নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেনকে (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার ভোর রাতের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমান। প্রায় ৮-১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাম হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারতেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি বেগম তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে নিজ ঘরে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরা বেগমের ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। পরে লাইলি ও তার ছেলে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি তিনি তার দাদী তফুরা বেগমকে জানান। তফুরা বেগম ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
এরপর সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর তার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তার বাম হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে ছেলা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেওয়া হয়। পরে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদী তফুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছেলে মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত।
অপরদিকে, তফুরাকে হত্যাকান্ডের আলামত লোপাট চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
রংপুর সদর পাগলাপীরের মাদক ও মবসাম্রাজ্ঞী শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’সহ তাঁর সহযোগীদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড যেন কোনোভাবেই থামছে না। জমি জবরদখল, মাদকের রমরমা ব্যবসা, হামলা, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ উঠেছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ রবিবার অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলায় তাঁরই সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন ভয়ংকর সব অপরাধ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার দুপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহিনুর বেগমসহ তাঁর ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাহিনুর বেগমেরই সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ আরও কয়েকজন।
পরিবারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে শাহিনুর বেগম ও তাঁর সহযোগীদের অতর্কিত হামলায় আহত হন তাঁরা। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, দুবাই প্রবাসী নওশের আলম সুমনের মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে কেনা জমিসহ অন্যান্য জমি জবরদখল করাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রবাসীর সঙ্গে শাহিনুর বেগমসহ আরও অনেকের বিরোধ চলে আসছে।
এর জেরে ওই প্রবাসী ছুটিতে দেশে ফিরে জমি উদ্ধারে আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর জমির মামলার নোটিশ হাতে পেয়ে ওই প্রবাসীর বাড়িতে রাতের আঁধারে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় শাহিনুর বেগমসহ তাঁর সহযোগীরা।
এই ঘটনায় ওই প্রবাসী চিকিৎসা শেষে মামলা দায়ের করলে ওই প্রবাসীর বিরুদ্ধে শাহিনুর বেগমও মিথ্যা নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। আর সেই মামলায় সাক্ষী করা হয় তাঁরই সৎ বোন সাবনাজ বেগমকে।
ভুক্তভোগী শাবনাজ বেগম ও তাঁর পরিবারের লোকজন জানায়, নারী নির্যাতনের মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ, ভয়ভীতি, হয়রানি ও অত্যাচার চালানো হচ্ছে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের অভিযোগ, সত্যের বাইরে গিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় একের পর এক ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহিনুর বেগম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা, এলাকার মানুষের ওপর হামলা, গালিগালাজ, ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পাড়াটিতে মসজিদ নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করে উত্তেজনা সৃষ্টি, লোকজন জড়ো করে হামলা, মিথ্যা মামলা এবং পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে উসকে দিচ্ছে।
জানা যায়, হরিদেবপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর পশ্চিম পাড়ায় নতুন করে গড়ে ওঠা পাড়ায় স্থানীয়দের ধর্মীয় সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজ অর্থে ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি কেনেন ওই প্রবাসী। কিন্তু জমি নিয়ে বিরোধ ও জবরদখলের কারণে মসজিদের নির্মাণকাজ থমকে আছে।
সম্প্রতি শাহিনুর বেগমের বোনের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন ওরফে আজিজুলকে সিলেটের মাধবপুর এলাকায় ৫৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব-৯।
এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। শাহিনুর বেগমসহ তাঁর সহযোগীরা নতুন করে আবারও ওই প্রবাসীকে জড়িয়ে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব ছড়ানো ও হত্যার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উক্ত ঘটনার জেরে ইতিমধ্যে ওই প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে রংপুর সদর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং প্রবাসী নওশের আলম সুমন প্রবাস থেকে নিজ ও পরিবারসহ সম্পত্তি রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, ওই প্রবাসী গতবছর ছুটিতে দেশে আসলে পূর্বের জমির মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সেই চাপ না মানায় মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব তৈরি করে, কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের রংপুর সদর কমিটির সহসভাপতি ও খলেয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন (তোফা খানের) ছেলে রায়হান খাঁন ও তাঁর সহযোগী সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পাগলাপীর আলোয়াকুড়ি নামক জায়গায় ২০২৫ সালের ২২ জুন নওশের আলম সুমনের ওপর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল হামলা চালায়।
এ সময় মারধর, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।
এর পাঁচদিন পর, ২৭ জুন রাতে আবারও ওই প্রবাসীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মব তৈরি করে পাঠানপাড়া থেকে লোকজন জড়ো করে প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বাড়িতে হামলার পরিস্থিতি তৈরি এবং পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
পরে ঘটনাস্থলে যৌথবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সিরাজুল ইসলামের মামাতো দুই ভাই সেনাবাহিনীর কাছে আগুন লাগানোর ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এদিকে, আদালতের রায় ওই প্রবাসীর পক্ষে গেলেও আদালতের রায় অমান্য করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা রায়হান খাঁন, সিরাজুল ইসলাম দলবল নিয়ে মসজিদের জমির অপর পাশে জবরদখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন।
এমন বাস্তবতায় পাগলাপীরের মহাদেবপুর পশ্চিমপাড়ার এই বিরোধ এখন আর শুধু ব্যক্তি বা জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রবাসীকে চাঁদা দাবিতে টার্গেট করা, হামলা, ভয়ভীতি, মামলা, জমি দখল এবং মিথ্যা ও গুজব ছড়িয়ে মব তৈরির অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ১৯ জন মাদকসেবী রয়েছেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার পৃথক অভিযানে ১১২ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়। সেনবাগ থানায় মাদকসেবনের দায়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা করা হয়। কবিরহাট থানায় আরও ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ, বহন ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সৌদি আরবের তায়েফ শহরে মো. কামরুল জামান (৩৭) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী এক সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত কামরুল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের কাজী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি দুই ছেলের জনক ছিলেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবু নাসের চৌধুরী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামরুল সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে কর্মস্থল সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে কর্মরত আরও দুই কর্মী আতঙ্কে পালিয়ে যান। পরে ওই হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হামলাকারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
ইউপি সদস্য আবু নাসের চৌধুরী আরও বলেন, কামরুলের বাবা পেশায় কৃষক। জীবিকার তাগিদে প্রায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে যান কামরুল। রোববার বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে (ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি উপজেলা) অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রবিবার (৩০ আগষ্ট) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম আরো বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান পদ্ধতি হলো নির্বাচন। যেহেতু জামায়াত দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রাম করছে। তাই আমরা সকল প্রকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে আলোকে ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজলুম ছাত্রনেতা ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতিসন্তান দেলাওয়ার হোসেনকে জামায়াতের পক্ষে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করছি। আমরা আশাকরি জনগণ যদি সঠিকভাবে তাদের ভোট দিতে পারে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারি পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন। জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ এর সঞ্চালনায়, সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুরের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারীর সাবেক জেলা আমীর আব্দুর রশিদ, পঞ্চগড় জেলা আমীর ইকবাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর। এসময় বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায়, আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। উক্ত জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। শীঘ্রই এ আসনে নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
সেবার আলোয় গড়ব সমাজ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পথচলা শুরু করা সামাজিক সংগঠন ‘আলোকিত গাজীপুর’-এর নিজস্ব কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১.০০ ঘটিকায় টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে অবস্থিত কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কোরআন তিলাওয়াত করেন মরকুন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব, বিশিষ্ট ওয়ায়েজ হাফেজ মাওলানা মুফতী তানভীর আল মাহমুদী। তিলাওয়াত শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের সভাপতি মোঃ মোস্তাকিম খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, গাজীপুর মহানগরের অন্যতম নেতা সরকার শাহনূর ইসলাম রনি। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পিনাকল স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা বিভাগ-এর সভাপতি ডাঃ মাহবুব আলম মাহফুজ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কলিমুল্লাহ ইকবাল।
‘আলোকিত গাজীপুর’-এর সহ-সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান শেখ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা মোঃ মাসুম রানা। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী শিকদার, প্রচার সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, অর্থ সম্পাদক রাসেল আহমেদ, নির্বাহী সদস্য মো: হানিফ হোসেন ও পাপেল মিয়া।
এছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে সাংবাদিক সুজন সারোয়ার, আল-আমীন হোসেন এবং মোস্তফা মিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের বক্তারা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তারা বলেন, অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সমাজ থেকে সব ধরনের অন্ধকার দূর করতে এই সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আলোকিত গাজীপুর’-এর নতুন কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক অভিযানে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাঁচজন এবং টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর সময় টঙ্গী পূর্ব থানার ভেতরে অপেক্ষমাণ স্বজন ও সমর্থকদের কয়েকজনকে প্রকাশ্যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাঁচজন এবং টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের গাড়িতে তোলার সময় দেওয়া এসব স্লোগান নিয়ে থানার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
তাদের কয়েকজনের দাবি, পরে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) গণমাধ্যমকর্মীদের মোবাইল ফোন থেকে ওই স্লোগানের ভিডিও মুছে দিতে বলেন এবং কয়েকটি ভিডিও মুছে দেওয়া হয়। তবে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টঙ্গী পশ্চিম থানায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বড় দেওরা এলাকার মন্ডল মার্কেটের বাসিন্দা মো. ফারুক (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকার আলামিন (৩১), নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব (১৯), ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব (২৭) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার মিনহাজ মাসুম (২৮)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারুক ছাত্রলীগের সদস্য, আলামিন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য, সাকিবুল হোসেন ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মিনহাজ মাসুম গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। গ্রেপ্তার শিহাবের কোনো পদবির তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মতিনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।