জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৪ এএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহণ করেছে।


রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সংস্কার, ট্রেড ফেসিলিটেশন, ডিজিটালাইজেশন এবং করের আওতা সম্প্রসারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বল্প মেয়াদে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এনবিআর।


রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করতে নেওয়া এসব উদ্যোগ স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পৃথক করার লক্ষ্যে ‌‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।


ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত National Implementation Committee for Administrative Reform (NICAR) এর সভায় রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ দুটি বাস্তবায়নে সরকারের Rules of Business এবং Allocation of Business সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারে নিকার সভার এ সিদ্ধান্ত একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 


এতে বলা হয়, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কার্যকর মনিটরিং, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নানামুখী কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ এবং ইতোপূর্বে ফাঁকি দেওয়া কর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে এ সময়ে গতিশীলতা এসেছে।


চলতি অর্থবছরের জুলাই-২০২৫ হতে ডিসেম্বর-২০২৫ এই ছয় মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোট ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২ শত ২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে যা গত অর্থ বছরের একই সময়কালের মোট আদায়ের চেয়ে ২৩ হাজার ২০ কোটি টাকা বেশি।


বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চট্টগ্রামে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক ও নান্দনিক সৌন্দর্যের কাস্টমস হাউস এবং কাস্টমস একাডেমি নির্মান কাজের আন্তর্জাতিক টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।


সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে চট্টগ্রামে অত্যাধুনিক ও নান্দনিক কর ভবন নির্মান কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। অচিরেই চট্টগ্রাম কর ভবনের নির্মান কাজ শুরু হবে।


খুলনা কর ভবনের নির্মান কাজ শেষ হয়েছে যা আগমী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুভ উদ্বোধন করা হবে।


দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জন্য ১০ বছর মেয়াদি Medium and Long Term Revenue Strategy (MLTRS) গ্রহণ করা হয়েছে। এ কৌশলের মাধ্যমে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে Strengthening Domestic Revenue Mobilization Project (SDRMP) গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এনবিআরের সম্পূর্ণ কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে Tax Expenditure Policy and Management Framework (TEPMF) প্রণয়ন করে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। আয়কর আইন, ২০২৩; কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ সংশোধন করে কর অব্যাহতি দেয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে সংসদের অনুমোদন ব্যতীত কোন কর অব্যাহতি দেয়া যাবে না। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; কাস্টমস আইন, ২০২৩; আয়কর আইন, ২০২৩ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর Authentic English Text সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, কাস্টমস আইন এবং আয়কর আইনের বিধি-বিধান যথাযথভাবে জানবেন বিধায় রাজস্ব সংক্রান্ত আইনের প্রতি করদাতাগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। Authentic English Text সরকারি গেজেটে প্রকাশের ফলে আইনগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থবোধকতা দূর হবে এবং দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ উন্নতিতে সহায়তা করবে।



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, আয়কর আইন যথাযথভাবে পরিপালন করে আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং আয়কর পরিশোধে করদাতাগণকে পেশাদারী সেবা প্রদানের সুবিধার্থে এবং কর সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আয়করের আওতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩ হাজার ৫ শত জনকে Income Tax Practioner (ITP) সনদ প্রদান করা হয়েছে।  প্রথমবারের মতো এ বছর Income Tax Practioner (ITP) সনদ প্রদান সংক্রান্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়ায় আয়কর পেশাজীবীগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।



অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে নতুন অর্থবছরের শুরুতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং তাঁদের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্তৃক আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক-করাদি A Challan এর মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে জমা দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কাস্টমস এর ASYCUDA World সিস্টেমের সাথে A Challan সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানিকারকের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট হতে অফলাইন অথবা অনলাইন পদ্ধতিতে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে শুল্ক-কর জমা দেয়ার নতুন যুগের সূচনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের Asycuda World এবং অর্থবিভাগের iBAS++ টিম। এছাড়া, Mobile Financial Service (MFS) এর মাধ্যমে ঘরে বসেই A Challan এর মাধ্যমে যে কোন পরিমান কর অনলাইনে সরাসরি সরকারি ট্রেজারিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই bkash করদাতাগণের জন্য তাদের Merchant Account ব্যবহার করে কোন প্রকারের ফিস বা চার্জ ব্যতীত যে কোন পরিমান কর পরিশোধের এ ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যান্য MFS সেবাদানকারী সংস্থার জন্য কর পরিশোধের এ সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে।



ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে। এ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ উপস্থিত হয়ে কাস্টমস, আয়কর এবং ভ্যাট বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে তাদের সমস্যার কথা সরাসরি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিকট উপস্থাপন করতে পারছেন। এতে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে সেগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে।



ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (NCSA) কর্তৃক জারীকৃত সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা ও কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ASYCUDA অবকাঠামো এবং সংবেদনশীল তথ্যসম্পদের নিরাপত্তা জোরদার ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (Security Operations Center-SOC) স্থাপন করে তা চালু করা হয়েছে। SOC-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কাস্টমসের সাইবার স্পেসে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সাইবার আক্রমণ, ঝুঁকি, সন্দেহজনক কার্যক্রম এবং অন্যান্য সাইবার হুমকি সার্বক্ষণিকভাবে (২৪X৭ দিন) পর্যবেক্ষণ, শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।



বৃহত্তর জনস্বার্থে গৃহীত কার্যক্রম: এনবিআরের তথ্যমতে; হজ ব্যয় হ্রাসের সরকারের মহতি উদ্যোগকে সফল করতে এবং ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের হজ পালনের আঙ্খাংকা পূরণ ও হজ পালনের ব্যয় হ্রাসের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের স্বার্থে ২০২৫ এবং ২০২৬ সনের হজ যাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর প্রযোজ্য আবগারী শুল্ক হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় এবং পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহণ মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ইতোপূর্বে মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট ৩০ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।



ধর্মপ্রাণ জনগণের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে খেজুরের মূল্য সাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে রমজান মাস উপলক্ষ্যে খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে এবং অগ্রিম আয়কর ৫০% হ্রাস করা হয়েছে। এছাড়া, দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে চাল, আলু, পেয়াজ, চিনি, ডিম, তাজা ফল, ভোজ্যতেল, ক্যানুলা তেল ও কীটনাশকের ওপর আয়কর, ভ্যাট, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও রেগুলেটরি শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনীত ৩১ টি গাড়ি যথাসময়ে খালাস না করায় এবং নিলামে যৌক্তিক মূল্য না পাওয়ায় জনস্বার্থে সরকারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।



ব্যাগেজ রুলস আরো কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্দেশ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নতুন ব্যাগেজ রুলস (অপর্যটক যাত্রী ব্যাগেজ বিধিমালা, ২০২৫) জারি করেছে। আগের ব্যবস্থায় শুল্ক পরিশোধ করে একজন যাত্রী একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারতেন, নতুন ব্যবস্থায় একজন ভ্রমণকারী যাত্রী শুল্ক পরিশোধ না করে প্রতি বছরে একবার একটি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারছেন। তবে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কর্তৃক ইস্যুকৃত BMET কার্ডধারী এবং ন্যূনতম ০৬ মাস বিদেশে অবস্থান করেছেন এমন প্রবাসী বাংলাদেশীগণ কোন শুল্ক-কর না দিয়ে বছরে ২ টি নতুন মোবাইল ফোন আনতে পারছেন।



মোবাইল ফোনের মূল্য ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫% হতে কমিয়ে ১০% নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০% কমেছে। কাস্টমস ডিউটি হাসের কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০% থেকে হ্রাস করে ৫% ধার্য্য করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০% কমেছে। মোবাইল আমদানি এবং মোবাইল ফোন উৎপাদন উভয়ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর কারণে দেশে মোবাইল ফোনের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমানে হ্রাস পাবে।


ভ্যাট খাতে অগ্রগতি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে অনলাইন সিস্টেমে নিবন্ধন গ্রহণ, অনলাইন রিটার্ন দাখিল, ই-সহগ, অনলাইন পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ভ্যাট স্মার্ট চালান প্রবর্তন, ভ্যাট ফাঁকি মোকাবেলায় 'রিস্ক-বেসড' অডিট সিস্টেম চালুসহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সকল ভ্যাটদাতা যেনো নির্বিঘ্নে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দিতে পারে সে লক্ষ্যে ইতোপূর্বে দাখিলকৃত সকল কাগজের রিটার্ন eVAT সিস্টেমে এন্ট্রি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


ভ্যাট দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে ১০ ডিসেম্বর হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী ১ লক্ষ অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে চিহ্নিতকরণ ও নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষ এই ক্যাম্পেইন ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ডিসেম্বর, ২০২৫ মাসে ১ লক্ষ ৩১ হাজার অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে নতুন ভ্যাট নিবন্ধন প্রদান করেছে। অন্তর্বর্তি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ১৬ হাজার। বর্তমানে এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার।



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইনে ভ্যাট রিফান্ড আবেদন গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সরাসরি করদাতার ব্যাংক হিসাবে অনলাইনে VAT Refund স্থানান্তরের লক্ষ্যে Online VAT Refund Module চালু করেছে। Online VAT Refund Module চালুর মাধ্যমে বিদ্যমান ভ্যাট ব্যবস্থাপনার eVAT System এর সাথে অর্থ বিভাগের iBAS++ এর আন্ত:সংযোগ স্থাপন পূর্বক করদাতার প্রাপ্য ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ BEFTN (Bangladesh Electronic Fund Transfer Network) এর মাধ্যমে সরাসরি করদাতাদের নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে স্থানান্তর করা হচ্ছে।


আয়কর ব্যবস্থার সংস্কার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিকগণ ব্যতীত সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। চলতি অর্থ বছরে ইতোমধ্যে ৩৪ লক্ষাধিক ই-রিটার্ন জমা পড়েছে। কোনরুপ কাগজপত্র বা দলিলাদি 

আপলোড না করে সম্মানিত করদাতাগণ তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অথবা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এর মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।


এ বছর বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাগণের জন্য মোবাইল ফোনের পরিবর্তে তাঁদের নিজস্ব ই-মেইলে OTP প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ভিসা-সিলের কপি, ই-মেইল এড্রেস ইত্যাদি তথ্য এবং ছবি ereturn@etaxnbr.gov.bd ইমেইলে প্রেরন পূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে। উক্ত লিংকের মাধ্যমে ই-রিটার্ন পোর্টালে OTP ব্যবহার করে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতাগণ ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন বিধায় এটি প্রবাসী বাংলাদেশীগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। এ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ৫ হাজারের বেশী প্রবাসী বাংলাদেশী করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।


ই-রিটার্ন এবং Asycuda World সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আমদানিকারক করদাতাগণ কর্তৃক আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে ক্রেডিট দেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে করদাতাগণের আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত করের ক্রেডিট পাবার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পূর্ণ অবসান করা সম্ভব হয়েছে। করদাতাগণ যেন তাদের অতিরিক্ত পরিশোধিত আয়কর অনলাইনে সহজে তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসেবে সরাসরি ফেরত পেতে পারেন সে লক্ষ্যে online tax refund module প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই ভ্যাটের অনুরুপ অনলাইনে সরাসরি করদাতার নিজস্ব ব্যাংক হিসেবে আয়কর ফেরত প্রদান ব্যবস্থা চালু করা হবে। Double Taxation Avoidance Agreements এর আওতায় বিদেশী বিনিয়োগকারিগণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে যে সকল সনদ গ্রহণ করতে হয় তা Bangladesh Single Window সিস্টেম থেকে সরাসরি অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া, বিদেশী করদাতাগণের বাংলাদেশ ত্যাগের প্রাক্কালে যে Tax Clearance Certificate গ্রহণ করতে হয় তা অনলাইনে প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসাথে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বিদেশী নাগরিকগণের বাংলাদেশে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ত্যাগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


অডিটের জন্য আয়কর রিটার্ন নির্বাচন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড Risk Based Audit Selection Criterion এর ভিত্তিতে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে অডিটের জন্য আয়কর রিটার্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অফলাইনে দাখিলকৃত সকল পেপার রিটার্নের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ডাটাবেজে এন্ট্রি না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে ২০২৩-২৪ কর বর্ষের দাখিলকৃত প্রত্যেক সার্কেলের রিটার্নের ০.৫% ডিজিটাল উপায়ে Random Selection পদ্ধতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অডিট মামলা যথাযথভাবে নিষ্পত্তির সুবিধার্থে প্রথমবারের মত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অডিট নির্দেশিকা প্রণয়ন পূর্বক তা অনুসরণ করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা প্রদান করেছে।


