ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নোট বাজারে ছাড়া হবে।


‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন সিরিজের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা মূল্যমানের নোট মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে। এবার এ ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে নতুন ১০ টাকার নোট।


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর স্বাক্ষরিত এ নোটটি ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথমবারের মতো প্রচলনে আসবে। শুরুতে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও তা সরবরাহ করা হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ডিজাইনের ১০ টাকার নোট চালুর পরও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতো বৈধ থাকবে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের কথা বিবেচনায় রেখে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ১০ টাকার বিশেষ নমুনা (স্পেসিমেন) নোটও ছাপানো হয়েছে, যা বিনিময়যোগ্য নয়। আগ্রহীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের মিরপুরস্থ টাকা জাদুঘর বিভাগ থেকে নির্ধারিত মূল্যে এসব নোট সংগ্রহ করতে পারবেন।


নতুন ১০ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটের সামনের বাম পাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি রয়েছে। মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। নোটের পেছনে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র। পুরো নোটে গোলাপি রঙের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।


নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অংশ হিসেবে নোটটিতে জলছাপে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, তার নিচে ইলেকট্রোটাইপে ‘১০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে। সম্মুখভাগে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে ‘$10 দশ টাকা’ লেখা আছে-যা আলোর বিপরীতে ধরলে স্পষ্ট দেখা যায়। নোটটি নাড়াচাড়া করলে এই সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়।


এছাড়া গভর্নর স্বাক্ষরের ডান পাশে ‘সি-থ্রু ইমেজ’ প্রযুক্তিতে একটি প্যাটার্ন রাখা হয়েছে, যা আলোয় ধরলে ‘১০’ অঙ্কটি দৃশ্যমান হয়। সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখার নিচে এবং পেছনভাগের নির্দিষ্ট অংশে মাইক্রোপ্রিন্টিংও যুক্ত করা হয়েছে।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় ‘গোলাপি বাস’ সেবা চালু করেছে সরকার। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত এ সেবার পরিসর বাড়াতে পরিবেশবান্ধব বাস কেনার পরিকল্পনা চলছে। খোঁজা হচ্ছে তিন হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ। দুটি আলাদা প্রকল্পের আওতায় মোট ৮০০ এসি সিঙ্গেল ডেকার ইলেকট্রিক এসি বাস কেনা হবে। যার মধ্যে কিছু বাস ব্যবহার হবে ‘গোলাপি বাস’ সেবার জন্য। এতে বাড়বে গোলাপি বাসের রুট, সংখ্যা ও পরিসর। বাকিগুলো পরিবেশবান্ধব নাগরিক সেবায় কাজে লাগাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।


ঋণের চাহিদা মেটাতে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।


পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে এক হাজার বাস কিনবো। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পিংক সিটি সার্ভিসের পরিষেবা আরও বাড়বে।’


তবে চীন থেকে ৫শ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি রাহেনুল ইসলাম।


নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে  চলাচল করছে গোলাপি রঙের ‘মহিলা বাস’। বাসগুলোর মধ্যে ডাবল ডেকার বেশি। এগুলোতে এসি নেই।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘প্রকিউরমেন্ট অব ইলেকট্রিক সিঙ্গেল ডেকার ৩০০ এসি বাস ফর বিআরটিসি’ প্রকল্পের আওতায় বাসগুলো কেনা হবে। এ প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঋণ দুই হাজার ৯ কোটি এবং বাকি ৭০৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে। বাসগুলো কেনা হবে চলতি সময় থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।


অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়ান বাসের বিষয়ে ইতিবাচক। এজন্য তিনি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (পিডিপিপি) সই করেছেন। প্রকল্প ঋণের উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ান অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলকে (ইডিসিএফ) নির্ধারণ করেছে সরকার। ইডিসিএফ থেকে ঋণ পেতে এরই মধ্যে ইআরডির মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


আরও ৫০০ বাস কেনারও পরিকল্পনা করছে সরকার। এ খাতে ব্যয় হবে এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তবে এ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) সই করেননি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছেন আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


চীনা বাসগুলো কতদিন সার্ভিস দেবে, ঋণে সুদের হার কত হবে, বাসগুলোর পার্টস নষ্ট হলে কীভাবে সংগ্রহ করা হবে- ইত্যাদি বিষয় যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।


পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনার বিষয়ে পিডিপিপি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। তবে চীনের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই হচ্ছে


৩০০ বাস কিনতে দরকার ২ হাজার ৯ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ


৩০০টি একতলা ইলেকট্রিক বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বরাবর চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই চিঠি চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া বরাবর পাঠিয়েছে ইআরডি। প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭০৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাকি বৈদেশিক ঋণ দরকার ২ হাজার ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।


ইআরডির উপসচিব (এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ) আইরিন পারভীন বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা হবে। ঋণের বিষয়ে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ায় চিঠি পাঠিয়েছি।’


উদ্দেশ্য


আন্তঃনগরের নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক গণপরিবহন সুবিধা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিবহন ব্যবস্থায় প্রবেশ, বিআরটিসি বহর থেকে পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন, শহরে যানজট ও পরিবেশ দূষণ কমানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।


প্রধান কার্যক্রম


৩শ ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস) কেনা খাতে এক হাজার ৩৮৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। মোট ব্যয়ের ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে ইভির স্পেয়ার পার্টসে, এ খাতে ২০৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ২৫টি ইলেক্ট্রিক চার্জিং স্টেশন (ইসিএস) খাতে ব্যয় রাখা হয়েছে ৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।


ইসিএস স্পেয়ার পার্টস খাতে রাখা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২৫টি জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার কিনতে ২৬ কোটি ১৪ লাখ, ২০টি ইভির ওয়ার্কিং শেড খাতে ১২ কোটি ৩০ লাখ, তিনটি স্পেয়ার পার্টসের ওয়্যারহাউজ (গুদামঘর) খাতে তিন কোটি ৬৯ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।


প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ থাকবে তিনটি। এ খাতে ব্যয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ। ২০টি ওয়াশিং প্ল্যান্ট খাতে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ, ভিডিও মনিটরিং সিস্টেমসহ (ভেতর ও বাইরের দৃশ্য) বিল্ট-ইন সফটওয়্যারভিত্তিক ভিটিএস (ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম) খাতে ১০ কোটি, চার্জিং স্টেশন/যানবাহনের গ্যারেজের জন্য সিভিল ওয়ার্কস/অবকাঠামো/গ্যারেজ ও চার্জিং স্টেশন উভয়ের সংলগ্ন সেন্সরভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (জরুরি অবস্থার জন্য) থাকবে ২০টি, এ খাতে মোট ব্যয় হবে ১২৩ কোটি টাকা।


২৫ টনের ২৫টি রেকার কিনতে ৩৯ কোটি ৩৬ লাখ, ২০টি জেনারেটরসহ ভেহিক্যাল মাউন্টেড পোর্টেবল চার্জার কিনতে ৪৯ কোটি ২০ লাখ এবং বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ খাতে চার কোটি টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে।


চীন থেকে ৫০০ বাস কেনার পরিকল্পনা


বিআরটিসির জন্য ৫০০টি একতলা বৈদ্যুতিক এসি বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন পেতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পিডিপিপি প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে এ প্রকল্পের পিডিপিপিতে পরিকল্পনামন্ত্রী সই করেননি। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।


পিডিপিপিতে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৩৩৩ কোটি ও প্রকল্প ঋণ হিসেবে চীন থেকে এক হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। বাস কেনার বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।


চীনের বাস কেনার উদ্দেশ্য


বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতে প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী বৈদ্যুতিক এসি বাস চালু করা, যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা, প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের তুলনায় বৈদ্যুতিক বাসের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস তথা পরিচালন ব্যয় কমানো।


এছাড়া ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) এবং খসড়া জাতীয় বৈদ্যুতিক বাস নীতির লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করা, বিআরটিসির বাস বহর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সেবার নির্ভরযোগ্যতা, কার্যকারিতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাড়ানো, অধিক সংখ্যক যাত্রী আকর্ষণ করা এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট নিরসনে অবদান রাখা।


প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম


৫০০ বৈদ্যুতিক যানবাহন (একতলা এসি বাস) কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ইভির জন্য স্পেয়ার পার্টস কিনতে ১২৩ কোটি টাকা, ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন (প্রতিটিতে চারটি করে ৩২০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জার এবং অবকাঠামোসহ) খাতে ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।


এছাড়া প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ (কম্পিউটারভিত্তিক ডায়াগনোসিস সিস্টেমসহ) খাতে ১৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পাঁচটি জেনারেটরসহ যানবাহনে স্থাপিত বহনযোগ্য (পোর্টেবল) চার্জার ১২ কোটি ৩০ লাখ, চালক, টেকনিশিয়ান ও অপারেটরদের জন্য প্রশিক্ষণ খাতে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ পিএম

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় এ দাম বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 


এদিন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এর আগে গত ১৫ আগস্ট ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এই দাম বাড়ানোর পাঁচদিন পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো।


এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা।


এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৫৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।


এর আগে গত ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা।


এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়।


সোনার গহনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার গহনারও দাম বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৬৫ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ পিএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 


এর মধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন ও চারটি সংশোধিত।


আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উন্নয়ন ও সংস্কারের পাঁচ বছরের কৌশলপত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।


জানা গেছে, সভায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার জাহাজ কেনার প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই কারণ দেখিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী সুরক্ষায় প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকার তুরাগ নদ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)।


প্রকল্প দুটি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় চারটি অয়েল ট্যাংকার কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে কোনো দ্বৈততা রয়েছে কি না, সেটা দেখে এই প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।


পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একইভাবে তুরাগ নদ রক্ষার বদলে তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত একটি সমন্বিত প্রকল্পের চিন্তা করা হচ্ছে। আরও বিস্তৃত পরিসরে প্রকল্পটি আনা হতে পারে।


অনুমোদিত প্রকল্পগুলো কী


একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাগুলো প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ, ১০টি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ, বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন সেতুর স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির সক্ষমতা উন্নয়ন, ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদার করা, জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন), ডেসকোর এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (প্রথম সংশোধন) ও রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন।


সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ভবন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫২ পিএম

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর এটাই প্রথম ঘটনা।


জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও অন্য কমিশনারদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রেখে নাজেহালের ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। ২২ কর্মকর্তার মধ্যে ১৭ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ও ৫ জনের বেতন সর্বনিম্ন স্তর বা গ্রেডে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অত্যন্ত সতর্কতা ও গোপনীয়তার সঙ্গে বিএসইসি সরকারের এই নির্দেশ পালন করে।


বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ ও নাজেহালের ঘটনায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় মামলা হয়। বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ওই মামলা করেছিলেন। ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি এ ঘটনায় সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই তদন্ত এবং অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর নানা প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিতে নির্দেশনা পাঠানো হয়। এই ২৩ কর্মকর্তার মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে গতকাল ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। অন্য কর্মকর্তা আগেই অন্য আরেক অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


বরখাস্ত হওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বিএসইসির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে কথা তাঁদের জানানো হয়। তবে বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি তাঁরা আজ বুধবার হাতে পেয়েছেন। অনেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই চিঠি গ্রহণ করেন।


কী ঘটেছিল গত বছরের ৫ মার্চ


গত বছরের ৫ মার্চ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনী এসে তাঁদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে। বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে এই কর্মকর্তারা ওই ঘটনা ঘটান। পরে তাঁরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও তৎকালীন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। এমনকি এই ঘটনায় কর্মবিরতিও পালন করেন বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ নিয়ে কয়েক দিন সংস্থাটিতে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।


এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএসইসি চেয়ারম্যান (সাবেক) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এবং কমিশনার (সাবেক) মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখের উপস্থিতিতে কমিশনের নির্ধারিত সভাকক্ষে সভা চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাসহ আরও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জোরপূর্বক ও অনধিকার প্রবেশের মাধ্যমে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন। এরই মধ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কমিশনের মূল ফটকে তালা দেন, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই–ফাই, কমিশনের লিফট বন্ধ করে দেন এবং বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ করে মারাত্মক অরাজকতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন।

সর্বশেষ সব খবর

বিসিক ভবন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০২ পিএম

​দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ১৮টি শিল্পনগরী ও শিল্পপার্কে ১ হাজার ৩৬২টি শিল্পপ্লট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। 


কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোগত সুবিধার এ প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে।


​বিসিকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় আগ্রহী উদ্যোক্তারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফরম বিসিকের প্রধান কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট জেলা বা আঞ্চলিক অফিস এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা যাবে।


​বড় প্রকল্পগুলোতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ


বরাদ্দযোগ্য প্লটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কে, যেখানে প্লটের সংখ্যা ৫৫৭টি। এছাড়া মুন্সীগঞ্জে বিসিক বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরীতে ৩২৬টি, চট্টগ্রাম রাউজানে ১৬৩টি এবং বরিশাল শিল্পনগরীতে ১১২টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে।


​এর বাইরে গোপালগঞ্জ (সম্প্রসারণ), মাদারীপুর (সম্প্রসারণ), নোয়াখালী, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, রাজশাহী-২, পাবনা, ঝালকাঠি, মেহেরপুর, বরগুনা ও চুয়াডাঙ্গা বিসিক শিল্পনগরীর নির্ধারিত প্লটের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে।


নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার


শিল্প খাত ও নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়াতে কিস্তি ও ফি জমার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। নারীরা জমির মোট মূল্যের ১৫ শতাংশ জামানত দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। জমির বাকি মূল্য এককালীন অথবা সর্বোচ্চ ৭ বছরে ১৪টি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। 


তবে পুরুষ উদ্যোক্তারা আবেদনের সময় জমির প্রাক্কলিত মূল্যের ২০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে। বাকি অর্থ এককালীন অথবা ৫ বছরে ১২টি সমকিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।


​আধুনিক সুবিধা ও ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ


বিসিক জানিয়েছে, ঘোষিত শিল্পনগরীগুলোতে পরিকল্পিত পানি, গ্যাস, ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি ডাম্পিং ইয়ার্ড, ফায়ার সার্ভিস, গ্রিন জোন, মসজিদ ও লেকের মতো নাগরিক সুবিধা থাকবে। 


তাছাড়া শিল্পপ্লট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রেখে উদ্যোক্তারা জামানতি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হয়েছে। 


​বিসিক জানিয়েছে, সমগ্র প্লট বরাদ্দ কার্যক্রম ‘বিসিক শিল্পনগরী-শিল্পপার্ক প্লট বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৫ পিএম

একটি সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশে একটি দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।


সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সকলের এখন প্রয়োজন দেশপ্রেম এবং আন্তরিকতা। আসুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি। আরও সমৃদ্ধ, আরও বিনিয়োগ এবং আরও ব্যবসাবান্ধব একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশায় আমি এই রাজস্ব সম্মেলনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।”


রাজস্ব আহরণে কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এক আশা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। এটিই প্রমাণ করে আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন এবং আপনারা অবশ্যই পারবেন ইনশাআল্লাহ।”


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এই আয়োজনকে কেবল একটি সাধারণ সম্মেলন হিসেবে দেখছি না। কারণ এনবিআরের সফলতার ওপরই সরকারের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা বহুলাংশে নির্ভর করে। বিগত সময়ে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের ফলে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করায় জনগণের আস্থা বিনষ্ট হয়েছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। দেশের মানুষ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়।”


তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশকে ঋণনির্ভর বা আমদানি নির্ভরতার বোঝা থেকে বের করে নিয়ে এসে অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস ও ক্ষেত্র সম্প্রসারণে বদ্ধপরিকর। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে ডিজিটালি আধুনিক ও ডাটা-ভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার তাগিদ দেন, যাতে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বারবার বোঝা না চাপিয়ে নতুন কর সক্ষম ব্যক্তিদের করের আওতায় আনা সম্ভব হয়।


অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।


অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও এনবিআরের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) সৈয়দ মুসফিকুর রহমান। সম্মেলনে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর অনুবিভাগের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর