গ্রামীণ সড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে ভিআইপি গাড়ি। সামনে পিছনে নেই গতানুগতিক মোটরসাইকেলের বহর। মাঝপথে হঠাৎই থেমে গেলে গাড়ি। খুলে গেল গাড়ির দরজা। ভিতর থেকে নেমে এলেন নেতা। ধান কাটার ভরা মওসুম তখন। মাঠে কাজ করছেন একদল কিষাণ-কিষাণী। এক পা, দু’পা করে তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন নেতা। কামলারা ভয় পেলেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তারা। নেতা তাদের একদম কাছে গিয়ে তাদের ভঙ্গিমায় তাদের ভাষায় সালাম দিলেন (গড় লাগি)। কুশল জিজ্ঞাসা করলেন। সুখ দু:খের কথাও শুনলেন। আনন্দে অভিভূত হয়ে পড়লেন তারা। অভিভূত হলেন উপস্থিত অন্যরাও। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর মাঠের কাহিনী এটি। আর নেতা হলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের নবনির্বাচিত এমপি ফজলে হুদা বাবুল।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই, কৃষকের ঘামেই দেশের সমৃদ্ধি।”
তার ভাষায়, বিএনপি মাঠে ঘাটে কৃষকের মাঝে, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশনেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা। জনসেবাই রাজনীতি। বিএনপি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে চলছে। সাধারণ মানুষের ভালবাসাই বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি। মাঠের ঘামে যে মানুষ দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে, সেই কৃষকের সম্মানেই গড়ে উঠবে নতুন নওগাঁ, নতুন বাংলাদেশ। কৃষকের হাসি মানেই দেশের সমৃদ্ধি।
নওগাঁ-৩ থেকে শুরু হোক উন্নয়ন, মানবতা আর ভালোবাসার নতুন ইতিহাস। এমপি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “আদিবাসীদের জন্য আমি দুই উপজেলায় দুইটা প্রতিষ্ঠান করতে চাই, আদিবাসীদের সংস্কৃতি ধারণ করার জন্য এবং সংরক্ষণ করার জন্য।”
প্রতিবছরের মত চলতি ইরি বোরো মওসুমেও ধান কাটা শ্রমিকের দারুণ সংকট দেখা দেয়। গত ১৬ মে এমপি ফজলে হুদা বাবুল নিজে নেতাকর্মীদের নিয়ে দু:স্থ কৃষকের ধান কেটে দেন। শুধুমাত্র ফটো সেশনের জন্য নয়, বরং লুঙ্গি পড়ে, গামছা লাগিয়ে, কাস্তে হাতে দিনভর অন্যদের সাথে ধান কেটেছেন তিনি। মাঠে বসে পান্তা খেয়েছেন সবার সাথে। কাটার পর মাড়াই। তারপর বস্তায় ভরে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। পরে তার নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে অব্যাহত রেখেছিলেন সে ধান কাটা। এছাড়া তার নির্দেশে নেতারা মাঠের পরে মাঠ পেরিয়ে তপ্ত রৌদ্রে দগ্ধ ধান কাটা শ্রমিকদের পাশে গিয়ে তাদের ঠান্ডা পানি আর খাবার বিতরণ করেছেন।
নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পরপরই তিনি দুই উপজেলার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রতিদিন। গেছেন মাটি ও মানুষের গভীরে, সাধারণ জনতার কাতারে। খেটে খাওয়া মানুষের সাথে দারুণ সখ্য গড়ে তুলেছেন। শুনেছেন তাদের দু:খ গাথা, সহযোগিতা করেছেন বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত ফিরে আসেন তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটারদের মাঝে। ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি যান মহাদেবপুর উপজেলার নুরপুর মধ্যপাড়া আদিবাসী পাড়ায়। গতবছর ৩১ জানুয়ারি সড়ক দূর্ঘটনায় এই গ্রামের একই পরিবারের চার জনসহ মোট পাঁচ জন নিহত হয়েছিলেন। এমপি ফজলে হুদা বাবুল সেখানে গিয়ে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। দুর্ঘটনার সময়ও তিনি সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জ্ঞাপন করেছিলেন। কিন্তু আচরণবিধি ভঙ্গ হতে পারে এই আশঙ্কায় তখন তাদের আর্থিক সহযোগিতা করতে পারেননি। এসময় তিনি উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের দু:স্থদের মধ্যে দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করেন। এগুলোও আচরণবিধির কারণে আগে বিতরণ করতে পারেননি। গত ১৭ বছর তিনি বিভিন্ন সময় দু:স্থদের মধ্যে কয়েক হাজার শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেছেন। সম্পূর্ণ নিজের অর্থে। নির্বাচিত হবার পর সরকারি অনুদান আসে। কিন্তু অল্প। তিনি নিজ তহবিল থেকে আরো কম্বল, শাড়ি, লুঙ্গি, ঢেউ টিন কিনে এবং বিভিন্ন দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ টাকা বিতরণ করেছেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং নিজ তহবিল থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৪ মার্চ তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে গিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন ক্যানসার আক্রান্ত তার বাল্যবন্ধু এস, এম, জার্জিস আলম চপলের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। ২২ মে বদলগাছীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম ও শিক্ষার্থী তাসনিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
আনুষ্ঠানিকভাবে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা রাজনৈতিক রেওয়াজ। আন্দোলনের দিনগুলিতে তিনি দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে পৃথক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় গত ১৪ মার্চ তিনি মহাদেবপুর উপজেলার শিবপুর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘসময় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাথে কাটান, তাদের খোঁজ খবর নেন, সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন, তাদের সাথে ইফতার করেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
১৪ মার্চ তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে নিজে ঝাড়ু হাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, আশেপাশের রাস্তা, ড্রেন পরিষ্কার করেন। মহাদেবপুরেও অনুরুপ কর্মসূচি পালন করা হয়।
১৪ মার্চ তিনি বদলগাছীতে একটি অনুষ্ঠানে যান তার গাড়িবহর রেখে, একটি ভ্যানগাড়িতে চেপে। তার এসব কর্মকান্ড সরকারি দায়িত্বের মধ্যে নয়। কিন্তু একের পর এক তার এসব চমক লাগানো কর্মকান্ড তাকে একজন মানবিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি এখন দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা।
শিক্ষার্থীকে কলার ধরে মারতে মারতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসা হয়।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার বিহারী লাল মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে দ্বিতীয় তলা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রহমত ইসলাম শৌচাগার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফেরার পথে বিএসসি শিক্ষক শাহ আলম তাকে বাইরে যাওয়ার কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার কলার ধরে মারতে মারতে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসা হয় বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় আকস্মিক আঘাত ও আতঙ্কে শিক্ষার্থী রহমত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিষয়টি সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায়।
খবর পেয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দ্রুত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়।
সমঝোতা অনুযায়ী, আহত শিক্ষার্থী রহমতের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাকে নতুন পোশাক দেওয়া হবে। এছাড়া তার ফরম পূরণসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ প্রধান শিক্ষক বহন করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমতিক্রমে বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটকের পর দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাস ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ১০টি বাসে। গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোতোয়ালি থানার সামনে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে চারজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটক করেছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবাদে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সামনের সড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস রেখে অবরোধ করে শ্রমিকদের একটি অংশ। পরে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন। এসময় দুটি বাসে ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় কড়া পুলিশ পাহারায় শেখ বাদশাকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে আবারও কড়া নিরাপত্তায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুর ইউনিয়নের গাবুড়া বাজার থেকে শেখ বাদশাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আটকের প্রতিবাদে রাত ১১টা থেকে কোতোয়ালি থানা থানার সামনে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করা হয়। পরে রাত থেকে শেখ বাদশাকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে শ্রমিকদের একটি অংশ। এতে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে আন্তঃজেলার সব রুট ও ঢাকাগামী বাস চলাছল বন্ধ। বাস বন্ধের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রমিকদের আরেকটি অংশ থানার সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন।
বিকেল ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তদের একটি দল থানার সামনে এসে অবস্থান নিলে শ্রমিকদের সঙ্গে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ৬-৭ জন আহত হন। এসময় থানার সামনে ব্যারিকেড দেওয়া এস আর পরিবহনের একটি নৈশকোচ, এইচএ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাস ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসনের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়। এসময় পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন শেখ বাদশা। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা। তাকে ওই মামলাগুলোতে কোর্টে চালান দিলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর মোটরপরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল।
সিলেট নগরির শাহপরাণে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে সন্দেহের বশে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ডাকা সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
কমিশনার বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া জালালের সঙ্গে রেহানা পারভীন নামের এক নারীর প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল, যা বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর কথা ছিল। তবে গত প্রায় তিন মাস ধরে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে জালালের সন্দেহ হয়, রেহানা তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছেন। শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে রেহানার নিয়মিত কথাবার্তা ও হাসিঠাট্টা হতো জেনে জালাল সন্দেহ করেন, সম্পর্কটি সেদিকেই মোড় নিচ্ছে কি না। এই সন্দেহ থেকেই তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানান কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে, তবে বিষয়টি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাইরে অন্য কোনো কারণ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, স্থানীয় একজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহত শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরাণ এলাকায় থাকতেন এবং চারখাই বাজারে তাঁর ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা; এক ছেলে থাকেন ফ্রান্সে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরাণ মাজার এলাকা থেকে জালালকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।ময়না তদন্ত শেষে গত বুধবার দুপুরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বাদ আসর জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আবাসন চাহিদা পূরণে সিলেট-তামাবিল বাইপাস সড়ক এলাকায় আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে সিলেট তামাবিল বাইপাস এলাকায় প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রস্তাবিত এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং আবাসন প্রকল্পের জন্য জায়গাটির সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ও নিরাপদ আবাসনের প্রত্যাশা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সিলেটে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর বসবাস ও বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি পরিকল্পিত শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, সিলেটে যেহেতু প্রচুর প্রবাসী আছেন, তাদের জন্য একটি পরিকল্পিত শহর গড়তে চাই। এজন্য উপযুক্ত জায়গা সিলেটের কোথায় কোথায় রয়েছে, তা আমরা খুঁজে দেখছি।তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একটি স্মার্ট সিটির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রেখে একটি স্মার্ট সিটিতে যা যা প্রয়োজন, আমরা তা করার উদ্যোগ নেব।
এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা ফেরদৌসী বেগম, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সিলেটের প্রকৌশলী নাজমুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫শ টাকা নির্ধারণ,অবিলম্বে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনসহ চার দাবিতে ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতি শুরু করছেন সিলেটের ২৩ টি বাগানের চা শ্রমিকরা। বুধবার এ কর্মবিরতি শুরু হয়। যা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল।
শ্রমিকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। চা শ্রমিকদের আরও দুই দাবি হচ্ছে- গেজেট-২০২৩ বাতিল এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা।প্রায় ১মাস ধরে চা শ্রমিকরা ৫শ টাকা মজুরি, ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং ভূমি অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন।
কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বুধবার থেকে সিলেট ভ্যালির প্রতিটি বাগানে ২ঘন্টা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি শুরু করেন তারা। এর আগে গত ৯ আগস্ট চার দফা দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন চা শ্রমিকরা।সেদিন দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে চা শ্রমিকরা প্রশাসনকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগী না হলে সিলেটের ২৩টি বাগানের শ্রমিকরা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে দাবি আদায় না হওয়ায় দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি শুরু করেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।
বুধবার থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। যা সকাল ৯টা থেকে ১১ টা চলে। মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান, খাদিমসহ সিলেট ভ্যালির সব বাগানেই কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিক ও চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক জানান, বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭টাকা। আজকের দিনে এই মজুরি দিয়ে কোন ভাবেই একটি পরিবার দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে চলতে পারে না। তাই দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবিসহ চার দফ দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা। এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দালন চলবে।বুরজান চা বাগানের শ্রমিক সাইদুল রহমান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় অনেক বাগানে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কমিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত প্রদানের দাবি আমাদের।লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিক রঘু দাস জানান, এখন আমরা প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হলে টানা কর্মবিরতি শুরু হবে।
এ ব্যাপােরে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শ্রমিকদের স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। নির্বাচনটি আয়োজন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচনের আয়োজন করবে।
এদিকে, গত ১৪ আগস্ট দাবি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।সাক্ষাৎকালে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ শ্রমিকের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত ৮ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
এসময় মন্ত্রী আরিফুল হক জানান, চা বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হবে। ওই টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পঞ্চগড়ের বোদা পৌর এলাকার নাজিরপাড়া গ্রামে মানুষ নয়, যেন পাখিরাই রাজা। ভোরের আলো ফুটতেই শত শত পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীর। গাছের ডালে ডালে অসংখ্য বাসা, বাসায় থাকা ছানা আর খাবারের সন্ধানে ব্যস্ত মা পাখিদের উড়াউড়িতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর বংশবিস্তারের জন্য নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে নাজিরপাড়াকে। জুন-জুলাই মাসে পাখিরা এখানে এসে গাছের ডালে বাসা বাঁধে, ডিম দেয় এবং ছানা ফোটায়। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস অবস্থানের পর নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে বংশবিস্তার শেষ হলে তারা নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরপাড়ার বড় বড় গাছজুড়ে অসংখ্য পাখির বাসা। শামুকখোল, বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ চোখে পড়ে। কোনো গাছে সদ্য ফোটা ছানা মাথা উঁচু করে বসে আছে, আবার কোথাও মা পাখি ছানার মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখির কলকাকলি ও ডানা ঝাপটানোর শব্দে প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা।
পাখিদের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী, দর্শনার্থী ও আলোকচিত্রীদের আগমন ঘটে। অনেকেই পাখির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান আজাদ বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রতিবছরই এসব পাখি নাজিরপাড়ায় আসে। শামুকখোলের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি ও রাতচরা পাখিও রয়েছে। বাইরে থেকে কেউ পাখি শিকার করতে এলেও গ্রামের তরুণ ও অভিভাবকেরা মিলে তা প্রতিহত করেন। নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ায় পাখিগুলো প্রতিবছরই এখানে ফিরে আসে।
তিনি আরও বলেন, সকালে পাখির ডাকেই ঘুম ভাঙে। তবে পাখির মলমূত্রে রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়। পৌরসভা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয়দের ভোগান্তি কমবে।
আরেক বাসিন্দা তমিজদার রহমান খোকা বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে নাজিরপাড়ায় শামুকখোল, পানকৌড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির বক আসছে। এসব পাখি দেখতে সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে আসেন। গ্রামের মানুষ কোনোভাবেই পাখি শিকার করতে দেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুল আলম বলেন, এই পাখির কারণেই নাজিরপাড়া আজ পরিচিতি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পাখি দেখতে এখানে আসেন। পাখির মলমূত্রের কারণে কিছুটা অসুবিধা হলেও গ্রামের মানুষ তা মেনে নিয়েছেন। তবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ নিয়মিত পাখিদের খাবারও দেন।
নাজিরপাড়ার এই পাখির আবাসস্থল শুধু স্থানীয়দের বিনোদনের জায়গা নয়, এটি পঞ্চগড়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যেরও এক অনন্য সম্পদ। স্থানীয়দের সচেতনতা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে নাজিরপাড়ার এই ঐতিহ্য টিকে থাকবে।