অবৈধ বালু ভরাট বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ৯ দফা দাবি পেশ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি আবাসন কোম্পানি কর্তৃক অবৈধ দখল বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের মাধ্যমে ৯ দফা দাবী পেশ করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার জলসিঁড়ি প্রকল্পের ৪ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী ক্যাম্পে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে আহসান উল্লাহ মাস্টারের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অন্যদিকে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু তারেক মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীদের নানা সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন।
সভায় গ্রামবাসীদের পক্ষে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের সঠিক সীমানা নির্ধারণ (ডিমার্গেশন), বসতবাড়ি বাদ দিয়ে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্প সীমানার ভেতরে থাকা জমির বিনিময়ে গ্রামবাসীদের আনুপাতিক হারে জমি বা প্লট বরাদ্দ, জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানানো হয়।
সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, পৈতৃক ভিটা-মাটি রক্ষা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে ১০টি গ্রামের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আবাসন প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট বৈষম্য ও ভোগান্তি নিরসনে ঘোষিত ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে স্থানীয়দের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
উক্ত আলোচনা সভায় ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন ও সংহতি প্রকাশ করেন- ব্যাংকার আবু বক্কর সিদ্দিক, হোসেন ব্যাপারী, পেশকার শামসুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম রফিক, দলিল লেখক গুলজার হোসেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, বাহার উদ্দিন নয়ন, প্রভাষক নূর সালাম, আমজাদ, ফার্মাসিস্ট সুমন মিয়া, মাহাবুবুর রহমান (বাবু), ঢাকা থেকে আগত প্রতিনিধি হাবিব ও আবদুর রহিম দুয়ারী, আনোয়ার হোসেন এবং হাফেজ আবদুল বাতেন।
সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে রূপগঞ্জের ১০টি গ্রামের মানুষের স্বার্থে ৯ দফা দাবি দ্রুততম সময়ে মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
অপ্রতিম হত্যায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ ক্লু
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
আজ শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তারা ঘটনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা ‘ক্লু’ পেয়েছেন।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হয় অপ্রতিম। তবে সন্ধ্যা নেমে এলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থান থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। আপাতত একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি দোষী না নির্দোষ, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে।’
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, শুধুই একটি আইফোন ছিনতাইয়ের জন্য এই নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে- তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি পাওয়া না যাওয়ায় সেটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। নিষ্পাপ এই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন- A+ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সংবর্ধনা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরূমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভীষণ বাংলাদেশ এর সহযোগীতায় শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এসএসসির ২০২৬ সেশনে গোল্ডেন A+ প্রাপ্ত প্রায় ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা ক্রেস্ট ও সম্মানী দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন অতিথীরা।
অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলাম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল হক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আরিফুল্লাহ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মোঃ রশিদ আলম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মোঃ মাহমুদুন নবী, অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জাকিরুল ইসলাম।
এ সময় অনুষ্ঠানে গোল্ডেন এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবক ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশ তথা এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করার আহবান জানান।
শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী
রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় হত্যাচেষ্টা মামলার ১ নম্বর আসামি কয়েকদিন হাজত খেটে জামিনে বেরিয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরপর এলাকায় ফিরে মামলা তুলে নিতে কাউন্টার মামলার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছে জনপ্রতি ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও পুনরায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাজত খাটা ১ নম্বর আসামি শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’র বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিচারপ্রার্থীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে শাহিনুর বেগমের দায়ের করা একটি মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার ও নির্যাতনের পর পূর্বশত্রুতার জেরে গত ৩০ আগস্ট বিকেলে শাহিনুর বেগম ও তার লোকজন তার নিজের সৎ ভাই-বোন এবং বোনজামাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনায় শাহিনুর বেগমের বোন, বোনজামাইসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা শেষে শাহিনুর বেগমের বোন সাবনাজ বেগম বাদী হয়ে শাহিনুর বেগম, তার স্বামী সাহেব আলী খেকড়ুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটি ০২/২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়।
এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে শাহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ওই দিন দুপুরে তাকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ হাজির করা হয়। পরে বিচারক মো. আশিক-উজ-জামান ৬ সেপ্টেম্বর রোববার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে শাহিনুর বেগমের জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। জামিনে মুক্তির পর এলাকায় ফিরে পুনরায় মামলার বাদী ও সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে একই মামলার ২ নম্বর আসামি শাহিনুর বেগমের স্বামী সাহেব আলী খেকড়ু ঘটনার পরের কয়েকদিন পলাতক থাকার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা এবং স্বামীর জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর শাহিনুর বেগম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন শাহিনুর বেগম।
