আটক যুবদল নেতা মো. মাসুদক। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ৫০ পিস ইয়াবাসহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক যুবদল নেতা মো. মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা যুবদল। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।


রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা। তিনি বলেন, মাদকসহ গ্রেপ্তারের ঘটনার পর দিন শনিবার রাতে মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।  এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে শাহেদা বেগম (৩৫), দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও মো. মাসুদকে (৩১) গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জাফর (৪৫) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।


সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিন সৈকত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাসুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন ও সদস্য সচিব নুরুল হুদা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।


নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।




সন্তান না হওয়ার স্ত্রীকে ডিভোর্স। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৯ পিএম

সাত বছরের দাম্পত্য জীবন ইতি আক্তার ও রনি খানের। একসাথে পথচলার দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও সংসারে আসেনি কোনো সন্তান। আর সেই সন্তান না হওয়ার বিষয়টিকে ঘিরেই ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি সংসার। স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ ঠেকাতে শেষপর্যন্ত পা ধরে আকুতি-মিনতি করেন অসহায় স্ত্রী ইতি আক্তার। কিন্তু স্ত্রীর এমন আকুতি-মিনতিতেও মন গলেনি স্বামীর।

পাথরের মতো কঠোর অবস্থানে বসে থেকে স্বামী চাইছেন বিচ্ছেদ। ঘটনাটি বরিশালের হিজলা উপজেলার। শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় গ্রাম্য সালিশের মধ্যে বসে স্বামীকে তালাক না দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করছেন স্ত্রী। একপর্যায়ে স্বামীর পা ধরে বিলাপ করে কান্নাজড়িত কন্ঠে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানাচ্ছেন অসহায় স্ত্রী। তবে স্ত্রীর সেই আকুতি-মিনতিতে স্বামীর মন গলেনি। অবশেষে শুধুমাত্র সন্তান না হওয়ার অজুহাতে স্ত্রীকে ডির্ভোস দিয়েছেন তার স্বামী। ফলে ইতি আক্তারের সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর স্বামী জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন তার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবে না। তাই তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে আর সংসার করবেন না। অবশেষে সাত বছরের সংসার করা স্ত্রীকে শুধু সন্তান না হওয়ার অজুহাতে ডিভোর্স দিয়েছেন ওই স্বামী। ফলে সাত বছরের ওই দম্পতির সংসার জীবনের অবসান ঘটেছে। 

অসহায় ইতি আক্তারের বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে। আর স্বামীর বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জের বাবনের চর এলাকা। বর্তমানে তারা নরসিংদীতে বসবাস করছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তালাকপ্রাপ্তা নারী।


কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩০ পিএম

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত এ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৪ জন, কবিরহাট থানায় ৪ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ১ জন, সেনবাগ থানায় ২ জন, সোনাইমুড়ী থানায় ২ জন, চাটখিল থানায় ২ জন, চরজব্বর থানায় ৩ জন এবং হাতিয়া থানায় ১১ জনকে আটক করা হয়।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


খাইরুল ইসলাম

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

কলাপাড়ায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে বাবার সঙ্গে অভিমান করে এক সন্তানের জনক খাইরুল ইসলাম (২৬) আত্মহত্যা করেছেন।


রবিবার (৮ নভেম্বর) শেষ বিকেলে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাইরুল ইসলাম ওই গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। নিহতের বাবা আলমগীর হাওলাদার জানান, খাইরুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।


মাদক সেবনের কারণে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং তাঁদের মারধর করতেন। তাঁর দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।


তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য খাইরুল প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের চাপ দিতেন এবং বিভিন্ন সময় তাঁদের গালিগালাজ করতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মাদক সেবনের জন্য তিনি বাবার কাছে টাকা চান। কিন্তু বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ওই রাতে খাবার না খেয়ে ঘুমাতে যান। একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।পরে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে বাইরে গেলে খাইরুল ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বাড়িতে ফিরে দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।


পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়ালঘর থেকে দড়ি এনে তিনি আত্মহত্যা করেন এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইলিয়াস তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


পাটের গুদামে লাগা আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা । ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ পিএম

বাবার সঙ্গে ব্যবসার টাকার হিসাব নিয়ে মনোমালিন্যের জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাবার পাটের গুদামে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। আগুনে গুদামঘরসহ সেখানে থাকা প্রায় ৩২০ মণ পাটের বড় অংশ পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন গুদাম মালিক।


রোববার (৮ নভেম্বর ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামশা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা ওই এলাকার সামেজুদ্দিন মোল্লার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার আগে সকালে রাসেল মোল্লাকে গুদামের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এসময় উত্তেজিত অবস্থায় তাকে গুদামের টিন ও দরজা ভাঙচুর করতে দেখা যায় বলে দাবি তাদের। এরই এক পর্যায়ে গুদামে আগুন লাগিয়ে তিনি চলে যান বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তা নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুদাম মালিক সামেজুদ্দিন মোল্লা বলেন, ব্যবসার টাকার সঠিক হিসাব নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এতে সে উত্তেজিত হয়ে গুদামে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুদামে আমার প্রায় ৩২০ মণ পাট ছিল। যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।


তিনি আরও বলেন, আগুনে গুদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে থাকা পাটের বড় অংশ পুড়ে গেছে।


সিংগাইর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তিনি আরও বলেন, আগুনে গুদামঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। গুদামে থাকা পাটের প্রায় ৮০ শতাংশও পুড়ে গেছে। 


শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ পিএম

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। ওই শিক্ষক আগেও শিক্ষার্থীদের মারধরসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।


তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের ভাষ্য—চুল বড় হয়ে যাওয়ায় দেখতে খারাপ লাগছিল। এ জন্য তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিয়েছেন। এদিকে ঘটনাটি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫  শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করতে শোনা যায়।


 মিলন নামের এক অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে এসে দেখি, আমার ছেলের মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দিয়েছে; অথচ তার মাথায় চুল স্বাভাবিকই ছিল। এ নিয়ে আজ বিদ্যালয়ে ঝামেলা হয়েছে।’


আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ আছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।


অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের চুল অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল; চোখের ওপর এসে পড়ায়, দেখতে খারাপ লাগছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’ তবে আগে মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা অস্বীকার করেন তিনি।


জানতে চাইলে বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তিনি এখন একটি প্রশিক্ষণে আছেন। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কেটে দেওয়া হলো, তা তদন্ত করতে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 


বরিশালের উজিরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়জিদ মিঠু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ পিএম

বরিশালের উজিরপুরে গোপনে নারীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বায়জিদ মিঠুকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে।


রোববার (৮ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বায়জিদ মিঠুকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।


শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে উজিরপুর পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বায়জিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাসাবাড়ির জানালা ও বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে নারীদের অজান্তে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ভিডিও দিয়ে নারীদের ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শনিবার রাতে এক গৃহবধূ বাথরুমে গেলে ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে তার গোপন ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন বায়জিদ। বিষয়টি ওই নারীর নজরে এলে তিনি চিৎকার করেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে বায়জিদকে আটক করেন। এ সময় তার মুঠোফোনে একাধিক নারীর গোপন ভিডিও দেখতে পান তারা। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে।


স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে এক গৃহবধূর বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছিলেন বায়জিদ। ওই নারী বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করলে স্থানীয়রা গিয়ে তাকে আটক করেন।


খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বায়জিদকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের দুটি গ্যালারিতে অসংখ্য পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে।



উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, বায়জিদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে রোববার বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্যাডে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বায়জিদ মিঠুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনি ও সদস্য সচিব মো. কামরুল আহসান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান বাপ্পি।