তাজনূভা জাবীন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন তাজনূভা জাবীন। তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
আজ রোববার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তাজনূভা তাঁর পদত্যাগের কথা জানান। পোস্টে তিনি জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে লিখেছেন, ‘এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি।’
ঢাকা-১৭ আসনে তাজনূভাকে প্রার্থী করেছিল এনসিপি। তাজনূভা তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আজ তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছেন, তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। নির্বাচন করতে মানুষ তাঁকে যে অর্থ অনুদান হিসেবে পাঠিয়েছেন, তা তিনি এক এক করে ফেরত দেবেন। কীভাবে টাকা ধীরে ধীরে ফেরত দেবেন, তা তিনি বিস্তারিত লিখে জানাবেন। সে জন্য তিনি একটু সময় চেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে গিয়ে সংকটে পড়েছে এনসিপি। এ ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতার বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত হওয়ার পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তাসনিম জারা। তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দলটি থেকে পদত্যাগ করেন এনসিপিতে জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত মীর আরশাদুল হক।
তাজনূভার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো–
‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ংকর যে কারণ, সেটা হলো যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।
‘এটা আদর্শের চেয়েও অনেক বড়, সেটা হলো বিশ্বাস। মাত্র কিছুদিন আগে সমারোহে সারা দেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়ে ৩০ জনের জন্য সিট সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর বসানো হয়েছে। বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ অবধি এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামীকাল মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ। আমার অবশ্য এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ইচ্ছা নাই। পুরো আগোছালো করে চোখের পলকে ডিসওউন করে দিয়েছে।
‘বিভিন্ন পত্রিকায় নানান খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমি মনোনয়ন হারানোর ভয়ে জোটের বিরোধিতা করছি। আমি কিছুদিন আগে লিখেও ছিলাম আমার আসনে নেগোনিয়েশন হলে আমি নির্বাচন করব না, যত কঠিন প্রতিপক্ষ হোক আমি ফাইট দেব। দিলো না। তাদের গোষ্ঠীর ভাইরা তাদের পক্ষে দিস্তায় দিস্তায় লিখে ভরায় ফেলছে কেন আর কীভাবে এই জোট। কিন্তু কোনো জেনারেল, ইসি মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত এ রকম ছিল না জোট হলে বাকি আসনে প্রার্থীকে বসে যেতে হবে। আবার বাকি আসনগুলোতে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা করতে হবে। জামায়াতের সাথে চরমোনাই পীরের ৭০টা আসনে সমঝোতা হচ্ছে। আর গণ–অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেয়া দলের ৩০টা আসনে।
‘এনসিপি শুরু থেকে যে গণ পরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক মধ্যপন্থার, নারী, বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতি করার কথা বলছে সেটা ধারন করে যে কয়জন পার্টিতে ছিল তাদের মধ্যে আমি একজন। এই পার্টির একজন ফাউন্ডার মেম্বার আমি। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ মন খারাপ। কিন্তু এই দল ছেড়ে দেয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো সম্মানজনক অপশন নাই। দলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দিয়ে অরাজনৈতিক, অপরিপক্বতার পরিচয় ইত্যাদি বয়ান দিবে অনেকে। জাস্ট বুলশিট। শুধু এটুকু বলি, আমি বহিরাগত ওখানে, আমাকে প্রতারিত করলে মেইক সেন্স। কিন্তু এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সাথে যে মাইনাসের রাজনীতি করে ওখানে সেটা ভয়ংকর। এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এত ব্যস্ত এরা কখনো দেশের জন্য নতুন একটা মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না।
‘সবাই খুব বলছেন কালকে থেকে, রাজনীতি লম্বা, অনেক দূর যেতে হয়। একদম ঠিক। কিন্তু সেই নীতি এনসিপির নিজেরই নাই। নেতারা বিতর্কের পর বিতর্ক জন্ম দিয়ে সেটাকে বিপ্লব নাম দিয়েছে আর আমাদের মতো যারা আসলেই এনসিপির নীতি ধারণ করেছি তাদের আবেগপ্রবণ লেবেল দেয়া হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণাপত্র থেকে শুরু করে সবশেষ ডেইলি স্টারের ডিবেটে বলা কথা শীর্ষ নেতারা কতটুকু ধারণ করে সময় মতো মিলিয়ে নিয়েন।
‘ওই পুরোনো ফাঁকা বুলির রাজনীতি করতে হলে পুরোনো দলই করতাম, নতুন কেন? এবার আবারও আসি জামায়াতের সাথে জোট প্রসঙ্গে, এনসিপি স্বতন্ত্র স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে যে কারও সাথে রাজনৈতিক জোটে অসুবিধা ছিল না। সেটা ৫ বছর পরে হতো, ঠিক প্রথম নির্বাচনেই কেন? কিন্তু আর সব অপশনকে ধীরে ধীরে রাজনীতি করে বাদ দেয়া হয়েছে যাতে জামায়াতের সাথে জোট ছাড়া কোনো উপায় না থাকে। সুনিপুণভাবে এখানে এনে অনেককে জিম্মি করা হয়েছে। যা–ই হোক। এটা কোনো রাজনৈতিক কৌশল না। এটাই পরিকল্পনা।
‘এই লেখার পরে আমার ওপর অনেক আক্রমণ আসবে। আমার অনেক ব্যর্থতার ঢালি সাজানো হবে। চরিত্রহননের চেষ্টা হবে। কিন্তু নিজের কাছে নিশ্চিত। আমি এদের সাথে রাজনীতি করতে এসেছিলাম, এদের বিরুদ্ধে না। আমার আজকে মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করার কথা, আর আমি এখানে বসে এসব লিখছি। জোট নাকি হবে দেড় মাসের, তারপর তারা মধ্যপন্থায় ব্যাক বাউন্স করবে। ট্রু। ব্যাক করে আবার দ্বিচারিতা, ভন্ডামি শুরু করবে। যে জবাবদিহির কথা বলে এরা মুখে ফেনা তোলে, সেটা নিজেদের কেউ করলে তাকেই মাইনাস করে।
‘আমি আগে রাজনীতি করি নাই, ঠিক। কিন্তু এরা কে আগে জাতীয় রাজনীতি করেছে? আমি নিজে বের হয়ে দলের বদনাম করছি, বলতে পারেন। বিষয়টা আমারও ভালো লাগছে না। কিন্তু সেটার থেকে আমার কাছে বেশি জরুরি মানুষ যে এনসিপির দিকে তাকিয়ে আছে, এনসিপিকে এটা–সেটা ভেবে, এনসিপি ওটা না। এনসিপিকে আমরা যারা ওটা করতে চেয়েছি তাদেরকে ট্যাগিং করা হয়েছে নানাভাবে। আমরা যারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, তারা একে একে ছাড়ছি। যাতে এই এনার্জিটা গঠনে ব্যয় হয়, এই চেষ্টাটা প্রোডাকটিভ ভাবে করতে পারি। এখন কলুর বলদ খাটছি।
‘নিজেরও ভালো লাগছে না, এভাবে ছেড়ে যেতে। কিন্ত যারা এই দেশ, এই সংসদই চায় নাই তাদের সমঝোতায় একদম শুরুতেই এমপি হতে চাওয়া, বা যারা এদের কল্যাণে এমপি হওয়ার জন্য হাভাইত্তার মতো করছে তাদের নেতৃত্ব মানা আমার পক্ষে ঠিক গণ–অভ্যুত্থানের পরের বছর অসম্ভব। এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। আমার নেতা হবে মাজাওয়ালা, জুলাই রাজনীতির ধারক। কিন্তু পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে। আবার নাকি বাউন্স ব্যাক করবে। হাস্যকর। বিএনপি, এই জামায়াতের সাথে জোট করে ১৭ বছর ক্ষমতা থেকে দূরে ছিল। আর বিএনপির অধীনে জামায়াতের সাথে জোট হয়েছিল। জামায়াতের অধীনে না। যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান, তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায়? পারে নাই তো।
‘ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা যায় কৌশল করে, কিন্তু সংগঠন দাঁড় করাতে যোগ্যতা লাগে। আপনারা মিলায় নেবেন, যারা এনসিপি ছাড়ছি তারাই এনসিপির বলা নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতি করেছি। কিন্তু ছাড়তে হচ্ছে আমাদের। পার্টিতে থাকা অবস্থায় কোন শোকজ না পেয়ে, সম্পূর্ণ পার্টির ইন্টিগ্রিটি মেনে যখন ছেড়ে আসতে চাই, তখন “অরাজনৈতিক” তকমা পড়ে। আপনারা এটাও মিলায় দেখেন কত কয়েক মাসে কোনো কোনো নেতা কত অসংখ্যবার পাটির ইন্টিগ্রিটি ভেঙ্গে বক্তব্য দিয়েছে, বিভিন্ন কাজ করেছে; কিন্তু তারা মিলিয়ন ফলোয়ারওয়ালা গণ–অভ্যুত্থানের নেতা তাই তারা নির্বাচনী জোটের নামে বাকিদের নির্বাচন করার অধিকার কেড়ে নিয়ে এমপি হতে পারেন আর আমরা পদত্যাগও করতে পারব না। সেটাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হবে।
নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রচুর পজিটিভ পিআর হবে এ সকল নেতাদের ঘিরে। কিন্তু আমি নিশ্চিত এরা নয়া বন্দোবস্ত না, এরা মধ্যপন্থার রাজনীতি না। আপনারা বলতে পারেন, এসব আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু এই দলে অনেকে আছে/ছিল যারা আদতেই এনসিপির রাজনীতি করেছে। তাদেরকে এম্পাওআরড করা হয় নাই ইচ্ছাকৃতভাবে। আপনারা তাদেরই চেনেন যাদের এনসিপি চেনাতে চেয়েছে। জুলাই–এর যে স্পিরিট সেটা এনসিপিতে চর্চা করা হয় না, ব্যবহার করা হয়।
‘যারা চর্চা করত, তাদের “নীতি কথা বলা যায় অনেক, বিপ্লব দিয়ে রাজনীতি হয় না, আবেগ দিয়ে রাজনীতি হয় না” ইত্যাদি বলে থামানো হয়, যাতে তারা নিজেদের ভন্ডামি চালিয়ে যেতে পারে।
‘আরেকটা বিষয় দেখলাম, বিএনপি গণভোটে “না” ভোটকে জেতায় আনবে তাই সেটা ঠেকানোর জন্য এই কৌশল। আমার প্রশ্ন, “হ্যাঁ” ভোট জেতানোর জন্য এনসিপিকে ৩০টা আসনে সীমিত হতে হল???? যে লিস্ট ঘুরছে তাদের ৬০-৭০% –এর রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখেন। আমার চেয়ে ভালো জানবেন। এরপরও এনসিপির জোর করে চেপে বসে থাকা নেতাদের মধ্যে যদি এনসিপির রাজনীতি নিয়ে পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখতাম, জবাবদিহি পেতাম, তাহলে আমি আরও চেষ্টা করতাম টিকে থাকার। এখন সময় নষ্ট না করি আর।
‘ভেবেছিলাম, জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর আমি পদত্যাগ দেব। শেষ আশাই ছিলাম। কিন্তু গতকাল সবাই নিশ্চিত করেছে এই জোটে সিল পড়েছে। আর আবারও বলি, আমার পদত্যাগের কারণ যতটা না জোট, তার চেয়ে বেশি যে প্রক্রিয়ায় জোট হয়েছে। অবিশ্বাস, অনাস্থা মূল কারণ। দল অনেক বড় হয়ে স্টাবলিশ করতে পারলে অনেক কিছু বিবেচনা করে ছাড় দেয়া যেত; কিন্তু গঠনের শুরুটাই নাকি আগে সংসদে যেতে হবে, তারপর ওই যে কজন এমপি বের হবে তাদেরকে কেন্দ্র করে নাকি সংগঠন বড় হবে। কিয়েক্টাবস্থা।
‘জামাতের সাথে জোট না চাওয়া মানে বিএনপির সাথে চাওয়া না। আমার রাজনীতিই সংস্কারের পক্ষে। নতুন সংবিধানের পক্ষে। আমি চেয়েছিলাম স্বতন্ত্র একটা নির্বাচন হোক, তৃতীয় জোট করে, বিএনপি/জামায়াতের বাইরে গিয়ে।
‘যা–ই হোক, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙ্গা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। সবচেয়ে কষ্ট লাগছে আজকেই আম্মু চট্টগ্রাম থেকে আসছে আমার নির্বাচন করা উপলক্ষে, আর আজকেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। আমি জানি অনেকে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন আমার এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু এটাই আমার জন্য সঠিক। এখানে ন্যূনতম আশা থাকলে, আমি আমার আত্মসম্মানবোধকেও বোধ হয় ডাউট অফ বেনিফিট দিতাম।
‘আমি আপনাদের পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেব এক এক করে। আমাকে একটু সময় দেবেন। সেটার জন্য বিস্তারিত লিখে আপডেট দেব কীভাবে ধীরে ধীরে ফেরত দেব। প্রত্যেকটা পয়সা ফেরত দেব। আপনাদের সমর্থন, আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
‘শেষ কথা বলি, আমি আগে কখনো রাজনীতি করি নাই। জুলাই এ আমার রাজপথে নামা, পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কিছুর জন্য।
‘আমি মারা যাওয়ার আগপর্যন্ত সেই চেষ্টা করতে থাকব। আমার আওয়াজ, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ আরও জোরালোভাবে জারি থাকবে। মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতির জায়গাটা খালিই পড়ে থাকল। আমি ওই জায়গা পূরণ করার চেষ্টায় থাকব। সময় বলে দিবে বাকিটা।’
‘এনসিপি ছেড়েছি, রাজনীতি না’
বেলা ১টা ২৮ মিনিটে তাজনূভা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আরেকটি পোস্ট দেন। এই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আরেকটা কথা, আমি এনসিপি ছেড়েছি, রাজনীতি না। সংসদ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য যে লড়াইটা চালাতে হয় এরা একটাও সে লড়াই করে নাই। লড়াই, সংগ্রাম, মজলুম ছাড়া সংসদে যাওয়া টেকসই না, জনপ্রতিনিধি হওয়া টেকসই না। আমি টেকসই কিছু চাই। এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আমার আসল লড়াই শুরু। আমার রাজনীতির শেষ না, এটা শুরু।’
এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। দ্রুত দেশে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই সঙ্গে সারাদেশের নেতাকর্মীদের আমি বলতে চাই যেখানে দখলদারিত্ব চাঁদাবাজি হচ্ছে জনগণকে সাথে নিয়ে এসব রুখে দিতে হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার ইস্যুতে জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন। পরিস্থিতি ইস্যুতে সংসদে যখন তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতো বা প্রশ্ন করা হতো, এটা রাজপথের বক্তব্যটা পল্টনের বক্তব্য এসব বলে তিনি কথা এড়িয়ে যেতেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হলো, তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চললো। বোঝাই যাচ্ছে সেখানে স্থানীয় বিএনপি, একজন নারী এমপির নাম এসেছে সেই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা মাধ্যমে তাদের পরোক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার মতো একটি শহরে তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চালাবে এবং প্রশাসন কিছুই করতে পারবে না এটি হতে পারে না।
তিনি বলেন, এটি বিএনপির সারা দেশের যে নৈরাজ্য এবং তাণ্ডব, দখলবাজি গত ৫ আগস্টের পর থেকে অর্থাৎ ৬ আগস্ট থেকে শুরু করেছিল তারই ধারাবাহিকতায় মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের অফিস ভাঙচুরের ঘটনা দেখতে পারলাম।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখলাম কীভাবে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। দেশে কোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হচ্ছে না। এ সরকার বলেছিল দেশের নির্বাচিত সরকার আসলে মব থেমে যাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিষদের উন্নতি হবে। এখন আমরা দেখছি, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান ও সালমান মুক্তাদির
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে দেখা যায় সালমান মুক্তাদির তার স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের বর্ণনা দিচ্ছেন।
ভিডিওর ক্যাপশনে জামায়াত আমির লিখেন, ‘গভীর রাতে জুলাইযোদ্ধা ও সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের বাসা ও স্টুডিওতে চাঁদাবাজদের হানা, ভাঙচুর, লুটতরাজ ও তাণ্ডব।’
তিনি চাঁদাবাজদের উদ্দেশে বলেন, ‘মাঝে মাঝে মধু আহরণকারী চাঁদাবাজরা মৌচাক মনে করে ভিমরুলের চাকেও ঢিল ছুড়ে দেয়। তখন সেই ঢিল বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসে।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কী সামলাবেন? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। হ্যাঁ, এর শেষ হবে একদিন, ইনশাআল্লাহ।’
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ২৯ জনের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। আগের দিন জাসদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, “আমরা জাসদের নেতাদের কাছ থেকে কাগজপত্র (নেতা-কর্মীদের তালিকা) নিয়েছি। সেসব দেখে যাচাই-বাছাই করে পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
“পুলিশের হেফাজতে আরও ২৯ জন আছেন। তাদেরও পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। পরিচয় শনাক্ত হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
জাসদ কার্যালয়ে শনিবার দুপুরের পর অভিযান চালিয়ে সেখানে থাকা লোকজনকে আটক করে পল্টন থানা পুলিশ। একের পর এক প্রিজন ভ্যান এনে কার্যালয়ের ভেতর থেকে লোকজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। জাসদ কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়েছেন তথ্যে এমন অভিযান চালানোর কথা বলেছিল পুলিশ।
উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেছিলেন, “আমাদের কাছে একটি তথ্য ছিল, জাসদ এবং তাদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা করার উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে এখানে জড়ো হয়েছিলেন।
“তো এ সংবাদ পেয়ে আমাদের পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থাগুলো নিয়েছে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা পুলিশকে সহায়তা করেছে।”
আটকদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নেতা আবু জাফর সূর্য ছিলে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর রোববার ভোর ৫টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে আবু জাফর সূর্য বলেন, তিনি একসময় জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে ভাষ্য তার।
আবু জাফর সূর্য বলেন, “সভা চলছিল। তখন হঠাৎ নিচতলার প্রধান ফটকে হট্টগোল ও স্লোগানের শব্দ শুনে নিচে নামি। পুলিশকে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিই। এরপরও পুলিশ আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটক করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও বিষয়টি আমলে নেয়নি এবং দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখে। পরে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোর ৫টার দিকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়।”
পুলিশ ও বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শুরুতে পুলিশের আচরণ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও’ পরে তাদের ভূমিকার পরিবর্তন হয়। যুবদলের স্থানীয় নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে সেখানে ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে যুবদলের ওই নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে এবং লিখিত অনুমতি নিয়েই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
পুলিশের কাছে জাসদ কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন উপকমিশনার হারুন অর রশিদ। পাশাপাশি সেখানে অন্য কোনো কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না এবং কেন তারা একত্রিত হয়েছিলেন, তা যাচাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
উপকমিশনার তখন বলেছিলেন, যাচাই-বাছাই করে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
অভিযানের সময় ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেছিলেন, কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং ভেতরে একটি সভা চলার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গিয়ে অনেককে নিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে অভিযান শুরুর সময় পল্টন থানার এসআই নাজমুল হোসেন জানিয়েছিলেন, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে অন্তত ৪০০ লোক ছিলেন।
অন্যদিকে জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের দাবি ছিল, সারাদেশ থেকে আসা প্রায় সাড়ে তিনশ নেতাকে নিয়ে প্রতিনিধি সভা চলার সময় দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে হামলা চালান।
তিনি বলেছিলেন, “প্রতিনিধি সভায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। আমরা অফিসে অবরুদ্ধ আছি। পুলিশ আসছে, হয়তো অ্যারেস্ট করবে।”
জাসদের এই নেতার দাবি অনুযায়ী, পরে পুলিশ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে জাসদের নেতা-কর্মীদের আটক শুরু করে।
তবে বিএনপি ও যুবদলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘গোপন বৈঠক’ করছেন বলে বলতে দেখা যায়।
জাসদের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, সেখানে দলটির প্রতিনিধি সভা চলছিল এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সেখানে থাকার প্রশ্নই আসে না।
ছবি : সংগৃহীত
ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের বিজয়কে একসময় ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তির এক অনন্য বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন পরিচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নেতৃত্বে আয়োজিত বিভিন্ন ছাত্রকল্যাণমূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নারীদের পোশাক এবং খেলাধুলা সংক্রান্ত কিছু বিষয় সামনে আসায় তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও ঝাঁজালো স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে সতর্ক করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই ইসলামি বক্তা।
