চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫শ টাকা নির্ধারণ,অবিলম্বে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনসহ চার দাবিতে ২ ঘন্টা করে কর্মবিরতি শুরু করছেন সিলেটের ২৩ টি বাগানের চা শ্রমিকরা। বুধবার এ কর্মবিরতি শুরু হয়। যা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল।
শ্রমিকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। চা শ্রমিকদের আরও দুই দাবি হচ্ছে- গেজেট-২০২৩ বাতিল এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা।প্রায় ১মাস ধরে চা শ্রমিকরা ৫শ টাকা মজুরি, ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং ভূমি অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন।
কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বুধবার থেকে সিলেট ভ্যালির প্রতিটি বাগানে ২ঘন্টা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি শুরু করেন তারা। এর আগে গত ৯ আগস্ট চার দফা দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন চা শ্রমিকরা।সেদিন দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে চা শ্রমিকরা প্রশাসনকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগী না হলে সিলেটের ২৩টি বাগানের শ্রমিকরা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে দাবি আদায় না হওয়ায় দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি শুরু করেছেন বলে জানান শ্রমিকরা।
বুধবার থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। যা সকাল ৯টা থেকে ১১ টা চলে। মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান, খাদিমসহ সিলেট ভ্যালির সব বাগানেই কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিক ও চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক জানান, বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭টাকা। আজকের দিনে এই মজুরি দিয়ে কোন ভাবেই একটি পরিবার দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে চলতে পারে না। তাই দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবিসহ চার দফ দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকরা। এসব দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দালন চলবে।বুরজান চা বাগানের শ্রমিক সাইদুল রহমান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় অনেক বাগানে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কমিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দ্রুত প্রদানের দাবি আমাদের।লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিক রঘু দাস জানান, এখন আমরা প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হলে টানা কর্মবিরতি শুরু হবে।
এ ব্যাপােরে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শ্রমিকদের স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। নির্বাচনটি আয়োজন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচনের আয়োজন করবে।
এদিকে, গত ১৪ আগস্ট দাবি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।সাক্ষাৎকালে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ শ্রমিকের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত ৮ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
এসময় মন্ত্রী আরিফুল হক জানান, চা বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হবে। ওই টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটকের পর দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাস ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ১০টি বাসে। গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোতোয়ালি থানার সামনে এসব ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে চারজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটক করেছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবাদে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সামনের সড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস রেখে অবরোধ করে শ্রমিকদের একটি অংশ। পরে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন। এসময় দুটি বাসে ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় কড়া পুলিশ পাহারায় শেখ বাদশাকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে আবারও কড়া নিরাপত্তায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখপুর ইউনিয়নের গাবুড়া বাজার থেকে শেখ বাদশাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আটকের প্রতিবাদে রাত ১১টা থেকে কোতোয়ালি থানা থানার সামনে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করা হয়। পরে রাত থেকে শেখ বাদশাকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে শ্রমিকদের একটি অংশ। এতে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে আন্তঃজেলার সব রুট ও ঢাকাগামী বাস চলাছল বন্ধ। বাস বন্ধের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রমিকদের আরেকটি অংশ থানার সামনে এসে অবস্থান নেয়। পরে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হন।
বিকেল ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুর্বৃত্তদের একটি দল থানার সামনে এসে অবস্থান নিলে শ্রমিকদের সঙ্গে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ৬-৭ জন আহত হন। এসময় থানার সামনে ব্যারিকেড দেওয়া এস আর পরিবহনের একটি নৈশকোচ, এইচএ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাস ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসনের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়। এসময় পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন শেখ বাদশা। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা। তাকে ওই মামলাগুলোতে কোর্টে চালান দিলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর মোটরপরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল।
সিলেট নগরির শাহপরাণে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে সন্দেহের বশে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ডাকা সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
কমিশনার বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া জালালের সঙ্গে রেহানা পারভীন নামের এক নারীর প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল, যা বিয়ে পর্যন্ত গড়ানোর কথা ছিল। তবে গত প্রায় তিন মাস ধরে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে জালালের সন্দেহ হয়, রেহানা তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছেন। শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে রেহানার নিয়মিত কথাবার্তা ও হাসিঠাট্টা হতো জেনে জালাল সন্দেহ করেন, সম্পর্কটি সেদিকেই মোড় নিচ্ছে কি না। এই সন্দেহ থেকেই তিনি শাহাব উদ্দিনকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানান কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে, তবে বিষয়টি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর বাইরে অন্য কোনো কারণ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, স্থানীয় একজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহত শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরাণ এলাকায় থাকতেন এবং চারখাই বাজারে তাঁর ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা; এক ছেলে থাকেন ফ্রান্সে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরাণ মাজার এলাকা থেকে জালালকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।ময়না তদন্ত শেষে গত বুধবার দুপুরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বাদ আসর জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের আবাসন চাহিদা পূরণে সিলেট-তামাবিল বাইপাস সড়ক এলাকায় আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে সিলেট তামাবিল বাইপাস এলাকায় প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রস্তাবিত এলাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং আবাসন প্রকল্পের জন্য জায়গাটির সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ও নিরাপদ আবাসনের প্রত্যাশা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সিলেটে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর বসবাস ও বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি পরিকল্পিত শহর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, সিলেটে যেহেতু প্রচুর প্রবাসী আছেন, তাদের জন্য একটি পরিকল্পিত শহর গড়তে চাই। এজন্য উপযুক্ত জায়গা সিলেটের কোথায় কোথায় রয়েছে, তা আমরা খুঁজে দেখছি।তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একটি স্মার্ট সিটির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রেখে একটি স্মার্ট সিটিতে যা যা প্রয়োজন, আমরা তা করার উদ্যোগ নেব।
এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা ফেরদৌসী বেগম, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সিলেটের প্রকৌশলী নাজমুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়ের বোদা পৌর এলাকার নাজিরপাড়া গ্রামে মানুষ নয়, যেন পাখিরাই রাজা। ভোরের আলো ফুটতেই শত শত পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীর। গাছের ডালে ডালে অসংখ্য বাসা, বাসায় থাকা ছানা আর খাবারের সন্ধানে ব্যস্ত মা পাখিদের উড়াউড়িতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর বংশবিস্তারের জন্য নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে নাজিরপাড়াকে। জুন-জুলাই মাসে পাখিরা এখানে এসে গাছের ডালে বাসা বাঁধে, ডিম দেয় এবং ছানা ফোটায়। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস অবস্থানের পর নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে বংশবিস্তার শেষ হলে তারা নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরপাড়ার বড় বড় গাছজুড়ে অসংখ্য পাখির বাসা। শামুকখোল, বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ চোখে পড়ে। কোনো গাছে সদ্য ফোটা ছানা মাথা উঁচু করে বসে আছে, আবার কোথাও মা পাখি ছানার মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখির কলকাকলি ও ডানা ঝাপটানোর শব্দে প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা।
