মহাদেবপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

মাদক প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ও বিকেলে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে আয়োজিত পৃথক উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দানকালে এ আহ্বান জানান।


এমপি মাদক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে দুই উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নিজ নিজ এলাকায় মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর ওপর জোর দেন এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেন।


তিনি বলেন, “মাদক তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। এ সমস্যা মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”


সভায় ফজলে হুদা বাবুল তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা, খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও ক্রীড়াচর্চা বাড়ানোর কথা বলেন। এ ছাড়া দুই উপজেলার বিভিন্ন জনসেবামূলক, সমস্যা, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


বদলগাছীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি ও মহাদেবপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু, সমাজসেবা কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন, মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জান্নতুন নাঈম বিনতে আজিজ, উপজেলা প্রকৌশলী সৈকত দাস, মহাদেবপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুর রহিম, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খুরশিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার নান্নু, এমপির প্রতিনিধি ও উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, সফাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম বাচ্চু, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।





সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৪ পিএম

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়েরের পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রত্যাহার এবং লালপুরের ইউএনওকে বদলি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।


এই আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে নাটোরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই এই কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। 


অন্যদিকে, রাজশাহী বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী কমিশনার প্রীতিলতা বর্মণ স্বাক্ষরিত অপর এক আদেশে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়।


এর আগে গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। 


গত সোমবার (১৭ আগস্ট) এ ঘটনায় লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে নিজ নিজ থানায় দুটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহার দুটিতে সরকারদলীয় ২৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।


লালপুরে দায়ের করা এজাহারে অভিযুক্ত ১৮ জন হলেন- গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ রঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পু, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান জুলহাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিন, 


কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. আব্দুল বারী কাজল, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হযরত আলী, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহিনুর রহমান, আরবাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক  ইলিয়াস হোসেন, এবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবেদ আলী, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক/সদস্য সচিব মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম রবি, পৌর বিএনপির মোহাম্মদ আলী আজম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবীর সুইট, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান এবং পৌর যুবদলের মো. সুমন। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 


অন্যদিকে, বাগাতিপাড়ায় দায়ের করা এজাহারে অভিযুক্ত সাতজন হলেন- উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক আজিজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আশিকুর রহমান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, বাগাতিপাড়া পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব আলী পান্না এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সাব্বির হোসেন মুন্না। দায়েরকৃত এজাহারে অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 


গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলাজুড়ে জানাজানি হয় এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটোরের ডিসি আসমা শাহীনর পত্যাহার এবং লালপুরের ইউএনও বরকত উল্লাহর বদলির আদেশ আসে।


এই ঘটনায় জেলার সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় যদি কর্মকর্তাদেরই বদলির শিকার হতে হয়, তবে মাঠ প্রশাসনে সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তাদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে।


নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলে মামলা করতে কোনো আপত্তি নেই। তবে ঢালাওভাবে বিএনপির উপজেলা ও পৌর কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি।


তিনি বলেন, দলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। মামলায় আসামিদের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা না উল্লেখ করে দলীয় পদ-পদবি উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট বা সরকারি কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বিএনপি। তবে কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি বা দলীয় নেতাকর্মীদের ঢালাওভাবে মামলায় জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।


এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ শিশির এক ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লালপুর-বাগাতিপাড়ায় ইউএনও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরেই নাটোর জেলার ডিসি ও ইউএনও প্রত্যাহার। যে দেশে পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও ক্ষমতার কাছে মাথা নত না করার জন্য প্রত্যাহারের শিকার হন, সে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।


সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণেই ইউএনও ও ডিসিকে বদলি করা হয়েছে। এমনটি হয়ে থাকলে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ও প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং দেশের জন্যও কল্যাণকর নয়। এ ধরনের ঘটনা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেবে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মকে উৎসাহিত করবে। মানুষের কাছে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারের যে অঙ্গীকার, এ ঘটনা তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কেশবা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের মান উন্নয়ের লক্ষ্যে তদন্ত পূর্বক একটি দায়িত্বশীল ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ  ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে।


বুধবার(১৯ আগষ্ট) দুপুরে অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


অভিযোগে জানা যায়, কেশবা গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ ছাত্র ছাত্রী খুব বেশি ঝড়ে পরছে, বাচ্চারা স্কুল গামী হচ্ছে না, বর্তমানে অল্প কিছু ছাত্র ছাত্রী স্কুলে থাকলেও তারা অনিয়মিত এবং এখানে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক শিক্ষিকা থাকলেও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করে  আসতেছে না।  ম্যানেজিং কমিটির নামে একটি পকেট কমিটি পারিবারিক ভাবে গঠন করা হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষক নিজেই এ কমিটিকে পরিচালনা করেন। যারা ব্যাক্তিগতভাবে এই প্রতিষ্টানের শিক্ষক শিক্ষিকাগণকে সুবিধা দিয়ে থাকে যার ফলে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান খুব বেপারোয়া ভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে ফলে শিক্ষার্থীরা এর শিক্ষা জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং ঝড়ে পড়ে দিন দিন স্কুলের শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। স্কুলের অবোকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে না বাচ্চাদের পড়াশুনার পরিবেশ নাই। 


অভিযোগকারীর পক্ষে আশরাফুল ইসলাম শিপু বলেন, প্রধান শিক্ষক রাতের আঁধারে ম্যানেজিং কমিটি তৈরি করে এনেছেন। এলাকার অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এ কারণে গ্ৰামবাসীরা ওই কমিটি মেনে নিচ্ছেন না।


এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ড. মোছা. মাহমুদা খাতুন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৬ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে বর্ণাঢ্য শুভেচ্ছা র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


পঞ্চগড় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এর সভাপতিত্বে করে আনোয়ার হোসেন  তাপস  অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা র‍্যালি ও আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ মনিরুজ্জামান মানিক এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জনাব মোঃ সাহেব আলীসহ পঞ্চগড় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের অধীনস্থ পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা দলীয় আদর্শ ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে দেশ ও দলের কল্যাণ কামনা করে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।


এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে সম্প্রতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য ও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ভালুকা প্রেস ক্লাবে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সাংসদ ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন অভিযোগ এবং সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তারা এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তাদের দাবি অনুযায়ী প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেন।


এ সময় বক্তব্য দেন পরিবারের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, আব্দুল হান্নান ঢালীর ছেলে রিমেল, জাকির হোসেনের স্ত্রী হালিমা আক্তার, তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের স্ত্রী আসমাউল হোসনা, আলম ও মাহফুজসহ অন্যরা।


এ সময় ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লোকজনের স্ত্রী সন্তান ও তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্ল্যাকমেইল করে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিয়ে গিয়ে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করানো হয়েছে।


মোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের দাবি, ভালুকা উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মোর্শেদ আলম ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মামুন তাদের ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন করান। এর প্রতিবাদেই পরিবারের সদস্যরা ভালুকা প্রেস ক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।


সংবাদ সম্মেলনে তারা ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।


বক্তারা আরও দাবি করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে এমপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রকাশিত সংবাদ ও উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে একই পরিবারের রয়েছেন চারজন। এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার দেবাশিস দত্ত (৩৯), তার আড়াই বছর বয়সী শিশু শর্ণশিষ দত্ত, স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭) ও শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)। 


দেবাশিস দত্ত পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি। তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে এই আগুন লাগে।


দেবাশিস দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া মডেল থানার মোহিনী মিল এলাকার আরুয়াপাড়ায়। তার বাবার নাম দিলীপ কুমার দত্ত। আকরাম আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস এলাকার বদরুদ্দোজা রোডে।  


নিহত আহামেদ বাবুর বাড়ি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে। তার বাবার নাম আদম আলী। 


এছাড়া ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ান নামে আরেকজনের পরিচয় মিলেছে। তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা। 


অপর তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের সময় ওই হোটেলে ২৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন। 


কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। 


পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের তিন তলায় রাত ২টা ৭ মিনিটে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। আগুন দ্রুত আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হোটেলের কক্ষগুলো ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। এতে হোটেলের বাসিন্দা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা। অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। 


রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর পাশাপাশি একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দলও (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম) উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। দমকলকর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে হোটেলের একাংশ পুড়ে যায়।  


প্রাথমিক তদন্তের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, হোটেলটিতে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ একটি মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীরা পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাদের খুঁজছে। 


উদ্ধার অভিযানে গিয়ে ভবনটি থেকে প্রায় ৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোটেলের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কারণে এই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গুরুতর আহত ৬ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ পিএম

"দুর্ঘটনা দুর্যোগে, সবার পাশে-সবার আগে" স্লোগানে টাঙ্গাইলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে অগ্নিকান্ড, উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অনসাইড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


১৯ আগষ্ট বুধবার সকালে  ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের বাস্তবায়নে এবং জেলা প্রশাসক  শরীফা হক এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে উক্ত মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়। 


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। 


এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: মাহবুব হাসান,  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন  ডাঃ ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত হোসেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর