ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর মরদেহ ফেলে কৌশলে পালিয়ে গেছেন স্বামী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি। নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর এবং তার থুতনিতে কালো দাগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বেসরকারি ট্রলিম্যান মো. হাসান জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এক ব্যক্তি ওই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি নিজেকে তরুণীর স্বামী বলে পরিচয় দেন এবং তাকে ট্রলিতে তুলে জরুরি বিভাগের সামনে রাখেন।
ট্রলিম্যান আরও জানান, রোগীকে ভেতরে নেওয়ার কথা বললে ওই ব্যক্তি জানান, তার একজন পরিচিত আসছেন, তিনি এলে ভেতরে নেওয়া হবে। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের বাইরে ট্রলিতে রেখেই অপেক্ষা করেন তিনি। রাত সোয়া ৮টার দিকে কৌশলে তরুণীকে ট্রলিতে রেখেই সেখান থেকে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তরুণীকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার থুতনিকে কালো দাগ রয়েছে। যে ব্যক্তি তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি কৌশলে ওই তরুণীকে রেখে পালিয়ে গেছেন। ওই তরুণীর মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটাতে রাজি হলে ২২০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাবে সরকার। একইসঙ্গে এ প্রস্তাব আমলে নিলে তা তামাক করনীতির ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে। যা তামাক কোম্পানিকে লাভবান করবে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব আয় উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) বিকালে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএটিবি তাদের ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ব্র্যান্ডের দাম ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই লক্ষ্যে তারা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮(ক) এবং সাধারণ আদেশ নং ০২/ভ্যাট/২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন বা ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে অনুমোদিত সীমার মধ্যে প্রস্তুতকারকরা মূল্য নির্ধারণের ‘স্বাধীনতা’ পায়। তামাক কোম্পানিকে এই ধরণের স্বাধীনতা প্রদান করা হলে তা একটি আত্বঘাতি সিদ্ধান্ত হবে যা রাজস্ব আয় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিএটিবির প্রস্তাবে রাজি হলে নিম্ন স্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে সরকার রাজস্ব হারাবে প্রায় ৭ টাকা ৪৭ পয়সা এবং মধ্যম স্তরের প্রতি প্যাকেটে রাজস্ব হারাবে ১৩ টাকা ২৮ পয়সা। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ব্রান্ড-ভিত্তিক বিক্রির তথ্য অনুসারে বিএটিবি’র ডারবি, পাইলট ও হলিউড সিগারেরেট সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি শলাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ১৮০ কোটি শলাকা। নিম্নস্তরে ১০ শলাকার দাম ৯ টাকা কমিয়ে ৭২ থেকে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইকের দাম ১৬ টাকা কমিয়ে ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকা করার সুযোগ দিলে সরকার ২ হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি (নিম্ন স্তরে ১৯৭২ কোটি ও মধ্যম স্তরে ২৩৯ কোটি টাকা) রাজস্ব হারাবে।
বিএটিবির আবেদনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুন ২০২৬ জারি করা এসআরও নং ১২৯-আইন/২০২৬/৩৩৪-এর ৩ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বাজারে ইতোমধ্যে প্রচলিত কোনো সিগারেট ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমানো যাবে না। প্রতিষ্ঠিত এই নীতিগত সুরক্ষা একটিমাত্র বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসায়িক পূর্বাভাস ও মুনাফার স্বার্থে শিথিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোনো একক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কৌশলের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় করনীতি পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্প-প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি করার সুযোগ পাবে, যা সামগ্রিক কর কাঠামোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে এনবিআর নিম্ন স্তরের সিগারেটের এমআরপি ৬০ টাকা থেকে ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করলেও বিএটিবি গত দুই বছর ধরে এই স্তরের সিগারেটের মূল্য ৭২ টাকা নির্ধারণ করে বাজারজাত করে আসছে। অনুমান নির্ভর রাজস্ব বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে তারা দাম কমানোর যে আব্দার করেছে তা অযৌক্তিক এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নীতি ও অবস্থানের সথে সাংঘর্ষিক। এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষার প্রস্তাব। একদিকে তারা সিগারেরটর মূল্য নির্ধারণে বাজেট প্রস্তাবে সরকারের ব্যবহৃত ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দের সুযোগ নিয়ে সিগারেটের উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে আসছে; অন্যদিকে তারা দাম কমিয়ে বাজার দখলের কৌশল হিসেবে সরকারের নীতির পরিবর্তন চাইছে। কেবল মাত্র নিজেদের বানিজ্যেক স্বার্থেই তারা এই স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
বিএটিবি চিঠিতে অনুমান করেছে, দাম কমালে বিক্রি বেড়ে রাজস্ব বাড়বে। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে কোনো নিশ্চয়তা নেই যে বাড়তি বিক্রির পুরোটাই অবৈধ বাজার থেকে বৈধ বাজারে স্থানান্তরিত হবে। বাস্তবে অধিক সম্ভাবনা হলো বৈধ বাজারের মধ্যেই ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামি ব্র্যান্ডের দিকে সরে যাবে, যার ফলে মোট বিক্রি বাড়লেও সরকারের প্রকৃত রাজস্ব আরও কমে যাবে। একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য প্রণোদিত বাজার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা শিথিল করা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব নীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং একইসঙ্গে আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনটিটিপি চলতি অর্থবছরে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর প্রস্তাব দিয়েছিল। যা মূল্যস্তর সরলীকরণের পাশাপাশি রাজস্ব ও জনস্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলত। কিন্তু এনবিআর সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করে, যা মাত্র ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি। অথচ দেশে বর্তমান মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৮.৬৬ শতাংশ। ফলে প্রকৃত অর্থে সিগারেটের ক্রয়ক্ষমতা কমেনি, বরং তা মূল্যস্ফীতির তুলনায় সস্তা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দাম আরও কমানোর প্রস্তাব সম্পূর্ণভাবে জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব নীতির লক্ষ্যের পরিপন্থী।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালার আওতায় পুরো ঢাকা শহরকে আটটি নির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে এসব রিকশা পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জোনভেদে রিকশায় আলাদা রং এবং প্রতিটি যানে কিউআর কোডসংবলিত ডিজিটাল নিবন্ধন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় এক জোনে অনুমোদিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে নির্ধারিত এলাকার বাইরে রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ যান সহজে শনাক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে ব্যাটারি চার্জের জন্য সৌরবিদ্যুৎনির্ভর চার্জিং স্টেশন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। অনেক চালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বৈধ লাইসেন্স না থাকায় এসব যান দুর্ঘটনা ও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ গ্যারেজে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুই সিটি করপোরেশন জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা একেবারে বন্ধ না করে নিয়মের মধ্যে আনা হবে। আটটি জোনে ভাগ করা হলে কোনো এলাকায় নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি রিকশা চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি বা বাণিজ্যিক সংযোগের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিকশা চার্জ দেওয়াও কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে সোলার চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চালকদের জীবিকা ধ্বংস করতে চাই না। তবে সড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি জোনের পৃথক রং ও কিউআর নিবন্ধনের ফলে অবৈধ ও বহিরাগত রিকশা সহজে শনাক্ত করা যাবে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, দক্ষিণ সিটিতে এলাকাভিত্তিক জরিপ ও জোন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে পুরো ঢাকা শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি জোনের রিকশায় নির্দিষ্ট রং থাকবে। কোনো এলাকার রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করলে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল করা হবে। প্রতিটি রিকশায় স্থায়ী কিউআর কোড থাকবে। সেটি স্ক্যান করলেই চালক ও মালিকের তথ্য পাওয়া যাবে। এতে রিকশা চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া সোলার চার্জিং হাব স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
নগর পরিকল্পনাবিদরা সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন। তাদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা মূল সড়কের পরিবর্তে ভেতরের সড়কে সীমাবদ্ধ রাখা এবং জোনের সীমানায় নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সোলার চার্জিং স্টেশন দ্রুত স্থাপন করতে হবে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এসব যান নিবন্ধন এবং নামমাত্র ফিতে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া হলে সরকার বছরে বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলাও ফিরবে।
ছবি : সংগৃহীত
নারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ উদ্বোধনের প্রথম দিনেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর নতুন বিমানবন্দর সড়কে নারীদের জন্য চালু হওয়া নতুন এই যানবাহনকে ধাক্কা দেয় বলাকা পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বলাকা বাসটিকে জরিমানা করেছে।
এদিকে মহিলা বাসটিকে ধাক্কা দেওয়ার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর বনানী এলাকায় পিংক বাসটি পৌঁছানোর পরপরই বলাকা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বলাকা বাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হয়।
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘মহিলা বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বিআরটিসি জানিয়েছে, নারীবান্ধব ও নারী চালক দ্বারা পরিচালিত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এর অংশ হিসেবে মোট ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে এই সেবা শুরু হয়েছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল।
নারী বাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় বাসগুলো চলবে নাতুন বাজার (কোকা-কোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর ১০-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর ১২-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-এবিআর-এর কর্মকর্তারা।
অন্য রুটগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা, বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা।
ঢাকার রাস্তায় চলবে মহিলা বাস
রাজধানীর কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে আবারও পৃথক ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এসব বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে নতুন এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মহিলা চালক ও কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পিংক বাস সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যেসব রুটে চলবে পিংক বাস
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে পিংক বাস সার্ভিস চালু করছে বিআরটিসি। এসব বাস নতুনবাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-মতিঝিল, মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর-১২-মতিঝিল, আব্দুল্লাহপুর-কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর-মতিঝিল এবং মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে চলবে। পাশাপাশি গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস পরিচালনার কথা রয়েছে।
নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে পৌঁছাবে। এ ছাড়া মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ডেমরা ও আব্দুল্লাহপুর থেকে চলাচলকারী বাসগুলো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা যুক্ত করবে।
রাজধানীর বাইরে বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলবে। চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার।
নারীদের জন্য চালু করা এ উদ্যোগ গণপরিবহনে তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বিআরটিসি। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান এবং অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ইউপিএল প্রধান শাখায় চলছে মাসব্যাপী বিশেষ ক্লিয়ারেন্স সেল...
রাজধানীর ফার্মগেটে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রধান শাখায় চলছে মাসব্যাপী বিশেষ ক্লিয়ারেন্স সেল।
আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ বইমেলা চলবে। ফার্মগেটের আরএইচ হোম সেন্টারে আয়োজিত এ মেলায় ইউপিএলের বাছাই করা বইয়ে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রকাশনীর নির্বাচিত বইও পাওয়া যাচ্ছে।
ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘মানসম্পন্ন বই প্রকাশের পাশাপাশি পাঠক, লেখক ও গবেষকদের যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ইউপিএলকে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউপিএল গত ২০ বছর ধরে পাঠকদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড়ে বাত্সরিক প্রদর্শনী করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখানে ইউপিএল প্রকাশিত পুরোনো ও দুর্লভ কিছু বই যেমন থাকছে, তেমনি বাহ্যিক ত্রুটি বা প্রচ্ছদে দাগ থাকা কিছু আনকোরা বইও অবিশ্বাস্য মূল্যছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার দুপুর পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল থেকে আসা যুবলীগ কর্মী অর্ণব দাস (৩৮) শ্রদ্ধা জানাতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসা যুবলীগ কর্মী নিপু মিয়া (৩০) আটক হন। এছাড়া আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। চারজনকেই ধানমন্ডি থানায় পাঠানো হয়।
এদিকে মব সৃষ্টি করতে এসে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে পালিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধু ভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেদিন বিকেল ৪টা থেকে ভবনটির ভেতর থাকা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রায় সব স্মৃতিচিহ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে থাকা মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ স্মৃতিচিহ্নসহ বই ও কাগজপত্র এবং মূল্যবান সামগ্রী পোড়ানো হয় অথবা লুটপাট করা হয়। পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে’র কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত আরও তিনটি বহুতল ভবনে ভাঙচুর করা হয়। ওই দিন বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ধানমন্ডি লেকসংলগ্ন খোলা চত্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং বই ও স্মারক বিক্রির স্টলসহ অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু ভবন-সংলগ্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন সান্তুর রেস্টুরেন্টেও ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবনের সামনে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ৬ আগস্ট সকালে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও আশপাশের ভবনসহ সান্তুর রেস্টুরেন্ট থেকে কমপক্ষে চারটি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু ভবনে আরেক দফা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। সেই সময় এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র), ক্রেন ও বুলডোজার এনে বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সামনে-পেছনের তিনটি ভবনের অবশিষ্ট অংশ, সামনের উঁচু দেয়াল ও লোহার গেটগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরের তিন-চার দিন সেখানে হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙাভাঙি ও লুটপাট চলে।