মাজারে ডিসির দেয়া ৫ লাখ টাকার উৎস অজানা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:৩২ এএম

নানা আলোচনার মধ্য দিয়ে সিলেট থেকে চলে গেলেন সিলেটের বিদায়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। তিনি চলে যাওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা দান করে গেছেন। আর সেই দানের টাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। 


অনেকে বলছেন, মাজার দানের টাকায় নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। মূলত আলোচনার জন্ম দিতেই সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম এই টাকা দিয়েছেন। তবে ডিসি কোন ফান্ড থেকে এ অর্থ দিয়েছেন কিংবা তিনি জেলা প্রশাসনের ফান্ড থেকে এ অর্থ দিতে পারেন কিনা, এর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, ‘আমি মাজারের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। যে কারণে ফান্ড প্রদানের বিষয়টি আমার জানা নেই।’ 


জেলা প্রশাসনের এক সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসক হয়তো এলআর ফান্ড থেকে এ অর্থ প্রদান করেছেন। ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে অর্থ প্রদানের সুযোগ নেই বলে সুত্র জানায়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার যায়নি। 


এ ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী ডিসি মাজারবিরোধী কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়ে বদলি হন। যেখানে মাজারের দানের টাকা গুনে গুনে ডিসি দেখালেন প্রচুর টাকা আসে, সেখানে যাওয়ার আগে মাজার তহবিলে ৫ লাখ টাকা দিয়ে রীতিমতো পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজিই করলেন।’


গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সাবেক ডিসি সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে গত (১৮.০৬.২০২৬) বৃহস্পতিবার বিকেলে মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিতর্কের মধ্যেই গত রবিবার বিকালে তাকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ প্রজ্ঞাপনের পর ডিসিকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে বিভিন্ন সংগঠন।


ডিসির প্রত্যাহার হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন সোমবার সারওয়ার আলম মাজারে যান। বেলা ২টার দিকে তার নির্দেশনায় দানবাক্স ও সিলগালা করা ডেকগুলো খোলা হয়। টাকা গণনা শেষে সন্ধ্যায় জানানো হয়, আটটি ডেক ও দানবাক্সে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও ১০ সৌদি রিয়াল মিলেছে। এসব টাকা মাজারের নামে ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। টাকা গণনা শেষে সোনালী ব্যাংকের কোর্ট বিল্ডিং শাখায় নতুন একটি ব্যাংক হিসাব চালু করে দানের সমুদয় টাকা জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডিসি সারওয়ার আলম জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা ওই তহবিলে দান হিসেবে জমা দেন। সেদিন রাতে দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে পরদিন মঙ্গলবার তিনি সিলেট ছাড়েন। 


সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিদিনই হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন। এ সময় তারা টাকাসহ নানা সম্পদ মাজারে দান করেন। তবে মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে কখনোই দানের হিসাব প্রকাশ্যে গণনা করা হয়নি। তাই প্রতিদিনের দানের হিসাব অজানাই ছিল। কিন্তু ডিসি গণনার উদ্যোগ নেওয়ার পর টাকার পরিমাণ সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া গেছে। মোটা অঙ্কের এ দান মাজারে আসা সত্ত্বেও মাজার তহবিলে জেলা প্রশাসন থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি একেবারেই অযৌক্তিক। এ টাকা অন্য জনকল্যাণ মূলক খাতে ব্যয় করা যেতো। সিলেট ছাড়ার আগে ডিসি সারওয়ার আলম জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে মাজার তহবিলে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজে লাগাবে বলে তার মন্তব্য ছিল।

 

গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান সারওয়ার আলম। এর আগে তিনি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তখন জেলা প্রশাসক পর্যায়ে এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।


জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সারওয়ার আলম নগরের ফুটপাত উচ্ছেদ, ওসমানী মেডিকেলে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে উদ্যোগ নেওয়াসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি সফল হন; কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন। তবে ১৮ জুন বৃহস্পতিবার মাজারের ঐতিহাসিক ডেক সিলগালা করার পর ডিসির পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। পরে তাঁকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। ঘটনার পর ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় ওয়াসিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির মাদক সেবন ও অসদাচরণের প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুবক আলমগীর হোসাইন। এ নিয়ে ওয়াসিমের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের সৃষ্টি হয়।


এর জের ধরে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলমগীর হোসাইনের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।


অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারও বাড়িতে এসে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।


ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৫ পিএম

পটুয়াখালীর মহিপুরে চার বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সেকান্দার চৌকিদার (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার সেকান্দার চৌকিদার অনন্তপাড়া এলাকার মৃত মোতাহার আলীর ছেলে।


মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সেকান্দার চৌকিদার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের অনন্তপাড়ার একই এলাকায় বসবাস করায় মাঝেমধ্যে ভিকটিমের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৮টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশুটিকে তার পৈত্রিক বাড়ির সংলগ্ন খালপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ আগস্ট মহিপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মহিপুর থানার (মামলা নং-০৭)মামলা রুজু করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে অভিযুক্ত সেকান্দার চৌকিদারকে গ্রেফতার করে।


মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো শামীম আহমেদ বলেন, “চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামি সেকান্দার চৌকিদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ  শেষে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।”


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৩ পিএম

সিলেট নগরীতে বাসার ভেতরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামী বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে ফের জেল-হাজতে প্রেরণ করা হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘জবানবন্দিতে তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। যা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাবে না।’


এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাবুল মিয়াকে আদালতে তোলে পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে জবানবন্দি শেষে তাকে আদালত থেকে বের করা হয়।

  

সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা গত রোববার (১৬ আগস্ট) বাবুল মিয়ার চারদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এদিন পুলিশ বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।


সিলেট নগরির রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে গত বুধবার সকালে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা। মামলার এজহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।


গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে নিহতের মা ফাতেমা বেগমকে (১৯)। এর আগে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পরে একই দিন রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  


নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার ফাতেমা বেগম বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।


স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নবজাতক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। নবজাতক জ্বালাতন করত,ঘুম যেতনা, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, মাকে ঘুম যেতে দিতনা বলে প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে পেলে তাকে হত্যা করেন।


বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে ঘটনার পরপরই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী মাকে একমাত্র আসামি করে মামলা নেওয়া হয়।  


অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মো. শামসুজ্জামান আরও বলেন, নবজাতকের মা তাকে বসতঘরে থাকা বৃষ্টি পানি রাখার ড্রামে ফেলে মুখ বন্ধ করে দেন। এতে নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ এএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযানে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে দুইজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহফুজুল হক ও মোসাদ্দেক হোসেন।


দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত.কাজী ওয়াজী উল্ল্যার ছেলে আব্দুল কাদের (৫১) ও একই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে মো. নুর ইসলাম (২৩)।


অভিযান সূত্রে জানা যায়, বুধবার নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের মাধ্যমে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলেই তাদের দুজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরও বলেন, মাদক  নিমূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ এএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড বামুনী পাড়ায় প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনালশিপ এন্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাইবান্ধা সদর এর আয়োজনে কৃষাণীদের নিয়ে বামুনীপাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পুষ্টি) বিষয়ক সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঐ স্কুলে ২৫ জন কৃষাণীদের মাঝে ১০ টি সেশনে পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।


উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আঃ রহমান, ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, প্রশিক্ষণের ট্রেইনার এটিএম মশিউর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম মন্ডলসহ আরও অনেকে।


কৃষাণীরা জানান, কৃষি অফিসের এই প্রশিক্ষণ পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। পাশাপাশি পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতায় অনেক উপকারী তথ্য পেয়েছি। কোন পদ্ধতিতে রান্না করলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যাবে সেটাও জেনেছি।