ছবি : সংগৃহীত
দ্বিতীয় দিনে দুই সেশনেই সমান ৪টি করে ৮টি উইকেট পাকিস্তানের তুলে নেয় বাংলাদেশ। চা বিরতির পর বাকি দুই উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করছে স্বাগতিকরা ২৩২ রানে। এতে করে বাংলাদেশ লিড পেয়েছে ৪৬ রানের। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সিলেটে বাংলাদেশের তাসকিন-মিরাজ-তাইজুল ও রানার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকবাহিনী। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। দুটি করে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
শেষ উইকেট হিসেবে সাজিদ খানকে থার্ড ম্যানে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান নাহিদ রানা। চা-বিরতির পর মাঠে খেলা ফিরলেও আঘাত হানেন নাহিদ। নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন ১০ রান করা খুররম শাহজাদকে। ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান জয়কে। ২০৭ রানে ৯ উইকেট হারায় শান মাসুদের দল।
বিরতির আগে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে দামি উইকেটটা নিয়েছেন নাহিদ রানা। ৬৮ রান করা বাবর আজমকে ফেরান তিনি। নাহিদের ভ্যারিয়েশনে বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমকে। তার বিদায়ে ১৪২ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এরপর একে একে সালমান আলী আগা (২১), রিজওয়ান (১৩) ও হাসান আলীকে (১৮) সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে সিলেট টেস্টের চালকের আসনে নিয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। ফলে ১৮৪ রানে ৮ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
প্রথম সেশনেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। তাসকিন আহমেদে ও মেহেদি হাসান মিরাজের তোপে পড়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। সেই চাপ থেকে পাকিস্তানকে বের করে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন বাবর আজম। ৬৩ বলে করেন অর্ধশতকও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাটা পড়েছেন গতি তারকা নাহিদ রানার বলে।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের করে নেয় তাসকিন ও মিরাজ। দুজন মিলে শিকার করেছেন পাকিস্তানের ৪ উইকেট। এই সেশনের ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের বোর্ডে জমা হয় ৭৫ রান। সবমিলিয়ে সফরকারীদের বোর্ডে রান ৪ উইকেটে ৯৬। বাবর আজম ৩৭ ও সালমান আলী আগা অপরাজিত আছেন ৬ রানে।
দিনের শুরুটা তাসকিন করেন দারুণভাবে আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরানোর মাধ্যমে। ৯ রান করা পাকিস্তানের ব্যাটারের এজ খুঁজে নেন তাসকিন। আগের দিনের ২১ রানের সঙ্গে বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই তথা দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারী পাকিস্তান। এই উইকেটে কৃতিত্ব দিতে হবে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসেরও। বাম পাশে দ্রুত ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে গ্লাভসে নেন বলটি। একটি চারে ৯ রান করা ফজল হতাশ হয়ে ফেরেন সাজঘরে।
এরপর প্রথম টেস্টের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইজকেও ফেরান তিনি। দুই ওপেনারকেই আউট করে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের করে নেন তাসকিন। ২৪ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে। প্রথম দিনের শেষ বিকালে অফ সাইডে তিনটি চার মেরে ইঙ্গিত দেন আবারও দারুণ কিছু করার। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। ২৩ রান ২ উইকেট হারালো পাকিস্তান।
শান মাসুদ ও সৌদ শাকিলের উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৬১ রানে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ শর্ট কাভারে নাঈম হাসানকে ক্যাচ দেন মিরাজের বলে। ২১ রানে তার বিদায়ে ভাঙে বাবর আজমের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটিও। সুবিধা করতে পারেননি শাকিলও। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে মাত্র ৮ রান আসে তার ব্যাটে। ৭৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এর আগে, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষ বিকালে ৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায় পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ২১ রান। ফলে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে আছে ২৫৭ রান।
আজম আওয়াইজ ১৩ ও ৮ রানে অপরাজিত আব্দুল্লাহ ফজল। তাসকিন, শরিফুল, মিরাজ ও নাহিদ এই ৬ ওভার বোলিং করলেও কোনো উইকেট পাননি তারা।
দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে স্রোতের বিপরীতে সেঞ্চুরি করে উদ্ধার করেন লিটন কুমার দাস। দলের সংগ্রহ তিনশ পর্যন্ত নিতে না পারলেও কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তিনি দলকে। অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮ রান।
শেষ ব্যাটার হিসেবে রানের খাতা না খুলে আউট হয়েছেন নাহিদ রানা। হাসান আলীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন তিনি। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেনে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।
একেবারে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েই এই সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটি তার টানা দ্বিতীয় শতক। পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস।
এবারের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৬ চার ও ২ ছক্কায়। এই ইনিংস খেলার পথে তাইজুলের সঙ্গে গড়েছিলেন ৬০ রানের জুটি। তিনি আউট হয়েছেন ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে। তার বিদায়ে ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর দ্রুত ফিরে যান তাসকিন আহমেদও। খুররাম শাহজাদের চতুর্থ শিকার হয়ে স্লিপে সালমান আলী আগাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাসকিন আহমেদ ৭ রান করে। ২১৪ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান আলীর বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দলীয় ২৭৮ রানে। এর আগে, শরিফুলের সঙ্গে গড়েন ৬৪ রানের জুটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। আব্বাসের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হয়েছেন তিনি, খুলতে পারেননি রানের খাতা।
তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক টেস্টে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে টপ এজ হয়েছেন তিনি। আব্বাস নিজেই ক্যাচ নেন।
৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬ রান আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। দলীয় ৪৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সেট হয়ে গিয়েছিলেন আগের টেস্টে জোড়া হাফসেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। তবে খুররম শেহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে লাইন মিস করেন তিনি, বল লেগে উড়ে যায় স্টাম্পের বেল। ৪১ বলে ৩ চারের সাহায্যে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। ৬৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।
৩ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর দ্রুত সাজঘরে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ।
মোহাম্মদ আব্বাসের দুর্দান্ত সুইংয়ে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দী হয়েছেন শান্ত (২৯)। আরেক সেট ব্যাটার মুশফিককে (২৩) এলবিডব্লিউ করেন খুররম শেহজাদ। খুররমের তৃতীয় শিকার হন মিরাজ। মাত্র ৪ রান করে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে খুররম ৪টি, আব্বাস ৩টি, দুটি হাসান আলী ও একটি উইকেট নেন সাজিদ খান।
কোহলি নিজেও ফ্লিক শট ভালো খেলেন
ওয়ানডেতে বিরাট কোহলির ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড তাঁর (৫৫)। এখন ছুটছেন সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে।
এরপরও ‘আলটিমেট’ ওয়ানডে ব্যাটসম্যান বানাতে গিয়ে কোহলি নিজেকে রাখেননি। সাতজন কিংবদন্তিকে বেছে নেন কোহলি।
গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলিকে বলা হয়েছিল, শট ধরে ধরে তাঁর ‘আলটিমেট ওয়ানডে ব্যাটসম্যান’ বেছে নিতে। কোহলি তাতে রাখেননি নিজেকে, রাখেননি মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও!
