স্যামসনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে উইন্ডিজ ১৯৫ রান করেও জিততে পারেনি
ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে বিদায় করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলমান ১০ম আসরের সেমিফাইনালে উঠে গেল ভারত। বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে উইন্ডিজ ১৯৫ রান করেও জিততে পারেনি। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে আজ ভারত ৫ উইকেটের দাপুটে জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে ভারত ছিল অপ্রতিরোধ্য।
গ্রুপ পর্বে টিম ইন্ডিয়া যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া, চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ৪ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সুপার এইটে উঠে যায়। কিন্তু সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে সেমিফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণে পড়ে যায় ভারত।
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন সঞ্জু স্যামসন। তার ঝলমলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল পাঁচ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে নিশ্চিত করেছে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড।
অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে ওঠা এই সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ৬৭ হাজার দর্শকে ঠাসা গ্যালারিকে উচ্ছ্বাসে ভাসান স্যামসন। মাত্র ৫০ বলে ১৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস ছিল নিখুঁত টাইমিং ও আত্মবিশ্বাসের প্রদর্শনী। শুরু থেকে চাপ সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এই উইকেটকিপার–ব্যাটার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝপথে কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারত। তবে স্যামসনের দৃঢ়তা ও ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে বাকি কাজ সেরে দেন সতীর্থদের সহায়তায়।
সুপার এইটে প্রথম ম্যাচে হারায় ভারতের জন্য সমীকরণ ছিল; সেমিফাইনালে যেতে হলে শেষ দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে হারাতে হবে। এই কঠিন কাজটি ভারত ঠান্ডা মাথায় করে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২৫৬ রানের রেকর্ড গড়ে ভারত জয় পায় ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে।
আজ ভারত এবং ওয়েষ্ট ইন্ডিজ দুই দলের জন্যই ছিল সুবর্ণ সুযোগ। যারা জিতবে তারা চলে যাবে সেমিফাইনালে। এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে চলে গেল টিম ইন্ডিয়া।
১২০ বলে ১৯৬ রানের টার্গেট তাড়ায় ৪ বল আগেই জয় নিশ্চিত করে ভারত। দলের জয়ে ৫০ বলে ১২টি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৯৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন। এছাড়া ১৫ বলে ২৭ রান করেন তিলক ভার্মা।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান করে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রোস্টন চেজ। তিনি ২৫ বলে ৫টি চার আর এক ছক্কায় এই রান করেন।
২২ বলে দুই চার আর তিন ছক্কায় ৩৭ রান করেন জেসন হোল্ডার। ১৯ বলে তিন চার আর দুই ছক্কায় ৩৪ রান করেন রোভম্যান পাওয়েল। ১২ বলে এক চার আর দুই ছক্কায় ২৭ রান করে ফেরেন সিমরন হিতমার।
আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের পর এই প্রথম মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে এরই মধ্যে অনেক কিছু বদলে গেছে লাতিন জায়ান্টদের। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি অবসর নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেই লিসান্দ্রো পারেদেস, অবসর নিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি।
তাদের জায়গায় কাদের খেলাবেন, সে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে মেসি থাকলেও আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষেই কেবল খেলবেন তিনি। সেটি তাঁর বিদায়ী ম্যাচও। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় শুরু হতে যাওয়া বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তরুণদের সুযোগ দিতে পারেন কোচ স্কালোনি।
দুদিনের বিরতি শেষে গত সোমবার বিকেল থেকে আবার অনুশীলন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা দল। এজিজায় ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলন শুরুর আগে স্কালোনি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়েই লম্বা আলোচনা সারেন। বলিভিয়ার বিপক্ষে একাদশ কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো ধারণা দেননি আর্জেন্টিনার কোচ। তবে অনুশীলন দেখে কিছুটা আঁচ পাওয়া গেছে একাদশ কেমন হবে।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ নিশ্চিত; রক্ষণে কুতি রোমেরা ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা যেতে পারে অগাস্তিন গিয়াই ও ফাকুন্দো মেদিনাকে। চার মিডফিল্ডার এজিকুয়েল প্যালাসিওস, ম্যাক এলিস্টার, ভ্যালেন্তিনো বারকো ও নিকোলাস পাজ। দুই স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।
জোড়া গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল
আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জয়ের দিন দ্বিতীয় মিনিটেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল। এবার ক্রোয়েশিয়াকে পেয়েও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করলেন। এই ম্যাচে অবশ্য আরও প্রাণবন্ত ইয়ামাল। তার জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়াট বাহিনী ৪-১ গোলে উড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সেভিয়ার রামন সানচেজ পিসহুয়ান স্টেডিয়ামে লিগ ‘এ’-এর গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচে জয় তুলে নেয় স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারানো স্পেন মঙ্গলবার শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিক অফ বাঁশির পর মাত্র ৭০ সেকেন্ডেই দলকে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। এতে অবশ্য অন্যদের কৃতিত্বও কম নয়। মার্ক কুকুরেয়া ও আলেক্স বায়েনার সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণে বল যায় বক্সের কাছাকাছি থাকা ফেরমিন লোপেসের দিকে। তবে নিজে বল না নিয়ে ছেড়ে দেন ইয়ামালের জন্য। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরায় ২৮ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে ইভান পেরিসিচের নিখুঁত ক্রসে স্পেনের দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে উঠে হেডে গোল করেন ডিওন দ্রেনা বেল্লো।
তবে সমতা বেশিক্ষণ থাকেনি। মাত্র ৩ মিনিট পরেই ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে গোল করে স্পেনকে আবার ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মার্ক পিউবিল।
দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। ৬৩ মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে বেশ কঠিন কোণ থেকে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। আন্তর্জাতিক বিরতিতে স্পেনের হয়ে দুই ম্যাচে তার গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান দাঁড়াল চারটি। ৬৮ মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারির দর্শকদের দাঁড়িয়ে দেওয়া সংবর্ধনা পান এই তরুণ বার্সা তারকা।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার হয়ে মাঠে নামেন ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি লুকা মদরিচ। তবে তিনি নেমেও ব্যবধান কমাতে পারেননি। উল্টো ৮৯ মিনিটে স্কোরলাইন ৪-১ করে ফেলেন উইলিয়ামস। রদ্রি, পেদ্রি ও মিকেল মেরিনোর সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষকের সামনে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান উইলিয়ামস। মজার বিষয়, এই গোলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চার স্প্যানিশই মাঠে নেমেছেন বদলি হিসেবে।
টানা দুই জয়ে নেশনস লিগের দারুণ সূচনা করা স্পেন তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী ৩ অক্টোবর চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে। একই দিনে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
এর আগে, ১৯ জুলাই স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফিটা জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, এরপর দেশে ফিরে ট্রফি নিয়ে উদ্যাপন হয়েছিল বটে, তবে সেটি ছিল রাজপথে, গ্যালারির সামনে নয়।
২০২৬ বিশ্বকাপ জেতার পর চ্যাম্পিয়ন স্পেন ঘরের মাঠে প্রথম খেলতে নেমেছে আজ। সেভিয়ায় ম্যাচ শুরুর আগে তাই ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরে দর্শকদের দেখিয়েছেন অধিনায়ক রদ্রি।
এরপর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের যে ম্যাচটি রদ্রিরা খেললেন, তাতেও মিশে থাকল বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বার্তাই।
কোহলি নিজেও ফ্লিক শট ভালো খেলেন
ওয়ানডেতে বিরাট কোহলির ব্যাটিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড তাঁর (৫৫)। এখন ছুটছেন সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডে।
এরপরও ‘আলটিমেট’ ওয়ানডে ব্যাটসম্যান বানাতে গিয়ে কোহলি নিজেকে রাখেননি। সাতজন কিংবদন্তিকে বেছে নেন কোহলি।
গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে স্টার স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলিকে বলা হয়েছিল, শট ধরে ধরে তাঁর ‘আলটিমেট ওয়ানডে ব্যাটসম্যান’ বেছে নিতে। কোহলি তাতে রাখেননি নিজেকে, রাখেননি মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও!
শুরুটা হলো স্ট্রেট ড্রাইভ দিয়ে। এখানে কোহলির একটুও দ্বিধা ছিল না। থাকার কথাও নয়। এই শটের জন্য কোহলি বেছে নেন শচীন টেন্ডুলকারকে।
এরপর কাভার ড্রাইভ। এই শটের সঙ্গে কোহলির নিজের নামটাও অনেকের মুখে উঠে আসে। ক্যারিয়ারজুড়ে তাঁর কাভার ড্রাইভ মায়াঞ্জন মেখেছে অনেকের চোখে। কিন্তু কোহলি কাভার ড্রাইভে বেছে নিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারাকে। সাঙ্গাকারার কাভার ড্রাইভও ছিল একই সঙ্গে টেকনিক্যালি নিখুঁত এবং দেখতে দারুণ।
এরপর ফ্লিক শট। এই শটেও কিন্তু অনেকেরই প্রিয় কোহলি। কবজির মোচড়ে কোহলি এই শট দারুণ খেলেন। ভারতের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনও এই শটকে নিজের ‘ট্রেডমার্ক’-এ পরিণত করেছিলেন।
কিন্তু কোহলির পছন্দ আরেক কিংবদন্তি- রাহুল দ্রাবিড়। কাট শটের জন্য কোহলি বেছে নিয়েছেন বীরেন্দর শেবাগকে। এতে খুব একটা অবাক হওয়ার সুযোগ নেই। ভারতের সাবেক ওপেনারের ব্যাটিংয়ে স্কয়ার কাট ছিল নিয়মিত বাউন্ডারি মারার অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
এরপর সুইপ। কোহলি এই শটে পছন্দের খেলোয়াড় বেছে নিতে খানিকটা সময় নেন। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাথু হেইডেনের নামটা বললেন। ছক্কার জন্য অবশ্য কোহলির পছন্দ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে হয়নি। সঙ্গে সঙ্গেই বলে দিলেন- ক্রিস গেইল। একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড ছিল গেইলের। ৫৫৩টি ছক্কা মেরেছেন। পরে রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন রোহিত শর্মা। তাঁর ছক্কা এখন ৬৬৫টি।
গেইলের ছক্কার প্রতি কোহলির আলাদা টান থাকার কারণও আছে। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে গেইলের সঙ্গে খেলেছেন কোহলি। খুব কাছ থেকে দেখেছেন গেইলের ব্যাটিং।
সর্বশেষে ছিল রানিং বিটুইন দ্য উইকেট। এখানেই এল সবচেয়ে বড় চমক। এই বিভাগে ভারতের কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নয়, কোহলি বেছে নিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আরেক সাবেক বেঙ্গালুরু সতীর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে কোহলির বন্ধুত্ব অনেক দিনের। একসঙ্গে উইকেটে থাকলে কী করতে পারেন, আইপিএলে বারবার সেটা দেখিয়েছেন।
তবে ধোনির সঙ্গে উইকেটে সময় কাটাতে পছন্দ করেন কোহলি। তিনি নিজেই এ কথা বলেছিলেন। তবে দুজনের মধ্যে হয়তো অন্য প্রান্তে ডি ভিলিয়ার্স থাকলেও বেশি স্বচ্ছন্দে থাকেন কোহলি।
ছবি : সংগৃহীত
বেলজিয়ামের বিপক্ষে দারুণ একক নৈপুণ্যে গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দিয়েছেন মাইকেল অলিসে। তার ৮৮ মিনিটের গোলেই বেলজিয়ামকে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ফ্রান্স।
জিনেদিন জিদানের অধীনে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে শুক্রবার তুরস্কের বিপক্ষে জেতা ম্যাচের একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছিল ফ্রান্স। তবে ব্রাসেলসে বেলজিয়ামের জমাট রক্ষণ ভাঙতে শেষ পর্যন্ত বেঞ্চের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাদের।
৮৮ মিনিটে নিজের অর্ধে কাঁধ দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার অলিসে। এরপর দুর্দান্ত গতিতে সামনে এগিয়ে এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে নিচের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
তার এই অসাধারণ একক প্রচেষ্টাতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটিতে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল।
তবে স্কোয়াডে ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় এই ম্যাচে তাকে দলে রাখা হয়নি। ফলে আক্রমণভাগে বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন দেজিরে দুয়ে। পাঁচবার গোলের চেষ্টা করেও জালের দেখা পাননি তিনি। এর মধ্যে একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অভিষেক হওয়া লুকাস দা কুনহাও একটি শটে পোস্টে বল লাগান।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের দুই উইঙ্গার মিকা গডটস ও দোদি লুকেবাকিও ফ্রান্সের রক্ষণে বেশ চাপ তৈরি করেছিলেন। তবে অভিজ্ঞতাহীন ফরাসি রক্ষণভাগের বিপক্ষে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারেননি তারা।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এ১’-এর শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। আগামী শুক্রবার ইতালির বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। একই দিনে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ তুরস্ক।
ভোজিনিয়া
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য পথচলায় বড় ভূমিকা রেখে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে মাঠের সাফল্যের পর পাওয়া বিপুল জনপ্রিয়তা এখন তার কাছে অনেকটাই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবনের শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এমনকি সুযোগ পেলে আগের সাধারণ জীবনেই ফিরে যেতে চান।
গোল ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের পর ক্যারিয়ারে নতুন দরজা খুলে যায় ভোজিনিয়ার। চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে খেলা এই গোলরক্ষক ‘দ্য অবজারভার’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
ভোজিনিয়ার কাছে খ্যাতির এই পরিবর্তন এতটাই বড় যে, বর্তমান জীবন ও আগের জীবনের মধ্যে বেছে নেয়ার সুযোগ পেলে তিনি পুরোনোটিই বেছে নেবেন। তার ভাষায়, বর্তমান জীবনের তুলনায় আগের জীবনই তার কাছে বেশি স্বস্তির ছিল।
বিশ্বকাপের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোজিনিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেটিই রাতারাতি বেড়ে যায় মিলিয়নের ঘরে।
তবে এই খ্যাতির সঙ্গে আসা বাড়তি মনোযোগ তার কাছে মোটেও স্বস্তির নয়। ভোজিনিয়া বলেন, আগের মতো ব্যক্তিগত পরিসর এখন আর নেই। বাইরে বের হলে কিংবা রেস্তোরাঁয় গেলেই ভক্তরা ছবি ও অটোগ্রাফের জন্য ছুটে আসেন। কেউ কেউ আবার অনুমতি না নিয়েই ভিডিও করতে শুরু করেন।
বিশ্বকাপের আগে যে স্বাভাবিক জীবন ছিল, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে বলে জানিয়েছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। তার মতে, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর জীবনে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটি হলো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হারিয়ে যাওয়া।
ভোজিনিয়ার পরিবারও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। কেপ ভার্দেতে থাকা তার বাবা-মায়ের বাড়িতে মাঝেমধ্যে সমর্থকেরা হাজির হয়ে যান। তারা কখনো ভোজিনিয়ার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে, আবার কখনো ছবি তুলতে চান। তার বাবা অবশ্য এসব পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এ নিয়ে ভোজিনিয়ার আক্ষেপ, তিনি দেশের বাইরে থাকায় বাবা-মায়ের পাশে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। ফলে সমর্থকদের সঙ্গে কীভাবে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, সেটি তার পরিবারকেই শিখে নিতে হচ্ছে।
সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তান
বৃষ্টির কারণে খেলা ভেস্তে যাওয়ার কারণে ভারত ও পাকিস্তান এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত ফলাফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান হংকংয়ের বিপক্ষে পরবর্তী ধাপে উন্নীত হয়েছে। শেষ চারে ভারত খেলবে শ্রীলঙ্কা অথবা নেপালের বিপক্ষে এবং পাকিস্তান মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ অথবা মালয়েশিয়ার।
যদি ম্যাচগুলো পুরোপুরি ভেস্তে যায়, তবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উন্নীত হবে।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে এই টুর্নামেন্টের জন্য শীর্ষ বাছাই (সিডেড দল) হিসেবে রাখা হয়েছিল এবং তারা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসও খুব একটা ভালো নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইফুন ‘সুরিগে’ জাপানের দিকে ধেয়ে আসছে এবং এটি আইচি-নাগোয়া গেমসের বাকি অংশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টাইফুনের প্রভাবে আইচি এবং মধ্য জাপানের অন্যান্য অঞ্চলে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হবে।
এর আগে ভারতের নারী দল সফলভাবে তাদের টি-টোয়েন্টি স্বর্ণপদক ধরে রেখেছিল, কিন্তু পুরুষদের বিভাগটি আবহাওয়ার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি বৃষ্টি খেলা পণ্ড করতে থাকে, তবে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাপকাঠি।
হাংঝুতে অনুষ্ঠিত আগের এশিয়ান গেমসেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল; সেখানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারতকে স্বর্ণপদক এবং আফগানিস্তানকে রৌপ্যপদক দেওয়া হয়েছিল। এর অর্থ হলো, যদি বাকি সব ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় তবে ভারত তাদের স্বর্ণপদক ধরে রাখবে কারণ তারাই এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ র্যাঙ্কিংধারী দল।
নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে সকালে অনুষ্ঠেয় প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল হংকং, চীন; কিন্তু অবিরাম বৃষ্টির কারণে টস হওয়ার আগেই ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হন কর্মকর্তারা। বিকেলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার কথা থাকলেও মাঠ ভেজা থাকায় টসের আগেই সেই ম্যাচটিও বাতিল করা হয়।
সোমবার নিশিনে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ভারত ও পাকিস্তান ২০২৬ এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে- ভারত ১ নম্বর ও পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে- মাঠে না নেমেই দল দুটি সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে। ফলে আফগানিস্তান ও হংকং, চীন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে।