অপসারিত নামফলক ও অভিযুক্ত বি এম সুমন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য পরিবর্তন হওয়ার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খানের নামফলক খুলে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী বিএম সুমন। এ ঘটনায় হলে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা সমালোচনা।
অভিযুক্ত বিএম সুমন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছাত্রত্ব শেষ হলেও তিনি এখনও হলে অবস্থান করছেন বলে জানান হল কতৃপক্ষ। তবে জানা গেছে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে ২য় মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৬ মিনিটে তিনি বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ কক্ষের সামনে গিয়ে নামফলকটি খুলে ফেলেন। এসময় তার সাথে দেখা যায় লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে৷ শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
অভিযুক্ত বি এম সুমনের সঙ্গে থাকা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, 'রাতে সুমন ভাই আমাকে একটা জিনিস দেখাবে বলে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি নেমপ্লেট খুলবেন, বিষয়টি আগে জানতাম না। জানলে সেখানে যেতাম না। নেমপ্লেট খুলে ফেলার পর আমি তাকে বলেছি, এটা ঠিক হয়নি। এর আগে বা পরে কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এ ঘটনায় বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, '৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম নতুন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ তথা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। কিন্তু গতকাল ভিসি পরিবর্তনের ঘোষণার পর বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্টের নেমপ্লেট খুলে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও শৃঙ্খলাবিরোধী। পরে জানতে পারি, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বিএম সুমন এ কাজটি করেছেন। এটি একজন শিক্ষককে অবমাননার শামিল। প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।'
এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএম সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সকালে দেখি আমার হলের শিক্ষার্থী বিএম সুমন এই কাজটি করেছে। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই। তবে তার মাস্টার্স সম্পন্ন হওয়ায় তাকে কয়েকবার হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হলে তোলার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় যাদের মাস্টার্স শেষ হয়েছে, তাদের হল ছাড়তে বলা হয়েছে।”
আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়ে চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ সময়সূচি উল্লেখ করে তাঁরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন নেওয়া এবং ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হবে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আবেদনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি–ইচ্ছুক সবাইকে আবেদন করতে হবে। যারা ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে, তাদেরও আবেদন করতে হবে। তবে পুনর্নিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের পুনরায় আবেদনের সময় দেওয়া হবে। ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নিরীক্ষণে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর যাদের পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হবে, তারা আবেদন করতে পারবে। এভাবে যাচাই–বাছাই শেষে ২০, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তির কাজ হবে। তারপর ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু হবে।
তবে যারা এ সময়ে ও প্রক্রিয়ায় কোনো কলেজ-মাদ্রাসা পাবে না বা প্রত্যাশিত কলেজ পাবে না অথবা কোনো কারণে আবেদন করতে পারবে না, ২৩ সেপ্টেম্বরের পরপর তাদেরও ভর্তির জন্য আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।
এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
অর্ধেকের বেশি আসন খালি থাকবে
১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে মোট আসনের অর্ধেকের বেশি এবার খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয় আসনসংখ্যা সীমিত। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমাল হাজব্যান্ড্রি বা ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’ চালুর দাবিতে আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের একাংশের একাডেমিক ফলাফলে ‘বিরূপ প্রভাব’ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক ফলাফলকে ঘিরে নতুন করে এ অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে মূল্যায়নে পক্ষপাতের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর কয়েকটি কোর্সের ফল নিয়েও আগে থেকে প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেও দীর্ঘদিন কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত পশুপালন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এএনএম এহসানুল হক হিমেলের সাম্প্রতিক ফলাফলকে ঘিরে। লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ফল প্রকাশের পর অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের ‘মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল—উভয় অংশেই তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। ২০২৫ সালে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হিমেল তাঁর আগের সেমিস্টারগুলোর ফলাফল ও নম্বরপত্র প্রকাশ করে সাম্প্রতিক ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনের আগে তাঁর ফলাফল সন্তোষজনক ছিল। আন্দোলনের পর ফলাফলে আকস্মিক পরিবর্তন এবং সর্বশেষ একই কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় অংশে অকৃতকার্য হওয়ায় মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হিমেল বলেন, ‘আন্দোলন-পূর্ববর্তী সময়ে আমার চার সেমিস্টারের ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। লেভেল-২, সেমিস্টার-২ শেষে আমার গড় সিজিপিএ ছিল ৩.৬৭১ এবং তখন পর্যন্ত কোনো কোর্সে আমার ক্যারি (ফেল) ছিল না। আন্দোলনপরবর্তী সময়ে লেভেল-৩, সেমিস্টার-১-এ আমার জিপিএ কমে দাঁড়ায় ২.৯৪৬। পরবর্তী সেমিস্টারে জিপিএ ৩.২৭৮ হলেও মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় অংশেই এফ গ্রেড এসেছে, যা খুবই অপ্রত্যাশিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘উক্ত কোর্সের ক্লাস টেস্ট, এটেন্ডেন্স এবং নোটবুকে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও ফেল আসাটা অস্বাভাবিক। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনো শিক্ষকের কাছেই কাম্য নয়। ধারাবাহিকভাবে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে আমি এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমার সহপাঠীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব আমাদের একাডেমিক জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ছে।’
তবে বিষয়টি শুধু হিমেলের ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আরও কয়েকটি কোর্সের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ‘এলিমেন্টারি ডেইরি সায়েন্স’ ও তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ‘অ্যানিম্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ কোর্স দুটি পশুপালন অনুষদের ডেইরি সায়েন্স ও অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পড়ান। দুই বর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সের তুলনায় এসব কোর্সে তাঁদের ফলাফল অস্বাভাবিকভাবে কম হয়েছে।
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘এলিমেন্টারি ডেইরি সায়েন্স’ ও ‘অ্যানিম্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ দুইটি ভিন্ন বর্ষের দুটি কোর্সেই সর্বোচ্চ গ্রেড এ প্লাস পেয়েছেন মাত্র তিনজন করে শিক্ষার্থী। একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সে তুলনামূলক ভালো ফল করলেও এসব কোর্সে প্রত্যাশার তুলনায় কম ফল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
ভেটেরিনারি অনুষদের শুধু লেভেল-২ ও লেভেল-৩ নয় লেভেল-১ এর শিক্ষার্থীদেরও পশুপালন অনুষদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কোর্সের ফল নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সে ভালো ফল করলেও এসব কোর্সে ফলাফল তুলনামূলক কম হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
ফলাফল পুনরালোচনার দাবিতে লেভেল-৩ সেমিস্টার-২ (লেভেল-৩ সেমিস্টার-১ এর ফলাফল নিয়ে) এবং লেভেল-২ সেমিস্টার-২ (লেভেল-২ সেমিস্টার-১ এর ফলাফল নিয়ে) এর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের মাধ্যমে গত ২৬ জানুয়ারি পৃথকভাবে আবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়। তবে আবেদন করার ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল জানানো হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
ভুক্তভোগী ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে। আর সেই বিরোধের নেতিবাচক প্রভাব একাডেমিক মূল্যায়নে পড়ছে এবং তার ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা শিক্ষার্থীরা।’
পশুপালন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শিবলী সাদী বলেন, ‘গত ১৮ আগস্ট অ্যানিমাল হাজব্যান্ড্রি অনুষদের লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে পরিলক্ষিত হলো, গত সেমিস্টারের ধারাবাহিকতায় এ সেমিস্টারেও কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে সংঘটিত আন্দোলনে যারা সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ফলাফলেই বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কোর্সে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের কারও থিওরি, কারও প্র্যাকটিক্যাল এবং কারও উভয় অংশেই ফেল এসেছে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সমঝোতা সভায় উপাচার্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের প্রশাসনিক কিংবা একাডেমিক শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করছি। আশা করি, উপাচার্য এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান করবেন।’
এ বিষয়ে পশুপালন অনুষদের ডিন ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্বকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা আন্দোলনের প্রভাব একাডেমিক ফলাফলে পড়া উচিত নয়। ছাত্ররা যেটি আশঙ্কা করছে, সেটি ঘটেছে বলে আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এরকম ঘটে থাকলে সেটি খুবই দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের ভূমিকা একজন বিচারকের চেয়েও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো ছাত্রের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।যেকোনো গোপনীয় বা নেতিবাচক বিষয় নিশ্চিত না হয়ে সরাসরি ফেসবুকে বা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত নয়। এতে বিভ্রান্তি ছড়ায়, যা পরবর্তীতে দূর করা কঠিন হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা চাইলে ফলাফল পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারে। অনুষদের ডিন হিসেবে আমি সেখানে তাদের সহযোগিতায় আছি।’
ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল। এরপর তারা অনুষদের ডিনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন করে। আমি আবেদনগুলো একসঙ্গে সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল সম্পর্কে জানতে পারিনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘পরীক্ষার ফলাফল পুনর্বিবেচনার বিষয়ে এক্সাম কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি বলতে পারবেন ভেটেরিনারি অনুষদের ছাত্রদের আগের আবেদনটি পৌঁছেছে কি না বা কেন সেটি অ্যাডজাস্ট করা হয়নি।’
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে বিস্তারিত লিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, 'তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যায় এজন্য বিস্তারিত বিবরণসহ আবেদন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান 'স্ট্যাটিউটস ও অর্ডিন্যান্স' অনুযায়ী একাডেমিক নিয়ম মেনে ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনার বিষয়টি দেখা হবে।'
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো ভিন্নধর্মী নবীন বরণ অনুষ্ঠান ‘ফ্রেশারস হালাকাহ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম প্র্যাকটিশনারস সোসাইটি (আইপিএস) এর উদ্যোগে ২১তম ব্যাচের নবীন মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। নতুন ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের যাত্রাকে অর্থবহ ও সুন্দর করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসাতুস সুন্নাহর উস্তাদ ও গবেষক মাওলানা আফসার উদ্দিন এবং লেখক ও অনুবাদক ইমরান রাইহান। তারা ইসলামোফোবিয়া ও সালাফদের নিয়ে আলোচনা করেন এবং নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও অধ্যাপকরাও আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
আয়োজনটিতে নবীন শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গিফট হ্যাম্পার, কুইজ ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়।
আয়োজকরা জানান, এটি শুধু নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি বা বরণ করার অনুষ্ঠান নয়; বরং ক্যাম্পাস জীবনে দ্বীনের সঙ্গে পথচলা, নিজেদের চিন্তা ও বিশ্বাসকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলা এবং একটি সুস্থ ইসলামিক ক্যাম্পাস সংস্কৃতির অংশ হওয়ার পথে এটি একটি ছোট্ট উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কমিটির সুপারিশে পেনশন, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যারের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে পেনশনভোগীদের প্রতি মাসে পৃথকভাবে বিল ফরম হিসাব শাখায় জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশে অবস্থান করেন। ফলে প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে হিসাব শাখায় বিল ফরম জমা দিতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সমস্যা দূর করতেই পেনশন ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সুপারিশে পেনশনভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে একটি সুরক্ষিত ডাটাবেস তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেনশনভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করেও অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
গত বছরের ২৭ মে উপাচার্যের আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুককে সভাপতি, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রুস্তম আলী, হিসাব শাখার এডিশনাল ট্রেজারার মো. সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সাহেবুল ইসলাম খানকে সদস্য করা হয়। হিসাব শাখার (পেনশন গ্রুপ) ডেপুটি ট্রেজারার মো. দেলোয়ার হোসেন কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক এবং গর্বের অংশ। তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়া যায় এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে অতিশীঘ্রই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল হবে।
শরতের আগমন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পদচিহ্ন’।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে এ আয়োজন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রাণবন্ত ফ্ল্যাশ মবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে হেলিপ্যাড প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
পরে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। শরতের আবহ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
এ ছাড়া আয়োজনকে ঘিরে হেলিপ্যাড এলাকায় সুগন্ধি, জুয়েলারি ও খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের মোট ছয়টি স্টল বসানো হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর এমন বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় না। তাই এ ধরনের আয়োজন আমাদের একঘেয়েমি দূর করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। দীর্ঘদিন পর এমন একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।
মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এমন আয়োজন ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে। বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আশা করি ভবিষ্যতে পদচিহ্নসহ অন্যান্য সংগঠন আরও বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
পদচিহ্নের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুর হোসেন নীরব বলেন, এই শরতের হাত ধরেই আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি ও আনন্দের আবহ আবার ফিরে আসুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রায় দুই বছর পর পদচিহ্নের পক্ষ থেকে এত বড় পরিসরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’ নামকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন শরতের শুরু। শরতের শুভ্র কাশফুল, নীল আকাশ ও সাদা মেঘের সৌন্দর্যকে সামনে রেখেই আমরা অনুষ্ঠানের নাম ‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’ রেখেছি। শরতের এই স্নিগ্ধতার সঙ্গে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসকে মিলিয়ে একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পদচিহ্নের সাবেক সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আয়োজন সফল করার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি পদচিহ্নের অ্যালামনাইদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে এবং আরও ভালো ভালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সক্ষম হব।
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২৯তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কোর্সে দেশের ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ২৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছিলেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় বাকৃবির গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জিটিআই) শ্রেণিকক্ষে এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে এবং জিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনায় এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়।
জিটিআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির।
২৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের কর্মদক্ষতা বিবেচনায় দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে দলগত পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন ৫ জন, রানার্সআপ ৫ জন। ব্যাক্তিগত পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ২ জন, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ২ জন এবং প্রথম স্থান অধিকার করেন ১ জন। এছাড়াও অংশগ্রহনকারী প্রশিক্ষণার্থী সবাইকে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান ও দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আপনারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাবেন। আমরা বিশ্বাস করি কর্মে, কাজে, সেবায় ও সততায়। এই মূল্যবোধগুলো যদি আপনারা বহন করেন এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন, সেটিই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।