ফেসবুক পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী সবিস্তারে উল্লেখ করেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের মতো ছাত্রনেতাদের জয়লাভের খবর পেয়ে তিনি গভীর রাতেও সজাগ থেকে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। ক্যাম্পাসে সিট বাণিজ্য চিরতরে বন্ধ করা, মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ, বৃষ্টির দিনে ছাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে ভেনগাড়ির ব্যবস্থা কিংবা গরমের দিনে সুপেয় পানির সুব্যবস্থার মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে তিনি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সাধুবাদ জানানোর যোগ্য বলে মনে করেন। তবে তার মূল প্রশ্ন হলো—একজন মুসলমান হিসেবে আমরা কি কেবল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নমূলক কাজের মাপকাঠিতে নেতৃত্বকে সমর্থন করতে পারি? দুনিয়ার সকল চাকচিক্য ও সুবিধার চেয়েও আল্লাহর বিধান ও ইসলামের মূল আদর্শ কি আমাদের কাছে সর্বাগ্রে হওয়া উচিত নয়?
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারীদের শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং জার্সি পরিধান করে বাস্কেটবল খেলার আয়োজন এবং প্রকাশ্যে তা উদযাপনের তীব্র সমালোচনা করে মাদানী স্পষ্টভাবে জানান, বিষয়টি কেবল খেলাধুলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এর মাধ্যমে ইসলামি অনুশাসন ও শালীনতাকে গৌণ করে তোলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন দেখেন সাদিক কায়েম দেশের শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় আলেম যেমন শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক ও আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহর মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নিয়মিত মঞ্চ ভাগ করছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মতো শীর্ষ নেতাদের সমর্থন লাভ করছেন, তখন সরলমনা শিক্ষার্থীরা মনে করতে পারেন যে এসকল বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও বোধ হয় শরিয়তসম্মত। বিশেষ করে ছাত্রী সংস্থার বা মহিলা শাখার মারজিয়া মমতাজের মতো দায়িত্বশীলদের টকশোতে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে তিনি শীর্ষ আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা এই স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান ও দিকনির্দেশনা জাতির সামনে তুলে ধরেন।
সাদিক কায়েমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে রফিকুল ইসলাম মাদানী আরও জোরালো ভাষায় বলেন, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তির বৈধতা অর্জন করা যায় না। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারও দেশের ইতিহাসে অসংখ্য বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, কিন্তু জনগণের মৌলিক অধিকার ও ইসলামের মৌলিক আদর্শের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে। পশ্চিমা বা মার্কিন শক্তির কাছে নিজেদের প্রগতিশীল ও আধুনিক হিসেবে প্রমাণ করার জেদে যদি ইসলামের মৌলিক বিধিবিধানগুলোকে গৌণ করে ফেলা হয়, তবে সেই ক্ষমতার কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকতে পারে না। এমন পন্থায় কাকতালীয়ভাবে কোনো ক্ষমতা অর্জিত হলেও তা ইসলামের পক্ষে কল্যাণকর হবে না এবং ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধেও স্পষ্ট ও আপসহীন অবস্থান বজায় রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই ইসলামি বক্তা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
