মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৬:০৮ এএম

গণভোটসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করে ক্ষমতাসীন বিএনপি ‘ভুল পথে এগোচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলটির শীর্ষ নেতা এই অভিযোগ করেন।


তিনি বলেন, “আমরা সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানাব, আসুন, ভুল মানুষই করে, আমরাও করতে পারি। জাতি মনে করে স্পষ্টত আপনারা এগুলা ভুলের মধ্যে লিপ্ত আছেন। আপনারা ভুল থেকে বের হয়ে আসেন। প্রথমে গণভোটের গণনায়কে মেনে নিন। তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন।


“আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব এটা বাস্তবায়নের জন্য। এরপরে যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল ফ্যাসিজম থেকে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে মুক্ত করার জন্য, সেইগুলো আপনারা কথা দিয়েছেন বিল আকারে আনবেন। সেসব বিল জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে আনেন।”


জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বলব, যেভাবে ওই অধ্যাদেশে ছিল, তার চাইতে চুল পরিমাণ পিছনে যেন না যায়। সামনে আগানোর যদি কিছু থাকে, সেটাকে আমাদের সাধুবাদ।


“কিন্তু জনগণের পরে ফ্যাসিজম কায়েম করার জন্য সামান্য কোনো ময়লা আবর্জনা যদি থাকে, সেটা আমরা মানব না।”


সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “মাননীয় স্পিকারকে ধন্যবাদ, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে একজন বলেছিলেন যে সমাজে অনেক ময়লা আছে, এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। তিনি (স্পিকার) বলেছিলেন, সমাজ পরিচ্ছন্ন আছে, ময়লা ‘এখানে’ আছে। এই জায়গা পরিষ্কার হয়ে গেলে সমাজও পরিষ্কার হয়ে যায়।”


“উই ডু বিলিভ; আমরা এটা সাপোর্ট করি। এই সংসদের তিনশ জন মানুষের মন যদি দেশবাসীর জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, দায়িত্বশীল হয়ে যায়, বাংলাদেশ বদলে যাবে ইনশাল্লাহ।”


শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর এই জেলা আমির সম্মেলন হয়।


‘জনগণের সাথে প্রতারণা’


শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সুস্থ রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতেই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।”


তার দাবি, গত নির্বাচনে কীভাবে ‘কারচুপি’ করা হয়েছে, তা সাবেক একজন উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রীর বক্তব্যেই ‘স্পষ্ট’ হয়েছে।


তিনি বলেন, সংবিধানে ইচ্ছামত সংশোধনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায় বিএনপি সরকার। সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। তাই জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য।


“গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানে অগণতান্ত্রিক দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।”


জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও রাজপথে ‘জনগণের এজেন্ডা নিয়ে’ সরব থাকবে জানিয়ে দলটির আমির বলেন, “দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণকে গর্জে উঠতে হবে৷ আমরা জনগণের পাশে থাকব।”


‘রাজনীতির সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে’


শফিকুর রহমান বলেন, “রাজনীতির সেই স্লোগান কে মানে, কে মানে না–ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আর আমরা কার্যত দেখতে পাই, দেশের চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। এই চরিত্রকে পাল্টাতে হবে।



“রাজনীতির এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে ইনশাল্লাহ আর চলতে দেওয়া হবে না। যেখানে এই সংস্কৃতির চর্চা চলবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করব। জনগণের সাথে হয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করব ইনশাল্লাহ।”


সংসদে সংকট নিয়ে আলোচনা চাই’


ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “আসুন, সংকটকালে লুকোচুরি নয়। আমরা বারবার নোটিস দিয়েছি এই নোটিসগুলো আলোচনায় আসে না। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ সংকট, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি–এগুলো নিয়ে আলোচনা করি। সরকারি দলের এগুলো আলোচনা করা পছন্দ না। শুধু লোকচুরি।


“ভাই, এগুলা তো সব আপনাদের সৃষ্টি না। এটা গ্লোবাল প্রবলেমের কারণে তৈরি হয়েছে। আমরা বুঝি না এগুলা? আমরা তো মানুষ। আমরা খোলা মনেই তো… সবাই চাই সমাধান বের হয়ে আসুক। আমরা এখনো আহ্বান জানাব, সংসদে, সংসদের বাইরে, আসুন খোলামনে আলোচনা করে জাতীয় সংকট উত্তোরণে আমরা একসাথে কাজ করি।”


