জব্দ তালিকা নিয়ে প্রশ্ন, সাক্ষী হওয়ার অভিযোগে ‘ভয়ভীতি’

সাক্ষী ও আসামির ভিন্ন বক্তব্যে ইয়াবা কাণ্ডে ধোঁয়াশা

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৮:০৬ এএম

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানায় দায়ের করা একটি মাদক মামলাকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথিতে ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হলেও, আসামি ও মামলার সাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল দায়ের হওয়া এ মামলার বাদী লোহাগাড়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) মাঈন উদ্দিন। এজাহার অনুযায়ী, ওইদিন রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এসময় কক্সবাজারমুখী একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল থামিয়ে চালক মোঃ মাকসুদ আলম সাগর (২৫)-কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে আসামি তার কাছে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে মোটরসাইকেলের ইয়ার বক্সে বিশেষভাবে লুকানো ২০টি প্যাকেট থেকে মোট ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার ওজন ৩৮৫ গ্রাম বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।


তবে এই বিবরণের সঙ্গে একমত নন আসামি নিজেই। ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তার কাছে প্রকৃতপক্ষে ১২ হাজার পিস ইয়াবা ছিল। কিন্তু মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৪ হাজার পিস। তার অভিযোগ, বাকি ৮ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।


এদিকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। মামলার ২ নম্বর সাক্ষী ছালামত করিম (২৫) জানান, তিনি একজন দিনমজুর। ঘটনার দিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ তাদের বহনকারী সিএনজি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।


তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে পুলিশ তাদের মাদক মামলার সাক্ষী হতে বলে। রাজি না হলে মাদক মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে সাদা কাগজে নাম-ঠিকানা লিখে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।


একই ধরনের অভিযোগ করেছেন মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী মোঃ আজাদ (২২)। তিনি বলেন, তল্লাশির সময় কিছু ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে ছিলেন না এবং তাকে সাক্ষী হতে অস্বীকৃতি জানালে ইয়াবা ব্যবসার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।


উভয় সাক্ষীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, তারা কেউই নিজ চোখে ইয়াবা উদ্ধার হতে দেখেননি। তাদের অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাক্ষী বানানো হয়েছে।


অন্যদিকে, মামলার বাদী এসআই মাঈন উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আসামিরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলে থাকে। আমরা মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছি এবং সেটিই মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল।


তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন লোহাগাড়া থানার ওসি (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে স্বল্প সময় উপস্থিত ছিলেন এবং কোনো ভিডিও ধারণ করেননি। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কাউকে জোরপূর্বক সাক্ষী করা আইনসম্মত নয় এবং এমন অভিযোগ সত্য হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।


লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি শুনে পরে মন্তব্য করার কথা জানান। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরিশালের বাসিন্দা মাকসুদ আলম সাগর কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।


ঘটনাটি এখন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জব্দ তালিকায় গরমিল, সাক্ষ্যগ্রহণের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্টদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ এএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে দুইজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুল হক ও মোসাদ্দেক হোসেন।


দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত.কাজী ওয়াজী উল্ল্যার ছেলে আব্দুল কাদের (৫১) ও একই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মো. নুর ইসলাম (২৩)।


অভিযান সূত্রে জানা যায়, বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের মাধ্যমে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলেই তাদের দুজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরও বলেন, মাদক  নিমূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ এএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বামুনী পাড়ায় প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনালশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাইবান্ধা সদর এর আয়োজনে কৃষাণীদের নিয়ে বামুনীপাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পুষ্টি) বিষয়ক সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঐ স্কুলে ২৫ জন কৃষাণীদের মাঝে ১০ টি সেশনে পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।


উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আঃ রহমান, ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, প্রশিক্ষণের ট্রেইনার এটিএম মশিউর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম মন্ডলসহ আরও অনেকে।


কৃষাণীরা জানান, কৃষি অফিসের এই প্রশিক্ষণ পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। পাশাপাশি পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতায় অনেক উপকারী তথ্য পেয়েছি। কোন পদ্ধতিতে রান্না করলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যাবে সেটাও জেনেছি।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার ১১ মাইল নাককাটি এলাকায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থীসহ অটোরিকশার চালক আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভূল্লী থানাধীন ১১ মাইল নাককাটি এলাকায় কৃষ্ণ চন্দ্রের চাতাল সংলগ্ন পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়গামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বোদা থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালক মো. আজিজার রহমান (৪৫) এবং অটোরিকশায় থাকা পাঁচ শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন (১৫), স্নেহা রায় (১৪), তাসনিম আক্তার (১৪), সুমাইয়া আক্তার সাথী (১৩) ও আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।


দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সড়কে অবস্থান নিয়ে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।


খবর পেয়ে ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন, ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী এবং বোদা হাইওয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. সেলিম রেজা মুক্তা (৫৫)কে ভূল্লী থানা পুলিশ আটক করেছে। তিনি পাবনা জেলার বেড়া থানার শম্ভুপুর এলাকার বাসিন্দা।


ভূল্লী থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪৫ পিএম

নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে বেদেপল্লীকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।


আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মান্নান নগর বাজার এলাকার লালঘর সংলগ্ন মুকবুল আহমেদ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো। এ সময় অন্যান্যের বক্তব্য রাখেন- এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকব হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা মাজহারুল হক চৌধুরী শিবলু, সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশীদ বাবর, সামছদ্দিন ড্রাইভার ও সেলিম চৌধুরীসহ স্থানীয়রা।


সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া এলাকায় ২০১০ সালের দিকে নৌকা ও যাযাবর জীবন ছেড়ে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলেন। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ পরিবারের বসবাস রয়েছে।


তাদের অভিযোগ, স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে সামাজিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করলেও বেদেপল্লীর বৃহৎ একটি অংশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তারের কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, বেদেপল্লীতে বসতি গড়ে ওঠার আগে এলাকায় মাদকের এমন বিস্তার ছিল না। বেদেরা বসবাস শুরুর পর থেকে এখানে মাদকের ডিলারদের তৎপরতা বেড়েছে। বেদের সঙ্গে সরাসরি মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মাদক প্রচারকারীদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা সেখান থেকে মাদক এনে এখানে বিক্রি করছে।


সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদক যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকেও ভূমিকা রাখতে হবে।


তিনি আরও বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয়দের এমন উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান এবং মাদক নির্মূলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে আটচল্লিশ বছর বয়সী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী চারজনকে আসামি করে সেনবাগ থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো.লিংকন (২৭) নামে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।


গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নে পূর্ব শ্যামেরগাঁও  গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি প্রায় ২০ সেকেন্ডের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মুঠোফোনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। একপর্যায়ে ওই নারীর হাতে কয়েকটি মুরগি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।


গ্রেপ্তার লিংকন উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের কাজিরখীল গ্রামের ফরাজি বাড়ির মো.মোস্তফার ছেলে।  


এ ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন নির্যাতনের শিকার নারী। তিনি অভিযোগ করেন, মুরগি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।


মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন গৃহিনী। পাশাপাশি বাড়িতে মুরগি ও কোয়েল পাখির কামার দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্বামী ও এক ছেলে প্রবাসে থাকেন।  আসামিদের সঙ্গে তার জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তার ঘরে ঢুকে মুঠোফোন কেড়ে নেন এবং জোর করে পাশের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে মুরগি চুরির অভিযোগ তুলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিবাগত রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তার।


তবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, ওই নারী মুরগি চুরির কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তার ঘর থেকে ৪৫টি মুরগি উদ্ধার করে খামারিকে ফেরত দেওয়া হয়।


সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, গাছে বেঁধে রাখার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। নারীর লিখিত অভিযোগ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩০ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দেড় মাস বয়সী এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা পরস্পরকে হত্যার জন্য দায়ী করে অভিযোগ করায় শিশুটির বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার চরকাকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লারটেক এলাকার মফিজ মিয়ার নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


মৃত শিশুর নাম হুমাইরা জান্নাত (১ মাস ২০ দিন)। সে ওই এলাকার অলি উল্লাহ আজাদ (৩৫) ও পারুল আক্তারের মেয়ে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারুল আক্তার তার ছেলে সিফাত (৫) ও মেয়ে হুমাইরাকে নিয়ে ঘরের ভেতরের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। শিশুটির বাবা অলি উল্লাহ আজাদ ঘরের সামনের কক্ষে ঘুমান। ভোরে ঘুম থেকে উঠে অলি উল্লাহ শিশুটিকে দেখতে গিয়ে তার কোনো নড়াচড়া দেখতে পাননি। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি মারা গেছে। এ সময় অলি উল্লাহ অভিযোগ করেন, শিশুটির মা পারুল আক্তার তাকে হত্যা করেছেন। অন্যদিকে পারুল আক্তার অভিযোগ করেন, শিশুটির বাবা অলি উল্লাহ শিশুটিকে হত্যা করেছেন।


ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.আবু কাউছার বলেন, পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ পরীক্ষা করে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি। তবে শিশুটির নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। হুমাইরা জন্মের পর থেকেই অসুস্থ ছিল এবং মাথায় সমস্যাও ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। জন্মের পাঁচ দিন পর অসুস্থতার কারণে তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকীম বলেন, এ ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে শিশুটির মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।