পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদর উপজেলা শাখা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খন্ড খন্ড মিছিল জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়। পরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে এক বিশাল মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে সমাবেশে মিলিত হয়।
উক্ত সমাবেশে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডঃ তারিকুল ইসলাম খাঁন রুমার সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি। অন্যন্যার মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাবেক পিপি এডঃ সফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি এবিএম মমিনুল হক, সহ সভাপতি এডঃ গোলাম সারোয়ার খোকন, এডঃ আনিছুর রহমান মঞ্জু, আসাদুজ্জামান শাহীন, যুবদল সভাপতি শামীম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন। মিছিল ও সমাবেশে জেলা বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদল ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন,যখনই দেশের মানুষ শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে, ঠিক তখনই একটি মহল পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। আপনাদের সামনে সেই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সন্ত্রাসীদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করার আহবান জানান।
ইতিহাস সাক্ষী, কোনো দেশের উন্নয়নকে স্তব্ধ করতে হলে তার অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থায়িত্বের ওপর আঘাত হানাই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রথম কৌশল। সন্ত্রাস এবং অস্থিতিশলতার একমাত্র লক্ষ্য হলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গুত্ব করা এবং বিশ্ব দরবারে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতান্ত্রিক অধিকারে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ১৭টি বছর দেশের সাধারণ মানুষের গলায় টিপে ধরে রেখেছে। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও কিছু কুলাঙ্গার এখন দেশের ভেতরে বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে নৈরাজ্য ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা তাদেরকে ধরে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে সোর্পদ করবো। যারা আজ নিরীহ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদে আগুন দিচ্ছে, কিংবা উস্কানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে বিভেদ তৈরি করছে তারা কোনো দলের বা দেশের বন্ধু হতে পারে না। তারা এ দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু। ক্ষমতার লোভ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য যারা গোটা দেশকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আজ আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে এবং প্রতিহত করতে হবে।
সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আপসহীন। আমরা এই বাংলার মাটিতে আর কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করব না। কোনো বুলেটের ভয়, কোনো বোমার আতঙ্ক কিংবা কোনো অপপ্রচার এ দেশের মানুষকে তার অগ্রযাত্রার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। সমাবেশ ও মিছিলে সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বক্তব্যে রাখেন।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান
সাহসিকতা, সেবায় অনন্য নজির, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক দেওয়া হচ্ছে।
মাদারীপুরে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং মাদকবিরোধী অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মো. হাবিবুর রহমান। তার সক্রিয় নেতৃত্বে জেলাটিতে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জন্য চার ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হবে। ক্যাটাগরিগুলো হলো— বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা।
মো. হাবিবুর রহমান ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা। যশোরের কৃতি সন্তান তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মাজারের দান ও আয় নিয়ে সরকার, মাজারের খাদেম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন প্রস্তাব দেন শফিকুর রহমান।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজারের আয় কীভাবে সমাজ ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে সবার গ্রহণযোগ্য একটি টেকসই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কোনো পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো উচিত।শাহজালাল মাজারের দানের টাকা ব্যবহারের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, কয়েক শ বছর ধরে এ বিষয়ে একটি প্রচলিত ব্যবস্থা চলে আসছে। এখন ৩৫ শতাংশ জেলা প্রশাসনের হিসাব এবং ৬৫ শতাংশ মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে বণ্টনের যে ব্যবস্থা হয়েছে, সেটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।তিনি বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় হওয়ায় মাজারের আয় সমাজ ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা গেলে সেটি একটি ভালো দৃষ্টান্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যারা মাজারের খেদমতের সঙ্গে যুক্ত ও সুবিধা গ্রহণ করেন, তারা একটি পক্ষ হতে পারেন। সরকার আর সিলেটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ হতে পারে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, সংলাপের মাধ্যমে সুন্দর কিছু বেরিয়ে আসতে পারে। তবে কোনো কিছু চাপ দিয়ে করার চেষ্টা করা হলে সমাধানটা সুন্দর নাও হতে পারে। আমরা চাই টেকসই সমাধান। এমন সমাধান, যেটা সবাই মন থেকে গ্রহণ করবে এবং সমাজের কল্যাণে কাজে লাগবে।’
শাহজালাল (রহ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তার কারণে সিলেটের এই মাটি গর্বিত। মাজার থেকে পাওয়া অর্থ সমাজ ও দ্বীনের কল্যাণে ব্যবহার করা হলে সেটি আরও বেশি মানুষের উপকারে আসতে পারে।এ প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানের অর্থ ব্যবহারের উদাহরণও তুলে ধরেন। তার মতে, মাজারের আয় সমাজকল্যাণে ব্যবহারের একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা করা গেলে মানুষের আস্থাও বাড়বে এবং দানের পরিমাণও বাড়তে পারে।
শফিকুর রহমান বলেন, মাজারের অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে এমন একটি ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং সেই অর্থ সমাজের প্রয়োজনেও কাজে আসে।প্রসঙ্গত সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি।
মঙ্গলবার ও ওই কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়কাজে জন্য ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে আর বাকী ৬৫ শতাংশ দিয়ে টাকা মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।
উল্লেখ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভা শেষে মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে এসব তথ্য জানান এই কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।জেলা প্রশাসক জানান, এখন থেকে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকা থেকে ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়কাজে জন্য সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে। এই একাউন্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মতোয়াল্লির যৌথ সাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকী ৬৫ শতাংশ টাকা মাজারের দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। এছাড়া একজন হিসাব রক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৩০ জনকে গেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।বৃহস্পতিবার বিকেলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আমলী আদালতে তাদেরকে সোর্পদ করা হলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করার আদেশ দেন। এই ৩০ জনসহ ৩১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫/৩০ জনকে আসামী করে মোগলাবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগই সিলেট নগরীর তেররতনের বিভিন্ন কলোনির বাসিন্দা এবং বয়সে কিশোর।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সিলেট নগরীর তেররতনের সৈয়দ আলিফের ভাড়াটিয়া সাজু আহমদ (২১), একই এলাকার জীবন মিয়া (২১), আরজু মিয়ার কলোনির মাহবুবুর রহমান রনি (২০), আলাল মিয়ার কলোনির তাজু ইসলাম নাহিদ (১৯), মো. রাসেল (১৬), সাকিব আল হাসান (১৬) ও শেখ রাব্বি (১৬), লিটন মিয়ার কলোনির সুমন আহমদ (১৯), মামুন মিয়া (১৯) ও সায়েম আহমদ (১৯), কয়েছ মিয়ার কলোনির ফয়জুল খন্দকার, সোয়েব মিয়ার কলোনির শেখ রবিন (২০), তারেক মিয়ার কলোনির হাসান রেজভী শেখ (২০), সাহেদ মিয়ার কলোনির মাহি (২১) ও মো. রাকিন (১৫), সাব্বির মিয়ার কলোনির শাওন আহমদ (১৫), সাজু মিয়ার কলোনির আরিফ আহমদ আফজল (১৭), জাহিদ আহমদ (১৬), শাহীন মিয়ার কলোনির জানু মিয়া (১৫), রবিউলের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রবিউল হাসান শাফি (১৫), সাদারপাড়া এ ব্লকের হৃদয় আহমদ (২২), উপশহরের ইশরাত আবাসিক হোটেল সংলগ্ন ৩১৬ নম্বর বাসার আবদুল্লাহ আল রাহিম (১৭), উপশহর জে ব্লকের ২ নং রোডের আকাশ (২১), সোনারপাড়ার সুমন আহমদ (২০), কুমারপাড়া ঝর্ণা/৯১ নম্বর বাসার মো. রফিকুল ইসলাম (৩৫), মীরবক্সটুলা আজাদী গলির মাজিদ আহমদ (১৭), নয়াসড়ক কোরেশি ভিউ এর মো. নাহিদুল ইসলাম (১৫) দক্ষিণ সুরমার পাঠানপাড়া খানবাড়ির জিয়া উদ্দিন (৩৪) ও হবিগঞ্জের লাখাই থানার সজনগ্রামের গাজী মিয়া (২০)।
এছাড়া মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে শাহপরাণ থানার শিবগঞ্জ হাতিমবাগের উছতার আলীর পুত্র আবদুল হামিদ (২৩) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার সকালে মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুটি হাইয়েস গাড়ি আটক করে। এসময় গাড়ির ভেতর থেকে ৩০ জনকে আটক করা হয়। তবে আরও দুটি হাইয়েস গাড়ি ও মোটরসাইকেলে কয়েকজন পালিয়ে যায়।
নাটোর ১ , ( লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের দ্রুত সুস্থতা কামনায় নাটোরের লালপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ লালপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে নাটোর ১ , ( লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এমপির দ্রুত আরোগ্য, দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হারুনার রশিদ (পাপ্পু)। লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম রবি, লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আবু রায়হান, লালপুর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আশিকুর রহমান মুক্তি, বিএনপির নেতা ইকবাল হোসেন বাবলু, লালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওছার আলম মুকুল , লালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আরিফুজ্জামান বাপ্পী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাইনুল ইসলাম , মোঃ হাবিবুল বাশার, লালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল বারী প্রমূখ।
সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন
সংগঠনের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সদস্যদের ভোটে এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন সভাপতি এবং এনটিভির প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই কমিটি এখনও বহাল রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অপর একটি কমিটি গঠনের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় টাঙ্গাইলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ওই কমিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে, একই সঙ্গে টেন্ডারবাজির অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনায় টাঙ্গাইলের টেলিভিশন সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে সংগঠনের সভা ডেকে কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতে ১৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে রয়েছেন, সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন (এটিএন বাংলা), সহ-সভাপতি কাজী তাজউদ্দিন রিপন (একুশে টেলিভিশন) ও মির্জা মাসুদ রুবল (মাই টিভি)। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন, মহব্বত হোসেন (এনটিভি), যুগ্ম-সম্পাদক শফিকুজ্জামান মোস্তফা (এশিয়ান টিভি) ও আবু জোবায়ের উজ্জল (বিজয় টিভি), কোষাধ্যক্ষ আহমেদ রাসেল (এসএ টিভি), সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুমি আক্তার পলি (গ্লোবাল টিভি), ক্রীড়া সম্পাদক কেএ মিল্টন (এটিএন নিউজ) এবং দপ্তর সম্পাদক ইমরুল হাসান বাবু (ইসলামিক টিভি)।
কার্যকরী সদস্য মোসলেম উদ্দিন আহমেদ (চ্যানেল আই), হাবিবুল্লাহ কামাল (বাংলা টিভি) ও আব্দুর রাজ্জাক (৭১ টিভি)।
সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা হচ্ছেন- আতোয়ার রহমান আজাদ (বাংলা ভিশন), একরামুল হক খান তুহিন (মাছরাঙা টিভি), মহিউদ্দন সুমন (জিটিভি), কামাল হোসেন (আর টিভি), সোহেল শরীফ (চ্যানেল ওয়ান), আনিসুর রহমান খান (মাইটিভি, দেলদুয়ার-নাগরপুর), সিরাজ আল মাসুদ (গ্রীণ টিভি), নাঈম খান রাব্বি (স্টার নিউজ), জশিউর রহমান (বৈশাখী টিভি-নাগরপুর), মাসুদ কায়সার (গ্রীণ টিভি), ছানোয়ার হোসেন (বাংলা টিভি-মির্জাপুর)।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০৯ সালে ‘টাঙ্গাইল টেলিভিশন রিপোর্টার্স ফোরাম’ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন চ্যানেল আইয়ের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এটিএন বাংলার প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন।
মো.নাঈম
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র মো. নাঈমকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মো.ইব্রাহীম খলিল ক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর জঙ্গালিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হকের ছেলে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনায় নিহতের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে নিহতের বাবাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানখেতের পাশ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজঙ্গালিয়া গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের ছেলে।
নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, সোমবার রাতে নাঈম আমার বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে ফজরের নামাজের সময় আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি, ঘরের দরজা খোলা এবং নাঈম শয়নকক্ষে নেই। পরে সকাল ৭টার দিকে সার আনতে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশে রাস্তার ওপর নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর নাঈম নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর রাতের খাবার খেয়ে নানার বসত ঘরেই ঘুমিয়ে ছিল নাঈম। সকালে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের পাশে পাওয়া যায় তার মরদেহ। গত ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল সাবেক স্ত্রী সুমির ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন। ছেলের আয়-রোজগার খেয়ে কীভাবে মা খায়, তা দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পরপরই নাঈমের মা সুমি তার সাবেক স্বামী খলিলকে সন্দেহ করেন। সকালে নাঈমের মৃত্যুর খবর জানাতে খলিলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি। পরে তিনি নিজে ফোন করলে ছেলের মৃত্যুর খবর তাকে জানানো হয়। সুমি দ্বিতীয় বিয়ে করায় খলিল তার ছেলেকে শ্বশুরের ঘর থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত বাবাকে কৌশলে আটক করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ছেলের হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। পরবর্তীতে হত্যাকান্ডের কারণ জানানো হবে।