প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১১ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই নারী জানান। এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় পানের আড়তে নিয়ে যান।


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন ওই নারী। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।


ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরের একটি এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহে আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন।


অভিযুক্ত সোহরাবের বাড়ি নেত্রকোনায়। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি ছোট্ট একটি পানের দোকান চালান। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।


ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায় গত মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার উড়াল সড়কের নিচে বসে ছিলেন। একপর্যায়ে সোহরাব নামের ওই পানের দোকানদার এসে তাঁর কাছে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তিনি তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। 


তিনি বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলেডা আমার সব বোঝে। তারে আমার বুক থেইককা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি; কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই।’


ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। কিন্তু তাঁরা বিচার না করে হাতে ৫০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বিদায় হতে বলেন। শেষে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু লোকজন দেখে ফেলায় তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে পানের আড়তে নিয়ে আসেন।


গতকাল দুপুরে পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওই নারী। ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানা-পুলিশের তিন সদস্যকেও দেখা গেল। এ সময় ওই নারী বারবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা বলে বিচার চাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে ওই নারীকেও নিয়ে যাওয়া হয়।


মো. শফিকুল নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, পানের আড়তের পাশে সোহরাব নামের এক ব্যক্তির একটি পানের দোকান চালাতেন। বর্তমানে তাঁর দোকান বন্ধ আছে।


শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম শুক্রবার সকালে বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান।


আটক দুজনের বিষয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় লোকজন ওই দুজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ পিএম

পরিস্থিতি যেমনই হোক, সন্তানের কাছে বাবা তো বাবাই। চুরির অভিযোগে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বাবাকে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে সকালে ছুটে আসে তার মেয়ে।


সারারাত অনাহারে থাকা বাবার মুখে নিজের হাতে খাবার তুলে দেয় সে। ঘটনাটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারের।


বাবার মুখে মেয়ে খাবার তুলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে ওই বাজারের একটি দোকানে চুরির চেষ্টাকালে জনতার হাতে ধরা পড়েন অনিক সরদার নামের এক যুবক।


পরে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের মেয়ে।


সারারাত অনাহারে থাকা বাবার জন্য বাজারের একটি দোকান থেকে রুটি ও চা এনে নিজের হাতে তা বাবার মুখে তুলে দেয় সে। স্থানীয় এক যুবক ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে তা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।


তিস্তার পানি বাড়ছে

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ পিএম

উজানের ঢল ও দুদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ। ফলে লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১১ মিটার। যা বিপৎসীমার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত দুদিনের টানা ভারী বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তিস্তা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।


এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, গত দুদিনের অতিভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে।


এতে তিস্তার বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে বড় বন্যা হয়ে থাকে। সেই বন্যার শঙ্কা করছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।


গোবর্দ্ধন চরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, এবারে স্থায়ী বড় কোনো বন্যা হয়নি। তবে আজকে নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বন্যা হলে নদীপাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না।


লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পানি সমতলে বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।


ছাত্রদলের নবনির্বাচিত আহ্বায়ককে সংবর্ধনা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৬ এএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত আহ্বায়ক হোসেন মোহাম্মদ এরশাদকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।


গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের কে.টি.এম হাট বাজারে জিয়া স্মৃতি সংসদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। জিয়া স্মৃতি সংসদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত আহ্বায়ককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।


শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি মোতাহের হোসেনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আতোয়ার হোসেন পাবেল, জিয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।


বক্তারা বলেন, ছাত্রদল নেতা এরশাদ আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথের এক লড়াকু সৈনিক। আওয়ামী স্বৈরচারের কবল থেকে গনতন্ত্র মুক্তি শহিদ জিয়ার আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কোম্পানীগঞ্জের রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে জেল-জুলুমের শিকার হন।


সংবর্ধিত ছাত্রদল নেতা হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দলের আদর্শ বাস্তবায়ন ও তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে ছাত্রদল কাজ করবে। শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতির মূলমন্ত্র নিয়ে ছাত্রদের যৌক্তিক অধিকার আদায়ে আগামী দিনের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ পিএম

সাহসিকতা, সেবায় অনন্য নজির, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শন, সেবায় অনন্য নজির স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক দেওয়া হচ্ছে।


মাদারীপুরে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং মাদকবিরোধী অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মো. হাবিবুর রহমান। তার সক্রিয় নেতৃত্বে জেলাটিতে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জন্য চার ক্যাটাগরিতে মোট ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হবে। ক্যাটাগরিগুলো হলো— বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা।


মো. হাবিবুর রহমান ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা। যশোরের কৃতি সন্তান তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০০ পিএম

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মাজারের দান ও আয় নিয়ে সরকার, মাজারের খাদেম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন প্রস্তাব দেন শফিকুর রহমান।


এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাজারের আয় কীভাবে সমাজ ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে সবার গ্রহণযোগ্য একটি টেকসই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। কোনো পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো উচিত।শাহজালাল মাজারের দানের টাকা ব্যবহারের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, কয়েক শ বছর ধরে এ বিষয়ে একটি প্রচলিত ব্যবস্থা চলে আসছে। এখন ৩৫ শতাংশ জেলা প্রশাসনের হিসাব এবং ৬৫ শতাংশ মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে বণ্টনের যে ব্যবস্থা হয়েছে, সেটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।তিনি বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় হওয়ায় মাজারের আয় সমাজ ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা গেলে সেটি একটি ভালো দৃষ্টান্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যারা মাজারের খেদমতের সঙ্গে যুক্ত ও সুবিধা গ্রহণ করেন, তারা একটি পক্ষ হতে পারেন। সরকার আর সিলেটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ হতে পারে।


শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, সংলাপের মাধ্যমে সুন্দর কিছু বেরিয়ে আসতে পারে। তবে কোনো কিছু চাপ দিয়ে করার চেষ্টা করা হলে সমাধানটা সুন্দর নাও হতে পারে। আমরা চাই টেকসই সমাধান। এমন সমাধান, যেটা সবাই মন থেকে গ্রহণ করবে এবং সমাজের কল্যাণে কাজে লাগবে।’


শাহজালাল (রহ.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তার কারণে সিলেটের এই মাটি গর্বিত। মাজার থেকে পাওয়া অর্থ সমাজ ও দ্বীনের কল্যাণে ব্যবহার করা হলে সেটি আরও বেশি মানুষের উপকারে আসতে পারে।এ প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানের অর্থ ব্যবহারের উদাহরণও তুলে ধরেন। তার মতে, মাজারের আয় সমাজকল্যাণে ব্যবহারের একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা করা গেলে মানুষের আস্থাও বাড়বে এবং দানের পরিমাণও বাড়তে পারে।


শফিকুর রহমান বলেন, মাজারের অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে এমন একটি ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং সেই অর্থ সমাজের প্রয়োজনেও কাজে আসে।প্রসঙ্গত সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি।


মঙ্গলবার ও ওই কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়কাজে জন্য ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে আর বাকী ৬৫ শতাংশ দিয়ে টাকা মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।


উল্লেখ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভা শেষে মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে এসব তথ্য জানান এই কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।জেলা প্রশাসক জানান, এখন থেকে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকা থেকে ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়কাজে জন্য সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে। এই একাউন্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মতোয়াল্লির যৌথ সাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকী ৬৫ শতাংশ টাকা মাজারের দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।


জেলা প্রশাসক বলেন, টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। এছাড়া একজন হিসাব রক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ পিএম

সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৩০ জনকে গেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।বৃহস্পতিবার বিকেলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আমলী আদালতে তাদেরকে সোর্পদ করা হলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করার আদেশ দেন। এই ৩০ জনসহ ৩১ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫/৩০ জনকে আসামী করে মোগলাবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগই সিলেট নগরীর তেররতনের বিভিন্ন কলোনির বাসিন্দা এবং বয়সে কিশোর। 


গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সিলেট নগরীর তেররতনের সৈয়দ আলিফের ভাড়াটিয়া সাজু আহমদ (২১), একই এলাকার জীবন মিয়া (২১), আরজু মিয়ার কলোনির মাহবুবুর রহমান রনি (২০), আলাল মিয়ার কলোনির তাজু ইসলাম নাহিদ (১৯), মো. রাসেল (১৬), সাকিব আল হাসান (১৬) ও শেখ রাব্বি (১৬), লিটন মিয়ার কলোনির সুমন আহমদ (১৯), মামুন মিয়া (১৯) ও সায়েম আহমদ (১৯), কয়েছ মিয়ার কলোনির ফয়জুল খন্দকার, সোয়েব মিয়ার কলোনির শেখ রবিন (২০), তারেক মিয়ার কলোনির হাসান রেজভী শেখ (২০), সাহেদ মিয়ার কলোনির মাহি (২১) ও মো. রাকিন (১৫), সাব্বির মিয়ার কলোনির শাওন আহমদ (১৫), সাজু মিয়ার কলোনির আরিফ আহমদ আফজল (১৭), জাহিদ আহমদ (১৬), শাহীন মিয়ার কলোনির জানু মিয়া (১৫), রবিউলের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. রবিউল হাসান শাফি (১৫), সাদারপাড়া এ ব্লকের হৃদয় আহমদ (২২), উপশহরের ইশরাত আবাসিক হোটেল সংলগ্ন ৩১৬ নম্বর বাসার আবদুল্লাহ আল রাহিম (১৭), উপশহর জে ব্লকের ২ নং রোডের আকাশ (২১), সোনারপাড়ার সুমন আহমদ (২০), কুমারপাড়া ঝর্ণা/৯১ নম্বর বাসার মো. রফিকুল ইসলাম (৩৫), মীরবক্সটুলা আজাদী গলির মাজিদ আহমদ (১৭), নয়াসড়ক কোরেশি ভিউ এর মো. নাহিদুল ইসলাম (১৫) দক্ষিণ সুরমার পাঠানপাড়া খানবাড়ির জিয়া উদ্দিন (৩৪) ও হবিগঞ্জের লাখাই থানার সজনগ্রামের গাজী মিয়া (২০)।


এছাড়া মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে শাহপরাণ থানার শিবগঞ্জ হাতিমবাগের উছতার আলীর পুত্র আবদুল হামিদ (২৩) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরআগে বৃহস্পতিবার সকালে মোগলাবাজার থানাধীন শ্রীরামপুর বাইপাস এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুটি হাইয়েস গাড়ি আটক করে। এসময় গাড়ির ভেতর থেকে ৩০ জনকে আটক করা হয়। তবে আরও দুটি হাইয়েস গাড়ি ও মোটরসাইকেলে কয়েকজন পালিয়ে যায়।