• প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৬ পিএম

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে। ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর। আজ সোমবার একাদশে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। অন্যবারের মত এবারও ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হবে।


অনলাইনে www.xiclassadmission.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।


খাতা পুনর্মূল্যায়নে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন। এ দুই দিন পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন ভর্তিচ্ছুরা। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত কলেজ নিশ্চিত করতে হবে। না করলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।


এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি নেবে কলেজ ও মাদ্রাসাগুলো। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে একাদশ শ্রেণির ক্লাস।


গ্রুপ নির্বাচন


বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেকোনো গ্রুপের (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায়) জন্য আবেদন করতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানবিক ও ব্যবসায় আবেদন করতে পারবেন। মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।


যেকোনো গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিষয়ের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন।


মেধাক্রম নির্ধারণ


সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।


বিজ্ঞান গ্রুপে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর প্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে। যদি তারপরেও প্রার্থী বাছাইয়ে জটিলতা নিরসন না হয়, তবে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।


মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।


এক গ্রুপের প্রার্থী অন্য গ্রুপে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ একই হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসন না হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে।


স্কুল ও কলেজ এবং সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে স্ব স্ব বিভাগে (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব বিভাগে ভর্তি নিশ্চিত করেই কেবল অবশিষ্ট শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে হবে।


ভর্তি ফি


ঢাকা মহানগরের এমপিওভুক্ত কলেজে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের কলেজে ভর্তির ফি হবে ৩ হাজার টাকা। জেলা পর্যায়ের কলেজে দুই ভার্সনের ভর্তির ফি ২ হাজার ও উপজেলা বা মফস্বল পর্যায়ের কলেজে ভর্তির ফি দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


ননএমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উন্নয়ন ফি, সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি ঢাকা মহানগর এলাকার কলেজের বাংলা ভার্সনের জন্য সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনের জন্য সাড়ে ৮ হাজার টাকা।


ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর এলাকার ননএমপিও কলেজে বাংলা ভার্সনে ভর্তির জন্য ৫ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তির জন্য ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কলেজের বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৪ হাজার টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উপজেলা বা মফস্বল পর্যায়ের কলেজে বাংলা ভার্সনে আড়াই হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি দিতে হবে।


সরকারি কলেজগুলো সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি ফি নেবে। দরিদ্র, মেধাবী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য কলেজগুলোকে ফি যতদূর সম্ভব মওকুফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীদের থেকে ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করার সময় ৩৪০ টাকা ভর্তি ফি নেবে।


কোটা


একাদশে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা মাদ্রাসার ৯৩% আসন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১% এবং অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে ১% সহ মোট ২% আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সংরক্ষিত থাকবে। 


যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয়, সেক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ রাখতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে।


বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যার ভর্তির জন্য ৫% আসন সংরক্ষিত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। 


এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে ওইসব আসনে ভর্তি করতে হবে। কোনো অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না।


যেসব কলেজে ভর্তি নিষিদ্ধ


স্থাপনের অনুমতি আছে কিন্তু পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি নেই, এমন কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠান কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত অথবা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত ক্যাম্পাস এবং অনুনোমোদিত কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।



  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম
  • আপডেট : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ এএম


শুভ মহালয়া

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম

প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়। তবে পঞ্জিকার বিশেষ গণনা ও তিথির মারপ্যাঁচে এ বছর শারদীয় দুর্গাপূজা এক দিন বেড়ে চলবে ছয় দিন ধরে। মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় পূজার দিনসংখ্যা বাড়ার এমন ঘটনা বিরল। 


এর ওপর এবার সরকারি ছুটিও বেড়েছে এক দিন। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে উৎসবের আমেজ। সাড়ম্বরে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। সারাদেশের মণ্ডপ, মন্দিরে নির্মীয়মাণ প্রতিমায় মাটির প্রলেপের ওপর রঙের শেষ আঁচড় চলছে। প্যান্ডেল আর সাজসজ্জার কাজও এগিয়েছে অনেকটাই। 


হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের সূচনা ঘটবে আগামী ১৬ অক্টোবর, চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এর আগে আজ শনিবার দুর্গাদেবীর আবাহন তথা মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীর আরাধনা।

 

মহালয়ার সাত দিন পর আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে সন্ধ্যায় দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব। 


বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা ৩টি কমেছে। 


আজ দেবীকে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ


শুভ মহালয়া আজ। দেবীর আরাধনা সূচিত হয় মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে। চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। মূলত দুর্গাপূজার ক্ষণ গণনাও শুরু হবে আজ থেকে। 


হিন্দু ধর্মমতে, মহালয়ায় দেব-দেবীকুল দুর্গাপূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করেন। এদিন অতি প্রত্যুষে মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। ভক্তরা গঙ্গাতীরে তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদ্গতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন। 


সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস সরকার ও প্রশাসনের 


সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও বৈঠক করে নিরাপত্তার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। ঢাকাসহ সারাদেশে আজ ভোরে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু থেকে  দুর্গাপূজার ছয় দিনই কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হবে। 


বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সরকার, প্রশাসন এবং দেশবাসীর সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা শেষ করতে পারব।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৬ পিএম

মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে থাকা ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল ১০ অক্টোবর (শনিবার) ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘দৃশ্যত স্বাস্থ্যবান অথবা নীরোগ থাকাটাই স্বাস্থ্য নয়, বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার নামই স্বাস্থ্য।


সুতরাং, কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।


কাউকে তার মানসিক সমস্যার জন্য অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তার কথা শুনতে হবে, পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ সহজ করতে হবে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Lived experiences heard: real voices, real change’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, যারা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করাই প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত।


বাণীতে প্রধানমন্ত্রী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা, টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণ, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।


পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে মানুষের কথা শুনুন, সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে দাঁড়ান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকুন।’


একটি কল্যাণমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবে না, সহায়তা চাইতে কেউ লজ্জিত হবে না কিংবা নিজেকে একা বা অবহেলিত মনে করবে না।’


বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬-এর সাফল্য কামনা করেন। 


সূত্র: বাসস


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে একজন, চট্টগ্রামে একজন ও সিলেটে বিভাগে একজন রয়েছে। এ সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৯ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ দুই হাজার ৮৯৩ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ জনে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ জন।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঢাকার দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করা হবে। পুরো ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে ছয় মাসের মধ্যে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।


বাস রুট রেশনালাইজেশনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বাস মালিক সমিতিকে।


নতুন এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। গাড়ির ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি তারাই নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকিটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়েরও পরিকল্পনা রয়েছে।


সভায় ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল রয়েছে। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাস চলছে। এগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ৩২টি রুট করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিটিসিএ।


ডিটিসিএ জানায়, এক রুটে একাধিক কোম্পানি ও ব্যক্তি মালিকানার বাস চলায় যাত্রী তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো বাসগুলো যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানি থাকলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা কমবে এবং শৃঙ্খলা ফিরবে।


সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাস কোম্পানিগুলোর মালিক ও সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা এবং ফিটনেস ও আইন মানার বিষয়ে অপারেটরদের দায়িত্বের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।


তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব। আর ছয় মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত ফ্র্যাঞ্চাইজি সেবা চালু হতে পারে। তবে সভার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারণ করতে হবে।


যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বাস মালিকদের দুই মাসের মধ্যে সব বাসের মেরামত, বডিবিল্ডিং ও রং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ঢাকায় চালানোর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ইলেকট্রিক বাস কিনছে। প্রাথমিকভাবে এগুলো চালাতে আটটি রুটের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআরটিসি ও বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে ডিটিসিএ রুট নির্ধারণ করবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩১ এএম

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে যানজট কমাতে ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ পদ্ধতিতে একটি রুটে একাধিক নয়; মাত্র একটি কোম্পানির ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। 


বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী দুই মাসে বাস স্টপেজ নির্ধারণ, লক্কড়ঝক্কড় বাস মেরামত এবং চালকদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে। এই সময়ে কয়েকটি রুট চালু করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকাকে ৩২টি রুটে বিভক্ত করে সবকটিতে ছয় মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হবে। এ পদ্ধতিতে কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকেটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে। 


এ ছাড়া পৃথক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ করতে বলেছেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি খেলার মাঠ নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 


রাজধানীতে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলায় যানজট ও বাসে বাসে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়। তাই একটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি কোম্পানির বাস চালাতে ২০১৫ সালে কমিটি করে তৎকালীন সরকার। এর আগে ২০০৪ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) প্রস্তাব করা ‘বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি’ (বিএফএস) রাজধানীতে চালুর দায়িত্ব দেয়া হয় কমিটিকে। 


২০২১ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলক ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হয়। বেসরকারি কোম্পানি ট্রান্স-সিলভা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি যৌথভাবে তা চালু করে। কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকেটিং সেবা ছিল। নির্ধারিত স্টপেজ থেকে টিকিট নিয়ে যাত্রীকে নির্ধারিত স্থানে নামতে হতো। এই রুটের অন্যান্য কোম্পানির বাস একীভূত না হওয়ায় সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। বেহাল পড়ে থাকে কয়েক কোটি টাকায় নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো। 


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই পদ্ধতিতে বাস চালুর প্রচেষ্টা সফল হয়নি বাস মালিকরা সাড়া না দেয়ায়। তারেক রহমানের সরকার নতুন করে জোর দিয়েছে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ৩২টি রুট নির্ধারণ করেছে ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, সংস্থাটি রুটভিত্তিক বাসের সংখ্যা, পরিচালনাকারী কোম্পানি, কাউন্টার, ডিপো ও লে-ওভার পার্কিং নির্ধারণের পাশাপাশি বাসের জন্য নির্দিষ্ট ও ন্যূনতম মানদণ্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরে। 


সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক হলেও বাস চলাচলের রুট কী হবে, কত বাস চলবে, তা নির্ধারণ করে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি)। ঢাকায় এর সভাপতি মহানগর পুলিশ কমিশনার। 


সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাবে রাজধানীতে বাস কোম্পানির সংখ্যা ১২০। চলাচলের অনুমোদন রয়েছে সাত হাজারের বেশি বাসের। অধিকাংশ রুট এবং কোম্পানি বাস্তবে নেই। আবার একই রুটে আট-দশটি পর্যন্ত কোম্পানির বাস চলে। 


ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পদ্ধতিতে বিদ্যমান রুটগুলোতে যেসব কোম্পানির বাস চলছে, সেগুলোকে একীভূত করে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। বিনিয়োগের অনুপাতে বাস মালিকরা মুনাফা পাবেন। চালক-শ্রমিকরা চুক্তিতে নয়, কোম্পানির মাসিক বেতনভুক্ত হবেন। বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে; নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াবে ও যাত্রী তুলবে। কেউ কাউকে ওভারটেক করতে পারবে না। 


প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাস চলছে। এগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ৩২টি রুট করতে চায় ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ।


বৈঠকে অংশ নেয়া সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, আগামী দুই মাসে রুট নির্ধারণ করা হবে। এসব রুটে বাসের স্টপেজ ঠিক করা হবে। যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধিতে যত লক্কড়ঝক্কড় বাস রয়েছে, সেগুলো মেরামত করতে হবে। যেসব বাসের আয়ুষ্কাল রয়েছে, সেগুলো চলবে। অন্যগুলো উচ্ছেদ হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন– দুই মাসে কয়েকটি রুট চালু করা হবে। ছয় মাসের মধ্যে পুরো পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তা বাস্তবায়নে পরিবহন মালিকরা রোববার থেকে কাজ শুরু করবেন। 


সভায় আলোচনা হয়, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঠিক করা হবে কোন দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সেবা চালু হবে। বাসে ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি তারাই নিশ্চিত করবেন। 


সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সভায় জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাস কোম্পানিগুলোর মালিক ও সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব। ছয় মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত ফ্র্যাঞ্চাইজি সেবা চালু হতে পারে। 


ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ সমীক্ষার ভিত্তিতে রুট পুনর্বিন্যাসের এ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ৫২টি স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা করা হয় এতে। 


গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়।


বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন বিঘা থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।


এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ ১০ ধরনের ক্রীড়ায় প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। 


এদিকে গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নিহত আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।


এ সময় মো. বরকত উল্লাহর সঙ্গে ছিলেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা ২০১৯ সালে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে। 


গতকাল সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, পরিবহন মালিক নেতাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৮ এএম
  • আপডেট : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


গিয়াস উদ্দিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৮ এএম

সচিব পদমর্যাদায় গিয়াস উদ্দিন রিমনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।


বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গিয়াস উদ্দিনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, “যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, যেটি আগে ঘটে, তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিমন ক্যাম্পাস জীবনে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে সাংবাদিকতা ছেড়ে পুলিশে যোগ দেন তিনি।