রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
সামনের দিনগুলো ভালো নয়, অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে এমন মন্তব্য করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শোনা যায়, ক্ষমতায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলকে দেখা হয়েছে- এবার অমুককে (জামায়াতে ইসলামী) দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন- তাদের তো দেশের মানুষ একাত্তর সালেই দেখেছে।
রোববার (০৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।
এতে ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন। সকালে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তারেক রহমান বলেন, আমি গত ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছি, আমাদের সামনের সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়, সামনে অনেক কঠিন সময়ে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এই দেশের জনগণ এবং এই ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দিতে পারে বিএনপি। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে- গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। আমরা যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যে কোনো মূল্যে জনগণের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলে অবশ্যই অনেক ষড়যন্ত্রকে আমরা রুখে দিতে পারব। কিন্তু ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে পারলেও তারপরেও কিন্তু সামনে অনেক কঠিন সময় বলে শঙ্কার কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা- এই দুটি বিষয় আমাদের এড্রেস করতে হবে। যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সেজন্য সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে সর্বপ্রথমে আমাদেরকে নজর দিতে হবে, সর্বপ্রথমে আমাদের ব্যবস্থা করতে হবে- দুর্নীতির লাগাম কীভাবে আমরা টেনে ধরব? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম কীভাবে আমরা টেনে ধরব?
তিনি বলেন, আমরা যদি দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে, নারী সমাজকে ক্ষমতায়ন করা নিয়ে, দেশের কৃষি ব্যবস্থা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমাদের বাধাগ্রস্ত হবে, স্লো হয়ে যাবে। যদি আমরা এই দুটি বিষয়ে এড্রেস করতে না পারি, পুরো জাতি এবং দেশ সংকটের মধ্যে পড়বে। আমরা মনে করি, একমাত্র বিএনপিই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে। কারণ- আমরা অতীতে করেছি, ভবিষ্যতে আমরা সুযোগ পেলে এই কাজটি করে দেখাতে পারব ইনশাআল্লাহ। এ সময় বেকার সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনাসমূহে তুলে ধরেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচার যেভাবে বিএনপি সম্পর্কে যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি- কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কতগুলো কথা বলার চেষ্টা করছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দুইজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে সেই সময় সরকারে ছিলেন। এই দুজন ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই, দুজনই সিনিয়র মানুষ, দুজনই সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন, তারা গত হয়েছেন। কাজেই যে মানুষ নেই, তাদের সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ কথা বলা উচিত নয়। তাদের প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান রেখেই বলতে চাই- সেই দুইজন ব্যক্তির বিএনপি সরকারে শেষদিন পর্যন্ত থাকা যৌক্তিকভাবে দুইটি জিনিস প্রমাণ করে দেয়- এক. তাদের অবশ্যই পূর্ণ কনফিডেন্স ছিল খালেদা জিয়ার উপরে যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে- সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন। এখন তাদের দলের অন্য যে যত বড় বড় কথা বলুক না কেন, খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং দুর্নীতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে-এই আত্মবিশ্বাস তাদের মধ্যে ছিল। সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সাথে ছিলেন। আমরা অন্য কিছু বলতে চাই না।
তিনি বলেন, তাদের দলের (জামায়াত) কেউ কেউ বলে থাকে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু অভিযোগ পাওয়া যায় না। স্বৈরাচারের সময় আমরা দেখেছি- কীভাবে আদালতকে ইনফ্লুয়েন্স করা হতো। কিন্তু স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পরে মোটামুটি আমরা বলতে পারি যে, আদালত এখন নিরপেক্ষ- নিরপেক্ষতা আমরা আশা করি। এই সেই নিরপেক্ষ আদালত থেকে আমরা দেখেছি, কারো বিরুদ্ধেই কোনো জিনিস প্রমাণিত হয়নি। এটি ছিল প্রোভাগান্ডা। আমাদেরকে আজকে এই উপসংহারে আসতে হবে যে, একমাত্র বিএনপি পেরেছিল দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে। ইনশাল্লাহ আগামী দিনেও বিএনপি পারবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শুনি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে- অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদেরকে তো দেশের মানুষ একাত্তর সালে দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লাখো মানুষকে হত্যা করেছে, ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজারো হাজারো মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল- এই কথাটি আমাদেরক মনে রাখতে হবে।
