ময়মনসিংহের ভালুকায় রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বিভিন্ন জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য মো. ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, “দেশের মৎস্যসম্পদ বাড়াতে জলাশয়গুলোতে নিয়মিত পোনামাছ অবমুক্ত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য মাছের সহজলভ্যতাও নিশ্চিত হবে। সরকারি জলাশয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরগুলোতে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমানগনি মাখন, মুজিবুর রহমান মজু, শাখাওয়াত হোসেন পাঠান, উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহিদুল আলম এবং মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুঞ্জুরুল হক পাঠানসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় ভালুকার সাতটি জলাশয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে মোট ৫২৫ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ পুকুরে ৪০ কেজি, মংলা দায়ের বিল (রাজৈ) ৮৫ কেজি, বাঁকা খাল (কুঁচ খাল) ১৬০ কেজি, মনা পাথার বিল (বিরুনিয়া) ১০০ কেজি, শিল্প পুলিশ লাইন পুকুর (ভরাডোবা) ৪০ কেজি, হাতিবেড় গুচ্ছগ্রাম পুকুর (উথুরা) ৬০ কেজি এবং মেদুয়ারী গুচ্ছগ্রাম পুকুরে ৪০ কেজি পোনামাছ ছাড়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাছের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিবছর বিভিন্ন জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করা হবে বলে জানান।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের শৌচাগার থেকে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’ নামের হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম কুলছুমা আকতার (২৫)।
পুলিশ ধারণা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁর আড়াই বছর বয়সী শিশুও হোটেল কক্ষে অবস্থান করছিল। পরে শিশুটিকে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, কুলছুমা জেলার ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা। পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী মো. হারুণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন তিনি। বিচারাধীন ওই মামলার শুনানির দিন ছিল গতকাল। ওই মামলার হাজিরা দিতে কুলছুমা ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার এসে ওই হোটেলে ওঠেন। পরে রাতে ওই হোটেল কক্ষের শৌচাগার থেকে তাঁর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে এক ব্যক্তির সঙ্গে কুলছুমা হোটেলে আসেন। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তাঁদের সঙ্গে শিশুটিও ছিল। বুধবার সকাল থেকে তাঁরা বাইরে ছিলেন। এরপর বেলা তিনটার দিকে তাঁরা ফিরে আসেন। পরে রাতে হোটেলটির শৌচাগারে কুলছুমার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্বামী পরিচয়ে যে ব্যক্তি কুলছুমার সঙ্গে ছিলেন, তিনি কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে গেছেন।
জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহত কুলছুমার সঙ্গে কক্ষে থাকা ব্যক্তি তাঁর স্বামী হারুন নন। হোটেল কক্ষে থাকা ব্যক্তির ঠিকানার সঙ্গে নিহত কুলছুমার পরিবারের সদস্যদের চেনাজানা নেই। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এর নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই হোটেলের দুই কর্মচারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর ১০টির বেশি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় প্রতিদিনের খাবার অপচয়ের হিসাব রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপচয়ের পরিমাণ ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরা, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার অর্ডারে উৎসাহিত করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে মাইজদীর নাইস গেস্ট হাউজ-২-এ খাদ্যক্ষয় ও অপচয়বিষয়ক আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানি বাংলাদেশ ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক প্রান যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার অর্ডার, বেশি রান্না এবং অবশিষ্ট খাবার সংরক্ষণ না করায় অপচয় বাড়ছে। কোনো কোনো হোটেলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি বা তারও বেশি খাবার নষ্ট হয়। অপচয় কমাতে ভোক্তা সচেতনতা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পরিমাণ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে খাদ্য অপচয় রোধ সম্ভব নয়। শৈশব থেকেই খাবারের মূল্য ও অপচয় রোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, এনজিও বন্ধন'র ইডি আমিনুজ্জামান মিলন, প্রান'র কর্মসূচি সমন্বয় প্রধান উম্মে সালমা পপি, পপিপার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান'র মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার নুরে আলম সিদ্দিকি রনি, প্রথম আলো নোয়াখালীর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি।
সভা শেষে রেস্তোরাঁ প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘ফুড ওয়েস্ট’ পোস্টার ও টেবিল স্ট্যান্ড বিতরণ করা হয়। এসবের মাধ্যমে প্রতিদিন ও মাসে কী পরিমাণ খাবার অপচয় হচ্ছে, তার হিসাব রাখা এবং ভোক্তাদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ)-এর ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের চিকিৎসক ডা. রশিদ আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের চিকিৎসক ডা. গোলাম সারোয়ার।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিডনিতে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভা, বার্ষিক সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬-এ নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা করেন এফবিএমএসএর নির্বাচন কমিশনার ডা. মো. ওয়াজিদ।
নতুন কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হয়েছেন ডা. মোহাম্মদ শহীদ রাজু, সহসভাপতি ডা. মাহফুজ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. লুৎফর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ ডা. ফারহানা রওশন খান। শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. সাতিলা জাফরিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ চৌধুরী এবং প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন ডা. আশরাফ উল ইসলাম।
নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. ময়েজুর রহমান, ডা. সাইদুল ইসলাম, ডা. নাজমুন নাহার, এ/প্রফেসর রেজা আলী, ডা. মিহির রায়, ডা. মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন আহমেদ, ডা. তাশফীন আহমেদ ভূঁইয়া, ডা. মোহাম্মদ ইসলাম, ডা. মাজহার হক, ডা. মোহাম্মদ আহমেদুল্লাহ, ডা. ফাতিমা মুসরাত, ডা. আহমেদ তানভীর তাহের, ডা. মোহাম্মদ মাইনুল হাসান ও ডা. জান্নাতুল তাজরিন। সদ্য সাবেক সভাপতি হিসেবে রয়েছেন ডা. মোশাররফ হোসেন খান।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম সারোয়ার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনের ছোট ভাই। গোলাম ফারুক খোকন বাফুফের অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএসটিএমপিআইএ-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এফবিএমএসএ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও টেরিটোরিতে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও দুটি টেরিটোরিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন।
নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের পেশাগত, শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও কমিউনিটিমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া চিকিৎসকদের দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, পেশাগত নেটওয়ার্কিং ও মেন্টরশিপ কার্যক্রম জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের শিক্ষা, নেতৃত্ব ও পেশাগত বিকাশে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে নতুন কমিটি।
দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিদেশে পাচারের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা সিজারমূল্যের দুষ্প্রাপ্য কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযানে এসব প্রত্নসম্পদ উদ্ধার করে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে বিজিবি, এসআরবি ও এলআই বিজিবির একটি যৌথ দল দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলাাধীন তেনাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর একই দিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাাধীন চান্দোহর এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৮৭ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বেলে পাথরের খণ্ডাংশ, ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশ এবং ৩৫ কেজি ৬০০ গ্রাম, ১৬ কেজি ৮০০ গ্রাম ও ১৮ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের আরও তিনটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। দুটি অভিযানে উদ্ধার করা পাথরের খণ্ডাংশগুলোর মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ২২৪ কেজি ৪০০ গ্রাম।
বিজিবি জানিয়েছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উদ্ধারকৃত বস্তুগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি সংরক্ষণ আইন, যা ১৯৭৬ সালে সংশোধিত হয়, অনুযায়ী এ ধরনের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের দায়ীত্ব সরকারের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত।
উদ্ধারকৃত কষ্টি, বেলে ও শ্বেত পাথরের খণ্ডাংশের মোট সিজার মূল্য ১ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এসব নিদর্শনের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ অর্থমূল্যের মাধ্যমে করা সম্ভব নয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্রসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।
সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব নিদর্শন উদ্ধার দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতার বিষয়টিও সামনে এনেছে।
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মালিক-শ্রমিকদের বিরোধের জেরে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ রুটসহ দূরপাল্লার সব গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে এ ধর্মঘটে জেলার সব যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট রুটে বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হলেও পরে আবারও বাস আটকের ঘটনা ঘটছে।
তিনি জানান, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল।
এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকের পর আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
আবু মঈন চৌধুরী বলেন, ‘২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল শুরু হলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে। বাসগুলো এখনও ছাড়েনি। তাই বাধ্য হয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের বাসগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করুক। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। এর মধ্যে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং একজন আইসিইউতে আছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। বিষয়টির সমাধানে দুই পক্ষকে নিয়ে বসতে হবে।’
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৬৮ বছর ধরে চলা মামলার রায়ের পর বেদখল থাকা ৪৫৩ শতাংশ জমি ও একটি মন্দিরের দখল মূল মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিংগাইর পৌরসভার আঙ্গারিয়া মহল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় আদালতের রায় বাস্তবায়নে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা জজ আদালতের প্রতিনিধিদল ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেদখল জমি চিহ্নিত করে মূল মালিক কমল চক্রবর্তীর কাছে দখল বুঝিয়ে দেন।
রায় বাস্তবায়নকালে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জজ আদালতের নাজির মো. আব্দুল কাদের, জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট ও কমিশনার আব্দুস সামাদ, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালোসহ পুলিশের সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ ও মামলা চলছিল। প্রায় ৬৮ বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে জমি ও মন্দিরের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
রায় বাস্তবায়নের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শেষ হয়।