ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তাঁরা দুজনই গ্রেপ্তার আছেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিন আসামিও পুলিশের সাবেক সদস্য। তাঁরা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তাঁরা সবাই পলাতক।
সাবেক ভিসিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
এই মামলার মোট আসামি ৩০ জন। বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার আছেন।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দুজনই পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমানকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাফিউল গ্রেপ্তার আছেন। হাফিজুর রহমান বর্তমানে পলাতক।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডলকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক নিরাপত্তাপ্রহরী নুর আলম মিয়াকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই পলাতক।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনিও গ্রেপ্তার আছেন। রায়ে বলা হয়েছে, তাঁর হাজতবাসকালীন সময়কে সাজার মেয়াদ গণ্য করে দণ্ডাদেশ প্রদান করা হলো। অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে তাঁর সাজার মেয়াদ সমাপ্ত হয়েছে বিবেচনায় তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদানের জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।
আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দুজনই পলাতক।
এই মামলার আসামি পলাতক চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।
ছবি : সংগৃহীত
১৬৫ সিসির ওপরের সকল মোটরসাইকেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯- থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়েছে, ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বে সকল প্রকার মোটরসাইকেল আমদানি নিষিদ্ধ, তবে পুলিশ বিভাগের ক্ষেত্রে ১৬৫ সিসির ঊর্ধ্বসীমার এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত শিল্প প্রতিষ্ঠান ৫০০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ আমদানি করতে পারবে।
এর আগের আমদানি নীতিতে (২০২১-২০২৪) সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধি-নিষেধ ছিল।
আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯
ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বঙ্গভবনে গেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির এটাই প্রথম সাক্ষাৎ।
আজ বৃহস্পতিবারের এ সাক্ষাতে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন।
গেল ২০ অগাস্ট সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হন; পরদিন ২১ অগাস্ট সন্ধ্যায় শপথ নিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।
এদিকে বর্তমান ইসি নিয়োগ পায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। ২০২৫ সালে ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে ভোটের আগে সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে এই কমিশন।
এ ইসির অধীনে ত্রয়োদশ ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছে; এরপর মে সাসে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট হয়েছে। সবশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে ইসি।
সাংবিধানিক সংস্থাটির দায়িত্ব পেয়েই ভোটার তালিকা, সীমানা নির্ধারণ, সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ করেছে ইতোমধ্যে। সামনে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, “বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটা আমাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ। নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে তিনি আমাদের কাছে হয়ত জানতে চাইবেন; আমরা কাযক্রম অবহিত করব।”
নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইতোমধ্যে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করেছেন তিনবাহিনী প্রধান ও প্রধান বিচারপতি। এবার নির্বাচন কমিশনের সাক্ষাৎ হচ্ছে।
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের নতুন এমডি মেহের সুলতানা
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন মিসেস মেহের সুলতানা। এর আগে তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খুব শিগগিরই মেহের সুলতানার নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
মেহের সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে কাজ করছেন। কর্মসংস্থান ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন) পদে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মেহের সুলতানা। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়।
বিএইচবিএফসিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এবং সদর দপ্তরের বিভিন্ন বিভাগে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
এ ছাড়া কর্মজীবনে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন মেহের সুলতানা।
দেশের আবাসন খাতে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (স্ট্যান্ডার্ড) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা, বাঘাবাড়ী ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এ নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্যের জন্য দেওয়া বিএসটিআইয়ের দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের পরামর্শও দিয়েছে বিএসটিআই। আজ বুধবার বিএসটিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএসটিআই নিয়মিত পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া যায়। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের পাওয়া যায়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ীর ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন ও বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়: বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালাভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা মান উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ী প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।
বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল ঠেকাতে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।
পণ্য কেনার আগে ক্রেতাসাধারণকে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক। একই সঙ্গে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা ১৬১১৯ নম্বরে অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানাতে অনুরোধ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
পুলিশ বাহিনীকে ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় প্রয়োজন, এ জন্য দেশের সব নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা এবং সরকারের তৎপরতা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি, যেটির বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এসময় তিনি সাম্প্রতিক রংপুরের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে জানান, ওই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে। তারা জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে এ পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দলের শীর্ষ নেতাসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক জোট ‘মক্কা চুক্তিতে’ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিকে বড় ধরনের পরীক্ষায় ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি কেবল ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য বৃহৎ পরাশক্তির সঙ্গেও সম্পর্কের সমীকরণ জটিল করে তুলতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সোমবার ওই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমরা মক্কা নিয়ে তো সবসময় আলাদা একটা জায়গা, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় একটা যদি হয়, যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে তো অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।”
তবে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি শুধু একটি নতুন নিরাপত্তা জোটে অংশ নেওয়ার প্রশ্ন নয়; বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে এর সামঞ্জস্য, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে।
বাংলাদেশ মূলত বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী ভূ-রাজনৈতিক বলয় এড়িয়ে চলার নীতি মেনে চলে। দেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, যার প্রধান বাজার যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়, যার বড় অংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সামরিক জোটে যোগ দিলে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলার নীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
কী এই মক্কা চুক্তি
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় গত ৭ অগাস্ট এ চুক্তিতে সই করে সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তিন দেশ-সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।
নেটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং অঞ্চলজুড়ে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এ জোট গড়া হয়েছে।
নেটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর দেশ তুরস্কের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব এই চুক্তিতে রয়েছে। তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি অন্য দেশের জন্যও উন্মুক্ত।
চুক্তির ঘোষণায় সদস্য দেশগুলো নিজেদের যৌথ নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিজেদের অঞ্চল ও অঞ্চলের বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগে যৌথভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়েও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে দেশ তিনটি। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার মধ্যে ২৭ অগাস্ট জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় ওআইসির মন্ত্রী পর্যায়ের জরুরি সভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।
কী বলছেন বিশ্লেষকরা?
বিশ্লেষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে। বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বাড়ানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ এতদিন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক শিবিরে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার চেষ্টা করেছে। সামরিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়ার মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সামরিক জোটের সদস্য হলে তা শুধু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেই নয়, বরং চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, "সম্পর্কগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে না ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশ একবার কোনো সামরিক ব্লকে যোগ দিলে, তারা কোন পক্ষে আছে-সেই প্রশ্নটি এড়ানো তখন অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।"
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়টি। তারেক রহমানের সরকার দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে টানাপড়েন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সম্প্রতি জানিয়েছেন, তারেক রহমান ভারত সফর করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার করা অনুরোধের জবাবে নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা গত ৫ অগাস্ট নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।
মক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা কোনো নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নয়াদিল্লি সহজভাবে নাও নিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বিবেচনা করতে হবে ঢাকাকে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান।
তিনি মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে যুক্ত হওয়ার ধারণা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, এই অর্থনীতি বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ যদি এই জোটে যোগ দেয়, তবে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ খুশি হবে না। তবে, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি কেবল সেটি হওয়া উচিত নয়।"