অভিনেত্রী জয়া আহসান নতুন লুক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৪৮ এএম

দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। অভিনয় এবং সৌন্দর্যের দারুণ মিশেলে খানিক ব্যতিক্রম এই নায়িকা। 


ট্র্যাডিশনাল কিংবা ওয়েস্টার্ন- প্রতিটি লুকেই জয়ার নিজস্ব সৌন্দর্যের ছাপ স্পষ্ট; সঙ্গে আভিজাত্যও ফুটে ওঠে ভিন্ন মাত্রায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রায়ই নিত্যনতুন রূপে মেলে ধরেন নিজেকে; এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। 


সম্প্রতি জয়া আহসান তার সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন। আর তার এই ব্যতিক্রমী লুক মুহূর্তেই সাড়া ফেলে ভক্তদের মাঝে।


ছবিগুলোতে জয়াকে দেখা গেছে একেবারে ভিন্ন এক লুকে। নীল রঙের কারুকাজ করা ব্লাউজ এবং গাঢ় গোলাপি পাড়ের শাড়িতে লাস্যময়ী হয়ে ওঠেন জয়া। 


সঙ্গে তার পরনের ভারী গয়না, নাকে বড় নথ এবং কপালে টিকলি জয়ার আভিজাত্যকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। সাধারণত জয়ার এমন লুক নিয়েই আলোচনা। 


পুরাতন কোনো বাড়ি বা স্থাপত্যকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে নানা ভঙ্গিতে পোজ দেন জয়া। আর তা প্রকাশ হতেই নানা মন্তব্যের জোয়ারে ভাসিয়েছেন তার ভক্তরা। 


তাদের মতে, সময় পাল্টালেও জয়ার আবেদন ও অনুভূতিগুলো এক রয়ে গেছে। তবে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন- এই ছবিতে বয়সের ছাপও খানিকতা স্পষ্ট হচ্ছে জয়ার।


এদিকে পর্দার জয়াকে দেখার অপেক্ষাও ফুরাচ্ছে ভক্তদের। জয়া অভিনীত মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার সিনেমা ‘ওসিডি’ (OCD) মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। 


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা সৌকর্য ঘোষালের এই সিনেমায় জয়াকে দেখা যাবে ‘শ্বেতা’ নামের এক চিকিৎসকের চরিত্রে। ট্রমা আর সামাজিক সংগ্রামের এক জটিল গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে দুই বাংলাতের দর্শকদের মাঝেই এখন ব্যাপক আগ্রহ।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫১ এএম


প্রয়াত নানা পাটেকর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

৭৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া বলিউডে। গোয়ায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। হিন্দি ও মারাঠি ভাষায় একাধিক সিনেমা করেছেন তিনি। 


নিজের ক্ষুরধার সংলাপ প্রক্ষেপণ, অনন্য অভিনয়শৈলী এবং পর্দায় তীব্র ও বাস্তবসম্মত চরিত্র ফুটিয়ে তোলার দক্ষতার কারণে তিনি দর্শকের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য ব্যবসা সফল এবং সমালোচক-নন্দিত চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারের সেরা ও কালজয়ী কিছু চলচ্চিত্রের হলো:


১. ক্রান্তিবীর (১৯৯৪)


নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আইকনিক সিনেমা এটি। অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া 'প্রতাপ তিলক' চরিত্রে তার অভিনয় এবং সিনেমার শেষের সেই বিখ্যাত সংলাপ আজও দর্শকের গায়ে কাঁটা দেয়। এই সিনেমার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।


২. পরিণ্ডা (১৯৮৯)


বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত এই আন্ডারওয়ার্ল্ড ড্রামায় 'আন্না শেঠ' নামক এক মানসিক বিকারগ্রস্ত গ্যাংস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তার ঠান্ডা মাথার নৃশংস অভিনয় সিনেমাটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই খলচরিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।


৩. অগ্নি সাক্ষী (১৯৯৬)


