ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়ে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়া তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে করা তার আপিল আবেদনের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুরো কমিশন শুনানিতে রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টির যোগদানের প্রশ্নে গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা নিয়ে গড়মিলের কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিলে গিয়ে নিজের পক্ষে রায় পেলেন তাসনিম জারা।
এদিনই কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
এবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। শনিবার শুরু হওয়া আপিল শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শনি, রোব ও সোমবারে অনুষ্ঠেয় ২১০ আপিল শুনানির রায়ের অনুলিপি মিলবে সোমবার।
ফুটবল মার্কা নিয়ে লড়তে চান জারা
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর নির্বাচন ভবনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাসনিম জারা বলেন, “নির্বাচন কমিশনে আপিল মঞ্জুর হয়েছে। আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল করার পর থেকে এক সপ্তাহে ‘অন্য রকম’ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন এ স্বতন্ত্র প্রার্থী।
তাসনিম জারা বলেন, “দেশে-বিদেশে সকলে দোয়া করেছেন, অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের সকলকে ধন্যবাদ। জনসমর্থনে আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে পারব প্রার্থী হিসেবে।
“স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এখন মার্কার জন্য আবেদন করতে পারব, পছন্দের মার্কা ফুটবল।”
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ। আমরা এখন ফুটবল প্রতীক চেয়ে আবেদন করব। সবার সমর্থন নিয়ে লড়াই করতে পারব। সবার সাথে দেখা হবে।”
ঢাকা-৯ আসন সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানা নিয়ে গঠিত। এ আসনে এনসিপি থেকে মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, বিএনপি থেকে হাবিবুর রশিদ ও জামায়াতে ইসলামী থেকে কবির আহমদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি’র গঠনতন্ত্রের ৭ এর (খ) ৬ ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মো. নাহিদ ইসলাম
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতি পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ বলেছেন, বিএনপি সরকার প্রশাসনের সব জায়গায় দলীয়করণ করছে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একপ্রকার দলীয়করণের মাধ্যমেই দলীয় প্রার্থী দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করছেন, যেখানে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে দুপুরে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।
আজ দুপুরে জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলের বিরোধীদলীয় ঐক্যের প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। আর সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে মির্জা ফখরুলের জয় ভোট গ্রহণের আগেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতির পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের দিকেও আমরা এগোতে পারতাম। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তাঁরা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকার কোনো সংস্কার না করলেও তাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছেন। নির্বাচনটি যাতে প্রতিযোগিতামূলক হয় এবং এ প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়, সে জন্যই তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নাহিদ বলেন, বিরোধী দলের জোট থেকে প্রার্থী দিয়ে তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া সরকারি দল যেন এককভাবে তাদের দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত করতে না পারে, সে জন্যই তাঁরা প্রার্থী দিয়েছেন। জনগণের কাছে রাজনৈতিক বার্তা দিতেই তাঁদের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ।
পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থারই ধারাবাহিকতা
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন নাহিদ ইসলাম। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের অভিযোগ, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও কাজের ক্ষেত্রে আগের ব্যবস্থাই অনুসরণ করছে।
এর মাধ্যমে আবারও ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতাই বজায় থাকছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জনগণের কাছে সেই বার্তাই দিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের অধিবেশনের পরিবর্তে বৈঠক ডাকা এবং সেখানে স্পিকারের পরিবর্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্ব করার বিষয়টিও উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দল গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্র চায়-এ বার্তা দেওয়ার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ব্যালটে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে বিএনপি মুখে এক কথা বলছে, কাজে আরেকটি করছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার গণভোটের রায়, জনগণ ও গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গেও তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার সারা দেশে, প্রশাসনের সব জায়গায় দলীয়করণ করছে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একপ্রকার দলীয়করণের মাধ্যমেই দলীয় প্রার্থী দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করছেন।
নাহিদ আরও বলেন, এখানে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে সরকার আর গণতন্ত্রের পক্ষে আছে-এমনটা মনে করার সুযোগ নেই।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সারজিস আলম।
বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যরাতের আবেগঘন বিদায়ী পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ‘শেষবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ বলে বিদায় নেওয়ার কথা জানান। এর পরপরই মির্জা ফখরুলের নতুন পথচলার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্টটি দেন মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় নেতৃবৃন্দ, আজ আপনাদের থেকে সর্বশেষ বিদায় নেয়ার সময় এসেছে। আজকে শেষবারের মতো ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ বলে বিদায় নিচ্ছি।’ পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আপনাদের বিশ্বস্ত—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’