শুরুটা হলো স্ট্রেট ড্রাইভ দিয়ে। এখানে কোহলির একটুও দ্বিধা ছিল না। থাকার কথাও নয়। এই শটের জন্য কোহলি বেছে নেন শচীন টেন্ডুলকারকে।
এরপর কাভার ড্রাইভ। এই শটের সঙ্গে কোহলির নিজের নামটাও অনেকের মুখে উঠে আসে। ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁর কাভার ড্রাইভ মায়াঞ্জন মেখেছে অনেকের চোখে। কিন্তু কোহলি কাভার ড্রাইভে বেছে নিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাকে। সাঙ্গাকারার কাভার ড্রাইভও ছিল একই সঙ্গে টেকনিক্যালি নিখুঁত এবং দেখতে দারুণ।
এরপর ফ্লিক শট। এই শটেও কিন্তু অনেকেরই প্রিয় কোহলি। কবজির মোচড়ে কোহলি এই শট দারুণ খেলেন। ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনও এই শটকে নিজের ‘ট্রেডমার্ক’-এ পরিণত করেছিলেন।
কিন্তু কোহলির পছন্দ আরেক কিংবদন্তি- রাহুল দ্রাবিড়। কাট শটের জন্য কোহলি বেছে নিয়েছেন বীরেন্দর শেবাগকে। এতে খুব একটা অবাক হওয়ার সুযোগ নেই। ভারতের সাবেক ওপেনারের ব্যাটিংয়ে স্কয়ার কাট ছিল নিয়মিত বাউন্ডারি মারার অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
এরপর সুইপ। কোহলি এই শটে পছন্দের খেলোয়াড় বেছে নিতে খানিকটা সময় নেন। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেনের নামটা বললেন। ছক্কার জন্য অবশ্য কোহলির পছন্দ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয়নি। সঙ্গে সঙ্গেই বলে দিলেন- ক্রিস গেইল। একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড ছিল গেইলের। ৫৫৩টি ছক্কা মেরেছেন। পরে রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন রোহিত শর্মা। তাঁর ছক্কা এখন ৬৬৫টি।
গেইলের ছক্কার প্রতি কোহলির আলাদা টান থাকার কারণও আছে। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গেইলের সঙ্গে খেলেছেন কোহলি। খুব কাছ থেকে দেখেছেন গেইলের ব্যাটিং।
সর্বশেষে ছিল রানিং বিটুইন দ্য উইকেট। এখানেই এল সবচেয়ে বড় চমক। এই বিভাগে ভারতের কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নয়, কোহলি বেছে নিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আরেক সাবেক বেঙ্গালুরু সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে কোহলির বন্ধুত্ব অনেক দিনের। একসঙ্গে উইকেটে থাকলে কী করতে পারেন, আইপিএলে বারবার সেটা দেখিয়েছেন।
তবে ধোনির সঙ্গে উইকেটে সময় কাটাতে পছন্দ করেন কোহলি। তিনি নিজেই এ কথা বলেছিলেন। তবে দুজনের মধ্যে হয়তো অন্য প্রান্তে ডি ভিলিয়ার্স থাকলেও বেশি স্বচ্ছন্দে থাকেন কোহলি।
ছবি : সংগৃহীত
বেলজিয়ামের বিপক্ষে দারুণ একক নৈপুণ্যে গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দিয়েছেন মাইকেল অলিসে। তার ৮৮ মিনিটের গোলেই বেলজিয়ামকে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ফ্রান্স।
জিনেদিন জিদানের অধীনে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে শুক্রবার তুরস্কের বিপক্ষে জেতা ম্যাচের একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছিল ফ্রান্স। তবে ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে শেষ পর্যন্ত বেঞ্চের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাদের।
৮৮ মিনিটে নিজের অর্ধে কাঁধ দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার অলিসে। এরপর দুর্দান্ত গতিতে সামনে এগিয়ে এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
তার এই অসাধারণ একক প্রচেষ্টাতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটিতে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল।
তবে স্কোয়াডে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে তাকে দলে রাখা হয়নি। ফলে আক্রমণভাগে বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন দেজিরে দুয়ে। পাঁচবার গোলের চেষ্টা করেও জালের দেখা পাননি তিনি। এর মধ্যে একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অভিষেক হওয়া লুকাস দা কুনহাও একটি শটে পোস্টে বল লাগান।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের দুই উইঙ্গার মিকা গডটস ও দোদি লুকেবাকিও ফ্রান্সের রক্ষণে বেশ চাপ তৈরি করেছিলেন। তবে অভিজ্ঞতাহীন ফরাসি রক্ষণভাগের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারেননি তারা।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এ১’-এর শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। আগামী শুক্রবার ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। একই দিনে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ তুরস্ক।
ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পথচলায় বড় ভূমিকা রেখে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে মাঠের সাফল্যের পর পাওয়া বিপুল জনপ্রিয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এমনকি সুযোগ পেলে আগের সাধারণ জীবনেই ফিরে যেতে চান।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে যায় ভোজিনিয়ার। চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে খেলা এই গোলরক্ষক ‘দ্য অবজারভার’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
ভোজিনিয়ার কাছে খ্যাতির এই পরিবর্তন এতটাই বড় যে, বর্তমান জীবন ও আগের জীবনের মধ্যে বেছে নেয়ার সুযোগ পেলে তিনি পুরোনোটিই বেছে নেবেন। তার ভাষায়, বর্তমান জীবনের তুলনায় আগের জীবনই তার কাছে বেশি স্বস্তির ছিল।
বিশ্বকাপের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেটিই রাতারাতি বেড়ে যায় মিলিয়নের ঘরে।
তবে এই খ্যাতির সঙ্গে আসা বাড়তি মনোযোগ তার কাছে মোটেও স্বস্তির নয়। ভোজিনিয়া বলেন, আগের মতো ব্যক্তিগত পরিসর এখন আর নেই। বাইরে বের হলে কিংবা রেস্তোরাঁয় গেলেই ভক্তরা ছবি ও অটোগ্রাফের জন্য ছুটে আসেন। কেউ কেউ আবার অনুমতি না নিয়েই ভিডিও করতে শুরু করেন।
বিশ্বকাপের আগে যে স্বাভাবিক জীবন ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর জীবনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হারিয়ে যাওয়া।
ভোজিনিয়ার পরিবারও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। কেপ ভার্দেতে থাকা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে মাঝেমধ্যে সমর্থকেরা হাজির হয়ে যান। তারা কখনো ভোজিনিয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে, আবার কখনো ছবি তুলতে চান। তার বাবা অবশ্য এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এ নিয়ে ভোজিনিয়ার আক্ষেপ, তিনি দেশের বাইরে থাকায় বাবা-মায়ের পাশে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। ফলে সমর্থকদের সঙ্গে কীভাবে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, সেটি তার পরিবারকেই শিখে নিতে হচ্ছে।
সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তান
বৃষ্টির কারণে খেলা ভেস্তে যাওয়ার কারণে ভারত ও পাকিস্তান এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত ফলাফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান হংকংয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। শেষ চারে ভারত খেলবে শ্রীলঙ্কা অথবা নেপালের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অথবা মালয়েশিয়ার।
যদি ম্যাচগুলো পুরোপুরি ভেস্তে যায়, তবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উন্নীত হবে।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে এই টুর্নামেন্টের জন্য শীর্ষ বাছাই (সিডেড দল) হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং তারা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসও খুব একটা ভালো নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইফুন ‘সুরিগে’ জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে এবং এটি আইচি-নাগোয়া গেমসের বাকি অংশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টাইফুনের প্রভাবে আইচি এবং মধ্য জাপানের অন্যান্য অঞ্চলে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
এর আগে ভারতের নারী দল সফলভাবে তাদের টি-টোয়েন্টি স্বর্ণপদক ধরে রেখেছিল, কিন্তু পুরুষদের বিভাগটি আবহাওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি বৃষ্টি খেলা পণ্ড করতে থাকে, তবে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাপকাঠি।
হাংঝুতে অনুষ্ঠিত আগের এশিয়ান গেমসেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল; সেখানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারতকে স্বর্ণপদক এবং আফগানিস্তানকে রৌপ্যপদক দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, যদি বাকি সব ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় তবে ভারত তাদের স্বর্ণপদক ধরে রাখবে কারণ তারাই এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে সকালে অনুষ্ঠেয় প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল হংকং, চীন; কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে টস হওয়ার আগেই ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। বিকেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার কথা থাকলেও মাঠ ভেজা থাকায় টসের আগেই সেই ম্যাচটিও বাতিল করা হয়।
সোমবার নিশিনে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারত ও পাকিস্তান ২০২৬ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে- ভারত ১ নম্বর ও পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে- মাঠে না নেমেই দল দুটি সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে। ফলে আফগানিস্তান ও হংকং, চীন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আকস্মিক বন্যার শিকার হয়ে দুই দিন ধরে থাইল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচ।
আটকা পড়া দলের সদস্যরা হলেন রামহিম লিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনাম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি, সামান্তা হোসেন তুসি এবং দলের কোচ ও ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু।
এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ম্যানেজার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল হক সাদী এবং পুরুষ দলের শীর্ষ খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় ভিন্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকায় সৌভাগ্যক্রমে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
জানা গেছে, মূলত থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীরাই এই পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে থাই এয়ারওয়েজ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের সদস্যদের এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন খেলোয়াড়দেরকে ভিন্ন ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
কর্মচাঞ্চল্য শেষে যে বয়সে অধিকাংশ মানুষই অবসরের জীবন উপভোগ করেন, সেই বয়সেও তোশিসুকে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে দাপটের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে জয়ী হচ্ছেন। ৯০ বছর বয়সী এই জাপানি বডিবিল্ডার সম্প্রতি ‘জাপান মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ৮৫-ঊর্ধ্ব বিভাগে সাতজন প্রতিযোগিকে পরাজিত করে তার ১৯তম জাতীয় শিরোপা জয় করেছেন।
এই জয়ের ঠিক আগের দিনই তিনি ৯০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন। হিরোশিমার বাসিন্দা কানাজাওয়া কয়েক দশক ধরে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার এবং সার্জিও অলিভার মতো এই খেলার কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
১৯৩৬ সালে জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে জন্মগ্রহণকারী কানাজাওয়া শুরুতে সাঁতারের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ১,৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন এবং অলিম্পিকে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পেশীর সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। একপর্যায়ে তিনি বডিবিল্ডিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
তার এই সিদ্ধান্তটি পরিবারের সদস্যরা শুরুতে ভালোভাবে নেননি। বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে কানাজাওয়া বলেন, আমার মা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু বাবা ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। তিনি মনে করতেন তরুণদের চাকরি-বাকরি বা কাজ করা উচিত। আমি তাদের বলেছিলাম, আমি জাপানের সেরা হতে চাই, তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমার কয়েক বছর সময় লাগবে।
এরপর কানাজাওয়া নিজেকে পুরোপুরি প্রশিক্ষণে নিয়োজিত করেন; কখনও কখনও তিনি দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরচর্চা করতেন। কোনো জটিল বা বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার পরিবর্তে তিনি মূলত মায়ের হাতের তৈরি সাধারণ খাবারই খেতেন।
২৪ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ‘মিস্টার জাপান’ শিরোপা জয় করেন এবং বাবা-মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তিন বছর পর তিনি আবারও এই শিরোপাটি জিতে নেন। তার এই সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে নিয়ে যায়। ১৯৬৭ সালে মন্ট্রিলে আয়োজিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় শোয়ার্জনেগার ও অলিভার পাশাপাশি কানাজাওয়াও অংশ নেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ স্থান অধিকার করেন এবং অলিভা বিজয়ী হন।
তবে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিং থেকে চিরতরে সরে যাননি। ত্রিশের কোঠার মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিং থেকে অবসর নিলেও ৫০ বছর বয়সে আবারও এই খেলায় ফিরে আসেন। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগা স্ত্রীকে মনোবল জোগানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেও তিনি প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী সবসময়ই আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অবসরের পর আমি নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করেছি তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম; তাই আমি তাকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে অসাধ্য সাধন করাও সম্ভব।
প্রতিযোগিতায় ফেরার সাত বছর পর কানাজাওয়া একটি ‘মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জয় করেন। ৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরও তিনি ছয়টি ‘ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স’ শিরোপা জিতেছেন, যা তার কয়েক দশকব্যাপী দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কানাজাওয়া তার দীর্ঘ কর্মক্ষম জীবনের বড় কৃতিত্ব দেন তার পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন পদ্ধতিকে। তিনি বলেন, আগে আমি দিনে ছয়বার প্রোটিন শেক পান করতাম, কিন্তু এখন তা কমিয়ে তিনবারে এনেছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এত বেশি তরল খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে তিনি হিরোশিমায় অবস্থিত নিজের জিমে সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করেন। পাশাপাশি তিনি শরীরকে সেরে ওঠার (রিকভারি) জন্য পর্যাপ্ত সময় দেন এবং রাতে প্রায় সাত ঘণ্টা করে ঘুমান। তিনি বলেন, ভারোত্তোলনের ব্যায়ামের ধকল কাটিয়ে উঠতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই ব্যায়ামের প্রতিটি সেটের মাঝে আমি যথাযথ বিশ্রাম নিই।