ছবি : সংগৃহীত
দ্বিতীয় দিনে দুই সেশনেই সমান ৪টি করে ৮টি উইকেট পাকিস্তানের তুলে নেয় বাংলাদেশ। চা বিরতির পর বাকি দুই উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করছে স্বাগতিকরা ২৩২ রানে। এতে করে বাংলাদেশ লিড পেয়েছে ৪৬ রানের। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সিলেটে বাংলাদেশের তাসকিন-মিরাজ-তাইজুল ও রানার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকবাহিনী। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। দুটি করে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
শেষ উইকেট হিসেবে সাজিদ খানকে থার্ড ম্যানে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান নাহিদ রানা। চা-বিরতির পর মাঠে খেলা ফিরলেও আঘাত হানেন নাহিদ। নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন ১০ রান করা খুররম শাহজাদকে। ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান জয়কে। ২০৭ রানে ৯ উইকেট হারায় শান মাসুদের দল।
বিরতির আগে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে দামি উইকেটটা নিয়েছেন নাহিদ রানা। ৬৮ রান করা বাবর আজমকে ফেরান তিনি। নাহিদের ভ্যারিয়েশনে বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমকে। তার বিদায়ে ১৪২ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এরপর একে একে সালমান আলী আগা (২১), রিজওয়ান (১৩) ও হাসান আলীকে (১৮) সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে সিলেট টেস্টের চালকের আসনে নিয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। ফলে ১৮৪ রানে ৮ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
প্রথম সেশনেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। তাসকিন আহমেদে ও মেহেদি হাসান মিরাজের তোপে পড়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। সেই চাপ থেকে পাকিস্তানকে বের করে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন বাবর আজম। ৬৩ বলে করেন অর্ধশতকও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাটা পড়েছেন গতি তারকা নাহিদ রানার বলে।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের করে নেয় তাসকিন ও মিরাজ। দুজন মিলে শিকার করেছেন পাকিস্তানের ৪ উইকেট। এই সেশনের ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের বোর্ডে জমা হয় ৭৫ রান। সবমিলিয়ে সফরকারীদের বোর্ডে রান ৪ উইকেটে ৯৬। বাবর আজম ৩৭ ও সালমান আলী আগা অপরাজিত আছেন ৬ রানে।
দিনের শুরুটা তাসকিন করেন দারুণভাবে আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরানোর মাধ্যমে। ৯ রান করা পাকিস্তানের ব্যাটারের এজ খুঁজে নেন তাসকিন। আগের দিনের ২১ রানের সঙ্গে বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই তথা দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারী পাকিস্তান। এই উইকেটে কৃতিত্ব দিতে হবে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসেরও। বাম পাশে দ্রুত ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে গ্লাভসে নেন বলটি। একটি চারে ৯ রান করা ফজল হতাশ হয়ে ফেরেন সাজঘরে।
এরপর প্রথম টেস্টের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইজকেও ফেরান তিনি। দুই ওপেনারকেই আউট করে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের করে নেন তাসকিন। ২৪ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে। প্রথম দিনের শেষ বিকালে অফ সাইডে তিনটি চার মেরে ইঙ্গিত দেন আবারও দারুণ কিছু করার। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। ২৩ রান ২ উইকেট হারালো পাকিস্তান।
শান মাসুদ ও সৌদ শাকিলের উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৬১ রানে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ শর্ট কাভারে নাঈম হাসানকে ক্যাচ দেন মিরাজের বলে। ২১ রানে তার বিদায়ে ভাঙে বাবর আজমের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটিও। সুবিধা করতে পারেননি শাকিলও। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে মাত্র ৮ রান আসে তার ব্যাটে। ৭৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এর আগে, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষ বিকালে ৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায় পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ২১ রান। ফলে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে আছে ২৫৭ রান।
আজম আওয়াইজ ১৩ ও ৮ রানে অপরাজিত আব্দুল্লাহ ফজল। তাসকিন, শরিফুল, মিরাজ ও নাহিদ এই ৬ ওভার বোলিং করলেও কোনো উইকেট পাননি তারা।
দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে স্রোতের বিপরীতে সেঞ্চুরি করে উদ্ধার করেন লিটন কুমার দাস। দলের সংগ্রহ তিনশ পর্যন্ত নিতে না পারলেও কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তিনি দলকে। অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮ রান।
শেষ ব্যাটার হিসেবে রানের খাতা না খুলে আউট হয়েছেন নাহিদ রানা। হাসান আলীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন তিনি। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেনে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।
একেবারে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েই এই সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটি তার টানা দ্বিতীয় শতক। পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস।
