টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের হামিদুল ওরফে হাম্বুর স্ত্রী নার্গিস, তার শিশু ছেলে নীরব, আজিজা রহমানের ছেলে সুলতান, আব্দুর রশিদের মেয়ে রিপা এবং ছত্রাগাছা গ্রামের জাকিরের স্ত্রী দোলা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন থাকায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান জানান, ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটি মহাসড়কের পাশে থামে। এ সময় বাসের কয়েকজন যাত্রী নিচে নেমে পাশের রেললাইনে বসে ছিলেন। ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন দ্রুতগতিতে এসে তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই এক শিশু, তিন নারী ও একজন পুরুষ নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে রাতেই নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া ও ছত্রাগাছা গ্রামে মরদেহগুলো পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয়রা জানান, একসঙ্গে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এমন মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুর-জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়কের (ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ে) চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে ভয়াবহ ধস ও বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার সিংলাব-পাকুন্দা এলাকার আন্ডারপাসের পূর্ব পাশে প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটারজুড়ে সড়ক দেবে গিয়ে তৈরি হয়েছে চরম মৃত্যুফাঁদ। রোববার (৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায় এ অবস্থা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) স্থানীয়রা সড়কে প্রথম এই সুবিশাল ফাটল দেখতে পান।
বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজট ও যাত্রী ও চালকদের তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। দুপুরে খবর পেয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়নে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চারলেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিচঢালাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে।
একাধিক জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে ভেতরের মাটি ও নিম্নমানের সুরকি বেরিয়ে এসে সড়কটি নিচের দিকে দেবে গেছে। ফলে পুরো এলাকা জুড়ে বড় ধরনের ভূমিধসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সড়ক নির্মাণে চরম দুর্নীতি ও রাতে মাটি চুরির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তা বানানোর সময় আমরা চোখের সামনে দেখেছি কী নিম্নমানের কাজ হইছে! এক বছরও গেল না, এর মধ্যেই রাস্তা ফাইট্টা ধইসা পড়ল। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করতাছে, আর ঠিকাদাররা চুরি কইরা আমাগো জীবন ঝুঁকিতে ফালাইতাছে।
সড়কের পাশের স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন একই অভিযোগ তুলে বলেন, রাস্তা বানানোর নাম করে বিদেশি চায়না ঠিকাদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু লোক রাতের আঁধারে সড়কের দু'পাশের মাটি কেটে বিক্রি করে পুকুর বানিয়ে ফেলেছে। কোনো গাইড ওয়াল না করেই তাড়াহুড়ো করে সড়ক নির্মাণ করা হয়। ফলে মাটির চাপে দুই পাশের খাদের কারণে পুরো রাস্তা এখন দেবে গেছে। আর কয়দিন বৃষ্টি হইলে এই পুরা অংশ ধসে পড়বে।
তবে কাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চারলেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী।
তিনি বলেন, টানা দুই-তিন দিনের বৃষ্টির কারণে সড়কের নিচের মাটি নরম হয়ে পড়ে। তার ওপর সড়ক দিয়ে অনবরত অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নরম মাটি সরে গিয়ে রাস্তা দেবে গেছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রকল্প নির্মাণকারী বেসরকারি অংশীদার 'ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড'-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে ডাইভারশন সড়ক তৈরি করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করছেন। যেখানে মাটি সরে গেছে, সেখানে ড্রিল করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা হবে।
এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ড্রিল করে জোড়াতালির মেরামত নয় অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে মূল কারণ উন্মোচন করতে হবে এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে দুইজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম নিয়ামুল কবীর উৎসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অংশ নেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, নোয়াখালী পৌরসভার মধুপুর, দত্তেরহাট, মাইজদী বাজার, আয়কর অফিস এলাকা ও হাপার গোড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইয়াবা সেবন করে জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করার অভিযোগে ঘটনাস্থলেই ফায়েক আদনানকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং আনোয়ার হোসেন সাদ্দামকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনারায়ণপুর এলাকার মুসলিম কলোনির আলী আহাম্মদ মিয়া বাড়ির মৃত মাঈন উদ্দিন সোহেলের ছেলে ফায়েক আদনান (৩০) এবং সোনাপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই এলাকার আব্দুল বারেক মিয়ার বাড়ির মৃত রুহলামিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন সাদ্দাম (৩৫)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদক নিমূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দিনাজপুরের বিরল থানার একটি চৌকস দল গাজীপুর জেলা থেকে মোঃ ইমন হোসেন (৪৫) নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দিনাজপুর জেলা পুলিশের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবা-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বিরল থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ইমন হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান থানার মামলা নম্বর-২২, তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ খ্রিস্টাব্দে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছিলেন। পুলিশের তথ্যমতে, ওই মামলায় একজনকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মামলার আসামী দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। মামলার চার্জ গঠনের পর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে জিআর (সাজা) মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্ট জারী করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমন হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুর জেলার বিরল থানাধীন মহাজনপাড়া (জগতপুর) এলাকায় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জারী করা ওয়ারেন্ট দিনাজপুর জেলায় আসে।
এরপর বিরল থানা পুলিশ আসামীর অবস্থান শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালায়। পরে শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে গাজীপুর জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ ইমন হোসেন (৪৫), পিতা—মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে বাবুর; সাং—মহাজনপাড়া; থানা—বিরল; জেলা—দিনাজপুর। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আদালতের জারী করা মৃত্যুদণ্ডের ওয়ারেন্টের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নাগরিক সেবাকে সহজীকরণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মত সিলেটে চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ইসিপিএস)। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থী ঘরে বসেই নাগরিক আবেদন সাবমিট করাসহ ট্রাকিং করতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসীরা দ্রুততম সেবা নিশ্চিতে প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিসও এতে সন্নিহিত থাকবে। যাতে ১ মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদন সহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা যায়।
আজ শনিবার দুপুরে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদি।
তিনি বলেন, আগামী ৫ অক্টোবর সারাদেশের মত সিলেটে প্রথমবারের মত বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন করবে সিউক। এদিন দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালায় থাকবে র্যালি, আলোচনা সভা, ইসিপিএস উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইডিয়া প্রতিযোগিতা, মডেল প্রদর্শনী, স্টল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
পরদিন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, নগরের দু'টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, টেকসই নগরায়ন ও আবাসন বিষয়ক সেমিনার, আইডিয়া ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সমাপণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
এসব অনুষ্ঠানমালায় আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব নগর বিনির্মানের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন সংশ্লিষ্টরা। দিবসকে কেন্দ্র করে সিলেটে এই প্রথমবারের মত আবাসন সংক্রান্ত সকল অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানান সিউক চেয়ারম্যান।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রার শুরু থেকেই নাগরিক সেবা সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইসিপিএস তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা ঘরে বসেই আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ইসিপিএসের সঙ্গে ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’ যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সিউক জানিয়েছে, আগে সিলেটে বিশ্ব বসতি দিবসের আয়োজন সিলেট গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে হলেও এবারই প্রথম সিউক দিবসটি আয়োজন করছে। বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দুই দিনের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। দিবসটি সামনে রেখে আবাসন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকেও একই আয়োজনে যুক্ত করা হয়েছে।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্মসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে। দুই দিনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে আবাসন ও নগরায়ণ বিষয়ে ভাবনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন মডেল প্রদর্শনী এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ইতিমধ্যে নগরায়ণ সংক্রান্ত ৩০টির বেশি ভাবনা জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে সিউক।
৬ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনে পরিবেশ সুরক্ষায় আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হবে। এরপর টেকসই নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন প্রতিযোগিতাগুলোর চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনের আয়োজন শেষ হবে।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, সিলেটকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিউক কাজ করছে। পরিকল্পিত নগরায়ণে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার পাশাপাশি আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুপরিকল্পিত সিলেট গড়ে তুলতে তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের চিন্তা ও পরিকল্পনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ব বসতি দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোরও চেষ্টা থাকবে।
