হেভিওয়েট কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি
নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৪৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তবে হেভিওয়েট কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি।
শনিবার সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, তথ্যের অসঙ্গতি ও নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণ না করায় এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে আসনে ৮৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬২জন মনোনয়নপত্র জমা দেন । তাদের মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে আমরা মোট বৈধ আবেদন পেয়েছি ৪৭টি। এরমধ্যে বাতিলযোগ্য পেয়েছি ১৫টি ।
তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১শতাংশ সমর্থক সূচক সঠিক না থাকায় বেশির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এছাড়া কয়েকজনের মনোনয়ন বাতিল হয় ঋণ খেলাপির দায়ে।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের কুন্দুরা সেতুর ওপর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পঞ্চগড় পৌর যুবলীগের সভাপতি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাসনাত মো. হামিদুর রহমান (৩৮) এবং তার ছোট ভাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান শিশির (২৮)। তারা পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মোকলেছুর রহমানের ছেলে।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে বোচাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল হক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের কুন্দুরা সেতু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় দুই ভাইয়ের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি চালায়। পরে তাদের কাছ থেকে ৩০টি কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি ইয়াবার ওজন শূন্য দশমিক ১ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা মাদকের ওজন ৩ গ্রাম। প্রতি পিস ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩০০ টাকা হিসেবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সিজার মূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় বোচাগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন এসআই সুমন কুমার সরকার।
পুলিশের দাবি, ইয়াবাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন দুই ভাই। বোচাগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। পরে মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোকলেছুর রহমান জানান, হাসনাত ও শিশির গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানার পর তাদের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে থাকা একাধিক মামলার তথ্য বেতার বার্তার মাধ্যমে বোচাগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ওই মামলাগুলোতে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে পঞ্চগড়ে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করা হয়। (২০ ই আগষ্ট)বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধ এলাকায় এ কর্মসূচী পালন করা হয়।
“পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়” এই স্লোগানে নিরাপদ সড়ক চাই ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে অংশ নেন, সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. জাহিদ ইকবাল, সহ সভাপতি মাসুদ আহম্মেদ সুবর্ণ, সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল বর্মন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহার রাজা, কার্যনির্বাহী সদস্য রুমানা আক্তার লিসাসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় সংগঠনটের পক্ষ থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপন করা হয়। এ জাতীয় সচেতনতামূলক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচী ধারাবাহিকভাবে পালন করা হবে বলে জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নাটোরের লালপুরে সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যুতে করা মামলা তুলে নিতে বাদী ও তাঁর পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে লালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী মা।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া কারিগরপাড়া গ্রামের মোঃ মোকারেবুর রহমান বাদশার ১১ বছরের শিশু সন্তান মোঃ আইয়ান আহমেদ আদিব গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যায়। ঐ দিনই লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে সন্তানের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকায় মা মোছাঃ আবিদা খাতুন বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে তাঁর ভাসুর ও জা’ সহ মোট ৫ জনকে বিবাদী করা হয়।
জিডিতে বাদী অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগষ্ট ২০২৬ রাত ১২টার দিকে বিবাদীরা বাদীর বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বাদী ও তাঁর স্বামী গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে এবং মামলা তুলবেন না বলে জানালে অভিযুক্তরা তাঁদেরকে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুযোগ পেলেই প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে লালপুর থানায় লিখিত আবেদন জানান ভুক্তভোগী আবিদা খাতুন।
এবিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জিডির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ চার মাস থেকে বিদ্যালয়ে না গিয়েও যথারীতি উত্তোলন করে আসছেন বেতন ও ভাতা,ফলে ধ্বংসের মুখে পরেছে শিক্ষা ব্যাবস্থা এমন গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার ৫ নং ছাওলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রতনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান দীর্ঘ ৪ মাস থেকে বিদ্যালয়ে আসেননা প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ফলে হুমকির মুখে পরেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যাবস্থা, সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম আরো বলেন বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ২০০০ সালে, শুরুর দিকে ভালোই চলছিলো বিদ্যালয়টি,শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো ২০০-২৫০ জনের মতো, শিক্ষক শিক্ষিকার উপস্থিতি ছিলো ১৫-২০ জন,হঠাৎ নানা অনিয়মের কারণে থমকে যায় বিদ্যালয়টি, বর্তমানে ৪-৫ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও চার মাস থেকে বিদ্যালয়ে আসেননা প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।
সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম দাবি করেন বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান দিয়ে আসছেন তারা,তবে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র, ৪-৫ জন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৩-৪ জন,শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে নেই পানির ব্যাবস্থা নেই বিদ্যুৎ ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন নেই কোনো খেলাধুলার উপকরণ এমন ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে জনমনে।
স্থানীয়রা বলেন একাধিক নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমনকি ভূয়া নিয়োগ পত্রের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে মোটা অংকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, স্থানীয় ও সচেতন মহল বলেন এমপিও ভূক্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এতবড় অনিয়ম দেখে কোনো ধরণের ব্যাবস্থা না নিয়ে চুপচাপ বসে থাকা সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন অবহেলা ভাবিয়ে তোলে হতাশার দ্বারপ্রান্তে দাড় করিয়েছেন অভিভাবকদের, স্থানীয়দের দাবি প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসন সু-নজর দিলে সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত দূর্নীতি ও অনিয়মের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতো অত্র প্রতিষ্ঠান ফিরে পেতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানব্যাবস্থা।
আটোয়ারী উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে স্কুল চত্বরে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক অভিভাবক অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে ও মোঃ জরিফ হোসেন চৌধূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এ,জেড,এম বজলুর রহমান জাহেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম দুলাল, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহিল বাকী, আটোয়ারী প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিসুর রহমান। অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তারেক হোসেন চৌধুরী মুক্তা, এ রায়হান চৌধুরী রকি, হিরু ঘোষ সহ অনেকে।
সমাবেশে অভিভাবক গণ অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় না। শিক্ষকরা ঠিকমতো পাঠদান করেন না। অধিকাংশ শিক্ষক প্রাইভেট নিয়ে ব্যস্ত এতে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জোড়ালো অভিযোগ করেন।
অভিভাবকরা আরো বলেন, কিছু শিক্ষক প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য করছেন। যে সব ছাত্রছাত্রীরা ওই শিক্ষকদের নিকট প্রাইভেট পড়ে তাদের পরীক্ষার খাতায় ঠিকভাবে মার্ক দেওয়া হয় । আর যারা তাদের কাছে কাছে প্রাইভেট পড়ে না, পরীক্ষার খাতায় তাদের পূর্ণ মার্ক দেওয়া হয়না বলে অনেকে আক্ষেপ করে বলেন।
এটা শিক্ষার্থীদের সাথে চরম বৈষম্য। বৈষম্য দ্রুত দূর করতে হবে, অভিভাবকরা অবিলম্বে শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল কুদ্দশ অভিভাবকদের অভিযোগ ও পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি বলেন, "আপনাদের মূল্যবান মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করা হবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একসাথে কাজ করবে বলে অভিভাবকদের আশ্বাস প্রদান করেন ।
সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবকরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান ।
সিলেট নগরীর রায়নগরে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির সাথে খুন হন তাদের বাসার গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমও।
পুলিশের দাবি, এই তাহমিনার সাথে সম্পর্কের জেরেই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে। যদিও নিহতদের পরিবার তা মানতে নারাজ। এমনকি, তাহমিনার বয়স নিয়েও ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তাহমিনার পরিবার ও আব্দুস সাত্তারের পরিবারের দাবি তাহমিনার বয়স ১২ বা ১৩।
অথচ পুলিশ বলছে, তাহমিনার বয়স ১৮। বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর আবেদনে তাহমিনার বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করে পুলিশ। এর আগে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের পর স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাহমিনার বয়স ২৫ বলে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে সিলেট কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছি তা উল্লেখ করেছি। এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান। কোথাও কোন তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে আমরা পরবর্তীতে তা সংশোধন করবো।
এই মামলায় রিমান্ডে থাকা বাবুল মিয়া নতুন কোন তথ্য দিয়েছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে আমরা আর কথা বলবো না। চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিবেচনায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু কথা বলেছিলাম। আর সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে বিস্তারিত আপনাদের জানানো হবে। এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সোমবার সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন নিহত সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির পরিবারের সদস্যরা। সেখানেও গৃহকর্মী তাহমিনার বয়স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জবাবে এই দম্পতির ছেলে আরিফ ইফতেখার জানান, তাহমিনার বয়স ১২/১৩ হবে। এর আগে তাহমিনার বাবা আফতাব মিয়ারও জানিয়েছেন, তার মেয়ের বয়স ১২ থেকে ১৩ বছর। গত ১২ আগস্ট রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর প্রথম দিকের বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাহমিনার বয়স ২৫ বছর উল্লেখ করা হয়।
পরে পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, নিহত গৃহকর্মীর বয়স ১৫ বছর। ঘটনার পর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়েও তাহমিনাকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
সেখানে বলা হয়, কোরবানির ঈদের পর তিনি রায়নগরের ওই বাসায় কাজে যোগ দেন। আর বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর জন্য পুলিশের করা আবেদনে তাহমিনার বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, যেহেতু হত্যাকান্ডের ঘটনায় তাহমিনার প্রেম ও শারিরীক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছে পুলিশ। তাই এই মামলার বিচারের ক্ষেত্রে তার বয়স খুবই গুরুত্পূর্ণ।