এবারের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৬ চার ও ২ ছক্কায়। এই ইনিংস খেলার পথে তাইজুলের সঙ্গে গড়েছিলেন ৬০ রানের জুটি। তিনি আউট হয়েছেন ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে। তার বিদায়ে ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর দ্রুত ফিরে যান তাসকিন আহমেদও। খুররাম শাহজাদের চতুর্থ শিকার হয়ে স্লিপে সালমান আলী আগাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাসকিন আহমেদ ৭ রান করে। ২১৪ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান আলীর বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দলীয় ২৭৮ রানে। এর আগে, শরিফুলের সঙ্গে গড়েন ৬৪ রানের জুটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। আব্বাসের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হয়েছেন তিনি, খুলতে পারেননি রানের খাতা।
তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক টেস্টে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে টপ এজ হয়েছেন তিনি। আব্বাস নিজেই ক্যাচ নেন।
৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬ রান আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। দলীয় ৪৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সেট হয়ে গিয়েছিলেন আগের টেস্টে জোড়া হাফসেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। তবে খুররম শেহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে লাইন মিস করেন তিনি, বল লেগে উড়ে যায় স্টাম্পের বেল। ৪১ বলে ৩ চারের সাহায্যে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। ৬৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।
৩ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর দ্রুত সাজঘরে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ।
মোহাম্মদ আব্বাসের দুর্দান্ত সুইংয়ে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দী হয়েছেন শান্ত (২৯)। আরেক সেট ব্যাটার মুশফিককে (২৩) এলবিডব্লিউ করেন খুররম শেহজাদ। খুররমের তৃতীয় শিকার হন মিরাজ। মাত্র ৪ রান করে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে খুররম ৪টি, আব্বাস ৩টি, দুটি হাসান আলী ও একটি উইকেট নেন সাজিদ খান।
ছবি : সংগৃহীত
একদিকে ২২৮ রানের বিশাল লিড, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটের পতন। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে হিসাবটা বেশ পরিষ্কার; জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, আর ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা ঘিরে ধরেছে অস্ট্রেলিয়াকে। দিন শেষে স্বাগতিকরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে।
সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দেয় টাইগাররা। শান্ত, মিরাজ ও তানজিদদের ব্যাটে বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে। তাতেই প্রথম ইনিংসে লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।
বড় সেই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটাও ভালোভাবেই করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াইটা ধরে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। শেষ বিকেলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিই আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে টিকিয়ে রেখেছে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা স্টিভ স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে থামেন ৪৪ রানে। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। দুই ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেই ধাক্কা দেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট গেছে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঝুলিতে।
এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রথম লক্ষ্য; বাংলাদেশের লিড পেরোনো। আর বাংলাদেশের লক্ষ্য তারও আগে স্বাগতিকদের বাকি ছয় উইকেট তুলে নেওয়া। ডারউইনে তাই চতুর্থ দিনটা হতে পারে ইতিহাস লেখার দিন বাংলাদেশের।
জেফ বেজোস
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব কিনতে যাচ্ছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী জোট। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ক্লাবটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন আনাদোলুর।
এফএসজি জানিয়েছে, ‘১৮৯২ হোল্ডিংস’ নামের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে লিভারপুলের কিছু মালিকানা বিক্রির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। ১৮৯২ হোল্ডিংসের জোটে রয়েছেন অমিত ভাটিয়া, মিত্তল ফ্যামিলি ট্রাস্টস, কে৫ স্পোর্টস এবং ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো স্যাভেরিন ও তার স্ত্রী এলেইন স্যাভেরিনের পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইই ক্যাপিটাল।
বেজোস এই বিনিয়োগে কে৫ স্পোর্টসের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে কোনো পেশাদার ক্রীড়া ক্লাবে এটিই হবে তার প্রথম বিনিয়োগ। তবে তিনি লিভারপুলের পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এফএসজি চুক্তির আর্থিক বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটটি লিভারপুলের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনতে ১.৬৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। এতে ক্লাবটির মোট মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার)।
চুক্তি সম্পন্ন হলে অমিত ভাটিয়া লিভারপুলের সহসভাপতি হবেন। পাশাপাশি সম্প্রসারিত পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেবেন কে৫ স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান বম এবং এলেইন স্যাভেরিন।
১৮৯২ হোল্ডিংসের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভাটিয়া বলেন, লিভারপুলে বিনিয়োগ করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত। এফএসজির সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করার সুযোগকে তিনি বড় সম্মানের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা লিভারপুল ও এর নেতৃত্বের ওপর গভীরভাবে বিশ্বাস করি। আগামী বছরগুলোতে ক্লাবটির সাফল্য ধরে রাখতে আমরা সহযোগিতা করার অপেক্ষায় আছি।’
এর আগে অমিত ভাটিয়া কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) শেয়ারহোল্ডার ও চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ভারতীয় ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তলের জামাতা।
২০১০ সালে মাত্র ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ। নতুন বিনিয়োগের পরও এফএসজিই ক্লাবটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা ও পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
লাঞ্চের পর ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন তিনি। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মিরাজ। মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজলউড। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি।
এরপর শেষ উইকেট হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও গুটিয়ে দেন হ্যাজলউড। ১৩৭.৬ ওভারে শর্ট অব লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন এবাদত। ১৮ বলে ৭ রান করেন তিনি।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে অস্ট্রেলিয়া।
২১৯ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অপরাজিত ফিফটির সঙ্গে তাসকিনের ব্যাটিংয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮ উইকেটে ৪১৭ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২১৯ রানে।
দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই ২ উইকেট হারালেও মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় দল। হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পর ৯২ বলে ১৪ রান করে ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজলউডের ফুল ও সোজা বল তার প্যাডে আঘাত করলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন। হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপরও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে দিনের শুরুতেই হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আউট দেওয়া হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই অলরাউন্ডার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা পেরিয়ে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়ায়। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন তাসকিন। পরের বলেই অবশ্য জীবন পান তিনি। স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ নিতে পারেননি স্টিভ স্মিথ।
সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সারে দারুণ এক শটে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান মিরাজ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ১১৭ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ১২ রানে ব্যাট করছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ।
ছবি : সংগৃহীত
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ যখন চালকের আসনে, তখনই মাঠে উত্তাপ ছড়াল মেহেদী হাসান মিরাজ ও মিচেল স্টার্ক। মিরাজের একটি সিঙ্গেল নেওয়ার সময় উইকেটের মাঝের অংশ দিয়ে দৌড়ানোকে কেন্দ্র করে স্টার্কের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি বেশি দূর গড়ানোর আগেই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা হস্তক্ষেপ করে দুজনকে শান্ত করেন।
ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের ১০৩তম ওভারে, স্টার্কের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে। স্টার্কের শর্ট অব লেংথের বল পয়েন্টের দিকে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিতে দৌড়ান মিরাজ। বলের দিকে তাকিয়ে দৌড়াতে গিয়ে তিনি স্টার্কের সামনে চলে আসেন। এরপর স্টার্ককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় উইকেটের মাঝের সুরক্ষিত অংশ দিয়েই দৌড়ান বাংলাদেশের ব্যাটার।
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের রানআপ ও ফলো-থ্রুর মতো ব্যাটারদেরও পিচের মাঝের সুরক্ষিত অংশ এড়িয়ে উইকেটের মধ্যে দৌড়ানোর কথা। বিষয়টি নজরে আসে আম্পায়ার ধর্মসেনার। রানটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মিরাজের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে সতর্ক করেন। তখন মিরাজ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। বল দেখতে গিয়ে সামনে কী ছিল, তা খেয়াল করতে পারেননি বলে জানান তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমি দেখতে পারিনি।’
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্টার্ক। স্টাম্প মাইক্রোফোনে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসারের কণ্ঠও শোনা যায়। মিরাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ফলো-থ্রু, এখন তোমার ফলো-থ্রু। উইকেট থেকে সরে যাও।’ এরপর নিজের বোলিং মার্কে ফিরে যাওয়ার সময়ও স্টার্ককে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি এখন আর বাংলাদেশে নেই।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং মনে করেন, মিরাজ ইচ্ছা করে পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়াননি। চ্যানেল সেভেনে ম্যাচ বিশ্লেষণের সময় তিনি মিরাজের পক্ষেই অবস্থান নেন। পন্টিং বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় না এটা ইচ্ছাকৃত ছিল।’ তার ব্যাখ্যা, মিরাজ যখন সামনে তাকান, তখন স্টার্ক তার পথে ছিলেন। ফলে দ্রুত দৌড়ানোর সময় অস্ট্রেলিয়ান পেসারকে পাশ কাটাতে গিয়ে তিনি পিচের মাঝের দিকটিই বেছে নেন। ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকোলসন অবশ্য মনে করেন, স্টার্কের এমন উত্তেজিত হওয়া দলের হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।
দিনের খেলার চিত্রও অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার হতাশারই। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে। তানজিদের সেঞ্চুরি এবং শান্তর ৮৪ রানের পর শেষ দিকে মিরাজ ও হাসানের প্রতিরোধে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ এবং হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। ফলে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লিড আরও বড় করার সুযোগ রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ডারউইনে রীতিমতো আগুন ঝরালেন বাংলাদেশি পেসাররা। হাসান মাহমুদ-এবাদত হোসেনদের তোপের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি অজিরা। হাসান একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। টাইগার পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানও করতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।
ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান দুর্দান্ত ছিলেন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন এই পেসার। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল পড়ে নিরাপদ জায়গায়। ফলে সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।
নিয়মিত ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে কিছুটা সময় লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ব্রেকথ্রু পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
নিজের ফিরতি ওভারে আবারো আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।
১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।
১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।
লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন।
৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। সেখানে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।
ক্যারি ফেরার পর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।
চা বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন স্মিথ। তাতে হিতে বিপরীত হয়। হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করার চেষ্টা করলে টপ এজ হয়ে বল সোজা উপরে উঠে যায়। ৭১ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এরপর নাথান লায়নকেও ফেরান এই পেসার। তাতে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি।
জাভি হার্নান্দেজ
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষেই একের পর এক নতুন কোচ পাচ্ছে দলগুলো। জার্মানিতে ইয়ুর্গেন ক্লপ, ফ্রান্সে জিনেদিন জিদান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন কদিন আগেই। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলেন জাভি হার্নান্দেজ। নেদারল্যান্ডসের কোচ হয়ে মনে করালেন ৪৮ বছরের পুরোনো এক ঘটনা।
জাভিকে গতকাল চার বছরের চুক্তিতে নিয়েছে রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি)। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্বে থাকছেন তিনি। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর ডাচ ফুটবল দল পেল কোনো বিদেশি কোচ। ১৯৭৮ সালে অস্ট্রিয়ান কোচ আর্নস্ট হ্যাপেল দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনিই প্রথম নন-ডাচ কোচ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নিচ্ছেন জাভি।
জাভি মূলত রোনাল্ড কোমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্ব ছাড়েন কোমান। কোচ হওয়ার পর জাভি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। বার্সেলোনার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা একজন খেলোয়াড় হিসেবে, যেখানে ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনাস মিশেলসের মতো ব্যক্তিত্বদের দর্শনের গভীর প্রভাব ছিল। নেদারল্যান্ডসের ফুটবলের সঙ্গে এক ধরনের টান অনুভব করি।’
খেলোয়াড় হিসেবে জাভির ক্যাবিনেট শিরোপায় টইটুম্বুর। বার্সেলোনার হয়ে আটবার লা লিগা, চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগ, ছয়বার স্প্যানিশ সুপার কাপ, তিনটি কোপা দেল রে, দুইবার করে সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ জিতেছেন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েই। ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরোও জেতেন তিনি। এ ছাড়া কাতারের ক্লাব আল সাদের জার্সিতেও চারবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পান জাভি।
আল সাদ-বার্সেলোনাকেও কোচ হিসেবে শিরোপা জেতানো জাভি নেদারল্যান্ডসের কোচ হতে পেরে গর্ব অনুভব করছেন। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন, আমি আংশিকভাবে ডাচ ফুটবলেরই সন্তান। লুইস ফন গাল—যাঁর অধীনে বার্সেলোনায় আমার অভিষেক হয়েছিল—এবং ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের মতো অন্যান্য গ্রেট কোচরাও একজন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আমাকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’
নেদারল্যান্ডসের কোচ হওয়ার সঙ্গে তিন বছরের আগের এক ঘটনারও মিল করিয়েছেন জাভি। ২০২১ সালে জাভি বার্সেলোনার কোচ হয়েছিলেন রোনাল্ড কোমানের পরিবর্তেই। তাঁর অধীনেই বার্সা ২০২২-২৩ মৌসুমে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল।
এবার ডাচ কোচ হয়ে চার বছর পর কোচিং ক্যারিয়ারে ফিরেছেন জাভি। ২০২৪ সালে বার্সেলোনার কোচের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন তিনি। নেদারল্যান্ডের কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম ম্যাচ ২৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে নেদারল্যান্ডস-জার্মানি ম্যাচ। এই ম্যাচে ডাচরা স্বাগতিক।