সংগৃহীত ছবি
আর এক সপ্তাহ পরে বয়স হবে ৩৯। বেশির ভাগ ফুটবলারের ক্যারিয়ারের এপিটাফ লেখা হয়ে যায় এর অনেক আগেই। কিন্তু নামটি যখন লিওনেল মেসি, সাধারণ হিসাবের গণ্ডিতে তো তাকে আটকে রাখা যায় না! এই বয়সেও নতুন ইতিহাস লিখলেন তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক উপহার দিয়ে। বিশ্বকাপ ইতিহাসেও গোলের তালিকায় পৌঁছে গেলেন চূড়ায়। অধিনায়কের অবিস্মরণীয় দিনটিতে বড় জয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারাল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ক্যানসাস সিটিতে ম্যাচের সপ্তদশ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। ৬০তম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলকিপার লুকা জিদানের উপহার লুফে নিয়ে তিনি ব্যবধান বাড়ান। ৭৬তম মিনিটে আরেকটি দারুণ গোলে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।
এ দিন মাঠে নেমেই ইতিহাসে নাম লেখা হয়ে যায় তার। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার তিনিই। আর্জেন্টিনার প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছুঁয়ে ফেলেন ম্যাচ খেলার ডাবল সেঞ্চুরিও। পরে উপলক্ষটি রাঙান তিনি ঐন্দ্রজালিক পারফরম্যান্সে।
১৬ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় স্পর্শ করলেন তিনি সাবেক জার্মান ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসাকে।
২০০৬ সালের ১৬ জুন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরার হয়েছিলেন তিনি ১৮ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে গোল করে। ঠিক ২০ বছর পর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলস্কোরারও তিনি।
ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটেই ছিল দারুণ নাটকীয়তা। লড়াইটা তখন ছিল সমানে সমান। চতুর্থ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের দুর্বল হেড সহজেই ধরে নেন আলজেরিয়ার গোলকিপার লুকা জিদান। পরের মিনিটেই মার্তিনেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে জিদারে পাশ দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়ান মেসি। ধারাভাষ্যকার চিৎকার করে ওঠেন মেসির নামে। কিন্তু তার কণ্ঠ মিইয়ে আসে রেফারির বাঁশি শুনে, “স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত আর্জেন্টিনার…।” হতে পারত, কিন্তু হয়নি। কারণ, মেসি ছিলেন অফসাইড।
দুই মিনিট পর সেই অভিজ্ঞতা হয় আলজেরিয়ার। বক্সের একটু বাইরে থেকে আর্জেন্টিনার তিনজনের মধ্য থেকে চোখধাঁধানো পাস বাড়ান ফারিদ এল মেলালি শেইবি। সেই বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এহমেদ কেন্দুসি মাজা। কিন্তু তাদের আলজেরিয়ানদের উল্লাসের পর ভিএআর রেফারি জানান অফসাইডের সিদ্ধান্ত। মাজার বাড়িয়ে ধরা বাঁ হাতটুকু ছিল শুধু অফসাইড!
ম্যাচের প্রথম বৈধ গোলের জন্যও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। সপ্তদশ মিনিটেই মেসির জাদুর ঝলক। রদ্রিগো দে পল মাঝমাঠ থেকে বল বাড়ান মেসির দিকে। বল দিয়ে দ্রুত একটু এগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের গোলা ছোড়েন তিনি। গোলকিপার জিদানের কিছু করার ছিল না। উড়ন্ত ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি তিনি।
বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে তার পঞ্চম গোল এটি, ১৯৬৬ আসর থেকে এখনও পর্যন্ত যা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির অভিষেক আসর ছিল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের শেষ বিশ্বকাপ। ২০ বছর পর সেই মেসি নিজের শেষ বিশ্বকাপে গোল করলেন জিদানের ছেলের বিপক্ষে।
আগে গোল হজম করে বিশ্বকাপে কখনোই জিততে পারেনি আলজেরিয়া। আগের ছয়টি তারা হেরেছে, জিতেছে দুটি। এরপর বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। হাইড্রেশন বিরতির পর একটু গুছিয়ে ওঠে আলজেরিয়া।
৩৭তম মিনিটে প্রায় ৪০ মিটার দূর থেকে ফ্রি কিকে সরাসরি গোলের চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু বল চলে যায় বেশ ওপর দিয়ে।
৩৯তম মিনিটে কাছ থেকে নেওয়া শেইবির শট ফেরান এমি মার্তিনেস। পরের মিনিটেই শেইবির হেড বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আনিস হাজ মুসা বক্সের ভেতর দুজনকে কাটিয়ে বর বাড়ান মাঝখানে। সেখানে একজনের পায়ে লেগে গতি হারানো বল সহজেই মুঠোয় নেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার মার্তিনেস।
একদম শেষ সময়ে ফ্রি কিক থেকে আলিক্সেস মাক আলিস্তেরের হেড উড়ে যায় গ্যালারিতে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা হয় একটু ঢিমেতালে। ৫১তম মিনিটে বক্সের মাথা থেকে মেসির শট ওপর দিয়ে চলে যায়।
দুই মিনিট পর মেসির চমৎকার পাস থেকে লাউতারো মার্তিনেসের শট ফিরিয়ে দেন জিদান। মেসির সেই গোলের পর ম্যাচে প্রথমবার লক্ষ্যে বল রাখতে পারে আর্জেন্টিনা।
৬০তম মিনিটে বক্সের অনেক বাইরে থেকে মাক আলিস্তেরের গড়ানোর শট শুয়ে পড়ে ঠেকালেও নিরাপদ করতে পারেননি জিদান। বরং বল পেয়ে যান সামনেই ফাঁকায় থাকা মেসি। আলতো টোকায় বল জালে জড়ান তিনি। তার ক্যারিয়ারের সহজ গোলগুলির একটি।
ধারাভাষ্যকাররা আলোচনা করছিলেন, এত কিছু অর্জন করলেও বিশ্বকাপে এখনও হ্যাটট্রিক নেই মেসির। এসব আলোচনার মধ্যেই ৬৫তম মিনিটে দারুণভাবে বল নিয়ে ছোটেন। ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে উত্তেজনা, “এটিই কী সেই মুহূর্ত….!”
কিন্তু না, মেসির বাঁ পায়ের আরেকটি গোলা দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন জিদান।
সেই মুহূর্তটি আসে একটু পরই। পাল্টা আক্রমণে নিকো গন্সালেরে কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক মাথা থেকে দারুণ এক গড়ানো শটে জিদানকে পরাস্ত করেন তিনি।
৭৯তম মিনিটে তুলে নেওয়া হয় তাকে। গোটা গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে।
ম্যাচের বাকি সময়ে আর তেমন কিছু হয়নি। মেসিময় ম্যাচে আরও কিছু হওয়ার প্রয়োজনও নেই!
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
নেফতচির বিপক্ষে জয়ের পর আল নাসরের সমর্থকদের চমকে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই পর্তুগিজ অধিনায়ক এমন একটি কাজ করেছেন, যা সবার নজর কেড়েছে। হুথিদের আক্রমণে যখন সৌদি আরব বিপর্যস্ত, তখন দেশটির প্রতি নিজের ভালোবাসাটা তিনি স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের দ্বিতীয় রাউন্ডে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতেছে। ৪২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এর আগে অ্যাঞ্জেলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে নেফতচির ডিফেন্ডার বুয়ান সিগের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।
ম্যাচ শুরুর আগেই এই লড়াই নিয়ে খানিকটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রিয়াদে ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স একটি নিরাপত্তা সতর্কতা দেয়। তাই খেলা শুরু হতে দেরি হয়। রিয়াদের একাধিক জায়গা সম্প্রতি ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
খেলা যখন বন্ধ ছিল, ক্যামেরায় তখন রোনালদোকে দেখা যায়। তিনি আল নাসরের জার্সিতে থাকা সৌদি পতাকায় চুমু খাচ্ছিলেন। সৌদি আরবে খেলতে আসার পর থেকে এই দেশের প্রতি তার যে কৃতজ্ঞতা, দৃশ্যটি তা-ই বোঝায়। ম্যাচ শেষে তিনি আরেকভাবে নিজের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
উদযাপনের মাঝখানে রোনালদো সমর্থকদের কাছে একটি স্কার্ফ চান। সেই স্কার্ফে ছিল সৌদি পতাকা। তিনি সেটি কাঁধে জড়িয়ে নেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে এই কাজ তার উদযাপনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
আল নাসরের পরের ম্যাচ ১৬ অক্টোবর। সৌদি প্রো লিগে তারা আল আহলির মুখোমুখি হবে।
লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলার চার দিন পরই ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। ফেরার ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন জোড়া গোলে। তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও করলেন দুই গোল। দুই তারকার নৈপুণ্যে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ডিসি ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। একই সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের জয়খরাও কাটিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মায়ামি। মাত্র তৃতীয় মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুয়ারেজ। ৩৯ মিনিটে মেসির শট প্রতিহত হলে ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর গোলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মেসি। ৪৭ মিনিটে সুয়ারেজের বাড়ানো বল এক স্পর্শে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর ৬০ মিনিটে আসে তার দ্বিতীয় গোল। রদ্রিগো ডি পলের পাস পেয়ে ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলরক্ষক সিন জনসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতে ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় মায়ামির।
এই জোড়া গোলে চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩, যা লিগে সর্বোচ্চ। গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুবার এমভিপি হওয়া মেসি এবারও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে।
মায়ামির জন্য জয়টি ছিল বিশেষ স্বস্তির। আগের পাঁচ ম্যাচে চারটি ড্র ও একটি হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল দলটি। গত ২৯ আগস্ট সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে হারানোর পর এটিই তাদের প্রথম জয়।
হাসান মাহমুদের ফাইফার উদযাপন
পুরনো বলে তেমন কিছু হচ্ছিল না, ৮০ ওভারের পর নতুন বল নিতেই জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদ দেখালেন বেশি ঝাঁজ। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন তিনি। ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ইসমাত আলমকে বোল্ড করে দেন হাসান। পরের বলে কাইস আহমেদ ক্রিজে এসে আউটসাইড এজে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় সেই ক্যাচ গ্লাভসে জমান লিটন দাস। পরের বলেই জিয়াউর রহমানকেও পরাস্ত করেছিলেন। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে দেখা যায় এলবিডব্লিউ হয়েছেন জিয়া।
আগের দিনে আফগানিস্তানের প্রতিরোধে হতাশা বাড়ছিল বাংলাদেশের। তবে তৃতীয় দিনে নেমে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম নিজেদের কব্জায় নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন বল নিতেই শুরুতে সাফল্য আনেন ইবাদত হোসেন। ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ইকরাম আখিলকে বোল্ড করে দেন তিনি।
এক পাশে রহমত শাহ টিকে থাকলেও টেল খুলে যাওয়ায় হাসান হয়ে ওঠেন বিপজ্জনক। এক ওভারেই তিন উইকেট নিয়ে ধস নামান তিনি। ৪ উইকেটে ২১৯ থেকে ১ রানের ভেতর আরও ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
আবুধাবি টেস্টে এখন তাই বড় লিড নেওয়ার পথে বাংলাদেশ।
হাসান মাহমুদের ফাইফার উদযাপন
দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আফগানিস্তানের হাতেই। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই তাদের ইনিংস গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের তোপে ২১১ থেকে ২৪০ রানেই অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে তারা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের সুবাদে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে শান্তর দল।
আগের দিন ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টানার পথ দেখান এবাদত। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইকরাম আলিখিল। ১০৩ বলে ৩২ রান করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এতে রহমত শাহর সঙ্গে তার ৮০ রানের জুটি ভাঙে।
এরপরই শুরু হয় হাসান মাহমুদের দাপট। ইনিংসের ৮৩তম ওভারের শেষ তিন বলে ইসমত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে ফিরিয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ইসমতকে বোল্ড করার পর কাইসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হাসান। হ্যাটট্রিক বলে জিয়াউরের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন তিনি। আম্পায়ার সাড়া না দিলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর রিভিউয়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন হাসান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। এর আগে অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন। হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইয়ামিন আহমদজাইকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার।
টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি হাসানের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এর আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তাসকিন আহমেদ টেস্টে ৫০ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন।
আফগানিস্তানের হয়ে অধিনায়ক রহমত শাহ সর্বোচ্চ ১০৯ রান করেন। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া রহমত বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক পেয়েছেন। তবে তার সেঞ্চুরিও দলকে বড় লিড এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানেই থামে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে বাংলাদেশ। প্রথম দিন ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে শক্ত অবস্থানে থাকলেও পরে ব্যাটিং ধসে পড়ে দলটি। তানজিদ হাসান তামিমের ৮৩, সাদমান ইসলামের ৬৭ ও লিটন দাসের ৫৩ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ ৮ উইকেটে মাত্র ১২৫ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সালিম সাফি নেন ৪ উইকেট, ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি।
বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস
লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। আন্তর্জাতিক বিরতির পর মাঠে ফিরেই গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। ঘরের মাঠ কাম্প নউয়ে শনিবার লিগ ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা।
অ্যান্থনি গর্ডন শুরুতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ান গাব্রিয়েল জেসুস। দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোলটি করেন জুল কুন্দে। প্রথম আট ম্যাচের সবকটি জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
নিজেদের ইতিহাসে লা লিগায় সবচেয়ে ভালো শুরুর নজির স্পর্শ করল বার্সেলোনা। এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে জেরার্দো মার্তিনোর কোচিংয়েও লিগে প্রথম আট ম্যাচে জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। ফ্লিকের দল এই আট ম্যাচে গোল করল মোট ৩৪টি।
হালকা চোটে সতর্কতার অংশ হিসেবে বাইরে থাকা অধিনায়ক রাফিনিয়াকে ছাড়া খেলতে নেমে দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে শট নেন গর্ডন, বল এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।
বার্সেলোনার হয়ে এই ইংলিশ উইঙ্গারের প্রথম গোল এটি। এবারের লা লিগায় তার অ্যাসিস্ট আছে চারটি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সবশেষ চার ম্যাচের সবকটিতে গোল করলেন তিনি। বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে বারবার গেতাফের রক্ষণে হানা দিতে থাকে বার্সেলোনা।
৩০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে তারা। সফরকারী ডিফেন্ডার রোমেরো ডি-বক্সের সীমানায় ড্রিবল করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে বল হারিয়ে ফেলেন; আর সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ নৈপুণ্যে জোরাল শটে জালে পাঠান জেসুস।
বার্সেলোনার জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের গোল হলো তিনটি। আর্সেনাল ছেড়ে এই মৌসুমে কাম্প নউয়ে পাড়ি জমান তিনি। ৫৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর ভালো একটি সুযোগ পান জেসুস। কিন্তু জেরার্দ মার্তিনের ক্রসে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। চার মিনিট পর দানি ওলমোর নিচু শট ফিরিয়ে দেন গেতাফে গোলরক্ষক।
৭৩তম মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান কুন্দে। ডান দিক থেকে লামিন ইয়ামালের ক্রসে কাছ থেকে পা ছুঁয়ে বল জালে পাঠান এই ফরাসি ডিফেন্ডার। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে অল্পের জন্য গোল পাননি ইয়ামাল। বক্সের বাইরে থেকে বিশ্বকাপজয়ী তারকার বাঁ পায়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে দিয়ে যায়।
নেইমার ও লিওনেল মেসি
বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উদ্যাপনের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করে বিতর্কে পড়েছেন নেইমার। ২০১৫ সালে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তার সেই উদ্যাপনের ভিডিওতে তিনজনকে মদ্যপ অবস্থায় নাচতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর নেইমারের এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
নেইমারের নেটফ্লিক্স প্রামাণ্যচিত্র ‘নেইমার: দ্য পারফেক্ট ক্যাওস’-এ পুরোনো ভিডিও দেখার সময় ফুটেজটি সামনে আসে।
নিজের ফোনে সংরক্ষিত ভিডিও ঘাঁটতে ঘাঁটতেই সেই মুহূর্তটি আবার দেখেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সবাই বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি।বিশেষ করে মেসি সাধারণত পার্টি কিংবা অনুপযুক্ত আচরণসংক্রান্ত বিতর্কে জড়ান না বলে তার এমন ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করাকে অনেকে ভালো সিদ্ধান্ত মনে করছেন না।
সমালোচকদের মতে, ভিডিওটি সে সময় প্রকাশ্যে এলে তিন ফুটবলারকেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হতো।
উদ্যাপনের সময় তাদের এমন অবস্থার কারণে বার্সেলোনার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত বলে মনে করেন কেউ কেউ। অবশ্য ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেক সমর্থকের মতে, একটি বড় শিরোপা জয়ের পর ফুটবলারদের উদ্যাপনের দৃশ্যকে অযথা বিতর্কিত করা হচ্ছে। তাদের যুক্তি, তিনজনই হয়তো একটু বেশি মদ্যপান করেছিলেন, কিন্তু তাতে তারা এমন কিছু করেননি যা নিয়ে এত সমালোচনার প্রয়োজন আছে।
তবে ভিডিওটির সমালোচকদের কাছে মূল প্রশ্ন মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজের উদ্যাপনের ধরন নয়। বরং তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি। সেই কারণেই পুরোনো ভিডিওটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।