প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার সম্মানে আয়োজিত হবে নাগরিক সংবর্ধনা। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুদিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হবে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিলনায়তনে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন যেন সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক কূটনৈতিক দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সরকারপ্রধানের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসূচি ও অন্যান্য কর্মসূচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে অভাবনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। আবারও দীর্ঘদিন পর তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে স্মৃতিময় করে রাখতে এবং দলীয় প্রধান তথা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে অনলাইনে বিশেষ ভার্চুয়াল যৌথ প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য নেতাকর্মী দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জড়ো হবেন নিউইয়র্কে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গতকাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো শিডিউল চূড়ান্ত হয়নি। সফরসূচি চূড়ান্ত করা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ্য যে, সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ওই দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি, পণ্য আমদানি-রপ্তানি, করিডোর স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমওইউ এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এরপর কয়েকটি দেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী আপাতত অন্য কোনো দেশ সফরে যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে কূটনৈতিক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বহর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সূচি নির্ধারিত রয়েছে। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি তিনি সফরকালে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মূল মিলনায়তনে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তার বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ভাষণ তুলে ধরবেন।
ব্যাপক প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর দলীয় চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র আগমন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সানফ্রান্সিসকো থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্র আসবেন এটা আমাদের জন্য খুশির খবর। আশা করি তাকে ঘিরে সব কর্মসূচি সফল হবে এবং আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে আসবেন। তাকে বরণ করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ফলপ্রসূ হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, প্রায় বিশ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র আসবেন, এটি আমাদের জন্য খুশির খবর। এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ জয় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক। বিশ্ব রাজনীতির এ জটিল সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করা বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।
ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে আমরা আনন্দিত এবং আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
নিজেদের দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতারা
এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোনো কমিটি নেই। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। পদপদবি না পেয়েও অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ এবং কমিটি না থাকায় অনেকেই পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। অথচ বছর দুই আগেও শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সে সময় নিউইয়র্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হেনস্তার ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতায় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও আজ তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। এদিকে প্রায় দেড় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে কোনো কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে তোলপাড় হয়। যদিও নেতাকর্মীদের দাবি, এখানে দলীয় শৃঙ্খলা কিংবা কোনো ধরনের নিয়ম ভঙ্গের মতো কিছু ঘটেনি। নেতাকর্মীরা শুধু চলমান কর্মসূচি দলীয় ব্যানারে পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে বহির্বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল নজিরবিহীন। গত ১৫ বছর অনেকেই বাংলাদেশে আসতে পারেননি। অনেকের পরিবার মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
সর্বশেষ ২০০৫ ও ২০১১ সালে আব্দুল লতিফ (সম্রাট) ও জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি দেওয়া হয়, যা ২০১১ সালে ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের পর তারেক রহমান কয়েকবার কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলোচনা ও লন্ডনে বৈঠক করলেও, তা আলোর মুখ দেখেনি। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক গেলে তার কাছে দ্রুত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়ে দাবি-দাওয়া জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও নতুন সমীকরণ
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন প্রধান পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নতুন পথচলা, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন-তখন জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে বসে সেই সভা পরিচালনা করবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একই দেশের সরকারপ্রধান মূল মঞ্চে ভাষণে আর তারই ক্যাবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বসভার সর্বোচ্চ আসনে থেকে সেই অধিবেশন নিয়ন্ত্রণ করছেন-এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ আধুনিক বিশ্ব কূটনীতিতে অত্যন্ত বিরল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থার ভিন্নতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ এলে অনেকেই ১৯৮৬ সালের কথা স্মরণ করেন। ওই বছর বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বজায় ছিল এবং তৎকালীন শাসন কাঠামোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান ও বিশ্বমঞ্চের সমীকরণটি ভিন্ন ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের পাঁচ দশকের ইতিহাসে প্রথমবার সংসদীয় গণতন্ত্রের অধীনে একই মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই প্রতিনিধি- প্রধান নির্বাহী হিসেবে ‘প্রধানমন্ত্রী’ এবং শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী’-একই সময়ে বিশ্বমঞ্চের ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন- অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের নিউইয়র্ক গমন যেমন বিএনপির জন্য রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক, তেমনি জাতিসংঘের মতো মূল বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব একই সঙ্গে ঘটা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে।
ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্বদরবারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এবং সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, জাতিসংঘের এই ৮১তম অধিবেশন বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটা বিরাট সাফল্য।
নবম পে স্কেল
সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সরকার গঠিত সচিব কমিটি।
নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম বছরে শুধু মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ই-বুকের ‘নবম পে স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামে উপবিভাগে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও অগ্রগতি জানানো হয়। এদিকে চলতি বছরেই নতুন পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
নতুন পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সবকিছুই হবে। তবে আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সব বিষয়ে আলোচনা শেষে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে। পে স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের পর নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ করে সচিব কমিটি। কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় সচিব কমিটির সুপারিশে বেতন বাড়ার হার কিছুটা কমেছে।
সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।
ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।
পরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।
এর আগে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান
সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাছাই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই তিনজনকে নিয়োগ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার তারা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন।
সোমবার 'সাড়ে পাঁচ মাস কমিশন নেই, অকার্যকর হয়ে পড়ছে দুদক' শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এর পরদিনই বিচারপতি মো. রেজাউল হকের সভাপতিত্বে কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির সভা শেষে ছয়জনের নাম সম্বলিত তালিকাসহ সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপতি এদিনই ছয়জনের মধ্য থেকে প্রথমে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্য থেকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত ৩ মার্চ দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ একযোগে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে সাড়ে পাঁচ মাস কমিশন শূন্য ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পদত্যাগের পর কমিশন নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গতকাল ষষ্ঠ সভা করে ছয়জনের নাম চূড়ান্ত করেছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (৫ নম্বর আইন)-এর ধারা ৬ এর উপধারা (১) এর বিধান অনুসারে তাদেরকে কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে। দুদক আইনের ২০০৪-এর ধারা ৫ এর উপধারা (১) এর বিধান অনুসারে বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়।
দুদক আইন-২০০৪-এর ধারা ১৩ এর বিধান অনুসারে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের এবং কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারত এর পতাকা
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের উচ্চপর্যায়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছে।
গতকাল সোমবার ঢাকায় আসা ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি আজ মঙ্গলবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আজ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হবে। এফবিসিসিআই সভাকক্ষে বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিং করা হবে। এতে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বৈঠকের বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।
প্রতিনিধি দলের এ সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন রয়েছে। সমুদ্র ও স্থলবন্দর ব্যবহারে ভারতের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে।
এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিতে ঢাকা থেকে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে।
ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গেও বৈঠক করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি। এতে বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা রয়েছেন। সফরের আগে চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ, সিইপিএ ও ইপিএ করার উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সিইপিএ নিয়ে দরকষাকষিও শেষ হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশের প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগোলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তা থমকে যায়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান প্রতিনিধি দলটি সরকারি নয়। ফলে চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তবে বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে শুরু করায় ভারতের ব্যবসায়ীরা বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে
বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন সময়কাল করেছে সরকার। এতদিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এ বছরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।’
তিনি বলেন, ‘সবই হবে, তবে অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে। আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আরও অন্যান্য বিষয় আছে। সেসব আলোচনার পর পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
পে-স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান। পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার রায় যেকোনো দিন
জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
মামলাটি এখন রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে। আজ সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইবুনাল-২ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই আদেশ দেন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দাবি করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।