‘মাগুরা থেকে বগুড়া’


সম্প্রতি বগুড়ার উপ নির্বাচন এবং শেরপুরের সাধারণ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।


তিনি বলেন, “এ দেশ তো আমাদের দেশ। এর মাঝে আরো দুই বিপত্তি ঘটে গেছে–বগুড়া এবং শেরপুর। এখন লোকরা বলে ছিয়ানব্বইতে মাগুরা, আর ছাব্বিশে এসে বগুড়া।


“কেন রে ভাই, দরকার আর কী ছিল? ফেয়ার ইলেকশন করে আপনারাই জিতেন, না হয় আমরাই জিতি। গণরায়টাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু সেখানে দেখেছেন কী ঘটনা ঘটেছে? আমি ভাই লজ্জিত।”


কিছু গণমাধ্যম প্রসঙ্গে


নির্বাচনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে নাম না নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন শফিকুর রহমান।


তিনি বলেন, “কিছু মিডিয়া, আমি সবার কথা বলছি না, ‘অমুক ভাই তিনগুণ ভোটে বিজয়ী হয়েছে’। ভাই আপনিও তো সেখানে ছিলেন, মানে আপনার একজন বন্ধু সেখানে ছিল। খোলা চোখে আপনি দেখেন নাই সেখানে কি হয়েছে? সবই দেখেছে। একদম সিলমারা ব্যালট এবং এজেন্টকে ধরে আপনাদের সামনেই তো আপনাদের মাধ্যমে তো জাতির সামনে নিয়ে এসেছি।


“তারপরে আপনারা (কিছু গণমাধ্যম) কেমনে বলেন রে ভাই। সবাই না, যারা এরকম করেছেন, তাদের ব্যাপারে আমি লজ্জিত, তারা লজ্জিত কিনা আমি জানিনা। লজ্জিত হওয়া উচিত ।”


শফিকুর রহমান বলেন, “এই অঙ্গনের আলহামদুলিল্লাহ সুনাম অক্ষুণ্ন থাকুক আমরা চাই। আমরা বরাবর বলেছি, সাদাকে সাদা বলুন, কালোকে কালো বলুন। আমি কালো হলে আমাকে বলে দেন, অসুবিধা নেই। কিন্তু আমার সাদাটাকে মেহেরবানী করে বাদামী এবং কালো বানাতে যাইয়েন না। এটা ভালো জিনিস না।


“টুকরা টুকরা কাট-পিস এখান থেকে ওখানে… আজকেও কী করবেন আপনার আল্লাহই জানে। আশা করি আজকে ইনসাফ করবেন। কেউ এই কাজ করবেন না। দিলে পুরাটা দিবেন। না দিলে পুরাটা ফেলে দিয়েন–এটা আপনাদের ব্যাপার। কিন্তু আপনাদের মত করে আমাদের বক্তব্যটাকে ভাই বৈজ্ঞানিক আকারে উপস্থাপন করবেন না। আমরা সাদাসিধা মানুষ ভাই, সাদাসিধা বক্তব্য এগুলো, সাদাসিধা ভাবেই, স্পষ্টভাবে আপনারা তুলে ধরবেন, এটা আপনাদের কাছে আমাদের বিনয়ী আহ্বান।”


‘কালো রাতের অবসান হবে’


শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব। দেশবাসী, অধিকার কেউ আপনাকে ঘরে এনে দেবে না। বলবেন–‘আর কত ত্যাগ’? হ্যাঁ ত্যাগের রাস্তায় বোধহয় আরো কিছুদূর আমাদের চলতে হবে এবং কালো রাতের অবসান ঘটবে ইনশাল্লাহ।


“কে বাঁচব, কে মরব জানি না, কোন দল ক্ষমতায় আসবে কোন দল ক্ষমতা থেকে যাবে তাও জানি না। কিন্তু এটা জানি যে মহান আল্লাহ, তিনি কখনো তার সৃষ্টির প্রতি অবিচার করেন না। সুতরাং সুবিচার পাব, সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ।”


