বাংলাদেশ সচিবালয়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ এএম

সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এখন থেকে দুপুর ১২টার আগে কোনো দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদে থাকা কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের জন্য দর্শনার্থী পাস দেওয়ার সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।


গত ৪ অক্টোবর সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।


সভার কার্যপত্র অনুযায়ী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দিনে সর্বোচ্চ ১০টি দর্শনার্থী পাস দিতে পারবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্যসচিব এবং সিনিয়র সচিব বা সচিবেরা সর্বোচ্চ পাঁচটি পাস দিতে পারবেন। অতিরিক্ত সচিবেরা তিনটি এবং যুগ্মসচিবেরা দুটি পাস দিতে পারবেন।


সচিবালয়ে প্রবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিয়ন্ত্রিত করতে প্রতিটি ভবনে পৃথক অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভবনভিত্তিক প্রবেশাধিকার যাচাই করা হবে।


এ ছাড়া বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হবে। তাদের পরিচয়, আসার উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা দপ্তরের তথ্য এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সংরক্ষণ করতে হবে।


সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিষয় :




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তোপের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস।


আট নম্বর টার্মিনালে পৌঁছালে কয়েকজন প্রবাসী তাকে লক্ষ করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন।


স্যোশাল মিডিয়ায ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ্য করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’, ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’, ‘ইউ কিল্ড থাউজেন্ডস অব পুলিশ’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করেন উপস্থিত প্রবাসীরা। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা সেখান থেকে তাকে দ্রুত নিয়ে যান।


এ সময় ড. ইউনূস ও তার সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদ দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে চলে যান বলে জানিয়েছেন উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি।


তবে এ ঘটনায় প্রবাসীদের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।






জাইমা রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ এএম

দাদা বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট, দাদি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, নানা সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী, বাবা বর্তমানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসনে আসীন এবং মা স্বনামধন্য চিকিৎসক। এমন পরিবারের একজন সদস্যকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের আগ্রহ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মুশফিকুল ফজল আনসারী তার ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন।


জাইমা রহমানকে নিয়ে সংবাদ, প্রতিবেদন কিংবা সাক্ষাৎকার প্রকাশ স্বাভাবিক উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, তার কর্মস্থল, কাজের ধরন, পেশাগত যোগাযোগ ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। জনপরিসরে পরিচিত একজন মানুষের ক্ষেত্রে এসব আগ্রহ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সেই আলোচনায় তার ব্যক্তিগত অর্জনের জায়গাটিও যথাযথভাবে থাকা প্রয়োজন। 


তিনি লিখেছেন, পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যের বাইরেও জাইমা রহমানের নিজস্ব একটি পরিচয় আছে। পড়াশোনা, আইনি প্রশিক্ষণ, ব্যারিস্টার হয়ে ওঠার পথ, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং স্ট্রাগল তার জীবনের এক নিজস্ব অধ্যায়।


জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অর্জনগুলোকে কেবল পারিবারিক পরিচয়ের আড়ালে ফেলে দেওয়া মোটেও ন্যায্য নয়।


মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, নিজের শিক্ষা, মেধা ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করবেন—এটি অস্বাভাবিক কোনো প্রত্যাশা নয়। পারিবারিক পরিচয়কে যোগ্যতা কিংবা অযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ বানালে ব্যক্তির প্রতি সুবিচার হয় না।


এখানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের কাঠামোটিও জানা প্রয়োজন উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ৪০ জন স্টাফের মধ্যে ৮ জনের বেতন-ভাতা জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে অর্থায়িত, ৪ জন জাতিসংঘের অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে প্রেষণে, ২০ জন সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রেষণে কর্মরত এবং ৮ জন সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মরত।


তিনি লিখেছেন, জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া পদটি পি-৩ গ্রেডের এবং জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের অর্থায়নে রয়েছে। অর্থাৎ, এটি বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ে প্রেষণে দেওয়া পদ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। জাতিসংঘের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।


নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, আমি নিজেও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা ছাড়াও মাঝে একটি অধিভুক্ত সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়েছি। কানেকশন থাকাটা অযোগ্যতা নয় বরং যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবেই ধরা হয়। 


বেতন-ভাতার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, জাতিসংঘের পেশাগত পদের বেতন গ্রেড ও ধাপ জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মূল বেতনের সঙ্গে কর্মস্থলের জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক সমন্বয় যুক্ত হয়। তাই বেতনের কোনো অঙ্ক আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেড, কর্মস্থল এবং প্রযোজ্য সুবিধার নিয়মও বিবেচনায় নিতে হয়।


তিনি আরও লিখেছেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির নিজের বেতন, আবাসন, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধাদি জাতিসংঘের তহবিল থেকে বহন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেই তা বহন করতে হবে। তবে জাতিসংঘ দায়িত্বসংক্রান্ত সফর ও কার্যক্রমে দপ্তরের বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকে অর্থায়ন করা হয়।


ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে আগ্রহ, প্রশ্ন ও তার কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত উল্লেখ করে এই রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, সেই মূল্যায়নে তার নিজের প্রস্তুতি, পরিশ্রম, মেধা ও পেশাগত পরিচয় যেন যথাযথ স্থান পায়। পরিবারের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য তার প্রতি মানুষের আগ্রহের যেমন যৌক্তিক কারণ, তেমনি তার নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে অর্জিত সুযোগ যেন অযৌক্তিক বিতর্ক ও একপেশে মূল্যায়নের শিকার না হয়—এই প্রত্যাশাসহ জায়মা রহমানের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ এএম

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ৬১টি ফ্লাইটের অন্তত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী। এসব ফ্লাইটের মধ্যে ২২টি সরাসরি ও ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ হিসাবে রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইটের যাত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ, এয়ারলাইনসটি এখনো যাত্রীসংখ্যা জানায়নি। তথ্য পাওয়ার পর যাত্রীর হিসাব হালনাগাদ করা হবে।


স্থগিত হওয়া ২২টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নয়টি, রিয়াদ এয়ারের সাতটি, সৌদিয়ার চারটি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট রয়েছে।


অন্যদিকে, ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি করে, সালামএয়ারের তিনটি ও ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।


এর আগে, বেবিচক জানিয়েছিল, ৫১টি ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। সর্বশেষ হিসাবে, স্থগিত ফ্লাইট ও ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।


সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। এসব ঘটনার পর ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।


রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। আজ সোমবার প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ ও প্রতিপালনের জন্য বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।


দূতাবাস জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও ধারণ, আদান-প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সৌদি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে সৌদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।


এ ছাড়া এসব ছবি, ভিডিও বা স্পর্শকাতর তথ্য মুঠোফোনে সংরক্ষণ কিংবা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দূতাবাসের কয়েকটি হটলাইন নম্বরও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


শ্রমসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৫


পাসপোর্টসংক্রান্ত টোল ফ্রি নম্বর: ৮০০১০০০১২৬


ডিপ্লোমেটিক উইং: ৮০০১০০০১২৪


মৃত্যুসংক্রান্ত হটলাইন: +৯৬৬৫৭০২১২১৮০


সৌদি আরবে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।


সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের একের পর এক হামলার পর বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সে দেশে ভ্রমণের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সৌদি আরব ভ্রমণের ব্যাপারে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে।


হুতিদের হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দুই বিমানবন্দরে আজ সোমবার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে।


সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ পিএম

পদত্যাগ করা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির শূন্য ঘোষণা করা সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ নভেম্বর সংরক্ষিত এই মহিলা আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়।


ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এই আসনের উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় আগামী ২৬ অক্টোবর। পরদিন ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ অক্টোবর। এর পরদিন (২৯ অক্টোবর) আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।


প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১ নভেম্বর। এর পরদিন (২ নভেম্বর) প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। সবশেষ আগামী ১২ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংরক্ষিত এই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


উল্লেখ্য, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। এরপরই সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে। তারই ধারাবাহিকতায় আসনটিতে উপনির্বাচনের তফসিল জারি করল ইসি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ পিএম

রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট দিদারুল আলমের আদালত এ আদেশ দেয় বলে তথ্য দিয়েছেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম।


এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।


আবেদনে দাবি করা হয়, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উস্কানিমূলক ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে প্রচার করছেন। 


এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ আহমেদসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দলটির পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।


তারা ‘কালআজকাল.কম’ নামে ফেইসবুকে পেইজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উস্কে দেওয়ার মত কন্টেন্ট তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনা করছেন।


রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কাজী গুলশান আরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। সহযোগী ১০১ জনকে নিয়ে ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটিও গঠন করেন তিনি। এ সংগঠনের কাজ মূলত দেশের বিভিন্ন শ্রেণি গোষ্ঠীর ভিতরে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা।


এর আগে বিকেলে দেবাশীষ বড়ুয়া ও গুলশান আরাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে দেবাশীষ বড়ুয়ার পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল করে আবেদন করেন।


জামিন শুনানিতে আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন বলেন, “তিনি (দেবাশীষ বড়ুয়া) কি এমন করেছেন যা দেশের উপর সরাসরি আঘাত করে। তার বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব নষ্টের কিছু নাই। রিমান্ড পাওয়া ভাল তবে সেই আবেদন যৌক্তিক হতে হবে। 


গতকাল থেকে আজ আদালতে হাজির করার আগ পর্যন্ত তারা হেফাজতে ছিল। রিমান্ড আবেদন করার যে কারণ তা ফুলফিল হয়ে গেছে।


“দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়, দেশ ড্রেসট্রো হয় এমন একটা শব্দ তার বিরুদ্ধে নেই। তিনি কি ঘটনাস্থলে ছিলেন? সেখানে থেকে জেনে শুনে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সন্ত্রাসী কিছু করেছেন? এমন কোনো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে নেই। রিমান্ড বাতিল করে তার জামিন প্রার্থণা করছি।”


গুলশান আরার পক্ষে তার রিমান্ড বাতিল চান অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান। তিনি বলেন, “তার (গুলশান আরা) বিরুদ্ধে অভিযোগ এমন কন্টেন্ট তৈরি করেছেন, যার ফরে রাষ্ট্র ঝুঁকিতে পড়ে। তিনি রিটায়ার্ড অফিসার। তার বিরুদ্ধে কোনো এলিগেশন নেই। ক্লিন ইমেজ, বর্তমানে তিনি ব্যবসা করছেন।


“তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আর্মি অফিসারদের সাথে যোগাযোগ। এটা তো থাকতেই পারে। কারণ তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন। এটা তো দোষের কিছু না। ফেইসবুক পেজ খোলা, কনটেন্ট তৈরি করা কোনো অপরাধ না। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করছি।”


অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যু্ক্তি তুলে ধরে বলেন, “এ আসামি সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আওয়ামী লীগকে পুর্নবাসিত করতে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সাথে যোগাযোগ, আভ্যন্তরীণ বিষয় গুপ্তচরদের কাছে পাচার করছে। তাদের রিমান্ডে দিলে রাষ্ট্রদ্রোহীতার সঙ্গে কারা জড়িত তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”


পরে আদালত দুই আসামির চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়। এরআগে রোববার রাতে ঢাকার দুটি এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আলী আকবর।