জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ে সড়ক বানাচ্ছে আর্মি
দুর্গম, পাহাড়ি ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিকভাবে এলাকাটিতে চারটি সড়ক নির্মাণ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। আজ সোমবার ব্রিগেডের অধীনে একটি ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে।
সড়ক নির্মাণ শুরুর আগে জঙ্গল সলিমপুর আলিগরের তিন কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের স্থান পরিদর্শন করেন লে. কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি বলেন, ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর হাইস্কুল পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত আরেকটি সড়ক নির্মিত হবে। আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে একটি সড়ক চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর বাইরে জঙ্গল সলিমপুরে আরও একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এখনও প্রকল্পের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্গম, পাহাড়ি ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা কাজ শুরু করেছি।
জঙ্গল সলিমপুর কয়েক দশক ধরে দেশের অন্যতম অপরাধপ্রবণ ও দুর্ভেদ্য জনপদ হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে আলী আক্কাস নামে এক সন্ত্রাসী প্রথম এ অঞ্চলে প্রবেশ করে পাহাড়ি খাসজমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করেন। নিজের দখল বজায় রাখতে তিনি একটি সশস্ত্র বাহিনীও গড়ে তোলেন।
পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিম্নআয়ের বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নামে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ভূমি বাণিজ্য গড়ে ওঠে সেখানে।
১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মার্চ সেখানে অপরাধীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন। পরে এলাকায় যৌথবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এদিকে ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত একটি যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। জবাবে পুলিশ ও র্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পিছু হটে।
তবে এর আগে তারা সেখানে নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে পুলিশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি সড়কও কেটে ফেলে।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চার দিন পর অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) ইউডি মামলা করেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে সোমবার বিকেল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো। শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) প্রতিনিধিরা বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
তদন্ত দলে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও ছিলেন।
পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী বলেন, ‘জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার প্রান্তিক ও আলিফ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ধারকারী দল গ্যাসের পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্ণয় করবে। এরপর দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে কি না, নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি বা কারও গাফিলতি ছিল কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ১৪ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সাঁতার প্রতিযোগিতা,হাস ধরা ও পুরষ্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায় শেষ হলো জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬।
মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় গাইবান্ধা সদর মৎস্য খামারে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে গাইবান্ধার মৎস্য চাষী ও তাদের সন্তানদের নিয়ে সাঁতার প্রতিযোগিতা ও হাস ধরার আয়োজন করে জেলা মৎস্য অফিস গাইবান্ধা। পর্যায়ক্রমে খেলা পরিচালনার পরে জেলা মৎস্য অফিসের সম্মেলন কক্ষে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপ্তি ঘটে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গাইবান্ধা জেলা মৎস্য অফিসার আবদুর রাশেদ,সিনিয়র সহকারী পরিচালক এস এম আবুল বাশার,সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মারজান সরকার, খামার ব্যবস্থাপক গোলাম জিলানী, গাইবান্ধা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি শামীম আহমেদ পলাশসহ আরও অনেকে।
এ সময় মৎস্য চাষীরা বলেন, মৎস্য দপ্তরের এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। চাষীদের সব সময় পাশে থেকে কাজ করার জন্য জেলা মৎস্য অফিসার কে ধন্যবাদ জানাই।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস পক্ষ-২০২৬ পালন
ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চল ভালুকায় আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফিশ প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন এবং প্রক্রিয়াজাত মাছ বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর উদ্যোগে নেওয়া এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য পরিকল্পনা-২ শাখা থেকে গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ বিষয়ে একটি চিঠি জারি করা হয়। উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুজয়া চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিটি মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ আহমেদ বাচ্চু জাতীয় সংসদ থেকে প্রেরিত ডিও পত্রের মাধ্যমে ভালুকা উপজেলায় আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফিশ প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন এবং প্রক্রিয়াজাত মাছ বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ভালুকায় মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। উৎপাদিত মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেজিং করার সুযোগ তৈরি হবে।
মৎস্য খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রসেসিং অবকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা উৎপাদিত মাছের আরও ভালো বাজার ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মাছ পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানিকে ঘিরে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, কাঁচা মাছ রপ্তানির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রক্রিয়াজাত মাছ রপ্তানি করলে পণ্যে মূল্য সংযোজনের সুযোগ বাড়ে। ফলে স্থানীয় উৎপাদনকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইতোমধ্যে শিল্পায়নের কারণে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে ভালুকা। এর সঙ্গে আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প যুক্ত হলে কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে শিল্প ও রপ্তানি খাতের একটি নতুন সমন্বয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থান নির্বাচন, কারিগরি সক্ষমতা, বিনিয়োগ, পরিবেশগত বিষয়, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি মানদণ্ডসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর উদ্যোগে নেওয়া প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে যাবে। বাস্তবায়িত হলে ভালুকায় শুধু মাছ উৎপাদন নয়–সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সমন্বিত একটি আধুনিক মৎস্যশিল্প গড়ে উঠতে পারে। যা স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং দেশের রপ্তানি আয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বড় থালায় আস্ত খাসি না থাকায় বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে চলে গেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। সোমবার বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
কনের পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে আত্মীয়স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান জুনায়েদ। এসময় তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে আত্মীয়স্বজনদের খাওয়ানো শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু ওই খাবারে খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।
এসময় কনেপক্ষের আত্মীয়স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একাই কনের বাড়ি থেকে চলে যান জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ।
কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনো বাবা-মা চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। অবশেষে বিয়ে না করেই তিনি চলে যান।
এদিকে, এই ঘটনার পর আস্ত খাসি না পেয়ে বিয়ে না করে চলে যাওয়ার এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন জুনায়েদ। উল্টো তিনি দাবি করেন- কাবিনের টাকা নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় তিনি বিয়ে না করেই অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন।
জুনায়েদ জানান, আমি কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্যে বিয়ের মঞ্চ থেকে চলে আসিনি। বিয়ের আগে দুই পক্ষের মধ্যে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বিয়েটা সম্পন্ন হবে- এটাই আমার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কনেপক্ষ থেকে আমার সামর্থ্যের তুলনায় বেশি কাবিনের টাকা দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি তখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, আমার কাছে মনে হয়েছে এই অবস্থায় বিয়ে করলে ভবিষ্যতে আমাদের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিই।
সৎ ভাইয়ের নামের সাথে নিজের নাম সংযুক্ত করে মিথ্যা হলফনামা তৈরি ও হলফনামার মাধ্যমে জমির রেকর্ড নিজের নামে নিয়ে ভোগদখল করার অভিযোগে বরগুনার বেতাগী উপজেলাধীন ৬নং কাজিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক মেম্বার মোঃ আবুল হোসেন গাজীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
জাল-জালিযাতির এ অভিযোগে সোমবার (১৭ আগস্ট) বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হলে জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যায়ন পত্র, মিউটেশন খতিয়ান ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে ন্যায় বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসেন এ আদেশ প্রদান করেন।
মামলা সূত্রে জানাগেছে- চলতি বছরের গত ১৩ জুলাই সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন গাজী ভাক্ত ও জালিয়াতির মাধ্যমে চেয়ারম্যান কর্তৃক ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নিজেকে আঃ সোবাহান গাজী ও নিজের মা এবং সৎ মা একই ব্যক্তি দাবি করে ঘোষণাপত্র আদালতে দাখিল করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক। মূলত আবুল হোসেন গাজী তার সৎ ভাই আঃ সোবাহান গাজীর জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই অবৈধ ও জালিয়াতির পথ বেছে নেয়।
পরে আঃ সোবাহান গাজী বিষয়টি টের পেলে বিভিন্ন মাধ্যমে আসামির সৃষ্ট জাল কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতারণামূলক অভিযোগ এনে আবুল হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে গত ১৯ জুলাই বেতাগী বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রানা শেখ মামলাটি প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য বেতাগী থানার ওসি কে নির্দেশ দেন।
অতপর প্রতারণার এই মামলায় বিজ্ঞ আদালতে হাজির হলে জামিন না মঞ্জুর করে আদালত আসামী সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন গাজীকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমানে প্রতারণার এই মামলায় আবুল হোসেন গাজী বরগুনা জেলা হাজতে রয়েছেন।
ছবিঃ সংগৃহীত
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং নদী দূষণ রোধে পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, বাগেরহাট এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মোংলা ফরেস্ট ঘাটের ফুয়েল জেটিতে নৌযান মালিক ও চালকদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, প্রতিটি পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত প্যাডেল বিন রাখতে হবে। কোনো ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না। ভ্রমণ শেষে ডাস্টবিনের জমা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে নৌযানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নদী দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সভায় উপস্থিত নৌযান মালিক ও চালকরা মোংলা ফেরিঘাট ও পিকনিক কর্নারে স্থায়ীভাবে তিনটি ডাস্টবিন স্থাপনের দাবি জানান। নদী দূষণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনেরও অঙ্গীকার করেন নৌযান মালিক ও চালকরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, জালি বোট মালিক সমিতি, মোংলার সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী, সভাপতি ইমাদুল হোসেন, মাঝিমাল্লা ইউনিয়ন সংঘের জয়েন্ট সেক্রেটারি সোহাগ হাওলাদারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নৌযান মালিক ও চালকরা।
সভায় ৫০ জন নৌযান মালিক ও চালক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। সভা শেষে পর্যটকদের সচেতনতায় বিভিন্ন নৌযানে এসব লিফলেট লাগিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে বিখ্যাত বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন অংশে বন বিভাগের সংরক্ষিত পর্যটন স্পট করমজল অবস্থিত। প্রতিদিন শত শত পর্যটক মোংলা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করমজল ভ্রমণে যান।
এসময় পর্যটকদের সঙ্গে করে নেওয়া চিপস, বিস্কুট, চকলেটসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার, পানির বোতল নদীতে ফেলার কারণে সুন্দরবন ও সংলগ্ন নদ-নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।