‘আগামী ফ্যাসিজম আরও ভয়াবহ হবে’


বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আবার কেন সেই পুরানা সংস্কৃতিতে ফিরে যাব?... এগুলো যখন বিদ্যমান থাকবে, আমরা আশঙ্কা করছি, অতীতের ফ্যাসিজমের চাইতে আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরো ভয়াবহ।


“এইজন্য আমরা বলতে বাধ্য হয়েছি, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন ফ্যাসিজমের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল্যবোধ হচ্ছে, মানুষের অধিকাংশের রায়কে সম্মান করা; আর এখানে অধিকাংশের রায়কে করা হল অপমান।”


তেলের জন্য পেট্রোল পাম্পে লাইনের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের ‘ব্যর্থতার’ কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াত প্রধান।


ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ যেসব উদ্যোগ বিএনপি সরকার নিয়েছে, সে প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, “ভালো সেটা দেন। সেটা যদি রাষ্ট্রের পর্যাপ্ত রেভিনিউ থাকে, দেবেন না কেন? কল্যাণে ব্যয় করেন। কারণ টাকা তো নিজের না।


“সেখানে দলীয়করণ, আবার সেখানে গিয়ে অনেক ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে, আপনারা দেখেছেন। এক বিধবা, তাকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার জীবনটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। একটা কেইস এসেছে, বাকিটা হয়ত লজ্জায় মুখ বুঝে আছে। জানি না এরকম হয়েছে কিনা আল্লাহ ভালো জানে।”


তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির রেট আগের চাইতে এখন দিন দিন সব সেক্টরে বাড়তেছে। অতিষ্ঠ জনগণ, দ্রব্যমূল্যের যাতাকলে পিষ্ট দুই কারণে। একটা জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ, আরেকটা হচ্ছে বাড়তি চাঁদার চাপ। এই সবটুকু এসে সাধারণ জনগণের, খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপতেছে।


“একটা সরকার, জনগণের জন্য তার একটু দুঃখ, দরদ, দায় থাকবে না, এরকম চলে? কি করলেন আপনারা? অথচ আপনারা বলেছিলেন যে, আপনারা দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবেন। আমরা বুঝতে পারছি না কার টুটি চেপে ধরা হয়েছে। হ্যাঁ, আমরা দুইটা জায়গায় টুঁটি চেপে ধরা দেখতে পাচ্ছি। একটা মিডিয়া; মিডিয়াকে সত্য প্রকাশে বারণ করা হচ্ছে, স্পষ্টত আমরা দেখতে পাচ্ছি। আরেকটা সমাজের বিভিন্ন জায়গায় ভালো মানুষগুলো, তাদের টুটি এখন সেলাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে রাখবেন, এইভাবে কারো টুটি দীর্ঘদিন বা চিরদিন বন্ধ করে রাখা যায় না।”


জেলা আমির সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামসহ নায়েবে আমির ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

বিএনপির লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। 

এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক পর্যায়ে বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।


ঘোষিত এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব সদস্যকে যথা সময়ে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টেবিলে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্যদিয়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে ‘রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটের’ কমিটি দেওয়া রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির অধ্যায় শেষ হতে পারে।


বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৈঠকে সংগঠনের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সাক্ষাৎকালে বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান সংগঠনের নেতাদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান তাদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।


শীর্ষপদে আলোচনায় যারা

ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষপদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সহ-সভাপতি - ইজ্জাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইশরাক।


নতুন কমিটি ঘোষণা হলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।


দুই বছরের মেয়াদ শেষ

২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। একই সময় আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদকাল দুই বছরের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা লবিং, তদবির ও সিনিয়র নেতাদের মন জোগাতে সময় দিচ্ছেন।


নতুন কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও নারী নেতৃত্বে জোর

পদপ্রত্যাশীরা বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ছাত্রদলকে সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল দল বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে যথাযথ মূল্যায়ন করে বড় দায়িত্ব দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৩ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হলো। এই পদে কে আসছেন- তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 


তবে এ বিষয়ে দল থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন এই বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।’


বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সে পর্যন্ত রুহুল কবির রিজভীই দলের এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারেন। অবশ্য এ বছরে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে নতুন কোনো মুখ দেখা যেতে পারে। সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। দলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই মনে করছেন- আগামীতে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সালাহ উদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে। 


দলের মহাসচিব পদ ছাড়াও নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও অনেক রদবদল আসতে পারে। এর মধ্যে যেমন শূন্য পদগুলোয় নতুন মুখ দেখা যাবে; তেমনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদেরও নতুন জায়গায় দেখা যেতে পারে।


বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্থায়ী কমিটির পদসংখ্যা ১৯। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগ করায় মোট শূন্য পদ রয়েছে ৭টি। এর বাইরে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। রাজনীতি থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।


আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল ও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পুনর্গঠনে বেশ কিছু নেতার নাম নতুন মুখ হিসেবে বা পদ পূরণের জন্য আলোচনায় রয়েছে। এসব পদে রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। 


বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। এরপর ১০ বছরের বেশি সময় নানা কারণে আর কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। 


বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করাসহ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।

সর্বশেষ সব খবর

নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের নেতারা।


হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “শুনছি বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছেন। এখনও কাকে প্রার্থী দেবেন আমরা বা জাতি জানতে পারি নাই। কারণ উনাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের যে সংকট আমরা লক্ষ্য করছি। সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে, কর্নেল অলি সাহেব যোগ্য। উনি সবার সামনে জাতির সামনে এসেছেন।”



সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের বৈঠক আয়োজনের সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হল একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীতে রেকর্ড আমাদের জানা নাই। তো এই কাজটি উনারা করছেন, তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? ‘আমার দলের মত হলে গণতন্ত্র, নাইলে আমি স্বৈরতন্ত্র’।”


সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “পাঁচ মাস বা ছয় মাসের কার্যক্রম অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই, উনাদের মহাসচিব বলে দিয়েছেন। তো আমাদের আর নতুন করে বক্তব্য দেওয়ার দরকার নেই। ফখরুল সাহেব যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, মন্ত্রী, দলের মহাসচিব, এটা জাতি জেনে গেছে। তো বোঝা যাচ্ছে যে উনারা আসলে পরিবর্তন চান না বলেই পরিবর্তন হচ্ছে না।”


অলি আহমদকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের জোটের প্রার্থী জয়ী হতেন।”

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৩ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।


বৈঠক চলার মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি প্রার্থী হওয়ার সাথে সাথে বিএনপির মহাসচিব পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটি সদস্য থেকে পদত্যাগ করেছেন।”


মহাসচিবের দায়িত্বে কে আসছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তার কাছে দায়িত্ব দেওয়া আছে; তিনি যেটি যে প্রক্রিয়ায় যেভাবে হোক, তিনি সেটা মতামত নিয়ে জানাবেন। সেটি আপনারা পরে জানতে পারবেন। এখন শুধু দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার কথা আমরা জানালাম।”



রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণার আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে এ বৈঠকে বসেছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণা করেন দলীয় প্রধান। এর পরই বর্তমান দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। এর আগে গত ১ অগাস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্বভার পেয়ে দলের চেয়ারম্যান এ কয়েকদিন ফোনে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে ঠিক করা প্রার্থীর নাম জানাতে বৃহস্পতিবার বৈঠক ডাকা হয়। এতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নেতারাও অংশ নেন। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে জমা দেওয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, এদিনই মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন।


সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।


এবার বিরোধী জামায়াত জোট প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে। এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে প্রার্থী করছে বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য। ২০ অগাস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলই তাতে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।


বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন বিএনপির

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৭ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই বেছে নিল বিএনপি। আজ দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।



২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।



নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আজ বিকেল চারটার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর প্রার্থিতা যাচাই–বাছাই করা হবে। ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ হবে।


জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টার দিকে কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।


শেষ পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। মাঝের সময়ে সাতজন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল থেকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়নি।


সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের ভোটে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধীদের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারীসহ ৯০। ফলে ভোটে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা অনেকটাই পরিষ্কার।

সর্বশেষ সব খবর