ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে জারি করা একটি গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘ভেরি ভেরি ইমপর্ট্যান্ট পারসন’ (ভিভিআইপি) মর্যাদা দেওয়া হয়। বিষয়টি সরকারি গেজেট হলেও প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের নির্দেশনার কারণে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্নার স্বাক্ষরে গেজেটটি জারি করা হয়। গেজেটে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১–এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পাঠানো নথির ভিত্তিতে গেজেটটি মুদ্রিত হয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র জানায়, মূলত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী, একজন ভিভিআইপি হিসেবে ড. ইউনূস তার বাসভবন ও কর্মস্থলে এসএসএফ নিরাপত্তা পাবেন।
তার উপস্থিতিতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি থাকবে এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ত্যাগ করেন।
ভিভিআইপি মর্যাদায় কী কী সুবিধা
১. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা
সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা (২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা ব্যবস্থা)
সশস্ত্র নিরাপত্তা এসকর্ট
নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা
২. প্রোটোকল সুবিধা
বিমানবন্দরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবেশাধিকার
সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে বিশেষ অভ্যর্থনা প্রোটোকল
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত আসন ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ
৩. সরকারি লজিস্টিক সহায়তা
সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তা কনভয়
প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ
প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে ড. ইউনূস অন্যান্য যে সুবিধা নিয়েছেন :
১. গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য কর অব্যাহতি
গ্রামীণ ব্যাংকের কর অব্যাহতি ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
সমালোচকদের মতে, এতে প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পেয়েছে
২. গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারি শেয়ার কমানো
গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। ব্যাংকটি লাভজনক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে
৩. আদালতে খালাস
দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পর ঢাকার একটি আদালত অর্থপাচার মামলায় ড. ইউনূসকে খালাস দেয়। শপথ নেওয়ার কয়েক দিন আগে শ্রম আইন মামলায় তিনি এবং গ্রামীণ টেলিকম পরিচালকরাও খালাস পান
৪. গ্রামীণ-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও অনুমোদন
গ্রামীণ নামের অধীনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন
সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জনশক্তি রপ্তানি লাইসেন্স
গ্রামীণ টেলিকমের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা লাইসেন্স
৫. সরকারি চুক্তি
গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট একটি হেলথ-টেক ভেঞ্চার (স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্যোগ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিকিৎসা সেবার চুক্তি পায়
৬. সোশ্যাল বিজনেস ব্যাংকিং অধ্যাদেশের খসড়া
তার ‘সোশ্যাল বিজনেস’ ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করা হয়।
আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে জামায়াতের ইসলামীর বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের আপস রফা হওয়ার কথা বলেছেন তার আইনজীবী। আজ বুধবার আদালতে এই বিষয়টি তুলে ধরে এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন প্রার্থনা করার কথাও বলেছেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে জামিন শুনানি হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের আপসের শর্তে জামিন চেয়েছিলাম। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।
“ইতোমধ্যে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস মীমাংসা হয়েছে। শুনানিতে উপস্থিত থেকে বাদী জানিয়েছেন, দুই আসামির জামিন দিলে তার আপত্তি নেই।”
এদিকে শুনানি নিয়ে বিচারক মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২৪ সেপ্টেম্বর আদালত এমপি নজরুলকে ফের চার দিনের রিমান্ডে পাঠায়। ২৮ সেপ্টেম্বর এদিন দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় নজরুলকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকলে, তার বিচার জনগণ করবে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদির লাইভে এসে দাবি করেন, দলীয় পরিচয়ে তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পরদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সালমান মুক্তাদির জানান, তার কাছে সরাসরি কেউ চাঁদা চাননি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখলদারি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রভাব খাটানোর কিছু নেই, দুর্বৃত্ত তো দুর্বৃত্তই। মাটিকাটায় জমি দখলের ঘটনা রাতের অন্ধকারে হয়েছে, সেখানে ৯৯৯-এ ফোন করার পরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়েছে, গ্রেফতার করেছে এবং কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। ওখানে গোলাগুলি হয়েছিল। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হচ্ছে এবং মামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাকে সমালোচনা করে একজন (সালমান মুক্তাদির) বলেছেন, মামলা হয়েছে আমি জানি না। তা অন্তত আইনের বিষয়েও তো আমরা একটু খুঁটিনাটি চর্চা করি। কেউ যখন এজাহার নিয়ে যায়, তখন সেটা মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করার আগে একটু প্রাথমিক তদন্ত পুলিশকে করতে হয়। তা নাহলে দেখা যাবে ওই মামলায় আমাকে-আপনাদেরও আসামি করে ফেলেছে। যদি অ্যাজ ইট ইজ এজাহারে যা থাকে তাই যদি লিপিবদ্ধ করতে হতো, তাহলে দেখা যাবে যে বঙ্গভবনের ভূমি নিয়েও যদি কেউ আপত্তি তোলে, ওইটাও এজাহার হয়ে যাবে। সেজন্য প্রাথমিক একটা তদন্ত করতে হয়। সেটা করে কেস (মামলা) এন্ট্রি করতে হয়। যিনি মামলা করেছেন তিনি সেখানকার একজন এস্টেট কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে মামলা করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সুতরাং ঢালাও ব্লেম করার জন্য, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করার জন্য এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলার জন্য কেউ যদি বক্তব্য দিয়ে থাকে সেটা বিচার করবে জনগণ। সেখানে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ছিল না, তিনি (সালমান মুক্তাদির) নিজেই বলেছেন তার কাছে চাঁদা চাননি। কিন্তু তারপরও কেন বলছেন বিএনপি চাঁদাবাজ? এজাতীয় বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। তাছাড়া এ ঘটনার তদন্ত করছি, করবো। এখানে যেই জড়িত থাকুক-সে নিউগিনির প্রপার্টির হোক অথবা পার্শ্ববর্তী জমির মালিক হোক তাদের সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত আইনানুগ অ্যাকশন নেওয়া হবে।
