মিরপুরে বহুতল একটি ভবনে আগুন লেগেছে

  • প্রকাশ : সোমবার ০৯ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ এএম

রাজধানীর মিরপুরে বহুতল একটি ভবনে আগুন লেগেছে। মিরপুর ২ নম্বর সেকশনে স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে ১১তলা ভবনের (এল এ প্লাজা) তৃতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট। 


আজ সোমবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সেখানে আটকেপড়া ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও ৯ জন নারী। 


ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে আগুনের খবর পায় তারা। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে। চারটি ইউনিট কাজ করছে। আগুন নেভাতে আরও দুটি ইউনিট সেখানে যাচ্ছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০১ পিএম

জাতীয় সংসদ ১৫৬, ময়মনসিংহ-১১, ভালুকা আসনের এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু কর্তৃক জাল দলিল সৃজন করে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি জবর দখলের পাঁয়তারা, ওই জমি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেয়া বন্ধ করা ও ভূমিদস্যূতার বিচারের দাবীতে ১৮ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার, বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।


সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, ভালুকা উপজেলার বাশিল মৌজার এস এ খতিয়ান ২০ এর মালিক ছিলেন আমাদের দাদা মৃত মদন শেখ। দাদার মৃত্যুর পর আমাদের পিতা ছফির উদ্দিনের নামে ৩৩৯ নং বিআরএস খতিয়ান লিপিবদ্ধ হয়। যেখানে ১৭৮, ২০৬, ২৩৬, ২৩৭, ২৩৯,  ২৪১, ২৪৮ ও ২৫১ নং দাগ সৃজন হয় এবং মোট ৮ দাগে মোট ২ একর ৯৬ শতাংশ জমি লিপিবদ্ধ হয়। পিতা ছফির উদ্দিন মৃত্যুকালে  ২ স্ত্রী, ৬ পুত্র  এবং ৪ কন্যা সহ মোট ১২ জন ওয়ারিশ রেখে যান। আমরা  জন্মের পর থেকেই আমাদের জমি শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ দখল করে আসছি এবং সর্বশেষ ছফির উদ্দিন ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের ৩৩৯ খতিয়ানের ২ একর ১৯ শতাংশ জমির খাজনা খারিজ পরিশোধ করেছেন।


গত ৮/৮/২০২৬ তারিখ হঠাৎ দেখতে পাই স্যুট-টাই পরিহিত একদল লোক আমাাদের জমি অডিট/পরিদর্শন করছেন। কাছে গিয়ে জানতে পারলাম, তাহারা প্রিমিয়ার ব্যাংক, ঢাকা বনানী শাখার অফিসার। আমাদের এই জমি এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ব্যাংকে বন্ধক রেখে শত কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছেন। আমরা ওয়ারিশানগণ এবং এলাকাবাসী মিলে ব্যাংকের লোকজনকে অডিট/পরিদর্শনে বাধা দেই এবং তীব্র প্রতিবাদের মুখে ব্যাংকের লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস তল্লাশি দিয়ে এবং দলিলাদি উত্তোলন করে জানতে পারি, এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আমাদের পিতা ছফির উদ্দিন এর ৩৩৯ নং বিআরএস খতিয়ানের ভূয়া মালিকনার ওয়ারিশান সার্টিফিকেট সৃজন করে বাশিল মৌজার দাদা মদন শেখের মালিকানাধীন এস এ খতিয়ান ২০, পিতা ছফির উদ্দিনের মালিকানাধীন বিআরএস খতিয়ান ৩৩৯ এবং উক্ত খতিয়ানের ২৩৬, ২৩৭,২৩৯,  ২৪১, ২৪৮ ও ২৫১ নং দাগ উল্লেখ করে একটি  সম্পূর্ণ জাল দলিল সৃজন করেছেন। যার দলিল নং ৭৩৫৫/২৪, তারিখ ৩/১২/২০২৪। সৃজনকৃত এই জাল দলিলের ২ একর ১৯ শতাংশ জমিও আবার নামজারি করেন তার মালিকানাধীন ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড কনষ্ট্রাকশন লিঃ এর অনুকুলে।  


সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরো জানান, ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ২০২৪ পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে মিল ফ্যাক্টরীর ব্যবসা বাণিজ্য জবর দখলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা ব্র্যাক এর জমি দখলসহ  উপজেলার কাঠালি, মেহেরাবাড়ী, বাশিল, ঝালপাজা, হবিরবাড়ি এলাকায় বন বিভাগ ও নিরীহ জনগণের কয়েক শত বিঘা জমি তার আত্মীয় স্বজন ও অস্ত্রধারী পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জবর দখল করে নিয়েছেন। আমাদের এই জমিও ভূয়া ওয়ারিশান সাজিয়ে, জাল দলিল সৃজন ও নামজারি করে ব্যাংকে বন্ধক দেয়া অবৈধ জবর দখলের অংশ বিশেষ। এমপি বাচ্চু এলাকার দালাল ও দলিলের সনাক্তকারী জিয়াদ হোসেন শাকিল, ভেন্ডার সাইফুল আলম খান (সনদ নং ৫২৩২), স্বাক্ষী কায়সার ও হেলাল উদ্দিন এই চক্রের মাধ্যমে জমি জাল জালিয়াতি সম্পন্ন করেছেন। ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আমাদের বাপ দাদার ভিটে মাটি জাল-জালিয়াতি, জোর জুলুম, নির্যাতন ও হয়রানীর মাধ্যমে জমি জবর দখলের এই হীন প্রয়াস এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান।


সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিচার, জাল দলিল বাতিল এবং জাল দলিল ব্যাংকে বন্ধক রেখে যাতে ঋণ না নিতে পারে এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ঢাকার রাস্তায় চলবে মহিলা বাস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

রাজধানীর কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে আবারও পৃথক ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এসব বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে নতুন এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মহিলা চালক ও কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।


বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পিংক বাস সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


যেসব রুটে চলবে পিংক বাস


রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে পিংক বাস সার্ভিস চালু করছে বিআরটিসি। এসব বাস নতুনবাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-মতিঝিল, মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর-১২-মতিঝিল, আব্দুল্লাহপুর-কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর-মতিঝিল এবং মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে চলবে। পাশাপাশি গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস পরিচালনার কথা রয়েছে।


নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে পৌঁছাবে। এ ছাড়া মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ডেমরা ও আব্দুল্লাহপুর থেকে চলাচলকারী বাসগুলো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা যুক্ত করবে।


রাজধানীর বাইরে বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলবে। চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার।


নারীদের জন্য চালু করা এ উদ্যোগ গণপরিবহনে তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বিআরটিসি। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান এবং অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সব খবর

ইউপিএল প্রধান শাখায় চলছে মাসব্যাপী বিশেষ ক্লিয়ারেন্স সেল...

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৪ পিএম

রাজধানীর ফার্মগেটে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রধান শাখায় চলছে মাসব্যাপী বিশেষ ক্লিয়ারেন্স সেল। 


আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ বইমেলা চলবে। ফার্মগেটের আরএইচ হোম সেন্টারে আয়োজিত এ মেলায় ইউপিএলের বাছাই করা বইয়ে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রকাশনীর নির্বাচিত বইও পাওয়া যাচ্ছে।


ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘মানসম্পন্ন বই প্রকাশের পাশাপাশি পাঠক, লেখক ও গবেষকদের যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ইউপিএলকে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউপিএল গত ২০ বছর ধরে পাঠকদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড়ে বাত্সরিক প্রদর্শনী করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখানে ইউপিএল প্রকাশিত পুরোনো ও দুর্লভ কিছু বই যেমন থাকছে, তেমনি বাহ্যিক ত্রুটি বা প্রচ্ছদে দাগ থাকা কিছু আনকোরা বইও অবিশ্বাস্য মূল্যছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৮ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার দুপুর পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। 


টাঙ্গাইল থেকে আসা যুবলীগ কর্মী অর্ণব দাস (৩৮) শ্রদ্ধা জানাতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসা যুবলীগ কর্মী নিপু মিয়া (৩০) আটক হন। এছাড়া আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। চারজনকেই ধানমন্ডি থানায় পাঠানো হয়। 


এদিকে মব সৃষ্টি করতে এসে ‌‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে পালিয়ে যায়।