নদীর ভাঙন রোধে তীরে জিওব্যাগ ফেলার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। কিন্তু ভাঙন রোধে ফেলা ব্যাগগুলো ভরা হচ্ছে সেই ভাঙনকবলিত নদীর তলদেশ থেকে তোলা বালু দিয়েই। স্থানীয় লোকজনের প্রশ্ন, এভাবে কি আদৌ ভাঙন রোধ করা সম্ভব? এটি যেন 'মাছের তেলে মাছ ভাজা'। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চাড়ালকাটা নদীতে এমন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীভাঙন আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চাড়ালকাটা নদীর উজানের পানির চাপ ও টানা বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।
জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এতে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই টাকায় জলঢাকা উপজেলার হরিশচন্দ্র পাঠ, বসুনিয়াপাড়া ও বাবুপাড়াসহ ভাঙনকবলিত এলাকার ৯টি প্যাকেজে ১ হাজার ৩৫ মিটার চাড়ালকাটা নদীর ডান তীর রক্ষা কাজ করা হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী অন্য জায়গা থেকে শুকনা ও নির্দিষ্ট মানের মোটা বালু এনে তা দিয়ে জিওব্যাগ ভরাটের কথা থাকলেও ভাঙনকবলিত নদী থেকেই বালু তুলে ব্যাগ ভরা হচ্ছে। সরকারি দরপত্র অনুযায়ী নদীর তলদেশে জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি ওপরের অংশে পাটের বস্তায় নির্দিষ্ট অনুপাতে বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করার কথা। এ ছাড়া জিওব্যাগ ভর্তিতে ছয় বস্তা বালুর সঙ্গে এক বস্তা নির্দিষ্ট মানের সিমেন্ট মেলানোর কথা থাকলেও ঠিকাদার তা মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০'-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, নদীর তীর, বাঁধ বা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ১ কিলোমিটারের মধ্যে শ্যালো ড্রেজার বা বোমা মেশিন দিয়ে বালু তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনটির ১৫(১) ধারা অনুসারে এ নিয়ম অমান্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ীও নদী রক্ষা কাজে নদী তলদেশের পলি বা ভাঙনকবলিত এলাকার বালু ব্যবহার করা যাবে না।
কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে, চাড়ালকাটা নদীর যে স্থানে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে, তার ৫০ মিটারের মধ্যে ২৪ হর্স পাওয়ারের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক শ্যালো ইঞ্জিনচালিত খননযন্ত্র (বোমা মেশিন) দিয়ে গভীর গর্ত করে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ব্যাগে নির্দিষ্ট এফএম (Fineness Modulus) মানের মোটা বালু দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে নদীর পলিযুক্ত চিকন বালু। নিয়ম অনুযায়ী এই কাজ তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও পাউবোর যৌথ টাস্কফোর্স কমিটি থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর নজরদারি দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'সরকার থেকে টেন্ডার নেওয়া হয়েছে বাইরে থেকে বালু আনার জন্য। কিন্তু এই নদী থেকেই বালু তুলে আবার নদীর কিনারেই দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে নদী, বালু বা রাস্তাঘাট, কোনোটাই টিকবে না।'
আরেক বাসিন্দা জানান, তাঁদের এলাকা এমনিতেই নিচু। এভাবে নদী থেকে বালু তুলে ভাঙন বাড়লে তাঁরা কোথায় যাবেন, কোথায় আশ্রয় নেবেন-তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় আছেন। সামনের বর্ষায় তীর রক্ষা বাঁধ পুরোপুরি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছয় বস্তা বালুর বিপরীতে এক বস্তা সিমেন্ট ব্যবহারের কথা থাকলেও পুরোনো চটের ছেঁড়া বস্তায় পলিযুক্ত বালুর সঙ্গে নামমাত্র সিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। এতে কাজ শেষ হতে না হতেই বস্তা নষ্ট হয়ে বালু ঝরে পড়ছে। স্থানীয় লোকজন কাজের অনিয়মে বাধা দিলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েও কাজ হয়নি।
এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজা আহমেদ বলেন, "আমরা আইটেম অ্যাসেস করি। যদি কোনো প্রকার অসঙ্গতি হয়, অ্যাসেসমেন্ট কমিটি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা সামনে এগোব। প্রকল্প শেষে বিষয় টি খতিয়ে দেখা হবে।"
তবে কাজ চলাকালেই নিয়মিত তদারকি ও পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও প্রকল্প শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা জানালেন এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে। বালু উত্তোলন বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি।
খেলাধুলার সার্বিক প্রসার ও অনুশীলনের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সুসংগঠিত করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
শনিবার দিনাজপুর সরকারি কলেজে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার (রংপুর বিভাগ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্বাচিত ৩০৬ জন উদীয়মান ও প্রতিভাবান অ্যাথলেট বর্তমানে বিকেএসপিতে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। সারাদেশে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে 'স্পোর্টস ভিলেজ' প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার ও নতুন প্রতিভা অন্বেষণে দিনাজপুর বিকেএসপিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।
যুব সমাজের স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ৮৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। একই সাথে ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, গত ৬ মাসে ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে ৩৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। এছাড়া সরকারের 'আর্ন' প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৯ লাখ যুব ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যা দিনাজপুরের ১০টি উপজেলাতে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।
প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাই একসাথে কাজ করে এবং খেলাধুলার সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।