রাজধানীর মিরপুরে একটি এনজিওর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি 'ভেঙে পড়ার' অভিযোগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের 'অস্তিত্ব' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা গোটা জাতির জন্য লজ্জার।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা নাহিদ শনিবার এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টার মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভঙ্গুর, তার ভয়াবহ নিদর্শন।
তিনি লেখেন, "রাতভর প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব ও নির্বিকার ভূমিকা গভীর উদ্বেগের। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।"
স্থানীয়দের অভিযোগের বরাতে নাহিদ লেখেন, "এই ভাঙচুর ও দখলদারির পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে।"
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার নামের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যান।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অফিসের সামগ্রীসহ টিকাদানের প্রচুর সামগ্রী লুটপাট হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি আহ্বায়ক অভিযোগ করে বলেন, "এমনকি খোদ রাজধানীর বুকে চর দখলের মতো একটি হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল করে নেওয়ার ঘটনায় দেশে আদৌ কোনো সরকারের অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।"
তিনি বলেন, "আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"
এ ঘটনার সরেজমিন খোঁজ খবর নিতে রোববার সকালে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল মিরপুরে ঘটনাস্থলে যাবে। তারা সেখানে সংবাদ সম্মেলন করবে বলে শনিবার মধ্যরাতে এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার সাংবাদিকদের জানান।
এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
শামা ওবায়েদকে হেনস্তার চেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে নিউইয়র্কে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন তারই দলের কিছু নেতাকর্মী। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের এই ঘটনার সময় তার ছেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন কয়েকজন প্রবাসী বাঙালি। পেছনে কেউ একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মারতে বলছেন। পাশ থেকে ছেলে এগিয়ে আসলে তার ওপরও চড়াও হন প্রবাসে থাকা এই নেতাকর্মীরা।
ঘটনার সময় শামা ওবায়েদ হোটেলটির লিফটে ছিলেন। বাইরে একই লিফটে উঠতে যাচ্ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছেলে এগিয়ে এসে বলেন, ‘আমার মা এইটা।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রীর ছেলেকে কেউ একজন ধাক্কা দেন।
ঘটনার শেষ দিকে এক নারীও একই ধরনের আচরণ করেন। তিনি শামা ওবায়েদের ছেলেকে পেছন থেকে ধাক্কা দিতে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে এবার তৈরি হয়েছিল বিপুল উদ্দীপনা। সেজন্য দলীয় প্রধানকে একনজর দেখার আকুলতা আর শুভেচ্ছা জানাতে অনেকেই ছুটে এসেছিলেন নিউইয়র্কে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর চোখ ছিল হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের লবিতে।
তবে আকুলতা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা-সবই রূপ নেয় চরম ক্ষোভ আর হতাশায়। শেষ মুহূর্তে চরম বিশৃঙ্খলা ও আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার কারণে মাত্র হাতেগোনা ও শীর্ষ কয়েকজন সাক্ষাৎ পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মীই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি।
ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত নেতাকর্মী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বহু প্রতীক্ষিত এই সাক্ষাতের অন্তিমে বিমর্ষতা আর ক্ষোভের ছায়াই ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির তৃণমূলের চোখে-মুখে। দীর্ঘ বিশ বছর পর নিউইয়র্কে এসেও দলীয় প্রধানকে না দেখার আক্ষেপ নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে নেতাকর্মীদের।