মির্জা ফখরুলের এই পোস্টের নিচে মন্তব্য করেন সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া মন্তব্যে তিনি মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়’ ও ‘সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সারজিস লেখেন, ‘সম্মানিত মহাসচিব, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপনি সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সজ্জন একজন রাজনীতিবিদ। দল-মত নির্বিশেষে আপনি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিত্ব।’
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মির্জা ফখরুলের ভূমিকার প্রশংসা করে সারজিস আলম বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে আপনার সংগ্রাম, ত্যাগ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে, দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
মির্জা ফখরুলের নতুন পথচলা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে, এমন প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাকে সম্মানিত করেছেন। আপনার এই নতুন পথচলা ভালোর জন্য হোক, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য হোক, বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য হোক।’
সবশেষে মির্জা ফখরুলের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়ে সারজিস আলম লেখেন, ‘আপনার জন্য অনেক দোয়া ও শুভকামনা।’
ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে যান দীপু মনি
কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জীবনসঙ্গী সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় আসেন। এরপর ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা স্বামীর মরদেহ দেখে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে মরদেহ গোসল ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, লিভার ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। জীবনের শেষ সময়গুলোতে তাকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হতো।
কিছুদিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ব্যারিস্টার নেওয়াজকে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার হন ডা. দীপু মনি। বর্তমানে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত মে মাসেও অসুস্থ স্বামীর পাশে থাকার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন তিনি।
ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্যিক বিরোধ ও মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ছিলেন এবং এর প্রতিষ্ঠালগ্নে ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আইন পেশার পাশাপাশি তার ক্লাসিক্যাল সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল এবং তিনি একজন ভালো বংশীবাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি বাউল সংগীত ও সংস্কৃতির ওপর লেখালেখিও করেছেন।
কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চার-পাঁচবার কেঁদে ফেলেন তিনি। স্মরণ করেন প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে।
কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। একই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেলা দুইটা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা এ বৈঠক চলে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীও মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব না বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলামের পক্ষে ভোট চান।
সংসদ সদস্যদের তিনি জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজেও ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।
চিফ হুইপের পর বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল স্মরণ করেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
তিনি আরও জানান, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।
বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার-পাঁচবার কেঁদেছিলেন মির্জা ফখরুল। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
আগামীকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলামকে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আর দেখা যাবে না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি শেষ বক্তব্য দিলেন। পরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক একটি দিন। অনেক মূল্য দিয়ে আমরা আজ এ জায়গায় এসেছি।’ এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য- এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর ধরে তিনি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি দলের হাল ধরেছেন, কখনো হাল ছাড়েননি, তাকে কারাবন্দীও করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সময়ে তাকে (তারেক রহমান) দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে এলাকায় দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনোভাবেই এ দূরত্ব সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না।
তারেক রহমান বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এ নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং। গত সংসদ নির্বাচনে অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাতে কেউ দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে না যান, সে জন্য এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে তাকে জয়ী করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে আবেগঘন বিদায় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সাংগঠনিক বার্তা- দুই মিলিয়ে বিএনপির সংসদীয় দলের এ বৈঠকে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে। এর বাহিরে কিছু হলে, বিএনপি সরকার সায় দেবে না।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্বার্থ ছাড়া ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ আমন্ত্রণ জানালে তাকে সাধুবাদ জানাবে সরকার। তবে স্বার্থ থাকলে এগোবে না বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, শর্ত দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। বাংলাদেশ সমতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়, কিন্তু কোনো শর্ত দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রতারণা, ভণ্ডামি ও মিথ্যা আশ্বাস ছিল আওয়ামী লীগের নীতি। এটাই ছিলো আওয়ামী লীগের কালচার। আর বিএনপির কালচার অঙ্গীকার রক্ষা করা, ওয়াদা রক্ষা করা।