ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প থেকে ৮০০ কোটি টাকা কমানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটির ব্যয় আরও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়ে কাজ করবে। রোববার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব দুটি অনুমোদন না দিয়ে ব্যয় কমানোর জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আপাতত প্রকল্প দুটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠছে না। সাধারণত, বাস্তবায়নকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাওয়ার পর যাচাই শেষে বাস্তবায়নযোগ্য মনে করলে একনেকে উপস্থাপন ও অনুমোদনের সুপারিশ করে থাকে কমিশন।
সম্প্রতি দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল বিমানবন্দরের সঙ্গে কমলাপুরকে সংযুক্ত করার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ১২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
২০১৯ সালের একনেক সভায় মেট্রো-১ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। নির্মাণকাল ছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত একটি রুট ও অন্য রুটটি নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল ও পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও গত জুলাই পর্যন্ত সাত বছরে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৯০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
এদিকে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত রুট নিয়ে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পটির ব্যয় ১২৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে। প্রস্তাবে নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে একনেকে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। নতুন করে ব্যয় বাড়ছে ৫১ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবে নির্মাণকাল ছয় বছর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
অনুমোদিত সময়সীমা ছিল ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই প্রকল্পটিরও কারিগরি ও ঋণসহায়তা দিচ্ছে জাইকা। নতুন প্রস্তাবে জাইকার ঋণ বাড়বে ১৩৭ শতাংশ। অতিরিক্ত অর্থ ৩৯ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। জাইকার মোট ঋণ দাঁড়াবে ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। অনুমোদিত ঋণ ছিল ২৯ হাজার কোটি টাকা। সরকারের ব্যয় জোগানোর অংশ বাড়বে দ্বিগুণ। মোট জোগানের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। অনুমোদনের সময় এর পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ১২১ কোটি টাকা।
ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের প্রাক্কলিত খরচের চেয়ে অনেক বেশি দর দাবিই প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণেও খরচ বেড়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনা করেছিল জাইকা। সেই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করেই মূল ডিপিপিতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়। পরে জাপানি পরামর্শকরা প্রাক্কলন সংশোধন করে বিভিন্ন অংশের খরচ বাড়িয়ে দেন, যার ধারাবাহিকতায় জাপানি ঠিকাদাররাও ব্যয় বাড়াতে চান।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এত বেশি ব্যয় প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয় পিইসির সভায়। ডিএমটিসিএল ব্যয় বৃদ্ধির যেসব কারণ দেখিয়েছে, তা যথেষ্ট যৌক্তিক নয়। ব্যয়ের বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতা কম থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জাইকার বিভিন্ন শর্তের কারণে দরপত্রে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠান বা তাদের যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
এতে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং ঠিকাদারদের দর কমানোর সুযোগও সীমিত হয়েছে। বৈঠকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই প্রকল্পের ব্যয় কমানো হয় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটির ব্যয় আরও পর্যালোচনা ও যৌক্তিকীকরণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সড়ক পরিবহন উইংয়ের প্রধান অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা সিদ্দিকীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় খাত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যয় কমানোর বিষয়ে পরামর্শ দিতে গত ২৪ মে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়ার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কারিগরি কমিটি করা হয়। জুলাইয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।
তবে কমিটি মূল প্রকল্প প্রস্তাবের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ব্যয়কে যৌক্তিক বলে মত দেয়। এরপরই ডিএমটিসিএল সংশোধিত ব্যয়ের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ আলমগীর।
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোন্ডারিয়ার একটি অফিসের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- চা দোকানি আলমগীর (৩৩), পথচারী সিয়াম (১৮) ও পথচারী আশা আক্তার (২০)। এর মধ্যে সিয়ামের বুকের বাম পাশে, আলমগীরের মাথায় এবং আশার ডান পায়ে গুলি লেগেছে।
এদিকে আহত সিয়াম জানিয়েছেন, তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকেন। সেখানে একটি হোটেলে কাজ করেন। সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেকে নিজের ফুফার চায়ের দোকানে এসেছিলেন। হঠাৎ রাস্তায় মারামারি শুরু হলে তিনি দোকানের ভেতর থেকে শাটার বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। তখনই তার বুকের বাম পাশে কাঁধে দিকে একটি গুলি এসে লাগে।
অন্যদিকে আহত আলমগীরের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার জানান, তার স্বামীও সেখানে চা দোকান করেন। সন্ধ্যায় দোকানের সামনে মারামারি ও গোলাগুলি শুরু হয়। তখন দোকানের ভেতর থাকা অবস্থায়ই তিনি কপালের ঠিক মাঝ বরাবর গুলিবিদ্ধ হন।