জানা যায়, ঘটনাটির শুরু থেকেই বিষয়টি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সে সময় শাহিনুর বেগম এবং মামলার অপর আসামি, মেয়ে দাবি করা আন্নিকা আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেওয়া তাৎক্ষণিক বক্তব্যে ঘটনার সময় অপর পক্ষের চারজন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে শাহিনুর বেগম তার বক্তব্যে এলাকার সাতজনসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করার কথা উল্লেখ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে শাহিনুর বেগম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমি দখল, মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। মূলত এলাকাবাসীর মধ্যে যারা ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখে সাক্ষী দিয়েছেন, তাদের মুখ বন্ধ এবং মামলা-বাণিজ্য করার জন্যই তাদের আসামি করে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এর আগে, গত ২৪ জুন শাহিনুর বেগমের পালিত ছেলে (বোনের ছেলে) মো. আনোয়ার ওরফে আজিজুলকে সিলেটের মাধবপুর এলাকায় ৫৯ কেজি মাদকসহ আটক করা হয় বলে জানা গেছে। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শাহিনুর বেগমসহ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগেও এলাকাবাসীসহ স্থানীয় প্রবাসী বাসিন্দার বিরুদ্ধে একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণে বাধাগ্রস্ত করতে জমি জবরদখল করে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকদফা হামলা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে চাঁদা দাবি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে এই সিন্ডিকেট।
অন্যদিকে দুবাই প্রবাসী নওশের আলম সুমনকে দেশে ফিরলে কচু কাটা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ একই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ফলে ওই প্রবাসী ভয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না। একই সাথে দেশে থাকা প্রবাসীর পরিবারের লোকজনের গুরুতর ক্ষতি করার হুমকিতে আতঙ্ক আর উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিননিপাত করছেন প্রবাসীর পরিবার বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এসব ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শাহিনুর বেগমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকার সর্বসাধারণ। একইসঙ্গে মামলার বাদী ও সাক্ষী সহ এলাকার সাধারণ নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালী সদর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, আমি গত দু তিনদিন হলো এই থানায় যোগদান করেছি। এবিষয়ে এখনো অবগত নই তবে বিষয়টি আমি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম
কুমিল্লায় বাসা থেকে আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রের লাশ লালমাই পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর একটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম।
বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে।
এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি।
সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অপ্রতিমের কাছে থাকা তার মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি। তাই আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন তারা। তবে হত্যার কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার অদূরে সতীশ বাবু লেইনে এক রিকশাআরোহীকে ছুরি দেখিয়ে তার জিনিসপত্র কেড়ে নিয়েছে দুই ছিনতাইকারী।
ওই ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটি কবে ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি কমিশনার (কোতোয়ালী) খায়রুল বাশার জানিয়েছেন, জড়িতদের ধরতে চেষ্টা চলছে।
ভিডিওতে যা আছে
ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, ছিনতাইকারীদের বহনকারী একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা অদূরে দাঁড়িয়ে আছে। দুই ছিনতাইকারী অন্য একটি প্যাডেলচালিত রিকশার এক আরোহীকে আটকে তার পকেটে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তখন ওই রিকশাযাত্রী বলতে থাকেন, ‘দিই দিই। আরে ভাই দিতাছি তো’।
সে সময় শাদা টি শার্ট ও নীল রঙের শার্ট পরা দুই ছিনতাইকারীকেই রিকশাযাত্রীর পকেট থেকে জিনিসপত্র কেড়ে নিতে দেখা যায়। তখন দুই ছিনতাইকারীর হাতেই ছুরি দেখা গেছে।
প্যান্টের পকেটে থাকা জিনিসপত্র বের করে দিতে দেরি হওয়ায় নীল রঙের শার্ট পরা ছিনতাইকারী রিকশাযাত্রীর প্যান্টের পকেট থেকে কিছু একটা জোর করে বের করার চেষ্টা করছিল।
সে ব্যর্থ হলে, শাদা টি শার্ট পরা ছিনতাইকারী হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রিকশাযাত্রীর প্যান্টের পকেট কাটতে শুরু করেন। জিন্সের প্যান্টের পকেটে থাকা কিছু একটা ছিনিয়ে নিতেও দেখা যায় ভিডিওতে।
এরপর নীল শার্ট পরা ছিনতাইকারী সামনেই দাঁড় করিয়ে রাখা একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় গিয়ে উঠে। তখন আশেপাশের ভবন থেকে লোকজনের ‘মার মার’ বলে চিৎকার ভেসে ওঠে।
এক পর্যায়ে দুই ছিনতাইকারীই ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে পালিয়ে যায়। তখন স্থানীয়রা ‘চোর চোর’, ‘ধর ধর’ বলে চিৎকার করে ওই রিকশাটিকে ধাওয়া দেয়। সেসময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়া ব্যক্তিকে রাস্তা থেকে কিছু কুড়িয়ে নিতে দেখা যায়।
সব তথ্য একসঙ্গে জানাবে পুলিশ
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি কমিশনার (কোতোয়ালী) খায়রুল বাশার বলেন, “যে ঘটনার কথা বলছেন সেই বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছি। ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। আমাদের টিম জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। আশা করছি পজেটিভ ফিডব্যাক দিতে পারব। সে পর্যন্ত আর বিস্তারিত কিছু বলছি না। সব তথ্য একসাথে আপনাদের জানাব।”
সতীশ বাবু লেইনের অদূরে কোতোয়ালী থানার অবস্থান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার সতীশ বাবু লেইনে ভোরের দিকে ইদানিং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া কোতোয়ালী মোড় ও নিউমার্কেট মোড় এলাকায় সম্প্রতি সন্ধ্যায় ও রাতে একাধিক মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও ভাষ্য স্থানীয়দের।
অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ও যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, যৌন উত্তেজক সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব মাদকদ্রব্যের সর্বমোট সিজার মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধীন ভান্ডারা বিওপির সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্ত মেইন পিলার ৩২৭ থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উত্তর ভান্ডারা এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ১৪ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালায় ৪২ বিজিবির অধীন দিহানগর বিওপির সদস্যরা। সীমান্ত পিলার ৩৪৪/৪-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজশাহী পাড়া এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৭২ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক, চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।