প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধু ভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেদিন বিকেল ৪টা থেকে ভবনটির ভেতর থাকা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রায় সব স্মৃতিচিহ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে থাকা মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ স্মৃতিচিহ্নসহ বই ও কাগজপত্র এবং মূল্যবান সামগ্রী পোড়ানো হয় অথবা লুটপাট করা হয়। পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে’র কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত আরও তিনটি বহুতল ভবনে ভাঙচুর করা হয়। ওই দিন বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ধানমন্ডি লেকসংলগ্ন খোলা চত্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং বই ও স্মারক বিক্রির স্টলসহ অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। 


বঙ্গবন্ধু ভবন-সংলগ্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন সান্তুর রেস্টুরেন্টেও ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবনের সামনে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ৬ আগস্ট সকালে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও আশপাশের ভবনসহ সান্তুর রেস্টুরেন্ট থেকে কমপক্ষে চারটি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন। 


অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু ভবনে আরেক দফা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। সেই সময় এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র), ক্রেন ও বুলডোজার এনে বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সামনে-পেছনের তিনটি ভবনের অবশিষ্ট অংশ, সামনের উঁচু দেয়াল ও লোহার গেটগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরের তিন-চার দিন সেখানে হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙাভাঙি ও লুটপাট চলে।




সর্বশেষ সব খবর

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২০ পিএম

ঢাকা শহরের যানজট কমাতে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর কড়াকড়ি আরোপসহ অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে আয়োজিত এক সভায় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে এই পরিকল্পনার কথা জানান।


ডিএসসিসি প্রশাসক এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।’


তিনি বলেন, ‘রিকশার সমস্যাটা কোত্থেকে আসলো, কীভাবে আসলো- সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।’


আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের রাস্তায় বর্তমানে এদিক-সেদিক, উল্টো দিকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন ও চলাচলের শৃঙ্খলা মানছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অযাচিত যানজট আরও বাড়ছে।


রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে ফুটপাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিচ্ছে। 


কেউ রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। 


তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের মানুষকে কি আমরা ঢাকা শহরে জায়গা দিতে পারব? এটাও তো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’ এ কারণে রিকশা ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন আব্দুস সালাম।


ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এজন্য ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।


তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালাতে পারবে না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে চলাচল করা কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে রিকশা নিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসার কোন সুযোগ থাকবে না। একইভাবে উত্তর সিটির রিকশাও নির্বিচারে এই এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।


আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে দেব। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা এই বিষয়টিকে একটি পদ্ধতির মধ্যে আনতে চাই। সেটার জন্য তো কিছুটা সময় লাগবে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা চাই।’


রিকশার পাশাপাশি বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ঈদের আগে যত্রতত্র বাস থামানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, ‘যত্রতত্র যাতে বাস থামাতে না পারে, যত্রতত্র যেখান সেখান থেকে যাতে যাত্রী উঠাতে না পারে-এটাও একটা সিস্টেমে আনতে হবে।’


আব্দুস সালাম বলেন, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কিছু সময় দেওয়া হয়েছে এবং এখন পরিবহন ব্যবস্থাকেও একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কাজ চলছে। আশা করি, কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা পদ্ধতির মধ্যে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।  

বিষয় : ডিএসসিসি

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪২ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫২ এএম


শাহবাগ মোড়ে চালু হলো স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪২ পিএম

ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। 


আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তীব্র যানজট ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। এতে প্রতিদিন নাগরিকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা টেকসইভাবে সমাধানের লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল আরো নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করতে একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।


তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকার ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এর অংশ হিসেবে ডিএসসিসির আওতাধীন আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো হলো-বাংলামোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। এর মধ্যে শাহবাগ মোড়ে বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


ডিএসসিসি জানিয়েছে, এই সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সরাসরি কারিগরি সহায়তায় স্থাপন করা হয়েছে।


প্রশাসক জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরো ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে শিগগিরই ডিএসসিসির আওতাধীন আরো ২২টি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।


নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিকভাবে ম্যানুয়ালি সংকেত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে জানান প্রশাসক। 


তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা সফল করতে চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে হবে।


চালক ও পথচারীদের সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও নির্দিষ্ট লেন মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভাসমান দোকান রাখা যাবে না।


ডিএসসিসি প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের ফলে নগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে এবং ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘ সময় রোদ-বৃষ্টিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের চাপও কমবে। আধুনিক প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর