মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর নুরুজ্জামান মীরকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাকে সভাস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার ইনচার্জের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে তিনি বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে হলরুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে এমপির ক্যামেরা পার্সন সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে,উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার ৮৫টি পূজামন্ডপের সভাপতি সম্পাদকসহ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিকেল ৫টার দিকে সভাটি শুরু হয়। একে একে বক্তব্য রাখেন শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হাফিজুল ইসলাম খান,মূন্সীগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল দাস। পরে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোঃ আব্দুল্লাহকে বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করা হলে পেছন দিক থেকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসময় বিএনপির নেতারা তাকে চিনতে না পেরে ধাক্কা দিয়ে হলরুম থেকে বের করে দেন। পরে তার পরিচয় প্রকাশ পেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ অন্যান্যরা তাকে হলরুমে ডেকে এনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেন।
এসময় নুরুজ্জামান মাইক হাতে নিতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খানের বক্তব্যে জামায়াত ইসলামী আওয়ামী লীগের মতো দেশকে অস্তিতিশীল করতে চাইছে এই অংশের প্রতিবাদ জানান। এসময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা তাকে মারধর শুরু করে। পরে পুলিশ তাকে রুম থেকে বের করে কিছুদুর এনে একটি অটোরিক্সায় তুলে দেয়। মারামারির ভিডিও ধারণ করার সময় এমপির ক্যামেরা পার্সন নাহিদ সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উপর চরাও হয়। এসময় তিনি কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইলফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনায় আহত নুরুজ্জামান মীর জানান,প্রথমে বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে লাঞ্চিত করা হয়। পরে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়।
শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ভুল বুঝাবুঝির কারনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল।
শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবুর রহমান বলেন, সাময়িক ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে তা ঠিক হয়ে যায়।
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগা (ছবি-সংগৃহীত)
চট্টগ্রাম নগরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে নগর ভবনে বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। মেয়রের হস্তক্ষেপে বগা গ্রেপ্তার এড়ান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মেয়র শাহাদাত হোসেনের দাবি, ওয়াকিল সন্ত্রাসী নন। গত মঙ্গলবার রাতে অভিযানের সময় নগর ভবনে ছিলেন না তিনি।
বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি মেয়র শাহাদাতের অনুসারী হিসেবেও পরিচিত। বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন– এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে খুলশী থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ ভবনে ঢোকার পর মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর অভিযান গুটিয়ে ফিরে যায় পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে গতকাল বুধবার সকালে নগরের ২৫নং রামপুরা ওয়ার্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা সিটি করপোরেশনে এসেছিল– এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’
মেয়র বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি থাকা আবদুর রহিম গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কীভাবে খুলশী থানার ওসি হলেন! খুলশী থানায় যোগ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত গ্রেপ্তার অভিযান হয়নি। সম্প্রতি হৃদয় নামে এক তরুণের হত্যা মামলায় কামরুলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর করে ওয়াকিল ও তার ভাইদের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে।’
মেয়র বলেন, ‘ওয়াকিলের দুই ভাই আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। তারা বলেছেন, কামরুলকে মেরে জোরপূর্বক ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি খুলশী থানার ওসির বিরুদ্ধে আসামিকে মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায় এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগও তোলেন।
এদিকে, মেয়রের এমন বক্তব্যের পর গতকাল সন্ধ্যায় খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে রদবদলের বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।
আদেশ অনুযায়ী, খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। আকবরশাহ থানার বর্তমান ওসি মো. কামরুজ্জামানকে বদলি করে খুলশী থানার ওসি করা হয়েছে। একই আদেশে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় বদলি করা হলো খুলশীর ওসি আবদুর রহিমকে।
এদিকে নগর ভবনে অভিযানের বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বগা নগর ভবন এলাকায় অবস্থান করছেন– এমন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। তবে তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি তখন নগর ভবনে ছিলেন কিনা, সেটিও নিশ্চিত নয়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, সন্ত্রাসী বগা যদি নগর ভবনে নাই থাকেন, তাহলে সেখানে অভিযান কেন? আবার মেয়রইবা কেন পুলিশের অভিযানে হস্তক্ষেপ করলেন?
রাত ৯টায় নগর ভবনে পুলিশ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নগর ভবন ঘেরাও করে পুলিশ। পরে বগাকে গ্রেপ্তারের জন্য ভবনের ভেতরে ঢোকে। এক পর্যায়ে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে সিএমপির (উত্তর) উপকমিশনার হাসান মোস্তফা স্বপন ঘটনাস্থলে যান। মেয়রের হস্তক্ষেপে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে ফিরে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অভিযানের বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বগা ওই এলাকায় অবস্থান করছে– এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পরে তাঁকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে আসে।
মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাস্থলে মেয়রের উপস্থিতি এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে মেয়রকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ত কাউকে খবর দেইনি, কেন এসেছেন আপনারা। কী জন্য আসছেন? সিটি করপোরেশনে ১০০ জন মানুষ আসবে। আপনারা চলে যান।’
ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, নগর ভবন থেকে পুলিশ বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মেয়রের অনুসারীদের ধাক্কাধাক্কি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
সাভারের হেমায়েতপুরে ব্যাংক থেকে ২৬ লাখ টাকা তুলে ফেরার পথে র্যাব পরিচয়ে টাকা লুটের অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরঘাট আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এসআরবি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. জুয়েল শিকদার (৪০), মো. তামিম (২৪) ও উজ্জল সরদার (২০)।
মামলার এজাহার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মাদানী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ব্যবসায়িক কাজে ২৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন ‘আর কে এন্টারপ্রাইজ’-এর কর্মচারী মো. ইসরাফিল হক।
টাকা নিয়ে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারে করে কয়েকজন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে টাকার ব্যাগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তাঁকে মারধর করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক মো. রেজাউল করিম সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।
এরপর ঘটনাটি তদন্তে এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করার পর রাজৈরের টেকেরঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এর আগে, ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করা হয়েছিল এবং পুলিশ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নোয়াখালীর সেনবাগে নিখোঁজের একদিন পর মো. মারুফ (২১) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ৩নং ডমুরুয়া ইউনিয়নের মতইন দক্ষিণপাড়া হাজী বাড়ির পাশের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মারুফ ওই এলাকার মো. রিপনের মেজো ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে নিজের মোবাইল ফোন ভেঙে কাপড়চোপড় ও একটি ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মারুফ। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
গতকাল বুধবার রাতে বাড়ির পাশের ধানখেতে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মারুফের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত ট্রাভেল ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। গলায় থাকা গামছাটি পুরোনো হওয়ায় ছিঁড়ে যাওয়ার পর তিনি ধানখেতে পড়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইলে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে পুলিশ লাইনস মাল্টিপারপাস শেডে জেলা পুলিশ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার।
এ সময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজুয়ান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিব সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং পূজা চলাকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সমস্যা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। প্রকাশ, জেলায় এবার ১৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
টাঙ্গাইলে নব যোগদানকৃত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদের সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নবাগত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ টাঙ্গাইলের উন্নয়ন কার্যক্রম, জনসেবা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, সাবেক সভাপতি ও টাঙ্গাইল ল’ কলেজের অধ্যক্ষ খান মোহাম্মদ খালেদ, অ্যাডভোকেট জাফর আহম্মেদ, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান।
জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই সাংবাদিকদের সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত না করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও খাদ্যপণ্যে কেমিক্যাল রং ব্যবহারের অভিযোগে ‘ইসলামিয়া মিষ্টি ভান্ডার (মোস্তফা)’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পৌরশহরের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মিষ্টি তৈরির কারখানায় অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাদ্যপণ্যে কেমিক্যাল রং ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে একই আইনের ৫৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানের মালিক মোস্তফাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রেখে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন বা বাজারজাতের বিষয়টি পুনরায় পাওয়া গেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।