ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উপকূলবর্তী ফক্সবোরোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে ব্রাজিল।
গ্যালারিতে ৬৬ হাজারের বেশি দর্শকের বড় অংশ ব্রাজিলকে সমর্থন দিলেও মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে কিলিয়ান এমবাপ্পে-হুগো একিতিকের ফ্রান্স।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল ফ্রান্স।
তবে গোলের সুযোগ এবং আক্রমণের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। কিন্তু ফিনিশিং ব্যর্থতায় সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে পারেনি সেলেসাওরা।
ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পায় ব্রাজিল।
তবে ক্যাসেমিরোর উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে নেওয়া রাফিনিয়ার শট গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। কয়েক মিনিট পর ফ্রান্সও সুযোগ তৈরি করলেও হুগো একিতিকে হেড থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
প্রথমার্ধে খুব বেশি ধারালো আক্রমণ গড়তে পারেনি ব্রাজিল। ২৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দূরপাল্লার জোরালো শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। এরপর ৩২ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের রক্ষণচেরা পাস ধরে বক্সে ঢুকে ব্রাজিল গোলরক্ষক এডারসনের ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়ান অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের গোলসংখ্যা ৫৬-তে নিয়ে যান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ের জিরুর (৫৭) রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র দুটি গোল।
প্রথমার্ধে ব্রাজিল ৬টি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। বিপরীতে ফ্রান্স ৫টি শটের একটি লক্ষ্যে রেখে সেটিকেই গোলে পরিণত করে।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ গড়লেও ফিনিশিং দুর্বলতায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তবে ৫৫ মিনিটে ম্যাচে নাটকীয়তা তৈরি হয়।
ব্রাজিল ডিফেন্ডার ওয়েসলিকে কঠোর ফাউল করায় ফ্রান্সের দায়োত উপামেকানো প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন। পরে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
১০ জন নিয়ে খেলতে নেমেও বরং ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ৬৫ মিনিটে মাইকেল ওলিসের চমৎকার থ্রু বল ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলটি করেন হুগো একিতিকে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল।
তবে ব্রাজিল হাল ছাড়েনি। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ব্রেমার। ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বল ক্যাসেমিরো কাটব্যাক করলে পা বাড়িয়ে বল জালে পাঠান জুভেন্টাসের এই ডিফেন্ডার। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
শেষদিকে সমতায় ফেরার জন্য ফ্রান্সের রক্ষণে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে ব্রাজিল। কিন্তু একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় আর ম্যাচে ফেরা হয়নি তাদের।
শেষ মুহূর্তে ব্রেমারের বাড়ানো বলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা ঠিকমতো সংযোগ করতে না পারায় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ফলে দারুণ লড়াইয়ের পরও হতাশাই সঙ্গী হলো ব্রাজিলের, আর ১০ জন নিয়ে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এক পারফরম্যান্স উপহার দিল ফ্রান্স।
লাঞ্চের পর ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন তিনি। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মিরাজ। মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজলউড। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি।
এরপর শেষ উইকেট হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও গুটিয়ে দেন হ্যাজলউড। ১৩৭.৬ ওভারে শর্ট অব লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন এবাদত। ১৮ বলে ৭ রান করেন তিনি।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে অস্ট্রেলিয়া।
২১৯ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অপরাজিত ফিফটির সঙ্গে তাসকিনের ব্যাটিংয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮ উইকেটে ৪১৭ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২১৯ রানে।
দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই ২ উইকেট হারালেও মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় দল। হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পর ৯২ বলে ১৪ রান করে ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজলউডের ফুল ও সোজা বল তার প্যাডে আঘাত করলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন। হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপরও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে দিনের শুরুতেই হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আউট দেওয়া হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই অলরাউন্ডার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা পেরিয়ে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়ায়। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন তাসকিন। পরের বলেই অবশ্য জীবন পান তিনি। স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ নিতে পারেননি স্টিভ স্মিথ।
সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সারে দারুণ এক শটে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান মিরাজ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ১১৭ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ১২ রানে ব্যাট করছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ।
ছবি : সংগৃহীত
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ যখন চালকের আসনে, তখনই মাঠে উত্তাপ ছড়াল মেহেদী হাসান মিরাজ ও মিচেল স্টার্ক। মিরাজের একটি সিঙ্গেল নেওয়ার সময় উইকেটের মাঝের অংশ দিয়ে দৌড়ানোকে কেন্দ্র করে স্টার্কের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি বেশি দূর গড়ানোর আগেই আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা হস্তক্ষেপ করে দুজনকে শান্ত করেন।
ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের ১০৩তম ওভারে, স্টার্কের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে। স্টার্কের শর্ট অব লেংথের বল পয়েন্টের দিকে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিতে দৌড়ান মিরাজ। বলের দিকে তাকিয়ে দৌড়াতে গিয়ে তিনি স্টার্কের সামনে চলে আসেন। এরপর স্টার্ককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় উইকেটের মাঝের সুরক্ষিত অংশ দিয়েই দৌড়ান বাংলাদেশের ব্যাটার।
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের রানআপ ও ফলো-থ্রুর মতো ব্যাটারদেরও পিচের মাঝের সুরক্ষিত অংশ এড়িয়ে উইকেটের মধ্যে দৌড়ানোর কথা। বিষয়টি নজরে আসে আম্পায়ার ধর্মসেনার। রানটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি মিরাজের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে সতর্ক করেন। তখন মিরাজ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। বল দেখতে গিয়ে সামনে কী ছিল, তা খেয়াল করতে পারেননি বলে জানান তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমি দেখতে পারিনি।’
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন স্টার্ক। স্টাম্প মাইক্রোফোনে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসারের কণ্ঠও শোনা যায়। মিরাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ফলো-থ্রু, এখন তোমার ফলো-থ্রু। উইকেট থেকে সরে যাও।’ এরপর নিজের বোলিং মার্কে ফিরে যাওয়ার সময়ও স্টার্ককে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি এখন আর বাংলাদেশে নেই।’
তবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং মনে করেন, মিরাজ ইচ্ছা করে পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়াননি। চ্যানেল সেভেনে ম্যাচ বিশ্লেষণের সময় তিনি মিরাজের পক্ষেই অবস্থান নেন। পন্টিং বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় না এটা ইচ্ছাকৃত ছিল।’ তার ব্যাখ্যা, মিরাজ যখন সামনে তাকান, তখন স্টার্ক তার পথে ছিলেন। ফলে দ্রুত দৌড়ানোর সময় অস্ট্রেলিয়ান পেসারকে পাশ কাটাতে গিয়ে তিনি পিচের মাঝের দিকটিই বেছে নেন। ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকোলসন অবশ্য মনে করেন, স্টার্কের এমন উত্তেজিত হওয়া দলের হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।
দিনের খেলার চিত্রও অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার হতাশারই। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান করেছে। তানজিদের সেঞ্চুরি এবং শান্তর ৮৪ রানের পর শেষ দিকে মিরাজ ও হাসানের প্রতিরোধে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ এবং হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। ফলে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের লিড আরও বড় করার সুযোগ রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ডারউইনে রীতিমতো আগুন ঝরালেন বাংলাদেশি পেসাররা। হাসান মাহমুদ-এবাদত হোসেনদের তোপের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি অজিরা। হাসান একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। টাইগার পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানও করতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৫৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেছেন হাসান।
ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বলের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগান তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। বিশেষ করে হাসান দুর্দান্ত ছিলেন। দুই দিকেই সুইংয়ের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সও আদায় করে নেন এই পেসার। তার করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন ট্রাভিস হেড। তবে বল পড়ে নিরাপদ জায়গায়। ফলে সেই যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার।
নিয়মিত ভালো লাইন-লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে কিছুটা সময় লেগেছে বাংলাদেশের। প্রথম ব্রেকথ্রু পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২তম ওভার পর্যন্ত। চতুর্থ বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে করেন হাসান। সেখানে ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপার লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। ২৩ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
নিজের ফিরতি ওভারে আবারো আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। ১৪ তম ওভারে চতুর্থ বলে গুড লেংথ থেকে ইন সুইং করা বল ব্যাটের ভেতরের দিকের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ফেরার আগে হেড করেন ২২ রান।
১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেটা রাখতে পারেননি। জায়গায় দাঁড়িয়েও বল হাতে জমাতে না পারায় মাথায় হাত দেয় পুরো বাংলাদেশ! তবে নিজের প্রথম শিকার ধরতে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। ফিরতি ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফেরান এই পেসার।
১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করেছিলেন এবাদত। সেখানে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট সাইড এজে বল যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আর কোনো ভুল করেননি। ২০ বল খেলে মাত্র এক রান করতে পেরেছেন ল্যাবুশেন।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অজিদের উদ্ধার করতে কাউন্টার অ্যাটাক বেছে নেন ক্যামেরুন গ্রিন। তাসকিনের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের সেই আক্রমণাত্মক মনোভাবের সুযোগ নিতে ফাঁদ পাতে বাংলাদেশ। আর তাতেই পা দেন এই অজি ব্যাটার। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেছিলেন তাসকিন। সেখানে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন গ্রিন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। তাতে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অজিরা।
লাঞ্চের পর বাংলাদেশি পেসারদের সাবলীল ভাবেই খেলছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। এই সময়ে দ্রুত রানও তুলছিলেন এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে বড় জুটি গড়ার পথে হাঁটছিল অজিরা। ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন এবাদত হোসেন।
৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে কিছুটা ভেতরে ঢুকেছিল। সেখানে পাঞ্চ করতে চেয়েছিলেন ক্যারি। কিন্তু ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল চলে যায় স্টাম্পে। ১৯ রান করে ক্যারি ফেরায় ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।
ক্যারি ফেরার পর উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে ১০ বলে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন এই পেসার। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশ। দুজনের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারায় অজিরা।
চা বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন স্মিথ। তাতে হিতে বিপরীত হয়। হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করার চেষ্টা করলে টপ এজ হয়ে বল সোজা উপরে উঠে যায়। ৭১ রান করা স্মিথকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন হাসান। এরপর নাথান লায়নকেও ফেরান এই পেসার। তাতে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি।
জাভি হার্নান্দেজ
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শেষেই একের পর এক নতুন কোচ পাচ্ছে দলগুলো। জার্মানিতে ইয়ুর্গেন ক্লপ, ফ্রান্সে জিনেদিন জিদান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন কদিন আগেই। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলেন জাভি হার্নান্দেজ। নেদারল্যান্ডসের কোচ হয়ে মনে করালেন ৪৮ বছরের পুরোনো এক ঘটনা।