কর প্রদান ব্যবস্থাকে সহজ করে করদাতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সারাদেশে নতুনভাবে Spot Assessment কার্যক্রম শুরু করেছে। যে সকল করদাতার করযোগ্য আয় এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে অথচ আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না, তাদের ব্যবসাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরাসরি সেবাপ্রদান করে সহজে রিটার্ন গ্রহণ করার জন্য Spot Assessment একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। এই কার্যক্রম নতুন করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়কর প্রদান করতে উৎসাহিত করছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চল এই কার্যক্রম শুরু করেছে যা ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে কর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়ন: Bangladesh National Window (BSW) চালু করা হয়েছে। সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট ইস্যুকারী ১৯ টি সংস্থা ইতোমধ্যে BSW সিস্টেমে যুক্ত হয়েছে এবং অনলাইনে সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট প্রদানের কার্যক্রম সম্পাদন করছে। গত ২ জুলাই ২০২৫ তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হতে পরিপত্র জারীর মাধ্যমে সকল সংস্থার (১৯ টি) ক্ষেত্রেই BSW সিস্টেম এর মাধ্যমে CLP প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। BSW এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ লক্ষ সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট অনলাইনে ইস্যু করা হয়েছে। অনলাইনে ইস্যুকৃত এসব সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিটসমূহের মধ্যে ৮৪ শতাংশের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের ১ ঘণ্টার মধ্যে এবং ৯৫ শতাংশের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের ১ দিনের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পাদিত হয়েছে।


রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আংশিক রপ্তানিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুবিধা প্রদান করে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান বন্ড ব্যবস্থাপনার শর্তাদি মেনে যেসকল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বন্ডেড ওয়‍্যারহাউস লাইসেন্স গ্রহণ সম্ভবপর হয়ে ওঠে না তাদের জন্য শুল্ক-করাদি পরিশোধ না করে কাঁচামাল/ পণ্য আমদানি করার সুবিধা দেয়া হয়েছে।


রপ্তানি বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে জরুরি বিবেচনায় বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মালামাল খালাস সংক্রান্ত নানাবিধ জটিলতা নিরসনকল্পে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি নির্দেশনা জারি করেছে। উক্ত নির্দেশনা অনুসারে বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত পণ্যের বর্ণনা ও HS Code অনুযায়ী আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণা দাখিল করার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভিন্ন HS Code বা ভিন্নতর পণ্যের বর্ণনা নিরূপণ করলে এবং নিরূপিত HS Code এর প্রথম ৪ ডিজিট বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত HS Code এর প্রথম ৪ ডিজিট এর সাথে মিল থাকলে উক্ত HS Code অথবা পণ্যের বর্ণনা বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকারনামা দাখিল করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস হতে দ্রুত পণ্যচালান খালাস করা যাচ্ছে। ASYCUDA World সিস্টেমে "Truck Movement" নামক একটি নতুন সাব-মডিউল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানিকৃত প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাকের বাংলাদেশে প্রবেশ এবং খালি ট্রাকের ভারতে ফেরতের তথ্য ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। এটি পেপারলেস কাস্টমস বাস্তবায়নের একধাপ অগ্রগতি। ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলে এ সাব-মডিউলটির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই দেশের সকল স্থলবন্দরে এর লাইভ অপারেশন চালু করা হবে।


বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমুদ্র ও নৌবন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশন কর্তৃক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এই খাতে লাইসেন্স ইস্যু করার জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না এবং কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। শিপিং এজেন্ট সংক্রান্ত কার্যাবলী পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই স্বতন্ত্র শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।


প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আমদানি ও রপ্তানিকারকগণের জন্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ রহিত করে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুসরণে কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ইতঃপূর্বে সি অ্যান্ড এফ লাইসেন্স প্রদানের জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না। কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্টের কার্যক্রম পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সি অ্যান্ড এফ) এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ থেকে Utilization Permission (UP) ইস্যু সংক্রান্ত সকল সেবা গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে CBMS সফটওয়্যারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সেই অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ০৩ (তিন) টি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে সকল UP অনলাইনে জারী করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বন্ডেড ওয়‍্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে সকল সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে গত ০১ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখ হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড CBMS নামক স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার চালু করে। উক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানির জন্য শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে অনলাইনে UP গ্রহণ করতে পারছে। তাছাড়া, BGMEA এর UD Declaration সিস্টেমের সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


কাস্টমস হাউস সমূহ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের Foreign Exchange Transaction Monitoring System (FxTMS) এর সাথে ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে আমদানি সংশ্লিষ্ট Commercial Invoice এর সকল তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কাস্টমস হাউস সমূহ কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পণ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের Foreign Exchange Transaction Monitoring System (FxTMS) এর সাথে ASYCUDA World সিস্টেমের সংযোগ স্থাপণের মাধ্যমে আমদানি সংশ্লিষ্ট Commercial Invoice এর সকল তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।


চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমানোর লক্ষ্যে বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা প্রায় ৬০৬৯ কন্টেইনার (প্রায় ১০,০০০ TEUs) এর ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলামে বিক্রয় করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি বিশেষ আদেশ জারী করেছে। ইতোমধ্যে উক্ত কন্টেইনারসমুহের মালামালসমূহের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করে ২ হাজারের বেশী কন্টেনার অকশন সম্পন্ন করে প্রায় ৮ শত কন্টেনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিলামকারীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস দ্রুততার সাথে চলমান নিলাম সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট কমাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। সার্বিকভাবে, নীতি সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদকালে রাজস্ব ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে-যা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ পিএম

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় এ দাম বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 


এদিন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এর আগে গত ১৫ আগস্ট ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এই দাম বাড়ানোর পাঁচদিন পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।


এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা।


এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৫৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।


এর আগে গত ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।


এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়।


সোনার গহনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার গহনারও দাম বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৬৫ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ পিএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 


এর মধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন ও চারটি সংশোধিত।


আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উন্নয়ন ও সংস্কারের পাঁচ বছরের কৌশলপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।


জানা গেছে, সভায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার জাহাজ কেনার প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই কারণ দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী সুরক্ষায় প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকার তুরাগ নদ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।


প্রকল্প দুটি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় চারটি অয়েল ট্যাংকার কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে কোনো দ্বৈততা রয়েছে কি না, সেটা দেখে এই প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।


পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে তুরাগ নদ রক্ষার বদলে তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত একটি সমন্বিত প্রকল্পের চিন্তা করা হচ্ছে। আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রকল্পটি আনা হতে পারে।


অনুমোদিত প্রকল্পগুলো কী


একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ, ১০টি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন, ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করা, জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন), ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) ও রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন।


সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর এটাই প্রথম ঘটনা।


জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও অন্য কমিশনারদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে নাজেহালের ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। ২২ কর্মকর্তার মধ্যে ১৭ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ও ৫ জনের বেতন সর্বনিম্ন স্তর বা গ্রেডে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অত্যন্ত সতর্কতা ও গোপনীয়তার সঙ্গে বিএসইসি সরকারের এই নির্দেশ পালন করে।


বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ ও নাজেহালের ঘটনায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় মামলা হয়। বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ওই মামলা করেছিলেন। ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি এ ঘটনায় সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই তদন্ত এবং অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর নানা প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিতে নির্দেশনা পাঠানো হয়। এই ২৩ কর্মকর্তার মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে গতকাল ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। অন্য কর্মকর্তা আগেই অন্য আরেক অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


বরখাস্ত হওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে কথা তাঁদের জানানো হয়। তবে বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি তাঁরা আজ বুধবার হাতে পেয়েছেন। অনেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই চিঠি গ্রহণ করেন।


কী ঘটেছিল গত বছরের ৫ মার্চ


গত বছরের ৫ মার্চ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনী এসে তাঁদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে। বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে এই কর্মকর্তারা ওই ঘটনা ঘটান। পরে তাঁরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও তৎকালীন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। এমনকি এই ঘটনায় কর্মবিরতিও পালন করেন বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ নিয়ে কয়েক দিন সংস্থাটিতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।


এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএসইসি চেয়ারম্যান (সাবেক) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এবং কমিশনার (সাবেক) মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখের উপস্থিতিতে কমিশনের নির্ধারিত সভাকক্ষে সভা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাসহ আরও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জোরপূর্বক ও অনধিকার প্রবেশের মাধ্যমে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন। এরই মধ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কমিশনের মূল ফটকে তালা দেন, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই–ফাই, কমিশনের লিফট বন্ধ করে দেন এবং বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ করে মারাত্মক অরাজকতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।