এক মানসিক অত্যাচারী ও হিংস্র স্বামীর চরিত্রে নানা পাটেকরের অভিনয় সবাইকে চমকে দিয়েছিল। মণীষা কৈরালার বিপরীতে তার এই নেতিবাচক চরিত্রটি বলিউডের অন্যতম সেরা ভিলেন চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।


৪. ওয়েলকাম (২০০৭)


যারা ভাবতেন নানা পাটেকর শুধু গম্ভীর বা রাগী চরিত্রেই সেরা, তাদের ভুল প্রমাণ করেছিল এই কমেডি সিনেমাটি। ডন 'উদয় শেঠ' চরিত্রে তার কমিক টাইমিং এবং অনিল কাপুরের (মজনু ভাই) সাথে তার যুগলবন্দি দর্শককে হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেতে বাধ্য করেছিল।


৫. আব তক ছাপ্পান (২০০৪)


মুম্বাই পুলিশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট দয়া নায়েকের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমায় 'সাদাম আগাশে' চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। অত্যন্ত শান্ত ও বাস্তবসম্মত অভিনয়ের মাধ্যমে একজন পুলিশ অফিসারের মানসিক টানাপোড়েন ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি।


৬. নটসম্রাট (২০১৬)


এটি মারাঠি সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি চলচ্চিত্র। একজন অবসরপ্রাপ্ত থিয়েটার অভিনেতার ট্রাজিক জীবন নিয়ে তৈরি এই সিনেমায় নানা পাটেকরের অভিনয় দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি কোনো দর্শক। অনেকেই মনে করেন এটি তার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনয়।


৭. রাজনীতি (২০১০)


মহাভারতের কৃষ্ণ চরিত্রের আধুনিক রূপায়ণ 'ব্রিজ গোপাল' হিসেবে এই পলিটিক্যাল থ্রিলারে অভিনয় করেন নানা। প্রকাশ ঝা পরিচালিত এই সিনেমায় শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এক রাজনৈতিক চালকের ভূমিকায় তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য।


নানা পাটেকর কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের সমাজসেবকও। 'নাম ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের খরা পীড়িত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বাস্তবের হিরো হয়ে উঠেছিলেন। রুপালি পর্দায় তার এই কালজয়ী সৃষ্টিগুলোর মাধ্যমেই তিনি বেঁচে থাকবেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে।


১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবি থেকে সিনেমার যাত্রা শুরু। তারপর থেকে একের পর এক দুর্ধর্ষ ছবি করে গিয়েছেন। তিনবার জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন এই অভিনেতা।


১৯৮৯ সালে পরিন্দা ছবিতে ‘বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাক্টর’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পান, এরপর ক্রান্তি ছবির জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর’ ক্যাটাগরিতে ১৯৯৯ সালে পুরস্কার পান। তৃতীয় বার পুরস্কার আসে ১৯৯৭ সালে। ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবির জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর’ ক্যাটেগরিতে পুরস্কার পান তিনি। এর  পাশাপাশি অসংখ্য ছবি করেছেন তিনি। রাজু বানগেয়া জেন্টলম্যান, অপরহণ, এমনকী, ‘ওয়েলকাম’ ছবির সিরিজও মন জয় করেছে দর্শকদের। ২০১৩ সালে পান পদ্মশ্রী পুরস্কার। আচমকা তার এই ভাবে চলে যাওয়া, মেনে নেওয়া শক্ত সকলের কাছে।

সর্বশেষ সব খবর

নানা পাটেকার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ এএম

বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁকে বাসভবনে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। 


হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নানা পাটেকারকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে এতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নানা পাটেকার হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তক ছাপ্পান’ ও ‘যশবন্ত’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।


১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। পরে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬)-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা পান।


এ ছাড়া ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) ও এর সিক্যুয়েল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে অভিনয় করে ভিন্নধর্মী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সর্বশেষ সব খবর

সিদ্ধান্ত প্রীতম-শেহতাজ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

দীর্ঘ ১০ বছর একসঙ্গে থাকার পর পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রীতম ও তাঁর স্ত্রী শেহতাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া নিজেদের যৌথ বিবৃতিতে তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।


বিবৃতিতে তারা বলেন, একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতির জন্য তারা কৃতজ্ঞ। পরস্পরের প্রতি এখনও যত্ন ও শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে তারা উপলব্ধি করেছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে আলাদা থাকাই তাদের জন্য ভালো।


তারা জানান, দীর্ঘ সময় ভেবেচিন্তে এবং পরস্পরের সম্মতিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সমর্থন নিয়ে তারা বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।


বিবৃতিতে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি এ সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীল থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রতি সমর্থন ও বোঝাপড়ার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।


উল্লেখ্য, পাঁচ বছর প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর গায়ক, অভিনেতা, সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান ও মডেল, অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেম বিয়ে করেন।

সর্বশেষ সব খবর

‘রইদ’ সিনেমার দৃশ্য

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

কানাডার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘মোজাইক ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর ১২তম আসরে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’। 


উৎসবের এবারের আসরে সেরা অভিনেত্রীর সম্মানসহ মোট তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে সিনেমাটি। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক এই অর্জনে পুরো টিম ও দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে আনন্দের জোয়ার বইছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব।


কানাডার এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘রইদ’ সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নাজিফা তুষি। সিনেমাটিতে ‘সাদুর বউ’ চরিত্রে তার অনবদ্য ও প্রাণবন্ত অভিনয় আন্তর্জাতিক বিচারকদের নজর কেড়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি কারিগরি ও শৈল্পিক উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ উৎসবে সেরা সিনেমাটোগ্রাফির পুরস্কার পেয়েছেন জোয়াহের মুসাভভির জ্যোতি। একই সঙ্গে সেরা সংগীতের পুরস্কারও অর্জন করেছেন রাশিদ শরীফ শোয়েব। ফলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পুরস্কার জিতে উৎসবে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে ‘রইদ’।


সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন প্রসঙ্গে নাজিফা তুষি বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার জন্য ভীষণ আনন্দের এবং একই সঙ্গে আবেগেরও। “রইদ” আমার কাছে শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি এমন একটি কাজ, যার সঙ্গে অনেক মানুষের শ্রম, ভালোবাসা ও স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। “সাদুর বউ” চরিত্রটি আমার জন্যও অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। চরিত্রটিকে নিজের মতো করে ধারণ করার চেষ্টা করেছি এবং নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের নির্দেশনা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে।


আন্তর্জাতিক একটি উৎসবে এই চরিত্রের জন্য স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই বিশেষ অনুভূতি। এই অর্জন আমি “রইদ”-এর পুরো টিম ও বাংলাদেশের দর্শকদের উৎসর্গ করতে চাই। দেশের একটি সিনেমা যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পায়, তখন সেই আনন্দটা আসলে একার থাকে না, সবার হয়ে যায়।’


তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার অর্জনের এই আনন্দের খবর নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনসহ কলাকুশলীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সিনেমাটির চিত্রগ্রাহক জোয়াহের মুসাভভির জ্যোতিও এই স্বীকৃতিতে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।


তিনি বলেন, ‘আমার কাছে পুরস্কার মানে শুধু একটা স্বীকৃতি নয়। বরং মনে হয়, যে কাজটা ভালোবেসে এবং মন দিয়ে করেছি, সেটাকে কেউ দেখেছে, অনুভব করেছে; এটাই সবচেয়ে আনন্দের। একই সঙ্গে পুরস্কার একটা দায়িত্বও তৈরি করে। মনে করিয়ে দেয়, সামনে আরও ভালো কাজ করতে হবে, আরও মন দিয়ে কাজ করতে হবে। আর আমার কাজ বা এই স্বীকৃতি যদি অন্য কাউকেও ভালো কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত করে, তাহলে সেটাই হয়তো এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’


এদিকে, মোজাইক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আসরে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জয় করেছে নেপালের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ’, যা এর আগে বিশ্বখ্যাত কান উৎসবের ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে জুরি পুরস্কার অর্জন করেছিল।


অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘রইদ’-এর সাফল্যের যাত্রা এটিই প্রথম নয়। এর আগে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছিল সিনেমাটি। শুধু তাই নয়, বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ধারাবাহিকতায় আসন্ন অস্কারের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বা ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশ থেকে অফিসিয়ালি জমা দেওয়া হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি। ফলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ‘রইদ’ নিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রত্যাশাও ক্রমেই বাড়ছে।


গ্রামীণ প্রেক্ষাপটের পটভূমিতে নির্মিত ‘রইদ’ সিনেমায় অ্যাডাম ও ইভের পৌরাণিক গল্পের আবহকে কাজে লাগিয়ে একটি রহস্যময় ও ভিন্নধর্মী উপাখ্যান ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। গ্রামবাংলার জীবন, মানুষের মনস্তত্ত্ব, সম্পর্ক এবং রহস্যময় এক আখ্যানের মধ্য দিয়ে নির্মাতা সিনেমাটিতে নিজস্ব একটি চলচ্চিত্রভাষা তৈরি করেছেন। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে বঙ্গ ও ফেসকার্ড।


নাজিফা তুষি ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।

সর্বশেষ সব খবর

সঞ্জয় দত্ত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ পিএম

এক দশক পর কারাগার জীবন নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। অস্ত্র আইনের মামলায় ২০১৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। ভালো আচরণের জন্য সাজা মওকুফ পাওয়ার পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনের ইয়েরওয়াড়া কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।


শেখর সুমনের টক শোতে কারাগারে কাটানো সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন সঞ্জয় দত্ত। তিনি জানান, পরিস্থিতির এত বড় পরিবর্তনও তাকে বিচলিত করতে পারেনি।


কারাগারে অন্য বন্দিদের সঙ্গে একই সেলে থাকার অভিজ্ঞতার কথাও বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, স্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে উঠলেও আশপাশের মানুষের চেয়ে নিজেকে কখনোই শ্রেষ্ঠ মনে করতেন না।


সঞ্জয় বলেন, ‘তারকাখ্যাতি নিয়ে অহংকার আমার মধ্যে নেই। অনেকবার শুটিং সেটে মাটিতে বসে আমরা খাবার খেয়েছি। সেটে কর্মীদের সঙ্গেও বহুবার বসে খাবার খেয়েছি। এসব বিষয় নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না।’


সঞ্জয় দত্ত জানান, একজন তারকা হিসেবে তিনি যে আরাম-আয়েশে অভ্যস্ত ছিলেন, সেগুলো কেড়ে নিলে শেষ পর্যন্ত তিনি ভেঙে পড়বেন—কারাগার কর্তৃপক্ষ এমনটাই ধরে নিয়েছিল।


তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার কিছুই হয়নি। কারণ আমি ভেঙে পড়িনি। তারা হতবাক হয়ে গিয়েছিল। তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করত। তাদের মধ্যে একজন আমার কাছে এসে বলল, ‘এখানে তুমি কোনো সিগারেট পাবে না। এখন কী করবে?’


সঞ্জয় দত্ত জানান, এর জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘স্যার, এখানে বিড়ি তো পাওয়া যাবে।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইটে ঘটা গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের সময় সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেওয়ায় ফ্লাইদুবাইয়ের ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বলিউডের দুই মেগাস্টার শাহরুখ খান এবং সালমান খান।


গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইট চলাকালীন ককপিটের ভেতর সহ-পাইলটের আকস্মিক হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন ক্যাপ্টেন মচ্ছার। তবে নিজের আঘাত ও শারীরিক যন্ত্রণার তোয়াক্কা না করে তিনি অসাধারণ সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় ক্রু ও যাত্রীরা দ্রুত হস্তক্ষেপে সক্ষম হন। পরবর্তীতে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।


বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান থেকে সালমান, সকলেই সেই পাইলটের বন্দনায় মেতেছেন! শাহরুখ লিখেন, ভারতীয় এই পাইলট যাত্রীদের রক্ষায় সাহস ও দায়িত্ববোধের দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।


শাহরুখ খান লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আপনি দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন! প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে নিজের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা সহজ নয়। কিন্তু যাত্রীদের রক্ষায় আপনি ঠিক সেটিই করেছেন এবং একজন ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব কী- তা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।”


তিনি বলেন,“এটি সাহস ও দায়িত্ববোধের সত্যিকারের দৃষ্টান্ত। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। গোটা দেশ আপনাকে নিয়ে গর্বিত।”


শাহরুখ খানের এই পোস্টের এক দিন আগে অভিনেতা সালমান খানও মাচ্ছারের প্রশংসা করেন। তার সঙ্গে উড়োজাহাজে ভ্রমণ করতে পারলে আনন্দিত হবেন বলেও জানান সালমান।


এক্সে তিনি লেখেন, “কামাল করে দিয়েছেন পাইলটজি, আমরা সবাই আপনাকে স্যালুট করি। আপনার সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারলে আনন্দের হবে। দারুণ করেছেন ভাই।”


মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন বলিউডের আরও কয়েকজন তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন রণবীর সিং, ভিকি কৌশল, সানি দেওল, তামান্না ভাটিয়া ও অনিল কাপুর।


রণবীর ক্যাপ্টেন স্মিতকে ‘সাহসী’ বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, ভিকি কৌশল তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ককপিটে থাকা পাইলটের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “সাহসী হৃদয়ের মানুষ! ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার।”


সানি দেওলও পাইলটের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ সাহস ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। আপনি একটি বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করেছেন। আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। স্যালুট।”


হামলার সময় নিজের আহত অবস্থার মধ্যেও মাচ্ছার যাত্রীদের প্রতি যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটি তুলে ধরেন তামান্না ভাটিয়া।


তিনি লেখেন, “ভাবুন তো, নিজে আহত, নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই করছেন, তারপরও আপনার ওপর নির্ভরশীল ১৭৪ জন মানুষের কথা ভাবছেন। ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার, আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। আপনার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।”


অনিল কাপুরও মাচ্ছারের একটি ছবি শেয়ার করেন। তিনি তাঁর বন্ধু জালালের সঙ্গে হওয়া একটি কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেন। জালাল ফ্লাইং স্কুলে পড়ার সময় থেকেই স্মিতকে চিনতেন।


অনিল কাপুর লেখেন, “ঘটনাটি যখন ঘটে, জালাল আমাকে বলেছিল, সে ফ্লাইং স্কুল থেকেই স্মিতকে চেনে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে যাকে পাশে চাইবে, স্মিত সবসময়ই তেমন একজন মানুষ ছিল। বিষয়টি আমাকে ভাবিয়েছে- শুরু থেকেই স্মিতের মধ্যে কতটা সাহস থাকতে পারে, যে তার আশপাশের মানুষ এত আগেই তা বুঝতে পেরেছিল।”


তিনি আরও লিখেন, “সেই মুহূর্তে স্মিত যা করেছেন, তা অসাধারণের চেয়েও বেশি কিছু। নিজে এত ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও দৃঢ় থাকা এবং অন্যদের নিজের আগে রাখার জন্য অসীম সাহসের প্রয়োজন। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা এবং দ্রুত সুস্থতার শুভকামনা।”


‘এফ জেড ১০৭৩’ ফ্লাইটে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার। সেই ফ্লাইটে ১৭৪ জন আরোহী, যার মধ্যে ২৭ জন শিশু ছিল। বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠানোর পর দ্রুত উচ্চতা কমাতে থাকে। পরে সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ বিমানবন্দরের দিকে সেটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।


আমি কোনো যাত্রীকে মরতে দিতে চাইনি


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট (৪ হাজার ২৬৭ মিটার) নিচে নেমে যায়। পিটিআই জানিয়েছে, ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমেছিল। 

সর্বশেষ সব খবর