এদিকে আজ বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। চিঠিতে সালমান মুক্তাদিরের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম, গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) সংক্রান্ত নথি এবং হিসাবের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে নানান ‘সমস্যা’ ও ‘চ্যালেঞ্জ’ থাকলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ‘তাড়াহুড়োর কোনো কারণ দেখছেন না’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “এর উত্তরে আমি একটাই কথা বলব যে, আমার মনে হয়, উভয় পক্ষই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের টিমকে আমাদের সময় দিতে হবে, এটা একেবারেই নিশ্চিত। যে কোনো এক সময়ে, দুটি সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রের দুই নেতাই।
“আমাদের তো সবরকম সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা যদি মনে করি যে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না, তা সত্যি ভুল হবে। তবে একসঙ্গে বসলে এমন কোনো একটা প্রশ্ন নাই যার সমাধান হবে না। তাই আমার মনে হয় দুই নেতা ও তাদের দুই টিমকে প্রয়োজনীয় সময় আমাদের দেওয়া উচিত। আর এগুলো সঠিক সময়ে প্রক্রিয়াধীন হবে।”
এর আগের দিন মঙ্গলবার তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার বার্তা দেন ভারতীয় হাই কমিশনার।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ত্রিবেদী। পরে এক সাংবাদিক জানতে চান, নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক হয়েছে কি না।
জবাবে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভিজিট নিয়ে বেশি কিছু আলোচনা…আগে যা হয়েছিল, আবার আমি বলি-আমাদের ইনভাইটেশন ইজ ওপেন। এটা নিয়ে আমার মনে হচ্ছে না এবারে কোনো তাড়াহুড়ার দরকার আছে। যখন সময় হবে নিশ্চয় হবে।
“এভরিথিং ইজ ভেরি পজিটিভ। বাট উই মাস্ট গিভ ডিউ টাইম। একটা সময়ের মধ্যে সবকিছু পজিটিভ হবে। দেওয়ার ইজ নো কোয়েশ্চেন অ্যাবাউট এনিথিং নেগেটিভ।”
আজ বুধবারও একইরকম বার্তা দিয়ে ত্রিবেদী বলেন, “কিন্তু আগ্রহের যে জিনিসটা, দুই দেশের মানুষের যে আগ্রহটা, তা হচ্ছে নেতাদের দেখা করতে দিন। জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ ও খেলাধুলা চলতে দিন।
“তা পানিই হোক, ক্রিকেট হোক, ফুটবল হোক, বাণিজ্য হোক, কবিতা হোক, থিয়েটার হোক, চলচ্চিত্র হোক কিংবা গান হোক। একদমই, এগুলো আরও বেশি সাংস্কৃতিক... একদমই, পারস্পরিক নির্ভরতা। এরকম পারস্পরিক নির্ভরতা থাকা ভালো।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করার সময় ‘সাধারণ মানুষের’ বিশেষ আগ্রহ থাকে মন্তব্য করে হাই কমিশনার বলেন, “আমি তো বলব যে আমি ভারতে যখন থাকি, এটা খুবই কৌতূহল জাগায়। এবং আমি দেখেছি যে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে তারা খুবই সতর্ক ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সত্যিই অনেক কৌতূহলী।
“আর আমি একটা কথা বলব যে, দুই দেশেরই একটা আগ্রহ আছে। আগ্রহ কী আছে? যখনই একটু কথা হয় যে সম্মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসছেন, সবাই দারুণ উৎসাহিত হয়। দুই দেশেই। তার মানে? তার মানেই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা। এটা সাধারণ মানুষ চায়, দুই দেশের সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মানুষের কথা বলছি না, সরকারের কথা না, সাধারণ মানুষে এটা চায়।”
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “এটাতো মাথার ওপর দিয়ে গেল।”
এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “এটি হাই কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত।”
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য না বানিয়ে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমে এটি ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন হয়েছে।
গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এ সংক্রান্ত মামলার এজহারের চার নম্বর আসামি।
ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ৬ জন এজাহারভুক্ত আসামি।
গত শনিবার রাতে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুইয়া বাদী হয়ে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। শাহরিয়া মাহমুদ নামে এক যুবককে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এক নম্বর আসামি করা হয়। অপর আসামিদের মধ্যে আবুল কাশেম ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রোকন। এ ছাড়া বাবুল হোসেন ও মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও মুন্না ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা এবং আসলাম অটোরিকশাচালক।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে ১২৮ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জনে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫১০ জন।
২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ পাওয়াদের মধ্যে বেশি ঢাকা বিভাগে ৪৬৬ জন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
একদিন আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও বাড়ি দখল, হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেন ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তথ্য পুলিশের কাছে সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা হালনাগাদ করা হয়।
এর আগেও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজ ও তাদের আশ্রয়দাতাদের তালিকা তৈরি করেছিল, যা নিয়মিত হালনাগাদের কথা পুলিশ আগে থেকেই জানিয়ে আসছে। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, নতুন করে আলাদা কোনো তালিকা তৈরির বিষয় এটি নয়; অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা সামনে আরও জোরদার করা হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যেকোনো অভিযোগ পেলে পুলিশ তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করছে। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আসামিদের গ্রেপ্তার ও মামলা দায়ের করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে গড়ে ওঠা উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিকে মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে ধারণা করা হলেও তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বছর দেশের প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ পূজামণ্ডপ পর্যবেক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ সদর দপ্তরসহ জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হবে।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের পরিচয়পত্রও সরবরাহ করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য পেতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের একটি অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও চার্জার লাইট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।