পাখিদের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী, দর্শনার্থী ও আলোকচিত্রীদের আগমন ঘটে। অনেকেই পাখির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান আজাদ বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রতিবছরই এসব পাখি নাজিরপাড়ায় আসে। শামুকখোলের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি ও রাতচরা পাখিও রয়েছে। বাইরে থেকে কেউ পাখি শিকার করতে এলেও গ্রামের তরুণ ও অভিভাবকেরা মিলে তা প্রতিহত করেন। নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ায় পাখিগুলো প্রতিবছরই এখানে ফিরে আসে।
তিনি আরও বলেন, সকালে পাখির ডাকেই ঘুম ভাঙে। তবে পাখির মলমূত্রে রাস্তা ও আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়। পৌরসভা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর ব্যবস্থা করা হলে স্থানীয়দের ভোগান্তি কমবে।
আরেক বাসিন্দা তমিজদার রহমান খোকা বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে নাজিরপাড়ায় শামুকখোল, পানকৌড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির বক আসছে। এসব পাখি দেখতে সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে আসেন। গ্রামের মানুষ কোনোভাবেই পাখি শিকার করতে দেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুল আলম বলেন, এই পাখির কারণেই নাজিরপাড়া আজ পরিচিতি পেয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পাখি দেখতে এখানে আসেন। পাখির মলমূত্রের কারণে কিছুটা অসুবিধা হলেও গ্রামের মানুষ তা মেনে নিয়েছেন। তবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। গ্রামের মানুষ নিয়মিত পাখিদের খাবারও দেন।
নাজিরপাড়ার এই পাখির আবাসস্থল শুধু স্থানীয়দের বিনোদনের জায়গা নয়, এটি পঞ্চগড়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যেরও এক অনন্য সম্পদ। স্থানীয়দের সচেতনতা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে নাজিরপাড়ার এই ঐতিহ্য টিকে থাকবে।
শামসুল আলম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. নূর আলম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৭ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নূর আলম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হাজীপাড়া-শিলুলতলা এলাকার মো. সুফিয়ার রহমানের ছেলে। ডিবি পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ক্যাসিনো সংক্রান্ত ২০টি অ্যাপ পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নূর আলমের বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় এর আগে তাকে রংপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, নূর আলম রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও এলাকায় অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইসলাহুল উম্মাহ শব্দ দুটির মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে একটি বৃহৎ স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। ইসলামী আদর্শে সমৃদ্ধ, আধুনিক শিক্ষাচিন্তায় আলোকিত এবং শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে নিবেদিত একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে পাবনার ইসলাহুল উম্মাহ একাডেমি। পাবনা জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলহেরা একাডেমির শিক্ষা-দর্শন ও অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে শিশুদের জন্য তৈরি করছে জ্ঞান, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার সমন্বিত এক শিক্ষাভুবন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করতে পড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের নির্বাচিত আরবি বই। ফলে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের পাশাপাশি শ্রেণিভিত্তিক কোরআন-হাদিসের পাঠও গ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। তবে ইসলাহুল উম্মাহর শিক্ষা-পরিকল্পনা শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়।
শিশুর কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, চোখে স্বপ্ন আর মনে সৃজনশীলতার আলো জ্বালাতে সিলেবাসে যুক্ত হয়েছে ড্রয়িং ও ক্যালিগ্রাফি, স্পোকেন ইংলিশ, স্পোকেন অ্যারাবিক, আবৃত্তি, অভিনয় ও বিতর্কের মতো নানা সহশিক্ষা কার্যক্রম। অর্থাৎ এখানে শিক্ষা কেবল পরীক্ষার খাতায় নম্বর পাওয়ার বিষয় নয়; বরং শিক্ষা হয়ে উঠছে নিজেকে আবিষ্কার করার, ভাবতে শেখার এবং প্রকাশ করতে শেখার এক আনন্দময় অভিযাত্রা।
ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার ও দেয়ালিকা নতুন এক মাইলফলক
সম্প্রতি ইসলাহুল উম্মাহ একাডেমির প্রাঙ্গণে যুক্ত হয়েছে আরও একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার ও দেয়ালিকা’।
প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই বাম পাশে সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির একটি বুকশেলফ। তার পাশেই দেয়ালিকা। ওপরে বড় ও স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ‘ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার ও দেয়ালিকা’।
প্রথম দেখাতেই যে বিষয়টি নজর কাড়ে, তা হলো এটি কোনো বদ্ধ কক্ষের পাঠাগার নয় বরং উন্মুক্ত আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে রাখা একটি মুক্ত জ্ঞানভাণ্ডার।
কেন এমন আয়োজন?
ইসলাহুল উম্মাহ কর্তৃপক্ষের ভাবনাটি বেশ গভীর। তাঁদের মতে, শিশুকে সত্যিকার অর্থে মুক্তমনা ও জ্ঞানপিপাসু করে গড়ে তুলতে হলে তার জ্ঞানের পরিধিকে পাঠ্যবইয়ের সীমারেখার মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি শিশুকে জানতে হবে পৃথিবীর নানা গল্প, ইতিহাস ও ঐতিহ্য; পড়তে হবে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি, গল্প, কবিতা ও উপন্যাস। পাঠ্যবই তাকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করবে, আর বিস্তৃত পাঠ তাকে প্রস্তুত করবে জীবনকে বোঝার জন্য।
সেই দর্শন থেকেই পাঠাগারটি কোনো নির্দিষ্ট কক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে রাখা হয়েছে উন্মুক্ত পরিসরে। যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পছন্দের বই হাতে তুলে নিতে পারে, ইচ্ছেমতো পড়তে পারে, বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, সুযোগ থাকছে অভিভাবকদেরও এখান থেকে বই নিয়ে পড়ার।
দেয়ালিকায় শিশুদের স্বপ্নের রঙ
মুক্তপাঠাগারের পাশের দেয়ালিকাটিও কম আকর্ষণীয় নয়। সেখানে স্থান পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে আঁকা ছবি, ক্যালিগ্রাফি, ছড়া ও কবিতা। ফলে দেয়ালিকাটি নিছক প্রদর্শনীর স্থান নয়; এটি শিশুদের ভাবনা, কল্পনা ও সৃজনশীলতার এক জীবন্ত আয়না।
শিশুরা এখানে শুধু বই পড়বে না, নিজেরাও হয়ে উঠবে সৃষ্টিশীলতার অংশীদার এটাই যেন এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর দিক।
উদ্বোধনে পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক
বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার ও দেয়ালিকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও প্রধান শিক্ষক।
ইসলাহুল উম্মাহ পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বপরিচালক ডা. কোরবান আলী, মারুফ হোসেন চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম রনু, সাকির হোসেন ও সাইদুল ইসলাম, ফিরোজ আহমেদ ও সাদ বিন আব্দুর রউফ বলেন, ইসলাহুল উম্মাহর শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁদের স্বপ্নের কোনো শেষ নেই। শিশুদের প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করতে এবং তাদের একটি আলোকিত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতেই একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও ইসলাহুল উম্মাহ থেকে আরও নতুন ও চমকপ্রদ উদ্যোগ আসবে বলে তাঁরা জানান।
প্রধান শিক্ষক সৈয়দা ইসমাত আরা বলেন, শুধু বই পড়ানোই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাসকে আরও গভীর ও আনন্দময় করে তুলতে নিয়মিতভাবে ‘সেরা পাঠক’ নির্বাচন করা হবে। প্রতি তিন মাস পরপর আয়োজন করা হবে পাঠক সম্মেলন। সেখানে দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও লেখকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সেরা পাঠকদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এক হাজার বই নিয়ে যাত্রা
প্রায় এক হাজার বই নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার। সংখ্যার বিচারে এটি হয়তো একটি পাঠাগারের সূচনা মাত্র কিন্তু ভাবনার বিচারে এটি যেন একটি বড় স্বপ্নের প্রথম অধ্যায়।
কারণ একটি শিশুর হাতে যখন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্পের বই ওঠে, তখন তার কল্পনার জানালা খুলে যায়। ইতিহাসের বই তাকে অতীতের সঙ্গে পরিচয় করায়, বিজ্ঞান তাকে প্রশ্ন করতে শেখায়, কবিতা তার অনুভূতিকে স্পর্শ করে, আর উপন্যাস তাকে মানুষের জীবন ও সমাজকে ভিন্ন চোখে দেখতে শেখায়।
ইসলাহুল উম্মাহ সেই জানালাগুলোই একে একে খুলে দিতে চাইছে।
আদর্শ ও আধুনিকতার সমন্বয়, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতার সহাবস্থান, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি মুক্তপাঠ সব মিলিয়ে ইসলাহুল উম্মাহ যেন শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি স্বপ্নের কর্মশালা।
যেখানে শিশুরা শুধু ‘ভালো ছাত্র’ হওয়ার জন্য নয়, বরং ভালো মানুষ, সৃজনশীল মানুষ এবং আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠার জন্য শিক্ষা নেবে।
আর সীমানাপ্রাচীরের পাশে উন্মুক্ত সেই বুকশেলফটি যেন প্রতিদিন নীরবে বলে যাবে জ্ঞানকে কখনো চার দেয়ালে বন্দী করা যায় না একটি বই খুললেই খুলে যায় আরও একটি পৃথিবী।