ধর্মভিত্তিক একটি দলের জান্নাতের গ্যারেন্টি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জিনিসের কনফার্মেশন দিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন আমি যতটুকু বুঝি, অনেক মুরুব্বি ব্যক্তি আছেন, বুজুর্গ ব্যক্তি আছেন ধর্মীয় বিষয়ে- আমি একজন সাধারণ নরমাল মুসলমান হিসেবে যতটুকু বুঝি- যা আমার না, আমি যদি তা দেবার কথা বলি অর্থাৎ যেটি আমার না, সেটির কমিটমেন্ট যদি করি- তাহলে আমি তার সাথে পাল্লা দিচ্ছি। দোজক-বেহেশত দুনিয়ার সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তালাই বলতে পারে, সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই- আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি, সেটি হচ্ছে শিরিক। এটি হচ্ছে শিরিকের পর্যায়ে পড়ে।
ছাত্রদলের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তোমাদের ঘরে ঘরে যেতে হবে এবং বলতে হবে- যারা এসব কথা বলে, তারা শিরিক করছে। আপনি যদি তাদের কথা শুনেন, আপনিও শিরিকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। যার অধিকার একমাত্র আল্লাহতালার, সেটি একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কে কোথায় যাবে? কার ইহকালে কী হবে, পরকালে কী হবে- সেটির ডিসাইড করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কাজেই যারা এসব কথা বলে, তারা ইনেমে শিরিক করছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটাই বুঝি। এই কথাগুলো তোমাদের পৌঁছে দিতে হবে।
দেশকে গড়তে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একটাই, কীভাবে দেশকে আমাদের গড়তে হবে। এই দেশকে শহীদ জিয়া গড়েছেন, ঠিক একইভাবে পরবর্তীতে নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের পরে এই দেশকে আবারো বেগম খালেদা জিয়া গড়েছিলেন। ২০০১ সালের পরে আবারও ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে, দুর্নীতি নিমজ্জিত একটি দেশকে খালেদা জিয়া আবার উপরে উঠিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আজ সারা দিন আমরা যেগুলো আলোচনা করেছি, সেগুলো যদি আমরা করতে পারি, তাহলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব। আগামীতে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা দেশ গড়ব।
তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র বানাতে চায় না; আমরা চাই একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশের মানুষের দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। যেখানে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, দুর্নীতির লাগাম ধরতে আমরা সক্ষম হবো- সে রকম একটি বাংলাদেশ চাই।
এ সময় দেশ গড়ার এই পরিকল্পনা সফল করতে ছাত্রদলকে মানুষের ঘরে ঘরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অনেক সময় লাগবে, কষ্ট হবে; অনেক কঠিন, অনেক শত্রু আছে- যারা আমাদের বাধা দিবে, কিন্তু এই দেশের মানুষকে কেউ বাধা দিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইনশআল্লাহ দেশ গড়ার পরিকল্পনার কাজ যখন আমরা শুরু করব বাংলাদেশের মানুষের রায় নিয়ে, তখনও ইনশআল্লাহ কেউ আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তোমাদের সকলকে যেতে হবে মানুষের দৌড়গোড়ায়, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির জিয়া উদ্দিন হায়দার, আবদুল মজিদ, আমিনুল হক, মীর শাহে আলম, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দীন নাছির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন আলোচকরা।
রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ
চার নেতাকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে বিএনপি। দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মনোনীত করা হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মনোনীত নেতারা হলেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বিএনপির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই চার নেতা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার দ্বারা সুচিন্তিত পরামর্শের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।
বিএনপির লোগো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক পর্যায়ে বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।
ঘোষিত এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব সদস্যকে যথা সময়ে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টেবিলে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্যদিয়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে ‘রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটের’ কমিটি দেওয়া রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির অধ্যায় শেষ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৈঠকে সংগঠনের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সাক্ষাৎকালে বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান সংগঠনের নেতাদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান তাদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
শীর্ষপদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষপদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সহ-সভাপতি - ইজ্জাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইশরাক।
নতুন কমিটি ঘোষণা হলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
দুই বছরের মেয়াদ শেষ
২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। একই সময় আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদকাল দুই বছরের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা লবিং, তদবির ও সিনিয়র নেতাদের মন জোগাতে সময় দিচ্ছেন।
নতুন কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও নারী নেতৃত্বে জোর
