ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৫ বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শাসন ক্ষমতায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলেন না। বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঢেউয়ে ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের ক্ষমতার কাঠামো।
সোমবার (৪ মে) ভোট গণনা চলতে থাকলেও সন্ধ্যা নাগাদ প্রবণতা স্পষ্ট—‘দিদি’র শাসনের অবসান ঘনিয়ে আসছে। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে রয়েছে।
এই অগ্রগতি শুধু আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্বল হয়ে পড়া এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমন্বয় নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের চেয়ে বিদ্যমান নীতির ধারাবাহিকতাই আপাতত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির শক্ত অবস্থান আগেই দৃশ্যমান ছিল। কংগ্রেস বা স্থানীয় দলগুলোর বিচ্ছিন্ন সাফল্য সত্ত্বেও সামগ্রিক ফলাফল অনেকটাই পূর্বানুমেয়।
মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, এই পরিবর্তনের ফলে ভারতের কেন্দ্রীয় নীতিতে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বিদ্যমান নীতিগুলোই অব্যাহত থাকতে পারে, যা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও একটি স্থিতিশীল ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, দিল্লির বর্তমান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর যোগাযোগ এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে, যদিও তা এখনো পুরোপুরি পরিণত নয়। ফলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সম্পর্কের কাঠামো ভেঙে পড়ার শঙ্কা নেই।
এই নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি নীতিনির্ধারণে সমন্বয় বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুতে নতুন গতি আসতে পারে। অতীতে এই চুক্তি মূলত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে আটকে ছিল। ফলে রাজনৈতিক সমন্বয় বাড়লে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, পূর্বের আলোচনার জায়গা থেকে সরাসরি অগ্রগতি সম্ভব নয়। নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন হবে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় দেড় দশক ধরে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। ২০১১ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় মমতার আপত্তির কারণেই চুক্তিটি আর স্বাক্ষরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে বাংলাদেশে এই ইস্যুতেই তাকে বেশি করে চেনা হয়।
ভারতের নির্বাচনি রাজনীতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রায়ই উঠে আসে, বিশেষ করে ‘অনুপ্রবেশ’ বা অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে। নির্বাচনের সময় এসব বক্তব্য আরও তীব্র হয়।
মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, এসব বক্তব্যের বড় অংশই রাজনৈতিকভাবে অতিরঞ্জিত। বাস্তবে বাংলাদেশ থেকে বড় ধরনের ‘রিফিউজি ঢল’-এর কোনো প্রমাণ নেই।
তবে এই ধরনের রাজনৈতিক বয়ান সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর মতো উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে— যা অতীতেও দেখা গেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মহসিনও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, বাস্তবে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কলকাতার স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা ব্যবসা এবং শিক্ষা খাতের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি গ্রাহকদের ওপর নির্ভরশীল।
একইভাবে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। সীমান্ত বাণিজ্য, পরিবহন ও সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে উভয় অর্থনীতিই পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল।
এই বাস্তবতা রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও দুই দেশকে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর থেকেই রাজ্যে দলটির প্রভাব ধীরে ধীরে বেড়েছে।
একসময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক বলেন, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়সহ ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিজেপির বিস্তার এই প্রবণতাকে আরও দৃঢ় করেছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের এই পরিবর্তন বৃহত্তর একটি জাতীয় প্রবণতার অংশ।
তার মতে, এবার না হলেও ভবিষ্যতের কোনো নির্বাচনে এই পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আগেই ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূলত ঢাকা ও দিল্লির মধ্যেই নির্ধারিত হয়, কোনো রাজ্য সরকারের মাধ্যমে নয়।
অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তাদেরকে রাজ্য পর্যায়ের বক্তব্য ও আচরণের দিকেও নজর রাখতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নাগরিকত্ব প্রমাণের জটিলতা থাকায় ‘পুশব্যাক’ ইস্যু সহজেই কূটনৈতিক উত্তেজনায় রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও একটি আশ্বস্তকারী অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
তার মতে, বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করে। ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও এই সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে।
সেলিমা রহমান, আন্দালিব রহমান পার্থ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, শামীম কায়সার
সরকারের ছয় মাস পূর্তির আগে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের চাপ কমানো এবং সরকারের কাজের গতি বাড়াতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চারজন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের মধ্যে সেলিমা রহমান ও আন্দালিব রহমান পার্থকে মন্ত্রী এবং শহিদুল ইসলাম বাবুল ও শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
ফলে মন্ত্রিসভায় আপাতত কোনো পরিবর্তন না করে নতুন চারজনকে যুক্ত করা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন চাইবেন তখনই বাস্তবায়িত হবে।
আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। দিনটিকে সামনে রেখে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা চলছে। তবে এই পর্যালোচনায় মন্ত্রিসভার পরিবর্তন বা বড় ধরনের দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন।
জানা গেছে, সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমানো এবং নীতিনির্ধারণে আরো মনোযোগ দেওয়ার জন্য নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকন এমপি যুক্ত হতে পারেন বলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় নির্ধারিত উপদেষ্টারা এবং বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন।
ছবি : সংগৃহীত
টানা সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে আজ মধ্যরাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার আশা করছে বলে জানিয়েছে সামিট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। সামিট চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির কথা থাকলেও এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালটি বিকেলে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মোট গ্যাস সরবরাহ না বেড়ে প্রায় ১৭০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে সংকট তীব্র হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।
