নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে শিশুদের শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ গড়িয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মকবুল হোসেন নামে এক মুরগি ব্যবসায়ী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মারা গেছেন।
মকবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। নিহতের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পথে জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে বালাগ্রাম ইউনিয়নে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মকবুল হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা।
মকবুল হোসেনের মরদেহ দুপুরে বালাগ্রামের নিজ বাড়িতে নেওয়ার সময় জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে দেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে মানববন্ধনটি বিক্ষোভে রূপ নেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মকবুল হোসেনসহ সংঘর্ষে আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই ঘটনায় প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা জলঢাকা থানায় ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। পরে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও মামলা করা হলে সেটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২৩ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়। অর্থাৎ একই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মকবুল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, “আসামিদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। অতিদ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের সনি সিনেমা হলের সামনে একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মোটরসাইকেলে এসে অজ্ঞাতপরিচয়ের কয়েকজন এ হামলা চালায়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাত ৮টা ৩৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সনি হলের সামনে একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলে করে এসে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
১০০ ফিট এলাকায় একটি স্কুল বাসে আগুন। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ভাটারার ১০০ ফিট এলাকায় একটি স্কুল বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার দিকে জলসিড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
ভাটারা থানার কর্তব্যরত অফিসার দেবাশীষ রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। কারা, কীভাবে আগুন দিল এখনও সেটি জানা যায়নি। তদন্ত শেষে বলা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীতে বিভিন্ন বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। গতকাল শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কয়েক দিনে রাজধানীতে অন্তত আটটি বাসে আগুন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরি এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
আজ রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
আইনশৃঙ্খলা ও জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপজেলার বৈরাগীরচর বাজারে আইনশৃঙ্খলা ও জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল চারটার দিকে দৌলতপুর থানা-পুলিশের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং গুজব প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন, দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃত্ব, অভিভাবক, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানো এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।
সভায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনা শেষে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সভায় বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—মাদক নয়, খেলাধুলা; সন্ত্রাস নয়, শান্তি; অপরাধ নয়, সামাজিক সম্প্রীতি। পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ দৌলতপুর গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা
সন্তান না হওয়ার স্ত্রীকে ডিভোর্স। ছবি: সংগৃহীত
কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
খাইরুল ইসলাম
কলাপাড়ায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে বাবার সঙ্গে অভিমান করে এক সন্তানের জনক খাইরুল ইসলাম (২৬) আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) শেষ বিকেলে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খাইরুল ইসলাম ওই গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের ছেলে। নিহতের বাবা আলমগীর হাওলাদার জানান, খাইরুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন।
মাদক সেবনের কারণে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং তাঁদের মারধর করতেন। তাঁর দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর স্ত্রী বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও জানান, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য খাইরুল প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের চাপ দিতেন এবং বিভিন্ন সময় তাঁদের গালিগালাজ করতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মাদক সেবনের জন্য তিনি বাবার কাছে টাকা চান। কিন্তু বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ওই রাতে খাবার না খেয়ে ঘুমাতে যান। একপর্যায়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।পরে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে বাইরে গেলে খাইরুল ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। বাড়িতে ফিরে দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়ালঘর থেকে দড়ি এনে তিনি আত্মহত্যা করেন এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইলিয়াস তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।