পদপ্রত্যাশীরা বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ছাত্রদলকে সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল দল বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে যথাযথ মূল্যায়ন করে বড় দায়িত্ব দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হলো। এই পদে কে আসছেন- তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এ বিষয়ে দল থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন এই বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।’
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সে পর্যন্ত রুহুল কবির রিজভীই দলের এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারেন। অবশ্য এ বছরে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে নতুন কোনো মুখ দেখা যেতে পারে। সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। দলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই মনে করছেন- আগামীতে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সালাহ উদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে।
দলের মহাসচিব পদ ছাড়াও নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও অনেক রদবদল আসতে পারে। এর মধ্যে যেমন শূন্য পদগুলোয় নতুন মুখ দেখা যাবে; তেমনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদেরও নতুন জায়গায় দেখা যেতে পারে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্থায়ী কমিটির পদসংখ্যা ১৯। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগ করায় মোট শূন্য পদ রয়েছে ৭টি। এর বাইরে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। রাজনীতি থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল ও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পুনর্গঠনে বেশ কিছু নেতার নাম নতুন মুখ হিসেবে বা পদ পূরণের জন্য আলোচনায় রয়েছে। এসব পদে রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। এরপর ১০ বছরের বেশি সময় নানা কারণে আর কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করাসহ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।
নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের নেতারা।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “শুনছি বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছেন। এখনও কাকে প্রার্থী দেবেন আমরা বা জাতি জানতে পারি নাই। কারণ উনাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের যে সংকট আমরা লক্ষ্য করছি। সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে, কর্নেল অলি সাহেব যোগ্য। উনি সবার সামনে জাতির সামনে এসেছেন।”
সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের বৈঠক আয়োজনের সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হল একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীতে রেকর্ড আমাদের জানা নাই। তো এই কাজটি উনারা করছেন, তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? ‘আমার দলের মত হলে গণতন্ত্র, নাইলে আমি স্বৈরতন্ত্র’।”
সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “পাঁচ মাস বা ছয় মাসের কার্যক্রম অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই, উনাদের মহাসচিব বলে দিয়েছেন। তো আমাদের আর নতুন করে বক্তব্য দেওয়ার দরকার নেই। ফখরুল সাহেব যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, মন্ত্রী, দলের মহাসচিব, এটা জাতি জেনে গেছে। তো বোঝা যাচ্ছে যে উনারা আসলে পরিবর্তন চান না বলেই পরিবর্তন হচ্ছে না।”
অলি আহমদকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের জোটের প্রার্থী জয়ী হতেন।”
রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক চলার মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি প্রার্থী হওয়ার সাথে সাথে বিএনপির মহাসচিব পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য থেকে পদত্যাগ করেছেন।”
মহাসচিবের দায়িত্বে কে আসছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তার কাছে দায়িত্ব দেওয়া আছে; তিনি যেটি যে প্রক্রিয়ায় যেভাবে হোক, তিনি সেটা মতামত নিয়ে জানাবেন। সেটি আপনারা পরে জানতে পারবেন। এখন শুধু দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার কথা আমরা জানালাম।”
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণার আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে এ বৈঠকে বসেছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করেন দলীয় প্রধান। এর পরই বর্তমান দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এর আগে গত ১ অগাস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্বভার পেয়ে দলের চেয়ারম্যান এ কয়েকদিন ফোনে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করা প্রার্থীর নাম জানাতে বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকা হয়। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নেতারাও অংশ নেন। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে জমা দেওয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, এদিনই মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
এবার বিরোধী জামায়াত জোট প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে। এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে প্রার্থী করছে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য। ২০ অগাস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলই তাতে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।
বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।