জাভিকে গতকাল চার বছরের চুক্তিতে নিয়েছে রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএনভিবি)। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্বে থাকছেন তিনি। দীর্ঘ ৪৮ বছর পর ডাচ ফুটবল দল পেল কোনো বিদেশি কোচ। ১৯৭৮ সালে অস্ট্রিয়ান কোচ আর্নস্ট হ্যাপেল দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনিই প্রথম নন-ডাচ কোচ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নিচ্ছেন জাভি।
জাভি মূলত রোনাল্ড কোমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ার পর নেদারল্যান্ডসের কোচের দায়িত্ব ছাড়েন কোমান। কোচ হওয়ার পর জাভি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। বার্সেলোনার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা একজন খেলোয়াড় হিসেবে, যেখানে ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনাস মিশেলসের মতো ব্যক্তিত্বদের দর্শনের গভীর প্রভাব ছিল। নেদারল্যান্ডসের ফুটবলের সঙ্গে এক ধরনের টান অনুভব করি।’
খেলোয়াড় হিসেবে জাভির ক্যাবিনেট শিরোপায় টইটুম্বুর। বার্সেলোনার হয়ে আটবার লা লিগা, চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগ, ছয়বার স্প্যানিশ সুপার কাপ, তিনটি কোপা দেল রে, দুইবার করে সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ জিতেছেন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েই। ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরোও জেতেন তিনি। এ ছাড়া কাতারের ক্লাব আল সাদের জার্সিতেও চারবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পান জাভি।
আল সাদ-বার্সেলোনাকেও কোচ হিসেবে শিরোপা জেতানো জাভি নেদারল্যান্ডসের কোচ হতে পেরে গর্ব অনুভব করছেন। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন, আমি আংশিকভাবে ডাচ ফুটবলেরই সন্তান। লুইস ফন গাল—যাঁর অধীনে বার্সেলোনায় আমার অভিষেক হয়েছিল—এবং ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের মতো অন্যান্য গ্রেট কোচরাও একজন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আমাকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’
নেদারল্যান্ডসের কোচ হওয়ার সঙ্গে তিন বছরের আগের এক ঘটনারও মিল করিয়েছেন জাভি। ২০২১ সালে জাভি বার্সেলোনার কোচ হয়েছিলেন রোনাল্ড কোমানের পরিবর্তেই। তাঁর অধীনেই বার্সা ২০২২-২৩ মৌসুমে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল।
এবার ডাচ কোচ হয়ে চার বছর পর কোচিং ক্যারিয়ারে ফিরেছেন জাভি। ২০২৪ সালে বার্সেলোনার কোচের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন তিনি। নেদারল্যান্ডের কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম ম্যাচ ২৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে নেদারল্যান্ডস-জার্মানি ম্যাচ। এই ম্যাচে ডাচরা স্বাগতিক।
শমিত
বর্তমানে আমেরিকান ফুটবলের তৃতীয় স্তরে খেলা এই ক্লাবেই শমিতের যোগদানের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। যদিও এখন পর্যন্ত শমিত বা ক্লাব কর্তৃপক্ষ কেউই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
তবে নেট দুনিয়ায় এই সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিয়ে উত্তেজনার কমতি নেই। শমিতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথচলাটা বেশ বৈচিত্র্যময়। ক্যারিয়ারের শুরুতে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডার জাতীয় দলের জার্সিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
তবে গত বছর বাবা-মায়ের মাতৃভূমির টানে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এই মিডফিল্ডার। লাল-সবুজের জার্সিতে সুযোগ পাওয়ার পর খুব দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন তিনি।
২০২৫ সালের জুনে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের হয়ে তার অভিষেক হয়। অভিষেকের চার মাসের মাথায় হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি আদায় করে নেন তিনি। দেশের জার্সিতে খেলার পর থেকেই তার ক্যারিয়ার এবং পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি নজর কেড়েছে।
গত জানুয়ারিতে দীর্ঘ তিন বছরের বর্ণিল সম্পর্কের পর ক্যাভালরি এফসি ছাড়েন শমিত। তারপর থেকেই ফ্রি এজেন্ট বা মুক্ত খেলোয়াড় হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন তিনি।
নিউ ইয়র্ক কসমসের মতো ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত ক্লাবে যদি তার এই যাত্রা সত্যি হয়, তবে তা শুধু শমিতের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই নয়, বরং সামগ্রিক অর্থে বাংলাদেশি ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্যও এক দারুণ প্রাপ্তি হবে।
পেলের স্মৃতিধন্য আঙিনায় লাল-সবুজের জার্সির এই কান্ডারী শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখান কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।
রোনালদো ও জর্জিনা
বিয়ের ফুল ফুটল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ কিংবদন্তি এখন বিবাহিত। কয়েক দিন ধরেই রোনালদোর বিয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। গতকাল মঙ্গলবার সেটাই সত্যি হলো। পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন রোনালদো। বাগ্দানের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক বছর পর তাঁরা বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন।
রোনালদোর বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর প্রতিনিধিরা। এর মধ্য দিয়ে জর্জিনা ও রোনালদোর দীর্ঘ এক দশকের প্রেম পূর্ণতা পেল। রোনালদোর জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্রান্সউইক গ্রুপ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া’ এই অনুষ্ঠানে দম্পতির পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল।
বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেন রোনালদো। জর্জিনার হাতের ওপর তাঁর হাত, দুজনের অনামিকায় আংটি। ক্যাপশনে ‘সি’ ও ‘জি’ দুটি শব্দের মাঝে ভালোবাসার একটি ইমো। সমর্থকেরা তাতেই যা বোঝার বুঝে নেন।
রোনালদোর বাগ্দত্তা হওয়ার খবর গত বছর ১১ আগস্ট ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জানান জর্জিনা। অনামিকায় বেশ বড়সড় একটি আংটি পরে রোনালদোর হাতের ওপর হাত রাখার ছবি পোস্ট করেন। ঠিক এক বছরের মাথায় উল্টে গেল হাতের ওপর হাত রাখার ছবিটি—এখন জর্জিনার হাতের ওপর রোনালদোর ভরসা ও ভালোবাসামাখা হাতখানি। আইনগতভাবে দুজনে এখন স্বামী-স্ত্রী।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলোয় গুঞ্জন ছিল, লিসবনের বাইরে সিনত্রা বা আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দ্বীপ মাদেইরায় রোনালদোর জন্মশহরে এ বিয়ে হতে পারে। মাদেইরার ফুনশালের এক গির্জায় বিয়ে হচ্ছে—এমন খবর চাউর হওয়ার পর সেই গির্জার সামনে শত শত মানুষ ভিড় করেন। কিন্তু পরে দেখা গেল বর-কনে এলেও তাঁরা রোনালদো ও জর্জিনা নন!
গির্জাটির কর্তৃপক্ষ আগেই এএফপিকে জানিয়েছিল, রোনালদোর বিয়ের অনুষ্ঠান সেখানে নির্ধারিত নেই। তবে এমন একটি আয়োজন করতে পারা তাদের জন্য ‘সম্মানের’ হতো বলেও জানায় তারা। শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে সৈকত শহর কাসকাইসকে বিয়ের ভেন্যু হিসেবে বেছে নিলেন রোনালদো-জর্জিনা। সেখানে তাঁদের একটি ভিলা রয়েছে।
৩২ বছর বয়সী জর্জিনার জন্ম আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। ২০১৬ সালে মাদ্রিদে গুচির একটি শোরুমে জর্জিনা বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় দুজনের মধ্যে পরিচয় থেকে প্রণয়ের সূত্রপাত। জর্জিনার ভাষায় সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’।
২০২৫ সালে ভোগ অ্যারাবিয়া সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জর্জিনা জানান, রোনালদোর সান্নিধ্যে আসার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ‘আমরা একে অপরকে চিরকাল ধরে চিনি।’ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার বর্ষসেরা ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে দুজন একসঙ্গে জনসমক্ষে হাজির হন প্রথমবারের মতো। সে বছরই মে মাসে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জর্জিনার সঙ্গে মন দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান রোনালদো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জুটির অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি। ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁরা বিশ্বের অন্যতম পরিচিত তারকা জুটি। ফ্যাশন ব্র্যান্ড, হোটেল চেইনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের বিনিয়োগের পোর্টফোলিও রয়েছে।
রোনালদোর বড় ছেলের নাম ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ২০১০ সালে জন্ম নেওয়া জুনিয়রের মায়ের পরিচয় পর্তুগিজ কিংবদন্তি কখনো প্রকাশ করেননি। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেটের মাধ্যমে ইভা মারিয়া ও মাতেওয়ের বাবা হন আল নাসরের এই তারকা। পাঁচ মাস পর তাঁর প্রেমিকা জর্জিনার কোল আলো করে জন্ম নেয় অ্যালানা মার্টিনা। ২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভেই জন্মায় দুই যমজ সন্তান বেলা ও অ্যাঞ্জেল। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মারা যায় অ্যাঞ্জেল।
পেশাদার ক্যারিয়ারে ৯৭৬ গোল করেছেন রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাসের হয়ে মাঠ মাতানোর পর এখন খেলছেন সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরে। এই পথে জিতেছেন পাঁচটি ব্যালন ডি’অর। পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও ইংল্যান্ডে জিতেছেন লিগ শিরোপা। পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোলের রেকর্ডও রোনালদোর।