বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সুযোগ না থাকা এবং দলটি নিষিদ্ধ থাকায় মাঠে নেই তাদের প্রার্থী ও সাংগঠনিক কার্যক্রম।
এতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরগুনা-১ আসনে তৈরি হয়েছে ভোট দখলের লড়াই। তবে এই লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পেতে মাঠে সক্রিয় বিএনপি ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
মূল প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের বিপুল ভোটব্যাংক কার দখলে যাবে? বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন।
পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১১ জন। বরগুনা সদর ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন।
আমতলী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৪৮।
তালতলী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ২০। তিন উপজেলার এই বিশাল ভোটারদের বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পালটে জল গড়িয়েছে অনেক দূর।
শীর্ষ নেতারা পলাতক, কেউবা রয়েছেন জেলে। মামলায় জর্জরিত নেতা-কর্মীদের রাজনীতিতে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় নেই৷
তবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও ভোটারদের বেশিরভাগই বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দলটির অনুপস্থিতিতে এই কর্মী-সমর্থকদের ভোটগুলো কোন দিকে যাবে, সেটিই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক এবার একমুখী হবে না। মধ্যপন্থী ভোটের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারে। আবার ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে একটি অংশ ইসলামী আন্দোলনের দিকে যেতে পারে।
একই সঙ্গে একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা ভোট কেন্দ্রে গেলে ভোটের হিসেব পালটে যেতে পারে। বিএনপি এই আসনকে নিজেদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছে।
দলটি ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়েছে। বেগম জিয়ার মৃত্যু, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণদায়িত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য বলে একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ‘এনপিবি’-কে বলেন, “রাজনীতির মাঠে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আমি জনগণের পাশে ছিলাম। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি দলকে এই আসনটি উপহার দিতে চাই। বরগুনাকে উন্নয়নে এগিয়ে নিতে চাই।
অন্যায়, অত্যাচার ও লুটপাটের রাজনীতি বরগুনা থেকে চিরতরে নির্মূল করতে চাই। সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্ম আমার প্রতি আস্থা রেখে, ইনশাল্লাহ ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।"
অপরদিকে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বাজিমাত করার স্বপ্ন দেখছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা ইসলামী শাসনব্যবস্থা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের কথা বলে ধর্মপ্রাণসহ সকল ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয়ভাবে চরমোনাই নেতারা আশা করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটের একটি বড় অংশ তাদের দিকে যাবে।
এরইমধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট রাজনীতির বাইরে থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে মাঠে রয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় মাহফিলকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা ধারাবাহিকভাবে ভোটার সংযোগ বাড়িয়েছে।
তরুণ ও কওমি ধারা, সনাতন ভোটারদের মধ্যে দলটির প্রভাব দিন দিন বাড়ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে চরমোনাই মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন কি আওয়ামীপন্থী ভোটারের একটা অংশ এরই মধ্যে তার পক্ষে মাঠে সক্রিয় হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।
জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ‘এনপিবি’ কে বলেন, "আমরা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। আমাদের সঙ্গে কোনো দলের সংঘাত নাই, তাই আওয়ামী লীগের ভোটও আমরা পাবো বলে বিশ্বাস করি।
বিগত দিনে ভোটের স্বাধীনতা থেকে বার বার আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হলে সকল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আমি বিজয়ী হবো।”
বরগুনা-১ আসনের নির্বাচন এবার শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত ভোটব্যাংক দখলের প্রতিযোগিতা।
প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ভোটারের এই আসনে কারা এগিয়ে থাকবে, তা নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি, মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট ব্যবহারের সিদ্ধান্তের ওপর। উপকূলীয় এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বার্তা দিতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা(ধানের শীষ প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ(হাতপাখা প্রতীক), খিলাফাত মজলিস থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন(ঘড়ি প্রতীক) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মোঃ জামাল হোসাইন (বাই সাইকেল প্রতীক)।
এদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ।
এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন। পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৬ হাজার ২৯৮ জন। আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৯০টি।
খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক
খুলনায় শারদীয় দূর্গাপূজা ২০২৬ ইং উপলক্ষে আজ ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিং প্রদান করেন খুলনা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
এ সময় তিনি বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে এসপি ডিউটিরত সকল সদস্যকে উৎসাহ যোগান এবং সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
উক্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিঃ পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস. এম. আল বেরুনী, অতিঃ পুলিশ সুপার ট্রাফিক ও ডিএসবি, আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিঃ পুলিশ সুপার, (বি-সার্কেল) মোঃ খায়রুল আনাম, বিপিএম-সেবা, অতিঃ পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মোঃ সালাউদ্দিন সহ ডিউটিতে মোতায়েনকৃত ফোর্সবৃন্দ।
ড্রেনের পাশে নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ড্রেনের পাশে পড়ে থাকা একদিন বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা শিশুটিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশগঞ্জ এলাকায় সমীরের বাড়ির গলির পেছনে ড্রেনের পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মহেশগঞ্জ বাজার এলাকায় পথচারীরা নবজাতক কন্যাশিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতকের পরিচয় ও তার মা-বাবার সন্ধান বের করার চেষ্টা চলছে। কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে রেখে গেছে, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬
"দূর্বার তারুন্য, দূর্নীতি রুখবেই" এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঝালকাঠির নলছিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল দশটায় সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলার সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাওতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দিকাঠি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিচারকরা প্রতিযোগিতায় নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কে বিজয়ী ও সরকারি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ ঘোষণা করেন। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছেন নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইকরা অমি আলম।
বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু, নলছিটি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ সমিটির সভাপতি শামসুল আলম খান বাহারের সভাপতিত্বে এসময় আর-ও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান, সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খায়রুল বাশার, প্রভাষক মানবেন্দ্র মুখার্জী, জয়নাল আবেদীন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য আবদুল কুদ্দুস, শাহাদাত আলম, শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মল্লিক মনিরুজ্জামান।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় সমিতির পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির কর্মকর্তা বৃন্দ নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ওমর শাহজাদা শাহাদাত, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম আজহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ ওমর, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সহপ্রচার সম্পাদক তুষার আহমেদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তার ঝুলি এবং চিকিৎসাবিষয়ক সম্পাদক ডালিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সমিতির নির্বাহী সদস্য শাওন আহমেদ ও শামীম আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় সমিতির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁরা জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারবেন।
নাটোর-১, (লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোন ভেদাভেদ না রেখে কেবলমাত্র সবাইকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার জন্য এবং তাদের প্রত্যেকটি অধিকারকে সমুন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাটোরের লালপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ৪৬টি মন্দিরে জিআর চালের ডিও প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, আগামী বছর সারা বাংলাদেশের মন্দির গুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে আপনারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে মন্দির পরিচালনা এবং নিজেদের পুজো অনেক চমৎকার ভাবে উদযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করবো।
সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই বাংলাদেশ এখন আর কেউ আপনাদের সংখ্যালঘু বলতে পারবে না, আমি এখন একটি মসজিদে যেমন অনুদান দেই সাথে সাথে একটি মন্দিরের জন্যও অনুদান দেই।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলে মাথা রেখে রাজিয়া সুলতানা নামক এক শিক্ষিকার ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গতকাল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তারা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের একপর্যায়ে শিক্ষিকার ঘুম ভাঙ্গে।
বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস চলাকালে এভাবে ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় একজন শিক্ষকের এভাবে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মমতা বেগম বলেন,এই শিক্ষিকা এর আগে যেখানে চাকুরী করতেন সেখানে একই কাজ করতে, বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে ঝগড়া,তর্ক করতেন বলে জানিয়েছেন। বারবার শর্তক করার পরেও কোন ভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে রাজি না। তিনি আরো জানান জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার স্যার এর আগেও শর্তক করেছিলেন ১৪ দিনের কিন্তু ওনার কোন পরির্বতন নেই।
ক্লাস চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে আর একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজিয়া সুলতানা সব সময় আমাদের তিন জন শিক্ষকের সাথে ঝগড়া ঝাটি করেন, স্কুলের কাছে বাসা কিছুক্ষণ পরপর ক্লাস না করে বাসায় যান, এই বিষয়ে বার বার বলার পরেও তিনি তার ইচ্ছা মতো চলেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।বিষয়টি আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।