ঘুমন্ত ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে পরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক বাবা
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর বনমালা এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস ঘটনা পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নেশার টাকার জোগাড় করতে না পেরে নিজের ঘুমন্ত ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে পরে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক বাবা। নিহত সাকিব (১৮) উত্তরা এলাকার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি চাকরিও করতেন এবং পরিবারের আর্থিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।
জানা যায়, আজ রবিবার ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে নিজ বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাকিবের ওপর হামলা চালান তার বাবা সোহেল (৫০)। প্রথমে ছেলের মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে চিৎকার বন্ধ করে দেন, এরপর তার দুই হাতের রগ কেটে দেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলেই সাকিবের মৃত্যু হয়।
এ সময় পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বড় ছেলে সোহান (২৭), যিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। নাইট ডিউটি শেষে গভীর ঘুমে থাকায় তিনি কিছুই টের পাননি।
ঘটনার পরপরই সোহেল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিকটস্থ রেললাইনে গিয়ে একটি চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল একসময় রাজমিস্ত্রি পেশায় একসময় মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। দেশে ফিরে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রায় এক বছর আগে তার স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
বড় ছেলে সোহান জানান, নেশার টাকার জন্য তার বাবা প্রায়ই ঘরের জিনিসপত্র, এমনকি চাল-ডালও চুরি করে বিক্রি করে দিতেন। এলাকাবাসীর ধারণা, দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি ও মানসিক অস্থিরতার কারণেই এ ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার সত্যতা আমরা জেনেছি। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নৃশংস ঘটনায় বনমালা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
ঝালকাঠির নলছিটিতে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা ও ত্রাণের চাল বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল এগারোটায় নলছিটি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি নলছিটি-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
সভাপতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ড। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনিচুর রহমান খান হেলাল, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা সালু, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান সোহাগ, নলছিটি উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা, নলছিটি উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পলাশ সজ্জনসহ আরো উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা, ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বৃন্দ।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং পূজার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয় এবং উপজেলার ২২টি পূজামণ্ডপে ৬০০ শতকেজি করে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম।
ফেসবুকে প্রেম মোবাইলে বিয়ে
প্রায় ছয় মাস আগের কথা। ইতালি প্রবাসী খোরশেদ আলীর (৪৮) সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় সুমাইয়া নামের এক নারীর। মেসেঞ্জারে কথোপকথনের পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে মুঠোফোনেই বিয়ের কাজ সারেন। এরপর ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলেও নানান অজুহাতে নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন সুমাইয়া।
গতকাল বুধবার দুপুরে সুমাইয়াকে ভিডিও কল দিলে সেটি ধরেন নাটোরের লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। ওসি খোরশেদকে জানান, নারী ভেবে যাঁকে তিনি বিয়ে করেছেন, তিনি আসলে নারী নন। তিনি শান্ত আলী নামের এক তরুণ। মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে তিনি এত দিন খোরশেদ আলীকে ঠকিয়ে টাকা নিয়েছেন।
খোরশেদের দাবি, বিয়ের পর গত কয়েক মাসে ভরণপোষণসহ নানান কাজে তাঁর কাছ থেকে তিন লাখের বেশি টাকা নেন ওই তরুণ। ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলে মুঠোফোনের সামনের ক্যামেরা অকেজো থাকার কথা জানাতেন কথিত সুমাইয়া। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতেও নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, প্রতারণার অভিযোগে গতকাল সকালে লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শান্ত আলী ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের আটকের পরই কথিত সুমাইয়ার পরিচয় প্রকাশ পায়।
পুলিশ ভিডিও কলে প্রথমবারের মতো কথিত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার নামধারী শান্ত আলীকে দেখালে খোরশেদ আলী বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন ধরনের প্রতারক থাকতে পারে, তা আমি কখনোই ভাবিনি। ওর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
পুলিশ জানায়, ২০ বছর বয়সী শান্ত আলী লেখাপড়া জানেন না। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ। মুঠোফোনে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি নারী কণ্ঠে কথা বলতে এবং খুদে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারেন।
শুধু তা-ই নয়, মুঠোফোনে বিয়ের পর কথিত সুমাইয়ার (শান্ত আলী) বাবা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বহুবার শ্বশুর হিসেবে কথা বলেছেন খোরশেদ আলী। তাঁর কথাবার্তায়ও শান্ত আলীর প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়েনি।
পুলিশের ভাষ্য, শহিদুল ইসলাম বিষয়টি জেনেও ছেলেকে প্রতারণার কাজে সহায়তা করেছেন।
গতকাল সকালে শান্ত ও শহিদুলকে গ্রেপ্তারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এসব মুঠোফোনে খোরশেদ আলীর সঙ্গে খুদে বার্তা বিনিময়ের বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে।
খোরশেদ আলীর বরাত দিয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্ত আলী প্রথমে একজন নারীর ছবি দিয়ে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে ওই প্রবাসীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে পরিচিত হন এবং কথাবার্তা শুরু করেন। ফেসবুকে ব্যবহৃত ওই নারীর তিনটি ছবিও তিনি খোরশেদ আলীকে পাঠান।
ওসি বলেন, বাড়ির পাশের জমি কেনার কথা বলে একদিনে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছেন শান্ত আলী। এ ছাড়া দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন। এভাবে মোট তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিলেটে মূহুর্তেই ট্রেনের টিকিট গায়েব
সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী রেলের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছাড়ার পরপরই গায়েব হয়ে যায়। এবার এই বিষয়টি নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান।
সিলেটে ট্রেনের টিকিট সংকটের পেছনে কালোবাজারি ও মজুদদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পেয়ে মামলা দায়েরের পর সেটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-কে। গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছে।
মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ। তিনি জানিয়েছেন, আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা মামলাটি তিনি তদন্ত করছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকায় উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এসব রুটের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যায়। যেটি নজরে আসে বিজ্ঞ আদালতের। পরবর্তীতে আদালত পর্যবেক্ষণ করে অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেনের সব টিকিট বিক্রির বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে। এরই প্রেক্ষিতে গত মাসের (সেপ্টেম্বর) শেষের দিকে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি এজাহারে কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
বিষয়টি নিয়ে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, রেলের টিকিট অনলাইনে ক্রয় করতে হয়। কেউ কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও ক্রয় করেন। টিকিট বিক্রিতে তাঁদের কোনো হাত নেই। এদিকে, পিবিআই সিলেটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আহাদ মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
মির্জা ফয়সল আমিন
ঠাকুরগাঁও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন।
আজ বৃহস্পতিবার( ৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, একাত্তরের চেতনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনের পক্ষে সমর্থন ও দোয়া কামনা করা হয়।
সভায় মির্জা ফয়সল আমীন দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের দাবিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম রনি।
এ সময় জে এইচ আলমগীর, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সাইদা আফরোজ চৌধুরী পুতুল, আহ্বায়ক মীর জাহিদসহ মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোরুজ্জামান চৌধুরীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. সহিদুল ইসলাম চৌধুরীর ওরফে শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ও সম্পদ বিবরণী প্রদানের নোটিশের পরও নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে দুদুক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ মোট ২ কোটি ৮৯ লাখ ১০,৭৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে কমিশন কর্তৃক তার প্রতি সম্পদ বিবরণী জারির নির্দেশ প্রদান করা হয়।
দুদক সুত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শহীদ চৌধুরীর রাজবাড়ি এলাকার বাসায় প্রকাশ্য স্থানে এ ব্যাপারে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশ জারির পর বিধি মোতাবেক ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত তিনি অদ্যাবধি কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং কোনো প্রকার সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি।
দুদক কর্মকর্তারা আরও জানান, কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নোটিশের নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুদক, সিলেটের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার এ মামলা দায়ের করেন।
২০২৩ সালের সিলেট সিটি নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহীদ চৌধুরীকে তার এপিএস হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরবির্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এরপর তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়। ৫ আগস্টের পর থেকে শহীদ চৌধুরীও আত্মগোপনে আছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন বলে জানা গেছে।
ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বুধবার মধ্যরাত থেকে সমুদ্র ও সমুদ্র মোহনা সংলগ্ন নদীতে শুরু হয়েছে ইলিশ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশের বাধাঁহীন প্রজননের লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। সরকারের আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞা মেনে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসছে মাছধরা ট্রলার।
ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালী সহ উপকুলের হাজারো জেলেরা তীরে ফিরে এসেছে। তবে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারো সমুদ্রে ২২ দিনের এ অবরোধ নিয়ে জেলেদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে।
জেলেদের দাবী এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলেরা। এরপরও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ইলিশ আহরন থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন জেলেরা। তবে বঙ্গোপসাগরে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের আগ্রাসন বন্ধে দেশের জলসীমানায় নৌবাহিনী সহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানো, প্রনোদনার পরিমাণ বৃদ্ধি সহ তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বন্টনের দাবি জেলেদের।
কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে বেশিরভাগ জেলে শুন্য হাতে তীরে ফিরে আসছে। সমুদ্রে আর আগের মত মাছ ধরা পরছে না। সমুদ্রে দেশী বিদেশি অবৈধ ট্রলিং বোটের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য চলছে। এসব বন্ধে সরকারের কোন উদ্যোগ না থাকলেও বার বার অবরোধ দিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে মৎস্য অধিদপ্তর। তারপর আবার আবহাওয়া উল্টো।
জেলে আবুবক্কর বলেন, এমনিতেই সাগরে মাছ পাচ্ছি না, তারপর এখন আবার নিষেধাজ্ঞা। তবে সরকার তাদের যে প্রনোদনা প্রদান করেন তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম। এই চালের সাথে ডাল ও তেল দেয়ার দাবী জানান।
মহিপুর মৎস্য আড়দার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, এই দুই তিন বছর সাগরে মাছ পড়ছে না, তারপর যখনই একটু মাছের মুখ দেখা মিলে তখনই আবার আবহাওয়া খারাপ। জেলের প্রণোদনা আরো বাড়ানো উচিত। এই নিষেধাজ্ঞার সময় বঙ্গপোসাগরে নৌ-বাহিনী, কোষ্টগার্ড ভালোভাবে ডিউটি করা উচিত। অবরোধের সুযোগে মিয়ানমার ও ভারত আমাদের জলসীমানায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে, মা ইলিশ সহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। তাই সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে লাভ মৎস্যজীবীদের।
তিঁনি আরও বলেন, ২২ দিনের অবরোধকালীন সময়ে উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ে ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এরপরেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতজাত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা।