জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষ সবচেয়ে বেশি আশ্রয় খোঁজেন নিজের সন্তান-স্বজনের কাছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের এক শতবর্ষী বৃদ্ধের ভাগ্যে জুটেছে তার উল্টো চিত্র। যে মানুষটি সারাজীবন পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন, বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে, চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকেই ফেলে রাখা হলো রাস্তার পাশে। অসহায় সেই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বৈল্লা বাজার এলাকায় একটি সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার হন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন। একটি সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার হন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন এই বৃদ্ধ গত কয়েক বছর ধরেই একা চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সের ভার ও শারীরিক দুর্বলতায় দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আর ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই পরিবারে তার অবস্থান ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী জানান, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। দীর্ঘ সময় সেখানে বসে কান্না করছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
ততক্ষণে খবরটি পৌঁছে যায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যে নাতনিকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুধু উদ্ধারেই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী। বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দ্রুত বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ভাড়া নেওয়া এবং সেই খরচও নিয়মিত বহন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রথমদিকে বাবার দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর ছোট মেয়ে রিনা বেগম বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।
রিনা বেগম বলেন, পাশের বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাবাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন থেকে বাবার দায়িত্ব আমিই পালন করব।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, 'একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সঙ্গে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।'
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। এতে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। সোমবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি ও প্রবর্তকসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও পথচারীরা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল মিয়া বলেন, সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া এবং মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমতে শুরু করে। মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি ও প্রবর্তক এলাকার বিভিন্ন অংশে সড়কের ওপর পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। হাঁটুপানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায় পথচারীদের। জলাবদ্ধতার কারণে কিছু সড়কে যানবাহনের গতিও কমে যায়।
মুরাদপুর মোড়ে স্কুলগামী অভিভাবক আলতাফ হোসেন বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়েই সড়কে পানি দেখতে পান। বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে গেছেন। বৃষ্টি হলেই এই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের। কাতালগঞ্জে অফিসগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শাহানারা বেগম বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই কাতালগঞ্জে পানি উঠে যায়। এমনিতে গণপরিবহন নেই। বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় এদিকে সিএনজি অটোরিকশারও দেখা পাচ্ছেন না।
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) বিকাল ৬টায় শরীয়তপুর পৌরসভা এলাকায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ, শরীয়তপুর জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল মোতালেব দেওয়ান হান্নান সভাপতিত্বে ও শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পারভেজ মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ শরীয়তপুর জেলা, কায়ুম মাতবর, সহ-সভাপতি , আসিক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক, ছাত্র অধিকার পরিষদ শরীয়তপুর জেলা, ইব্রাহিম হোসেন, সভাপতি, সদর উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ, মেহেদী হাসান আয়ান, সভাপতি, নড়িয়া উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ, ইমন চোকদার, সভাপতি জাজিরা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদ।
এসময় কর্মসূচিতে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন বলেন, জামায়াত-শিবির কর্মীরা এই হামলা করেছে। এছাড়াও এমপির সমর্থক ও জামায়াত-শিবির কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত অফিসে ভাঙচুর চালান।আমরা দ্রুত হামলাকারীদের বিচারের দাবি করছি।
এসময় শরীয়তপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল মোতালেব দেওয়ান হান্নান বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হামলা-সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নেতৃত্বে এই হামলা করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ ওঠে এবং দলটির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
৪ নং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা মো. রফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে যান পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জননেতা ব্যারিস্টার নওশাদ জামির।
এ সময় তিনি তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। মো. রফিকুল ইসলামের দ্রুত সুস্থতা ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করে পঞ্চগড়বাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসানো দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফুটপাতকেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজির পরিমাণ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। তবে এই অর্থের হিসাব, কারা চাঁদা আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত-এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।
ফুটপাত দখল ও সেখান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটা আমাদের কাজ না, এটা সিটি করপোরেশনের কাজ।”
তাঁর এমন বক্তব্যের পর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন দাবি করেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা আদায় করে-এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ফলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন। এ ঘটনায় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও যানজট নিরসনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও এর আগে জানিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো এবং সেখান থেকে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নগরবাসীর প্রশ্ন-যদি ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে কারা এই অর্থ সংগ্রহ করছে? টাকা যাচ্ছে কার কাছে? আর এর পেছনে রয়েছে কারা?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিরপেক্ষ তদন্ত, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
তবে মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইটের দেয়াল তুলে ও গাছ লাগিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা
নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে ইট দিয়ে ঘিরে ও গাছ লাগিয়ে জমি জবর দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা সদরের মেইন বাজারে এঘটনা ঘটে।
উপজেলা সদরের কাচারীপাড়ার মৃত নির্মাল্যভূষণ দাসের ছেলে শ্রী জয়ন্ত কুমার দাস অভিযোগ করেন যে, মহাদেবপুর বাজারের আরএস ৪০৫ ও ৪০৬ নং খতিয়ানের ৫৯০ দাগে তার পিতার ত্যক্ত মোট ১০ শতক সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী তারা তিন ভাই জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস। এই সম্পত্তির সামনের অংশে তাদের দোকান ঘর রয়েছে। কিন্তু দোকানের পিছনের দিকে তাদের অংশের বেশিরভাগ জমি তার ভাই বিশ্বনাথ দাস ও ভাতিজা দেবাশীষ দাস দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের পাঁয়তারা করে আসছে।
গত ৭ আগস্ট সকালে তারা সেখানে ইট দিয়ে ঘিরে দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এনিয়ে মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা রাতের আধারে কাজ করতে থাকে।
জয়ন্ত দাস এব্যাপারে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আদেশ দেন। মহাদেবপুর থানার এসআই আছির উদ্দিন গত ১২ আগস্ট এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ দেন। নোটিশ পাবার পরও গত শনিবার প্রতিপক্ষরা বিরোধীয় জমিতে গাছ লাগিয়ে দখল প্রমাণের পাঁয়তারা করে।
জানতে চাইলে দেবাশীষ দাস বলেন, মৃত নির্মাল্য ভূষণ দাসের জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস ছাড়াও প্রশান্ত কুমার দাস নামে আরো এক ছেলে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রশান্ত তার অংশের সমুদয় জমি দেবাশীষের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। সেই দলিলমূলেই তিনি অতিরিক্ত জমি দাবি করছেন। কিন্তু জয়ন্তরা তা দিতে নারাজ।
জয়ন্ত জানান, প্রশান্ত ১৯৭৪ সালে ভারতে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সুতরাং তার অংশের জমি তারা অন্য তিন ভাই পাবেন। প্রশান্ত এখন ভারতের আধারকার্ডধারী নাগরিক। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
১৯৯৬ সালে তার স্বাক্ষরে একটি ভূয়া আমমুক্তারনামা সৃজন করে দেবাশীষ প্রশান্তের অংশের জমি দাবি করছে। ওই কথিত ভূয়া আমমুক্তারনামায় জমির কোন তপশীল উল্লেখ না করে সমুদয় সম্পত্তি লেখা হয়েছে।
“রূপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে অফিসার্স ক্লাবে এসে শেষ হয়। পরে বরগুনা অফিসার্স ক্লাবের পুকুরে রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পের পোনা অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং সংগ্রাম স্মার্ট প্রজেক্ট এর সহযোগিতায় আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।
সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন।
সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ, সংগ্রাম’র উপনির্বাহী পরিচালক চৌধূরী মোহাম্মদ মঈন, প্রেসক্লাব সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমূখ।
আলোচনায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।