সর্বশেষ সব খবর

বিসিক ভবন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০২ পিএম

​দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ১৮টি শিল্পনগরী ও শিল্পপার্কে ১ হাজার ৩৬২টি শিল্পপ্লট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। 


কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোগত সুবিধার এ প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে।


​বিসিকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় আগ্রহী উদ্যোক্তারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফরম বিসিকের প্রধান কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট জেলা বা আঞ্চলিক অফিস এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা যাবে।


​বড় প্রকল্পগুলোতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ


বরাদ্দযোগ্য প্লটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কে, যেখানে প্লটের সংখ্যা ৫৫৭টি। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরীতে ৩২৬টি, চট্টগ্রাম রাউজানে ১৬৩টি এবং বরিশাল শিল্পনগরীতে ১১২টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে।


​এর বাইরে গোপালগঞ্জ (সম্প্রসারণ), মাদারীপুর (সম্প্রসারণ), নোয়াখালী, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, রাজশাহী-২, পাবনা, ঝালকাঠি, মেহেরপুর, বরগুনা ও চুয়াডাঙ্গা বিসিক শিল্পনগরীর নির্ধারিত প্লটের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে।


নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার


শিল্প খাত ও নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়াতে কিস্তি ও ফি জমার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। নারীরা জমির মোট মূল্যের ১৫ শতাংশ জামানত দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। জমির বাকি মূল্য এককালীন অথবা সর্বোচ্চ ৭ বছরে ১৪টি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। 


তবে পুরুষ উদ্যোক্তারা আবেদনের সময় জমির প্রাক্কলিত মূল্যের ২০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। বাকি অর্থ এককালীন অথবা ৫ বছরে ১২টি সমকিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।


​আধুনিক সুবিধা ও ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ


বিসিক জানিয়েছে, ঘোষিত শিল্পনগরীগুলোতে পরিকল্পিত পানি, গ্যাস, ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি ডাম্পিং ইয়ার্ড, ফায়ার সার্ভিস, গ্রিন জোন, মসজিদ ও লেকের মতো নাগরিক সুবিধা থাকবে। 


তাছাড়া শিল্পপ্লট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রেখে উদ্যোক্তারা জামানতি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে। 


​বিসিক জানিয়েছে, সমগ্র প্লট বরাদ্দ কার্যক্রম ‘বিসিক শিল্পনগরী-শিল্পপার্ক প্লট বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ পিএম

একটি সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশে একটি দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।


সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সকলের এখন প্রয়োজন দেশপ্রেম এবং আন্তরিকতা। আসুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি। আরও সমৃদ্ধ, আরও বিনিয়োগ এবং আরও ব্যবসাবান্ধব একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশায় আমি এই রাজস্ব সম্মেলনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।”


রাজস্ব আহরণে কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এক আশা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। এটিই প্রমাণ করে আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন এবং আপনারা অবশ্যই পারবেন ইনশাআল্লাহ।”


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এই আয়োজনকে কেবল একটি সাধারণ সম্মেলন হিসেবে দেখছি না। কারণ এনবিআরের সফলতার ওপরই সরকারের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা বহুলাংশে নির্ভর করে। বিগত সময়ে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের ফলে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করায় জনগণের আস্থা বিনষ্ট হয়েছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। দেশের মানুষ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়।”


তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশকে ঋণনির্ভর বা আমদানি নির্ভরতার বোঝা থেকে বের করে নিয়ে এসে অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস ও ক্ষেত্র সম্প্রসারণে বদ্ধপরিকর। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে ডিজিটালি আধুনিক ও ডাটা-ভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার তাগিদ দেন, যাতে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বারবার বোঝা না চাপিয়ে নতুন কর সক্ষম ব্যক্তিদের করের আওতায় আনা সম্ভব হয়।


অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।


অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও এনবিআরের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) সৈয়দ মুসফিকুর রহমান। সম্মেলনে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর অনুবিভাগের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৫ এএম

দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১৮ আগস্ট রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগের দিন (১৭ আগস্ট) সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে।


এবারের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রদর্শনী স্টলও ঘুরে দেখতে পারেন সরকারপ্রধান।


কর ও কাস্টমস ক্যাডারদের দাবির মুখে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলন হয়। তখনকার প্রধানমন্ত্রী দুই দিনব্যাপী সেই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এবারের সম্মেলনটি হবে একদিনের।


এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মূলত নতুন এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্যোগে রাজস্ব সম্মেলন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেয়ে চেয়ারম্যান এ উদ্যোগ নিয়েছেন। অল্প সময়ের নোটিশে সব আয়োজন সম্পন্ন করতে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে কমিটির সদস্যদের।’


এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এনবিআর পৃথক করা নিয়ে হওয়া আন্দোলনের সময় নিজেদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। মাঠ পর্যায়ে দমবন্ধ পরিবেশ বিরাজ করছে এখনও। নতুন সরকার ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঠিকভাবে কাজ না করলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। সেজন্য নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমানো, মনোবল চাঙা করা এবং কাজের পরিবেশ নির্মল করতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সারাদেশের কর্মকর্তারা আসবেন। পরস্পর দেখা সাক্ষাৎ হবে। মানসিক দূরত্বও কমবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দাবি নেই। 


দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আয়োজক কমিটিতে থাকা এক এনবিআর সদস্য বলেন, ‘চূড়ান্ত কিছু হয়নি। সব কিছু ১৮ তারিখে জানতে পারবেন।


তবে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি বিভাগে এনবিআরকে পৃথকের বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে।


রাজস্ব খাত সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা জাতীয় সংসদে পাসের জন্য তোলেনি বর্তমান বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ যাচাই–বাছাই করার জন্য কমিটি গঠন করেছে ক্ষমতাসীন সরকার। 


এই কমিটির সভাপতি হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 


২৮ এপ্রিল এই কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৯ সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক সচিব।


রাজস্ব সম্মেলন বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের এক সদস্য বলেন, ‘আমি এখনও কিছুই জানি না। আমাকে অফিসিয়ালি জানানো হয়নি।


এনবিআরের সাবেক এক সদস্য বলেন, ‘রাজস্ব সম্মেলন এই দ্বিতীয়বার হতে যাচ্ছে। এটি অনেকটা ডিসি সম্মেলনের মতো। তবে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী, দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের বিষয়টি নির্ভর করবে। আমার মনে হয়, এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি বড় দাবি হিসেবে আসতে পারে। বিশেষত, বাজস্বনীতি ও ব্যবস্থাপনার পৃথকীকরণ যেন নিরপেক্ষ সরকারের সময়ে গঠিত কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী হয়; সেটি উপস্থাপন করা যায়। এতে রাজস্ব বৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এনবিআরের দায়বদ্ধতাও বৃদ্ধি পাবে।


এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে রাজস্ব বোর্ডের উচিত সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি কী হবে তা জানানো। ২০২৩- ২০২৪  অর্থবছরেও একবার রাজস্ব সম্মেলন হয়েছিল। সে সম্মেলনে রাজস্ব বোর্ড প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তথা আধুনিকায়ন কর্মসূচির সার্বিক সংস্কারের কথা না বলে ব‍্যয়ের জন‍্য রাজস্ব ভিত্তি সংকুচিত হচ্ছে এবং রাজস্ব আসছে না বলে অভিযোগ দিয়ে নিজেদের দায় থেকে রক্ষা করেন। এ কারণে সে সম্মেলন বিফল হয়েছে। এবার যাতে সেরকম না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাজস্ব ব‍্যবস্থাপনা ও এর ব‍্যাপক সংস্কারের দাবি তুলে তাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমর্থন চাইতে হবে। এটাই এবারের মূল বিষয় হওয়া উচিত বলে মনে করি।


আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১৮ আগস্ট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সম্মেলনে থাকা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকালের পর রাজস্ব সংগ্রহ, রাজস্ব আওতা বাড়ানো সম্পর্কিত বিভিন্ন স্টল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।


সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন।


২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল।


কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনকে সফল করতে এরই মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। 


এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান। তিনি কর ক্যাডারদের সংগঠন বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব।


সংশ্লিষ্টরা জানান, এনবিআর ও রাজস্ব আদায় সম্পর্কে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা প্রদান, এনবিআর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা কমানো, রাজস্ব পদ্ধতিসহ নানা বিষয় সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সব খবর