নিউজিল্যান্ডের রান পাহাড় টপকে জিতলো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের পিচে টি-টোয়েন্টিতে ১৮৩ রানের লক্ষ্য একেবারে ছোট নয়। তবে এই বাংলাদেশ সাহসী ক্রিকেটে অনেকটাই অভ্যস্ততা দেখাচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও জয়ে শুরু করেছে টাইগাররা।
চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের ১৮২ রান ১৮ ওভারেই টপকে গেছে বাংলাদেশ। ৬ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে লিটন দাসের দল।
রান তাড়ায় নেমে সাইফ হাসান আর তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারে বিনা উইকেটেই তোলে ৪০ রান। তবে ষষ্ঠ ওভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। ১৫ বলে ১৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। ওপেনিং জুটি ভাঙে ৪১ রানে।
লিটন দাস ভালো খেলছিলেন। কিন্তু ইশ সোধির ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে তিনি বোল্ড হন ১৫ বলে ২১ রানে। ৬৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তানজিদ তামিম ঠিক তার মতো মারকুটে খেলতে পারেননি। ২৫ বলে ২০ রান করে সোধির দ্বিতীয় শিকার হন এই ওপেনার, ক্যাচ দেন লংঅফে। ৭৭ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। এরপর ঝোড়ো জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় আর পারভেজ হোসেন ইমন। ২৮ বলে ৫৭ রানের মারকুটে জুটিতে দলকে জয়ের মতো একটা অবস্থানে নিয়ে যান তারা।
বড় শট খেরতে গিয়ে ১৪ বলে ১ চার আর ২ ছক্কায় ২৮ রান করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ আউট হন ইমন। তবে হৃদয়কে থামেননি। ২৬ বলে করেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ২ চার আর ৩ ছক্কায় ৫১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন হৃদয়।
শেষদিকে শামীম পাটোয়ারীও দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন। ১৩ বলে তিনি ৩১ রান করেন ৩টি বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায়।
আগে ব্যাটিং করে ক্যাটেনি ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভারের সমান ৫১ রানের ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বোর্ডে জমা হয়েছিল ৬ উইকেটে ১৮২ রান।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই হৃদয়ের ডিরেক্ট হিটে রানআউট হয়ে মাঠ ছাড়লেন টিম রবিনসন রানের খাতা না খুলেই। তানজিম হাসান সাকিবের করা দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে প্রথম বল ফেইস করেই করেই রানআউট হন তিনি।
এরপর দুটো উইকেট তুলে নেন রিশাদ হোসেন। নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ক্লার্ক উইকেট গিফট করেন রিশাদকে। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়ের হাতে।
আউট হওয়ার আগে ৫১ রান করলেও উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন সদ্য ক্রিজে আসা ব্যাটারের মতো। ৭টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছেন নিজের ইনিংসে। ৯৯ রানে পতন হয় দ্বিতীয় উইকেটের। ভাঙে ক্লার্কের সঙ্গে গড়া ৮৮ রানের জুটি। এরপর ক্লার্ক সমান ৫১ রান করে রিশাদের বলেই সাজঘরে ফিরে যান দলীয় ১১০ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে।
কিইউদের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন তানজিম হাসান সাকিব। ১ রান করা বেভন জ্যাকব আউট হলে ১১৭ রান ৪ উইকেট হারায় ব্ল্যাকক্যাপসরা। ওয়ানডে সিরিজে দাপট দেখানে ডিন ফক্সক্রফট হতাশ করেন মাত্র ৩ রানে শেখ মেহেদীর বলে কাটা পড়ে। ১৩০ রানে ৫ উইকেট হারালেও অধিনায়ক নিক কেলির ২৭ বলে ৩৯ ও জশ ক্লার্কসনের অপরাজিত ১৪ বলে ২৭ রানে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড।
দুটি উইকেট পেয়েছেন রিশাদ হোসেন। সমান একটি করে শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব ও শেখ মেহেদীর। অভিষিক্ত রিপন মণ্ডল ৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেট পাননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮২/৬ (কেটেনে ক্লার্ক ৫১, ড্যান ক্লেভার ৫১; রিশাদ হোসেন ২/৩২)
বাংলাদেশ: ১৮ ওভারে ১৮৩/৪ (তাওহীদ হৃদয় ৫১*, শামীম পাটোয়ারী ৩১*, পারভেজ ইমন ২৮)
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের স্মরণীয় জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৬ আগস্ট) এক ভিডিও কলে জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং সিরিজের পরবর্তী টেস্টের জন্য খেলোয়াড়দের শুভকামনা জানান।
এসময় তিনি সড়ক পথে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ দলের জয়ের খবর আসলে তিনি ভিডিও কলে টাইগারদের অবিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের পর তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি। ব্যাটে-বলে দুই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে আসার আগে জয়ের স্বপ্ন না দেখা বাংলাদেশ দল ও ভক্ত-সমর্থকরা আশা করতে শুরু করে ঐতিহাসিক কিছুর। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ২২৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রানে। তানজিদের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং ইতিহাস গড়তে মাঝপথে কাজটা সহজ করে দেন মেহেদী হাসান অলরাউন্ড নৈপুণ্যে। ৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংসের পর বল হাতে ফাইফার। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হাজার রান ও ১০০ উইকেটেরও মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রান করলেও মিরাজের তোপে ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে ৫৬ রানের বেশি লিড নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
ক্ষুদ্র এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হলেও জয় পেতে কষ্ট করতে হয়নি সফরকারীদের। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে তামিম সাজঘরে ফেরেন ডাক মেরে। দলীয় ৪ রানে বোল্ড হন তিনি।
কিন্তু সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল হক ৩০ রানে অপরাজিত থেকে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বীরের বেশে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়
এর আগে, তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিনের শুরুটাও করে নড়বড়ে। ব্যাট হাতে ফিফটি করার পর বল হাতেও অজিদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়া হারায় আরও ৩ উইকেট লাঞ্চের আগেই।
চতুর্থ দিন হলুদ জার্সিধারিদের সেই ৩ উইকেটই তুলে নেন মিরাজ। ৩০ রান করার অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান দলীয় ১৭৮ রানে। পতন হয় পঞ্চম উইকেটের। ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
এরপর ৫ রান করা ওয়েবস্টার বোল্ড হলে ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
সপ্তম উইকেটের পতন হয় অধিনাক প্যাট কামিন্স ৮ রান করে মিরাজের বলে সাদমানকে ক্যাচ দিলে। দলীয় ২০৭ রানে আউট হন কামিন্স।
লাঞ্চের পর তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্টার্ক ১৮ রান করে। ২৫০ রানে ৮ উইকেট হারায় অজিরা।
স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি আদায় করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। দলের বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রিন। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন ধীরসুস্থে খেলে ৪টি চার ও এক ছক্কায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি তার ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু ১০৪ রানে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ফলে ৯ উইকেট হারিয়ে বড় লিডের আশা শেষ হয় অজিদের।
শেষ উইকেট হিসেবে নাথান লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রিভিউ নিয়েও তাতে কোনো লাভ হয়নি তার। লায়নকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করেন মিরাজ।
অলআউট হওয়ার আগে ৫৬ রানের লিড জমা হয় স্বাগতিকদের বোর্ডে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জিততে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। যে লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে ৯ উইকেটে জিতে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী ২২ আগস্ট শুরু হবে ম্যাকায়।
জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়
জাতীয় অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল আগেই। দুজনই নারী হিসেবেই খেলে আসছিলেন জাতীয় প্রতিযোগিতায়। কিন্তু আদতে তাঁরা পুরুষ, এমন অভিযোগও ওঠে। ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টার। ২৮ বছরের জান্নাত থ্রোয়ার।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি দুজনকেই পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের সব পদক বাতিল ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আজ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, কবিতা নৌবাহিনীর। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায় অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের আগের কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত ১১ মে শেষ হয় তাঁদের কার্যক্রম। ১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।
মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশি হরমোন ধরা পড়েছে।
রক্তে জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (২ দশমিক ৫ এনমোল/ লিটার) প্রায় ৮ গুণ বেশি, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ এনমোল/লিটার, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে (২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার) সাড়ে ৬ গুণের বেশি।
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ। তাই দুই খেলোয়াড়ের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ ৯টি পদক রয়েছে। কবিতার পদক গোটা চারেক। পদকগুলো বডিলি শিফট হয়ে যাবে এখন।’
আলী ইমাম বলেন, ‘তাদের দুজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা আর খেলতে পারবে না।’
ছবি : সংগৃহীত
একদিকে ২২৮ রানের বিশাল লিড, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটের পতন। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে হিসাবটা বেশ পরিষ্কার; জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, আর ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা ঘিরে ধরেছে অস্ট্রেলিয়াকে। দিন শেষে স্বাগতিকরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে।
সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দেয় টাইগাররা। শান্ত, মিরাজ ও তানজিদদের ব্যাটে বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে। তাতেই প্রথম ইনিংসে লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।
বড় সেই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটাও ভালোভাবেই করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াইটা ধরে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। শেষ বিকেলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিই আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে টিকিয়ে রেখেছে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা স্টিভ স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে থামেন ৪৪ রানে। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। দুই ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেই ধাক্কা দেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট গেছে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঝুলিতে।
এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রথম লক্ষ্য; বাংলাদেশের লিড পেরোনো। আর বাংলাদেশের লক্ষ্য তারও আগে স্বাগতিকদের বাকি ছয় উইকেট তুলে নেওয়া। ডারউইনে তাই চতুর্থ দিনটা হতে পারে ইতিহাস লেখার দিন বাংলাদেশের।
জেফ বেজোস
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব কিনতে যাচ্ছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী জোট। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ক্লাবটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন আনাদোলুর।
এফএসজি জানিয়েছে, ‘১৮৯২ হোল্ডিংস’ নামের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে লিভারপুলের কিছু মালিকানা বিক্রির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। ১৮৯২ হোল্ডিংসের জোটে রয়েছেন অমিত ভাটিয়া, মিত্তল ফ্যামিলি ট্রাস্টস, কে৫ স্পোর্টস এবং ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো স্যাভেরিন ও তার স্ত্রী এলেইন স্যাভেরিনের পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইই ক্যাপিটাল।
বেজোস এই বিনিয়োগে কে৫ স্পোর্টসের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে কোনো পেশাদার ক্রীড়া ক্লাবে এটিই হবে তার প্রথম বিনিয়োগ। তবে তিনি লিভারপুলের পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এফএসজি চুক্তির আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটি লিভারপুলের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনতে ১.৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। এতে ক্লাবটির মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার)।
চুক্তি সম্পন্ন হলে অমিত ভাটিয়া লিভারপুলের সহসভাপতি হবেন। পাশাপাশি সম্প্রসারিত পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেবেন কে৫ স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান বম এবং এলেইন স্যাভেরিন।
১৮৯২ হোল্ডিংসের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভাটিয়া বলেন, লিভারপুলে বিনিয়োগ করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত। এফএসজির সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগকে তিনি বড় সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লিভারপুল ও এর নেতৃত্বের ওপর গভীরভাবে বিশ্বাস করি। আগামী বছরগুলোতে ক্লাবটির সাফল্য ধরে রাখতে আমরা সহযোগিতা করার অপেক্ষায় আছি।’
এর আগে অমিত ভাটিয়া কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) শেয়ারহোল্ডার ও চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ভারতীয় ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তলের জামাতা।
২০১০ সালে মাত্র ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ। নতুন বিনিয়োগের পরও এফএসজিই ক্লাবটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা ও পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
লাঞ্চের পর ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন তিনি। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মিরাজ। মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজলউড। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি।
এরপর শেষ উইকেট হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও গুটিয়ে দেন হ্যাজলউড। ১৩৭.৬ ওভারে শর্ট অব লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন এবাদত। ১৮ বলে ৭ রান করেন তিনি।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে অস্ট্রেলিয়া।
২১৯ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অপরাজিত ফিফটির সঙ্গে তাসকিনের ব্যাটিংয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮ উইকেটে ৪১৭ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২১৯ রানে।
দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই ২ উইকেট হারালেও মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় দল। হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পর ৯২ বলে ১৪ রান করে ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজলউডের ফুল ও সোজা বল তার প্যাডে আঘাত করলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন। হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপরও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে দিনের শুরুতেই হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আউট দেওয়া হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই অলরাউন্ডার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা পেরিয়ে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়ায়। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন তাসকিন। পরের বলেই অবশ্য জীবন পান তিনি। স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ নিতে পারেননি স্টিভ স্মিথ।
সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সারে দারুণ এক শটে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান মিরাজ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ১১৭ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ১২ রানে ব্যাট করছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ।