ভূমিমন্ত্রীর হাতে নিমের বীজ তুলে দেন বৃক্ষপ্রেমী তাল বেলাল
নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দুপাশে লক্ষাধিক তালের বীজ বপণ করে “বৃক্ষপ্রেমী তাল বেলাল” নামে পরিচিতি পাওয়া নওগাঁর সাংবাদিক মাহমুদুন নবী বেলাল এবার ভূমি মন্ত্রীর হাতে ২৫ কেজি দেশি নিম গাছের বীজ তুলে দিয়েছেন।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজশাহীতে চলমান ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা প্রাঙ্গনে আয়েজিত অনুষ্ঠানে বেলাল বীজগুলো ভূমি মন্ত্রী আলহাজ মিজানুর রহমান মিনু এমপির মাধ্যমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে দেন।
এসময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, সামাজিক বন বিভাগ রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম, সামাজিক বন অঞ্চল বগুড়ার বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।
বীজ হস্তান্তরকালে ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের গাছ লাগানো উচিত। আমাদের প্রিয় নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে যে সবুজায়নের ডাক দিয়েছেন, নওগাঁর তাল বেলালের এই উদ্যোগ সেই কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর গাছ রোপণের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিবেশ রক্ষায় এমন প্রতিটি নাগরিক উদ্যোগকে আমাদের সরকার সবসময় স্বাগত জানায়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বনায়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি এমন সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্যোগে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।”
বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, “দেশি নিম গাছ আমাদের পরিবেশ, প্রকৃতি ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে একজন সাধারণ গাছপ্রেমী হিসেবে আমি এই ক্ষুদ্র অবদান রেখেছি। মাননীয় ভূমি মন্ত্রী ও বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের সরাসরি অংশগ্রহণে আজ বন বিভাগের কাছে এই বীজ পৌঁছাতে পেরে আমি আনন্দিত।”
বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সবুজ কর্মসূচি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই বীজগুলো নার্সারিতে চারা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে, যা পরবর্তীতে দেশের সবুজায়নে অনন্য ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সদস্যবৃন্দ, বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রাস্তার পাশে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ২০১৭ সাল থেকে তাল বীজ রোপণ করে আসছেন। এর পাশাপাশি তিনি জেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ, ওষুধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করে সারা দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, একটি গাছ শুধু আমাদের ফলই দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও অক্সিজেন সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর আপনারা যেমন তার যত্ন করেন ঠিক সেইভাবে শিশু চারাটিকেও প্রতিদিন যত্ন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুমলিয়া ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন জাতের ১ হাজার ৭ শত চারা গাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ সব বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) সকালে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বোয়ালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম কামরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, বোয়ালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. খাইরুল আহসান মিন্টু, বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক।
বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাসকা দেলোয়ার ও আলিফা ইসলাম স্বর্ণার যৌথ সঞ্চালনায় চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বোয়ালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র মিত্র। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান খান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রমূখ।
তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, সবুজায়ন ও সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বোয়ালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. খাইরুল আহসান মিন্টু বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল-ক্ষমতায় এলে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। তারই অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম এর নির্দেশনায় আজ তুমলিয়া ইউনিয়নের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ১ হাজার ৭ শত চারা বিতরণে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজন। পরিবেশ রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম ছড়িয়ে দিতে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
এ সময় স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৯ আগষ্ট) সকালে উপজেলার জামালপুর কলেজ মাঠে জামালপুর কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি হাজী মো. জাহাঙ্গীর কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ. কে. এম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম কামরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু।
কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক নাজমুন নাহার এর যৌথ সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আলম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু, জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. হারুন অর রশিদ দেওয়ান, বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. জয়নাল আবেদীন প্রমূখ।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসেন মো. সামসুল আলম এর সার্বিক সহযোগীতায় অনুষ্ঠানে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য ক্রেস্ট প্রদান করে তাদের সংবর্ধনা ও অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হয়।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং পুরস্কার গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের কুন্দুরা সেতুর ওপর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পঞ্চগড় পৌর যুবলীগের সভাপতি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাসনাত মো. হামিদুর রহমান (৩৮) এবং তার ছোট ভাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক হাবিবুর রহমান শিশির (২৮)। তারা পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মোকলেছুর রহমানের ছেলে।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে বোচাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল হক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের কুন্দুরা সেতু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় দুই ভাইয়ের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি চালায়। পরে তাদের কাছ থেকে ৩০টি কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি ইয়াবার ওজন শূন্য দশমিক ১ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা মাদকের ওজন ৩ গ্রাম। প্রতি পিস ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩০০ টাকা হিসেবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সিজার মূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় বোচাগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন এসআই সুমন কুমার সরকার।
পুলিশের দাবি, ইয়াবাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন দুই ভাই। বোচাগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে। পরে মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মোকলেছুর রহমান জানান, হাসনাত ও শিশির গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানার পর তাদের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে থাকা একাধিক মামলার তথ্য বেতার বার্তার মাধ্যমে বোচাগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ওই মামলাগুলোতে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে পঞ্চগড়ে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করা হয়। (২০ ই আগষ্ট)বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধ এলাকায় এ কর্মসূচী পালন করা হয়।
“পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়” এই স্লোগানে নিরাপদ সড়ক চাই ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে অংশ নেন, সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. জাহিদ ইকবাল, সহ সভাপতি মাসুদ আহম্মেদ সুবর্ণ, সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল বর্মন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহার রাজা, কার্যনির্বাহী সদস্য রুমানা আক্তার লিসাসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় সংগঠনটের পক্ষ থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপন করা হয়। এ জাতীয় সচেতনতামূলক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচী ধারাবাহিকভাবে পালন করা হবে বলে জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নাটোরের লালপুরে সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যুতে করা মামলা তুলে নিতে বাদী ও তাঁর পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে লালপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী মা।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের কচুয়া কারিগরপাড়া গ্রামের মোঃ মোকারেবুর রহমান বাদশার ১১ বছরের শিশু সন্তান মোঃ আইয়ান আহমেদ আদিব গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যায়। ঐ দিনই লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে সন্তানের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকায় মা মোছাঃ আবিদা খাতুন বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে তাঁর ভাসুর ও জা’ সহ মোট ৫ জনকে বিবাদী করা হয়।
জিডিতে বাদী অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগষ্ট ২০২৬ রাত ১২টার দিকে বিবাদীরা বাদীর বাড়ির সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। বাদী ও তাঁর স্বামী গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে এবং মামলা তুলবেন না বলে জানালে অভিযুক্তরা তাঁদেরকে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুযোগ পেলেই প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে লালপুর থানায় লিখিত আবেদন জানান ভুক্তভোগী আবিদা খাতুন।
এবিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জিডির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘ চার মাস থেকে বিদ্যালয়ে না গিয়েও যথারীতি উত্তোলন করে আসছেন বেতন ও ভাতা,ফলে ধ্বংসের মুখে পরেছে শিক্ষা ব্যাবস্থা এমন গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার ৫ নং ছাওলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রতনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান দীর্ঘ ৪ মাস থেকে বিদ্যালয়ে আসেননা প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ফলে হুমকির মুখে পরেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যাবস্থা, সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম আরো বলেন বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ২০০০ সালে, শুরুর দিকে ভালোই চলছিলো বিদ্যালয়টি,শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো ২০০-২৫০ জনের মতো, শিক্ষক শিক্ষিকার উপস্থিতি ছিলো ১৫-২০ জন,হঠাৎ নানা অনিয়মের কারণে থমকে যায় বিদ্যালয়টি, বর্তমানে ৪-৫ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও চার মাস থেকে বিদ্যালয়ে আসেননা প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।
সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম দাবি করেন বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৭০-৮০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান দিয়ে আসছেন তারা,তবে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র, ৪-৫ জন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৩-৪ জন,শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ে নেই পানির ব্যাবস্থা নেই বিদ্যুৎ ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন নেই কোনো খেলাধুলার উপকরণ এমন ঘটনা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে জনমনে।
স্থানীয়রা বলেন একাধিক নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমনকি ভূয়া নিয়োগ পত্রের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে মোটা অংকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, স্থানীয় ও সচেতন মহল বলেন এমপিও ভূক্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এতবড় অনিয়ম দেখে কোনো ধরণের ব্যাবস্থা না নিয়ে চুপচাপ বসে থাকা সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন অবহেলা ভাবিয়ে তোলে হতাশার দ্বারপ্রান্তে দাড় করিয়েছেন অভিভাবকদের, স্থানীয়দের দাবি প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসন সু-নজর দিলে সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত দূর্নীতি ও অনিয়মের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতো অত্র প্রতিষ্ঠান ফিরে পেতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানব্যাবস্থা।