মো.নাঈম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধান খেতের পাশে রাস্তা থেকে মো.নাঈম (১৪) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ি সংলগ্ন ধান খেতের পাশে রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।


নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত।


স্থানীয়রা জানায়, নাঈম বুলু নেতা সমাজের এবায়েদ উল্যার মেয়ের ঘরের নাতি। তার মা-বাবার প্রায় তিন বছর আগে বিচ্ছেদ হয় যায়। এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থেকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে পড়া লেখা করত।


নিহেতর নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, শনিবার নাঈম মাদ্রাসা থেকে চলে আসে। পরে তার বাবা আমাদের ফোন দিয়ে তার ছেলের অবস্থান জানায়। পরে তার নানী আমেনা খাতুন ওই জায়গায় গিয়ে নাতীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার রাতের খাবার খেয়ে নাঈম ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজরের নামাজের সময় নামাজ পড়তে উঠলে দেখি ঘরের দরজা খোলা, সে শয়ন কক্ষে নেই। সকাল ৭টার দিকে আমি সার আনার জন্য যাওয়ার পথে আমার বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে ধান খেতের পাশে রাস্তার ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।


এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, ২০-২৫ দিন আগে আমার মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল তার মা সুমি আক্তার নানা ভাবে হুমকি ধমকি দেয়। কিভাবে ছেলের আয় রোজগার খায় দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। নিহতের মা তার বাবাকে সন্দেহ করছে। সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য তাকে অনেকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে নিজে ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত ছেলের মরদেহ দেখতে আসেনি বাবা।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার নিহতের বাবা ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পওয়া যায়নি।


নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের থুতনির নিচে চিলা দাগ রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানা যাবে। নিহেতর বাবার সাথে কথা হয়েছে তিনি চট্রগ্রাম অথবা ফেনীতে আছেন। তিনি আসছেন।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৩ পিএম

টিনে ঘেরা বাড়ির উঠানে ব্যস্ত একদল শিশু-কিশোর। কারও হাতে একতারা, কারও হাতে দোতারা, কেউ বাঁশিতে তুলছে সুর, আবার কেউ তবলার তালে মেলাচ্ছে হাত। কখনও ভেসে আসছে ফকির লালনের গান, কখনও বাউল, মুর্শিদী, মারফতি, ভাওয়াইয়ার সুর। 


শহরের কোলাহল আর প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের বাইরে গ্রামের মাটিতে এভাবে নতুন প্রজন্মের হাতে বেঁচে উঠছে আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতি।


এই শিশুদের কণ্ঠে গান শুনতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম আরাজি দেওডোবায় ছুটে গেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। গত সোমবার তিনি গ্রামটিতে যান। সেখানে শিশুদের কণ্ঠে গান শোনার পাশাপাশি দোতারা, একতারা, সারিন্দা, বাঁশি, তবলাসহ বিভিন্ন দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেখেন।


জানা গেছে, শিশু-কিশোরদের নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে ‘মায়ের তরী’ নামের সংগঠন। দেওডোবায় প্রধান ঠিকানা হলেও এ উদ্যোগ এখন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দুই জেলায় ‘মায়ের তরী’র ৯টি গুরুগৃহে পাঁচ শতাধিক শিশু লোকগান শিখছে। দুটি লোকবাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ১২৫ জন শিশু শিখছে দোতারা, একতারা, বাঁশি, বেহালা, তবলা, খমক, সারিন্দাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। সব মিলিয়ে ছয় শতাধিক শিশু এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

‘মায়ের তরী’র গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নরওয়ের নাগরিক লেখক, লোকগবেষক, আলোকচিত্রী ও কবি উয়েরা সেথেরের নাম। 


তিনি ১৯৯৮ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে দক্ষিণ নামাজের চর এলাকায় বন্যা-পরবর্তী মানুষের জীবন দেখতে গিয়ে চরের নারীদের কণ্ঠে মারফতি ও মুর্শিদী গান শুনে মুগ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে বাংলার লোকগানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে স্থানীয় শিল্পী ও সংগঠকদের নিয়ে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মায়ের তরী’।


গত সোমবার সেই সংগঠনের কার্যক্রম দেখতে দেওডোবা গ্রামে এসে মুগ্ধ হন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, প্রোগ্রাম অফিসার শাহপার সেলিম। এ সময় আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


‘মায়ের তরী’র কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু একটি দেশের অতীতকে ধারণ করে না, মানুষে মানুষে সম্পর্ক তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রান্তিক শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় লোকগান ও বাদ্যযন্ত্রের ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।


‘মায়ের তরী’র নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ বলেন, তাদের উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের গান শেখানো নয়; লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে তাদের জীবনবোধ, মানবিকতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।


সংগঠনের অন্যতম সংগঠক ইউসুফ আলমগীরের ভাষ্য, এখানে অধিকাংশ শিশুই আসে প্রান্তিক পরিবার থেকে। অনেকের শহরে গিয়ে সংগীত শেখার সুযোগ নেই। কোনো কোনো গুরু প্রায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শিশুদের প্রশিক্ষণ দেন। নিজেদের সময়, শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে তারা ধরে রাখছেন লোকসংগীতের ধারাবাহিকতা। ফলে সীমিত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের মধ্যেও কার্যক্রমটি এগিয়ে চলছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ পিএম

দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে দীর্ঘ অভিযানের পর একটি নির্জন নারকেল বাগান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—মামলার প্রধান অভিযুক্ত রিপন টুডু (৩৫) ও তাঁর সহযোগী সুজন টুডু (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজার সংলগ্ন এলাকার রিপন টুডুর সঙ্গে শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রায় ছয় মাস আগে জিন্নাতুন তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। এ সময় শিশুটিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ৫ জুন রাতে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু হলে মরদেহ গোপন করার পরিকল্পনা করা হয়। পরে রিপন টুডু মোবাইল ফোনে সুজন টুডুকে ডেকে আনেন। তাঁরা মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ীর পাশের নারকেল বাগানে নিয়ে যান এবং সেখানে মাটিচাপা দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন।


পুলিশ আরও জানায়, ঘটনা গোপন রাখতে একই এলাকার কাছাকাছি আরেকটি গর্ত করে সেখানে একটি কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর সন্দেহভাজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে নারকেল বাগানে দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ। দীর্ঘ সময় মাটি খননের পর বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।


দিনাজপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজের ঘটনা থেকে শুরু করে আসামীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং মরদেহ উদ্ধারের প্রতিটি ধাপ তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের গুরুতর অপরাধের রহস্য উদঘাটনে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালিত হচ্ছে।


সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

বিষয় :


সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সমাবেশ ও মিছিল করেছে উপজেলা যুবদল।


আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা যুবদল আয়োজিত মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে। পরে মিছিলটি পার্টি অফিসের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।


উপজেলা যুবদলের সভাপতি মাহমুদুল হক টিপুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।


সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি বেলায়েত হোসেন বিলু, দপ্তর সম্পাদক বেলাল হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা প্রামানিক রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ ইবনে রুবেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।


বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা দাবি করেন, বিএনপির নেতৃত্বে দেশ পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।


বক্তারা আরও বলেন, দেশের শান্তি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা যাতে জনজীবন ও দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন


ট্রিপল হত্যা মামলায় আবার বাবুল মিয়াকে রিমান্ডে নিলো পিবিআই

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ পিএম

সিলেট নগরীর রায়নগরে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে হত্যার মামলার আসামি বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 


আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন। পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মোরসালিন জানান, বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ১২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা নিকুঞ্জ ভিলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।


পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। পরে ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ প্রথমে দাবি করেছিল, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনার দিন তিনি ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে তিনি এতে অমত প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে পুলিশ জানায়। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যান বলে পুলিশের দাবি। পরে পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।


হত্যাকান্ডের তিনদিন পর গত ১৪ আগস্ট রাতে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম ছিলো না। ১৬ আগস্ট সকালে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ।


তবে ২০ আগস্ট হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি বাবুল মিয়া। এতে তিনি জানান, সেদিন সকালে চুরি করতে ওই বাসয় গিয়েছিলেন বাবুল মিয়া। চুরি করার সময় দেখে ফেলায় একেএকে তিনজনকে হত্যা করেন তিনি। পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের পরিবার। এরপর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। পিবিআই বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে বাবুলকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা।

 

মামলার এজহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।


শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

“শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল, প্রতিটি ঘর হবে একটি স্কুল”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম শফিক। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।




সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আসন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।


অভিভাবকদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার পর বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম শফিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, উপস্থিতি, শৃঙ্খলা ও সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৪ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতিবাদে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী যুবদল। 


আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গীর বিভিন্ন সড়কে এসব মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন ও সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন এবং যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডলেসহ মধুমিতা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি টঙ্গী স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে বিএনপির নেতারা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে টঙ্গীতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। এদিকে বিকেল ৪টার দিকে গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মন্ডলের উদ্যোগে চেরাগ আলী এলাকা থেকে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মিলগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে যুবদল নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।


সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।


উভয় কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।