আজও লোডশেডিং
ছুটির দিন হলেও আজ শুক্রবারও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতি আরও বেড়েছে। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় ১ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট। ভোর ৫টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট।
সকালের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সকাল ৬টায় ৬০৯ মেগাওয়াট এবং সকাল ৭টায় ৩০৪ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। সকাল ৮টায় ঘাটতি ১৮৫ মেগাওয়াট এবং ৯টায় ১৬৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহ প্রায় সমান ছিল। দুপুর ১টায় ১৪ হাজার ৪৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট; অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৫২ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল মাত্র ২২ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ শুক্রবার রাত ও ভোরে উল্লেখযোগ্য লোডশেডিং থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সামিটের গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের জোগান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিংয়ের চাপও কমতে পারে।
সংকটের শুরু যেভাবে
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিটের টার্মিনালের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট হলেও শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির সরবরাহ সক্ষমতা কমে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের ওপর সামিটের নির্ভরতা বেড়ে যায়।
একপর্যায়ে সামিট থেকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে সরবরাহ প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে রাখা হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতে এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কার্গো থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি।
টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে তখন সরবরাহ চালিয়ে যায় সামিট। মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছিল ১০ কোটি ঘনফুট করে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে। অথচ বুধবারও সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
বিদ্যুতে গ্যাস বাড়লেও শিল্পে কমেছে
গ্যাসের মোট সরবরাহ কমে যাওয়ার পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের জোগান বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দিনে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত, এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে যাচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে মিলছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট।
তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
সামনে স্বস্তি কতটা
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট দেওয়া হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার রাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে সামিটের সরবরাহ বাড়লেই গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ওই সময়ে টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে—প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ফলে সামিট থেকে সরবরাহ বাড়ায় আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুটি এলএনজি টার্মিনালই পূর্ণ সক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ কম।
প্রতীকী ছবি
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হাম-সংক্রান্ত রোগে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৪ জনে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে চারজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগে ৭৯৫ জনের প্রাণ গেছে।
এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮৭ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৭২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহজনক হাম রোগী এক লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন।
ছবি : সংগৃহীত
সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দিয়েছে সরকার। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
অবসরপ্রাপ্ত সাত কর্মকর্তা হলেন র্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সৈয়দুজ্জামান, র্যাব-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম কিবরীয়া, ঢাকার আরআরএফের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
এ আদেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট সাত কর্মকর্তা সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন।
এদিকে পৃথক আরেক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পুলিশের ৪৯ জন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অবসর দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত নির্ধারিত ৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করায় সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন। তাঁর এ সফরকে ঘিরে উভয় দেশের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। নয়াদিল্লি ও ঢাকার সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভােরতের গণমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি নয়াদিল্লি সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সফর সম্পন্ন হলে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। এটি দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, সংযোগ (কানেকটিভিটি), জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই দিনের এই সফরটিকে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সফরের সময়সূচির বিস্তারিত বিষয় এখনও চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। নয়াদিল্লি আগামী সেপ্টেম্বরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
নাফাখুম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বান্দরবানের দুর্গম ও আকর্ষণীয় একাধিক ভ্রমণ স্থান ও সড়ক সর্বসাধারণ এবং পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর ফলে পার্বত্য এই জেলার দুর্গম অংশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ আবারো উন্মুক্ত হলো।
জেলা প্রশাসনের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১১ আগস্ট আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
যেখানে আছে থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার তিন্দু পর্যন্ত সড়ক এবং তিন্দুমুখ থেকে নাফাকুম পর্যন্ত পর্যটন এলাকা। এ ছাড়া রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত এবং রিজুক ঝরনা এলাকাও। তবে এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
তবে দুর্গম এসব এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধি-নিষেধ ও নির্দেশনা কড়াকড়িভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর জনপ্রিয় এই পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ায় স্থানীয় গাইড, নৌকার মাঝি এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় স্থানীয় পর্যটননির্ভর অর্থনীতি আবারো চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।