ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:০৩ এএম

“তবে আমরা মনে করি, ওনার আরো জোরালো ভূমিকা রাখা দরকার ছিল, সিইসির জোরালো ভূমিকা ঘাটতি দিখছি।” সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্টে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে ‘অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ১০ নারী ও একটি সংগঠন।


আজ রোববার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন, যেখানে তারা জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছেন।


রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না তুলে ধরে চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।


শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত একটি পোস্ট গেল ৩০ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জামায়াতে ইসলামে- নারী নেতৃত্ব এবং কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।


পরে রাতে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল ‘হ্যাক করে’ ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে সেখানে অভিযোগ করা হয়।


এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গভবনে গিয়ে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়। এরপর মধ্যরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের অভিযানে মতিঝিল এলাকা থেকে আটক করা হয় বঙ্গভবনের কর্মী ছরওয়ারে আলমকে।


গত বুধবার রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তারের কথা জানান ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার আদালত তাকে জামিন দেয়।


গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।


সিইসিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে ১০ নারী ও নারী পক্ষ নামের সংগঠনটি বলেছে, “আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির শফিকুর রহমান তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয় বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী, আত্মমর্যাদাশীল ও অবদানশীল নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক ভূমিকার সরাসরি অস্বীকৃতি।


“পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্যকে হ্যাকিং-এর ফল বলে ব্যাখ্যা প্রদান করা হলেও, ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে আমরা মনে করি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি।”


তাদের মতে, শ্রমজীবী নারীদের নিয়ে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ‘চরম পরিপন্থি’।


“আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে “


তাদের চার দাবি হল-


>> অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।


>> কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।


>> ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে, এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে।


>> নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ওই ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, “সিইসি বলেছেন আমরা ইলেকশন ইনকয়ারি কমিটির কাছেও যেন এই অভিযোগটা দেই।


“আমরা বলেছি এই বক্তব্য দিয়ে তিনি নির্বাচনের আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। সেই জন্য আপনার কাছে আমরা আসছি, আপনি হচ্ছেন শীর্ষ ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের। আপনি যদি এটার ব্যবস্থা না নেন তাহলে নির্বাচন করলে তো মানুষের আস্থা থাকবে না।”


মিশু বলেন, “উনি (সিইসি) বলেছেন, উনি নির্বাচন কমিশনারদের সাথে বসবেন, বসে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে আমরা মনে করি, ওনার আরো জোরালো ভূমিকা রাখা দরকার ছিল, সিইসির জোরালো ভূমিকা ঘাটতি দিখছি।”


সিইসিকে স্মারকলিপি দেওয়া নারীদের মধ্যে অন্যরা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন-এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, 


নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নারী বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া শিশির, আইনজীবী ও অধিকার কর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি, গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জনভাষ্য এর কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম আরা নীপা, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৯ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন বিকাল ৪টার দিকে বলেন, “কার্যালয়ে দলীয় কর্মসূচি পণ্ড করতে এবং ভবনটি তালাবদ্ধ করার জন্য পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে।”


জানতে চাইলে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সেখানে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি নাই।”


সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা ডেপ্লয়মেন্ট না, কোনো প্রোগ্রাম ঘিরে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।”


এদিন বিকাল ৫টায় তোপখানা রোডের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি রেখেছিল বাংলাদেশ জাসদ।


১৫ অগাস্ট সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি বলেছিল, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বর্বর ঘটনা এক অমোচনীয় কলঙ্ক হিসেবেই থেকে যাবে।


“দেশে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতির এ কলঙ্ক দূর করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ জাসদ মনে করে।”


১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হত।


২০২৪ সালে ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসাবে ১৫ অগাস্টের ছুটির বাতিল করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।

সর্বশেষ সব খবর

রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

চার নেতাকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে বিএনপি। দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মনোনীত করা হয়।


শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।


মনোনীত নেতারা হলেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।


বিএনপির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই চার নেতা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার দ্বারা সুচিন্তিত পরামর্শের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপির লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। 

এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক পর্যায়ে বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।


ঘোষিত এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব সদস্যকে যথা সময়ে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টেবিলে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্যদিয়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে ‘রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটের’ কমিটি দেওয়া রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির অধ্যায় শেষ হতে পারে।


বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৈঠকে সংগঠনের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সাক্ষাৎকালে বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান সংগঠনের নেতাদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান তাদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।


শীর্ষপদে আলোচনায় যারা

ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষপদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সহ-সভাপতি - ইজ্জাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইশরাক।


নতুন কমিটি ঘোষণা হলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।


দুই বছরের মেয়াদ শেষ

২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। একই সময় আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদকাল দুই বছরের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা লবিং, তদবির ও সিনিয়র নেতাদের মন জোগাতে সময় দিচ্ছেন।


নতুন কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও নারী নেতৃত্বে জোর

পদপ্রত্যাশীরা বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ছাত্রদলকে সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল দল বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে যথাযথ মূল্যায়ন করে বড় দায়িত্ব দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৩ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হলো। এই পদে কে আসছেন- তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 


তবে এ বিষয়ে দল থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন এই বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।’


বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সে পর্যন্ত রুহুল কবির রিজভীই দলের এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারেন। অবশ্য এ বছরে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে নতুন কোনো মুখ দেখা যেতে পারে। সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। দলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই মনে করছেন- আগামীতে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সালাহ উদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে। 


দলের মহাসচিব পদ ছাড়াও নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও অনেক রদবদল আসতে পারে। এর মধ্যে যেমন শূন্য পদগুলোয় নতুন মুখ দেখা যাবে; তেমনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদেরও নতুন জায়গায় দেখা যেতে পারে।


বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্থায়ী কমিটির পদসংখ্যা ১৯। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগ করায় মোট শূন্য পদ রয়েছে ৭টি। এর বাইরে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। রাজনীতি থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।


আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল ও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পুনর্গঠনে বেশ কিছু নেতার নাম নতুন মুখ হিসেবে বা পদ পূরণের জন্য আলোচনায় রয়েছে। এসব পদে রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। 


বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। এরপর ১০ বছরের বেশি সময় নানা কারণে আর কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। 


বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করাসহ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।

সর্বশেষ সব খবর

নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জোটের প্রার্থী এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জোটের নেতারা।


হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “শুনছি বিএনপি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে বসছেন। এখনও কাকে প্রার্থী দেবেন আমরা বা জাতি জানতে পারি নাই। কারণ উনাদের মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের যে সংকট আমরা লক্ষ্য করছি। সে জায়গা থেকেও আমরা আশা করতে পারি যে, কর্নেল অলি সাহেব যোগ্য। উনি সবার সামনে জাতির সামনে এসেছেন।”



সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের বৈঠক আয়োজনের সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা প্রতিবাদও করতে চাই। সচিবালয় হল একটা নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে, শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে, এটা অতীতে রেকর্ড আমাদের জানা নাই। তো এই কাজটি উনারা করছেন, তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? ‘আমার দলের মত হলে গণতন্ত্র, নাইলে আমি স্বৈরতন্ত্র’।”


সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “পাঁচ মাস বা ছয় মাসের কার্যক্রম অতীত থেকে কোনো পরিবর্তন নাই, উনাদের মহাসচিব বলে দিয়েছেন। তো আমাদের আর নতুন করে বক্তব্য দেওয়ার দরকার নেই। ফখরুল সাহেব যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, মন্ত্রী, দলের মহাসচিব, এটা জাতি জেনে গেছে। তো বোঝা যাচ্ছে যে উনারা আসলে পরিবর্তন চান না বলেই পরিবর্তন হচ্ছে না।”


অলি আহমদকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে তাদের জোটের প্রার্থী জয়ী হতেন।”

সর্বশেষ সব খবর