এ ছাড়া আহত আশা আক্তার জানিয়েছেন, তিনি ওই এলাকাতেই থাকেন। সন্ধ্যায় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মারামারি মাঝে পড়ে যান তিনি। এতে তার ডান পায়ের রানে একটি গুলি বিদ্ধ হয়। তবে কারা গোলাগুলি করছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে বসা এক তরুণীকে ‘নিথর’ অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ওই তরুণী নিজেই মদ পান করার কথা জানিয়েছেন।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের পর টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো (বাইকের) আসছে আমাকে সাহায্য করতে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। পরে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন। মদ্যপ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির সঙ্গে তিনি যান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
ডিসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় মানসিক চাপে ছিল। সে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণদের সঙ্গে যায়। আমরা মোটরসাইকেলে থাকা দুইজনকে খুঁজছি। তারা হয়তো ভয়ে সামনে আসছে না। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাদের ফোন করেন। পরে তারা এসে তাকে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তরুণীকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় মোটরসাইকেলে বসে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে মৃত বা গুরুতর অসুস্থ বলে অনেকে দাবি করেন। তবে পরে জানা যায়, তিনি জীবিত রয়েছেন।
তরুণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তার একাধিক বিয়ের তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তার সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবির সবগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কারা, তারা কোথা থেকে তরুণীকে নিয়ে যাত্রা করেছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন-এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মালিকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। দুই আরোহীকে শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে এক নারীর স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে পালানোর সময় মো. সেলিম (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে ট্রাফিক পুলিশ। আটকের পর তল্লাশি করে দুল না পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেটি গিলে ফেলার কথা জানান তিনি। পরে বমি করিয়ে তার পেট থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণের দুল উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক সেলিম রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় থাকেন।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এ সময় নিপা আক্তার নামে এক নারীর চিৎকার শুনে তারা দেখতে পান, এক ব্যক্তি দৌড়ে পালাচ্ছেন। পরে কর্তব্যরত সার্জেন্ট ইমরান মৃধা ওই ব্যক্তিকে ধাওয়া করে আটক করেন।
আটকের পর সেলিমের দেহ তল্লাশি করা হলেও তার কাছে স্বর্ণের কানের দুল পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দুলটি গিলে ফেলার কথা জানান। এরপর বমি করানোর মাধ্যমে তার পেট থেকে স্বর্ণের কানের দুলটি উদ্ধার করা হয়।
পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক সেলিম ও ভুক্তভোগী নারীকে যাত্রাবাড়ী থানায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. রাজু বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে বলেও জানান তিনি।
পুরান ঢাকার বাদামতলী মার্কেট সংলগ্ন সকল অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান বাদামতলী এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।
ডিএসসিসি প্রশাসকের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, "সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া সত্যিই প্রেরণাদায়ক। মাননীয় প্রশাসকের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারব এবং বাদামতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে।"
বাবুবাজার ব্রিজের পার্কিং স্থগিত:
এদিকে, একটি জাতীয় দৈনিকে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের 'এ' থেকে 'ডি' পর্যন্ত ৪টি ব্লকের ২৮,০৫১.১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পরিচালিত চলমান কার পার্কিংয়ের সকল কার্যক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবার জন্য। সুতরাং নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ সিটি কর্পোরেশন নিজে করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।"
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। আজ বুধবার রাত ১২টা থেকে অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সোমবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে অনুষ্ঠেয় অধিবেশন যাতে নির্বিঘ্নে চলে তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে।
যেসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা
নিষেধাজ্ঞার আওতার মধ্যে পড়েছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি ১৬ (পুরনো ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উত্তরা জাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।
জাহিদুল ইসলাম ও আল মামুন শিপলু
বরগুনা জেলা কল্যাণ ফোরামের ১১ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর আদাবরে টোকিও স্কয়ার কনভেনশন সেন্টারে এক সভায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটিতে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলামকে সভাপতি এবং বেতাগীর ব্যবসায়ী মো. আল মামুন শিপলুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া জি এম জাফর আহমেদ সহসভাপতি, আজীম রিপন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আসাদুজ্জামান জুয়েল কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি আরও ছয়জনকে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বরগুনার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও জেলার মানুষের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ফোরামের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষায় সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগের সময় জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান।
সংগঠনের নেতারা জানান, দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে বরগুনার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফোরামের মূল লক্ষ্য।