা কমে আসছে। সাধারণত নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা আড়াই থেকে তিন মাস সময় পেয়ে থাকে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই পাঠ্যসূচি শেষ করে অক্টোবরের মাঝামাঝি টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।


রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন পরিকল্পনা করছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সরকারি শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 


ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অক্টোবরের শেষ দিকে বা নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচনী পরীক্ষা হতে পারে। এতে এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দুই মাসেরও কম সময় পেতে পারে।


এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনী পরীক্ষার পর প্রস্তুতির সময় কমে গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে।


আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


অন্যদিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পাঠ্যসূচি শেষ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। বিশেষ করে শহরের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রস্তুতির সময় কমে গেলে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এসএসসি


দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে করোনা মহামারির পর থেকে সেই সূচি আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই।


অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, নানা কারণে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে কয়েক মাস করে সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও সেশনজটের কারণে সমস্যায় পড়ছে।


তিনি বলেন, শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে ফিরিয়ে আনতে পরীক্ষার সময়সূচিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করতে হবে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শুরুতে নেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। 


তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। 

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২২ পিএম

জনগণকে বিভ্রান্ত না করে দেশের উন্নয়নে বিরোধীদলকে সঠিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 


তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে, তাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে। কিন্তু কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার ছড়ালে, জনগণের কাছেই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।


দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 


আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়।


তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা একজন রাজনীতিবিদের কাজ বা দায়িত্ব না। বরং জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানো তার দায়িত্ব।


দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচার সরকার করে গেছে। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই, হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনমানুষের কল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপন করুন।


তিনি বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই। জনগণ আর সেই রাজনীতি সমর্থনও করে না।


তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে। এসব সহজ কাজ না; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তারা এখনই মাঠে নামুন। মানুষ এবং দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন। দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকুন।


তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে টিকে আছেন। যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে এবং মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর মানুষ তাদের রাজপথে দেখতে পায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যাবে, কিভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।


তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ৭১ সালে ভুল করেছে, ৮৬ সালে ভুল করেছে, ৯৬ সালে ভুল করেছে, আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের বলবো, এসব উস্কানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন। জনগণের সামনে তুলে ধরুন। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবো।


প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৬ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৯৮ শিশু। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮০৩ শিশুর।


আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯০২ শিশু মারা গেছে।


এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭২৮। এই সময়ে ৭০০ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৪৯ শিশু।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮০০।


এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ রোগী, যাদের মধ্যে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হলে কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন। সেই শিক্ষকদেরই যদি ঘুষ দিয়ে নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতাই প্রকাশ করে।


তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ এই দুটি তহবিলে জমানো টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।


তিনি বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চালু করা ‘শিক্ষা উপবৃত্তি’ এবং ‘নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ’ শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মডেল’ হিসেবে অনুসরণ করছে। মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমা খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দেয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে তাদের প্রাপ্য টাকা নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে।


তারেক রহমান বলেন, অবসরকালীন সুবিধার টাকা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অ্যাকাউন্টে যত সহজে পৌঁছে দেয়া হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার কাজটি অত সহজ ছিল না।


তিনি বলেন, পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত উল্লেখিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাল ইনডেক্স তৈরি ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে এই দুটি তহবিলকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে হয়তো যেতে হবে না। কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতও হবে না। শনিবার সকালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ভবন-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবারই কম-বেশি জানা আছে, স্নায়ুবিক জটিলতা যেমন স্ট্রোক, খিঁচুনি, পারকিনসন ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের দেশে এ ধরনের আধুনিক ও বিশেষিত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।’


আজ হাসপাতাল সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে এ ধরনের রোগের চিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক ডায়াগনোসিস সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয় গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগীভর্তির ধারণ ক্ষমতাকেই বাড়াবে না। একইসঙ্গে চিকিৎসা, গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’


‘শুধু প্রযুক্তি থাকলে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। এ কথা আমরা সকলেই উপলব্ধি করি। রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে আমাদের এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্ভীক করতে সকল দায় দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়। বরং আমি মনে করি চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতি সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।


তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যের অধিকার কেবল মৌলিক অধিকারী নয়, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির চাবিকাঠি বলে মনে করে। আমি মনে করি, স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া অত্যন্ত জরুরি। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বৃত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যাবে না।’


‘সুতরাং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়। এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি, চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে,’ বলেন তিনি। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


আজকে শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে। একইভাবে শিশু স্বাস্থ্যের প্রতিও সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করার কাজ শুরু করেছে।’ আগামী অক্টোবরে একযোগে এই পাঁচটি বিশেষিত শিশু হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


‘জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবতকালে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে, সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং সরকার দেশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। যাতে করে মানুষ দেশের ভেতরে সকল রকমের স্বাস্থ্য সেবা পায়। তবে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে সরকার যতই উদ্যোগ গ্রহণ করুক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক সর্বোপরি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার সাফল্য নির্ভর করছে,’ যোগ করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর