জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ কি পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ নাকি ক্লীবলিঙ্গ- আমি জানি না। কারণ, আদেশের জামানা তো ১৯৭৩ সালেই শেষ, এখন রাষ্ট্রপতি কীভাবে অর্ডার জারি করলেন? আমরা তখনই প্রশ্ন তুলেছিলাম, আমরা এই সব আরোপিত জবরদস্তিমূলক কোনো আদেশের বলে সার্বভৌম জাতীয় সংসদের ক্ষমতা খর্ব হতে দেবো না।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলয়নাতনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রতি আইনজীবীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। এটা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, আমরা সই করেছি। আমরা তো জুলাই জাতীয় সনদকে অস্বীকার করি না। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা শব্দকে অক্ষরকে আমরা ধারণ করি এবং আমরা সেটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। বরং যারা সমালোচনা করছেন, তারা সই করেছেন এই গত কয়েকদিন আগে নির্বাচনের পরে।
তিনি বলেন, আমরা সংবিধান মেনেই এ পর্যন্ত এসেছি, সংবিধান মেনে চলছি এবং সামনেও সংবিধান মেনে চলার আকাঙ্ক্ষা রাখি। কিন্তু আমাদের বক্তব্য হলো যদি গণভোটের রায়কে আমরা সম্মান দিতে চাই, জাতীয় সংসদে আগে যেতে হবে। সেখানে আলাপ আলোচনা করতে হবে, আইন করতে হবে। সংবিধানে সেটা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারপরে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয়, সেটা সেখানেই নির্ধারণ করা হবে, সিদ্ধান্ত হবে এবং কোন ফর্মে শপথ হবে সেটা তৃতীয় তফসিলে আনতে হবে। কে শপথ বাক্য পাঠ করাবে সেটা নির্ধারিত হবে, তারপরে এটা বিধিসম্মত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, যাদের জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ানো হলো, যিনি জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ালেন, সেটা সংবিধান মেনে হয়েছে কি না, সেটা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের দেখার দায়িত্ব। কারণ বিচারপতিরা সংবিধান সুরক্ষার শপথ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন কীভাবে করতে হবে, সেটা জাতীয় সংসদে বসে আমরা আলাপ করবো। তার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করবো। এরপরে যদি সবাই সম্মত হয়, গৃহীত হয়- সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তখন আমরাও শপথ নেবো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়ের কথা বলা হচ্ছে। অভিপ্রায়ের অনুকূলে সরকার হয়েছে, অভিপ্রায়ের অনুকূলে নির্বাচন হয়েছে, সুতরাং অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সবকিছু করতে হবে বলা হচ্ছে। আমাদের কথা হলো, অভিপ্রায় যদি সবকিছু হয়, সংবিধানের আর্টিকেল ১০৬ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টে আসতে হলো কেন? অভিপ্রায় যদি সবকিছু হয় আর্টিকেল ১০৬ অনুসারে প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টা শপথ নিলেন কেন?
তিনি বলেন, যদি বলা হয় সংবিধান অনুসারে তিন মাসের মধ্যে শেখ হাসিনা যাওয়ার পরে নির্বাচন হওয়ার কথা, নির্বাচন হলো না কেন? এই না হওয়ার জন্য ১০৬ এর দ্বারস্থ হতে হয়েছে। সেই এক্সেপশনাল পজিশনের জন্য ডকট্রিন অব নেসেসিটির জন্যই ১০৬ এর কাছে যেতে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হয়েছে।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন অনেকে বলে যে, এত ভোট পেয়েছিলাম আমরা, নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনারা স্বপ্নে দেখেন কীভাবে। স্বপ্ন দেখারও তো একটা সীমারেখা আছে। যে দল মনে করে যে তারাই সরকার গঠন করতে পারতো, তাদের হারানো হয়েছে- এই স্বপ্ন দেখাও তো নাজায়েজ, একটা সীমারেখা থাকে।
তিনি আরও বলেন, যাই হোক, গণতন্ত্রের মাঠে অনেকে অনেক কথা বলবে, আমরা এগুলো শুনবো। কারণ এগুলো শোনার জন্যই তো আমরা জীবন দিয়েছি। এগুলো বলার জন্যই তো আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি। সবাই সবকিছু বলবে, বিতর্ক হবে, বাহাস হবে। আসুন ভাইসব, জাতীয় সংসদের ভেতরে ঢুকে যাই। ওখানে সব বিতর্ক হবে এবং আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে যেটা জনগণ চাইবে, যেটা আইনানুগ হবে, যেটা সাংবিধানিক হবে- সেটা আমরা করবো।
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে আদালতে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন আইনজীবীরা। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে এজলাস ছাড়েন বিচারক।
শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা এ মামলায় এ দিন জামিন শুনানি ছিল আখতারুজ্জামানের।
শুনানি শুরুর আগে দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে আখতারুজ্জামানকে মাথায় হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। এর আগে থেকেই এজলাস বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার মিনিট দুয়েক পর ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এজলাসে দাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ২ টা ৪১ মিনিটের দিকে ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মিনিট দুয়েক পর পুনরায় এজলাসে আসেন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।
আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য জানান।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলিসংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়।
গত শুক্রবার বিকেলে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শনিবার তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে আজ আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছে থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
শুনানিতে আখতারুজ্জামানের জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তাঁর আইনজীবীরা। অন্যদিকে তাঁর জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদেশ দেন আদালত।
আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
এরপর ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। তিনি একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
ছবি : সংগৃহীত
প্রিজনভ্যান থেকেই আদালত বিল্ডিংয়ে প্রবেশের আগেই মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
আজ শনিবার ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় হেলমেট ছুড়ে ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন দুপুরে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলসহ জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মকর্তাকে হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হুমকি-ধামকির পর্যায়ে পৌঁছায়।
এরপর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের নামে মামলা দায়ের করা হয়।
হেলমেট ছুড়ে ফেললেন
প্রিজনভ্যান থেকেই আদালত বিল্ডিংয়ে প্রবেশের আগেই মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। আজ শনিবার দুপুরে একটি প্রিজনভ্যানে হাতকড়া পরিয়ে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের সামনে আনা হয়।
এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামার আগেই দরজায় দাঁড়িয়েই মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলে দেন আখতারুজ্জামান। এ সময় তিনি বলেন, আমি হেলমেট মানি না। সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে—দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এমন ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।
রিটে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুদক যেন কোনো প্রেস ব্রিফিং করে তার সম্মানহানি না করে—এ মর্মে নির্দেশনা দেয়া হোক। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে দেয়া বক্তব্য ভুল ছিল—এটি স্বীকার করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটের পর আসিফ মাহমুদের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ধরনের তদন্ত শেষ না হওয়া বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে ব্যাপক ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো যেন আগেই প্রমাণিত—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
পরে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম দুদক বিটের সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে জানান, তার ওই বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল। সংবাদ প্রচারের সময় ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্যও সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি। রিটে দাবি করা হয়েছে, ফলে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হানিফ মিয়ার জবানবন্দি গ্রহণের সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় থাকা সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম প্রসিকিউটরের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেয়ার সময় হানিফ মিয়া বলেন, জুলাই আন্দোলনে কারফিউ চলাকালে বাড্ডা-রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ১৪ দলের নেতারা দায়ী। টেলিভিশনে এসব নেতার বৈঠক করে আন্দোলনকারীদের দমন-পীড়নের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
এ সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সাক্ষীকে ১৪ দলের নেতাদের নাম বলতে বলেন। তখন আসামিদের জন্য সংরক্ষিত কাচের ঘেরের ভেতর থেকে কামরুল ইসলাম উচ্চস্বরে বলেন, ‘এভাবে বললে তো হবে না। আমার ৪০ বছরের ওকালতির ক্যারিয়ার। আপনি সাক্ষীকে দিয়ে জোর করে নাম বলাচ্ছেন।’
এ সময় কামরুল ইসলামকে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আপনি এভাবে সাউট করেন কেন। আপনার কিছু বলার থাকলে আইনজীবীর মাধ্যমে বলবেন।’ তিনি আরও বলেন, আসামির কাঠগড়া থেকে এভাবে উচ্চস্বরে কথা বলা আদালতের প্রতি চরম অবমাননাকর।
পরে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মনে হয় জবানবন্দি গ্রহণে ভুল হয়নি। প্রসিকিউশনের একটাই টার্গেট, একটাই উত্তর চাই। সাক্ষী ১৪ দলের কথা বলায় তিনি নাম বলতে বলেছেন।’
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক বলেন, ‘It is a matter of identification। আপনারা প্রশ্ন করে নাম বলাচ্ছেন।’ জবাবে মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘এটা লিডিং প্রশ্ন না।’
এরপর সাক্ষী আবার তার জবানবন্দি দেয়া শুরু করেন।
জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কামরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। সোমবার সকালে কারাগার থেকে মেনন ও কামরুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।
গত ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মিরপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা ও মাইনুল ইসলাম নিখিলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ একটি ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সালমান এফ রহমানের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে একটি আবেদনের শুনানির জন্য আজ ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশন জানায়, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দেশের বাইরে থাকায় তারা আজ শুনানি করতে আগ্রহী নয়। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটির শুনানি আগামী ২৬ অক্টোবর পুনর্নির্ধারণ করেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭ জনের পক্ষে করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।
জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন- মো. দিদারুল আলম তুহিন, ইমান আহমেদ ইমন, মোল্লা মো. শাহজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মো. মিরাজ আহমেদ, মো. মিরাজ মালিখা, মো. রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার মহন্ত, মো. কাউসার হোসেন, অঞ্জন শিল, জালাল উদ্দীন মন্ডল, আব্দুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহাম্মেদ আহসান হাবিব, মো. সুজন আলী, মো. তসিকুল ইসলাম, মো. সাইফুল্লাহ সায়েক, নয়ন আলী সাজিদুল ইসলাম তুহিন, তাজুল ইসলাম, নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. আল আমিন হাওলাদার, মো. তুষার আলী, মো. রাশিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান।
রোববার রাতে তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। একইদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। তবে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম জামিন শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানের আদেশ দেন।
সে অনুযায়ী আজ আসামিপক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদনের শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। আটকদের বিরুদ্ধে জাসদ কার্যালয়ে ঢুকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।