গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্মিত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১২টায় টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় এ স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিজ তানজিলা খানম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব আলম শুকুর, দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম কালা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর (ভিপি আসাদ) এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বিনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা, প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, টঙ্গী অঞ্চল-১-এর প্রধান প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সরকার শাহানুর ইসলাম রনি, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল, টঙ্গী পূর্ব থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব আবুল কালাম, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী জহিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাকেরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা ও স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের কেন্দ্রের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করা এবং নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। উদ্বোধন শেষে এ এস পি এস প্রাঙ্গণে নিম গাছের চারা রোপন করেন।
ময়মনসিংহের ভালুকায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য, ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হাতেম খান।
গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ভালুকা উপজেলা কেন্দ্রীয় হরিসভা মন্দিরে উপস্থিত থেকে তিনি নারী-পুরুষের হাতে এসব উপহারসামগ্রী তুলে দেন।
‘ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার’ এই চেতনাকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভালুকা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে মোট ১ হাজার ৪০০টি শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৮৭০টি শাড়ি ও ৫৩০টি লুঙ্গি রয়েছে। পাশাপাশি বিতরণ করা হয় আরও ৩০০টি উপহারসামগ্রী।
অনুষ্ঠানে হাতেম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে রয়েছেন এবং আজীবন তাঁদের সেবা করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন যাবৎ আপনাদের পাশে আছি এবং আজীবন পাশে থাকতে চাই। আপনারা যদি আমাকে পাশে রাখেন, ইনশা আল্লাহ আমি আমার স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে এই সেবাটি করে যাচ্ছি।’
আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাতেম খান বলেন, মানুষ যাঁকে পছন্দ করবেন, তাঁকেই ভোট দেবেন। তবে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে খেদমত করার মতো একটা সুযোগ দিলে হয়তো আমি এমনিতেই আপনাদের সেবা করছি, কিন্তু কলম থাকলে এবং চেয়ার থাকলে সেবাটা একটু বাড়িয়ে করা যাবে।’
বক্তব্যে ভালুকার বিভিন্ন মন্দিরের সমস্যা সমাধানে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন হাতেম খান। তিনি জানান, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মন্দিরের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অন্য একটি মন্দিরের শৌচাগার, মঞ্চ ও গোসলের স্থান নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা। উপহারসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন হাতেম খান। এ সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জহির রায়হান ও ছাইদুর রহমান, পৌর বিএনপির সদস্য আমিনুল ইসলাম পাপ্পু, পৌর মহিলা দলের সভাপতি নাসরিন সুলতানা চায়না ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা আক্তার, পৌর তাঁতী দলের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ, পৌর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পৌর শাখার সভাপতি প্রদীপ বণিক ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার মোদক এবং পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের পৌর শাখার সভাপতি মিঠু বণিকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকদের মতে, উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটিকে বিশেষ আর্থিক উপহার দিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে মণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপহারের চেক তুলে দেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
চেক বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল হক নাসির বলেন, আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ অনুদান নিশ্চিত করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন সম্প্রদায়ের নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক উৎসবের অংশ। এই আনন্দকে সর্বজনীন রূপ দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে জেলা পরিষদের প্রশাসক আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন- এই ভূখণ্ডে কোনো ‘সংখ্যালঘু’ শব্দ থাকবে না, আমরা সবাই পরিচয়গতভাবে বাংলাদেশি। তাঁরই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়, সে জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাহারায় নিয়োজিত থাকবেন। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করব- এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুন্নাহার স্বপ্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলার রসুলপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সুভাস চন্দ, সাবালিয়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ, শ্রী শ্রী কালীবাড়ি পক্ষে রিপন সরকার, ঘাটাইল উপজেলার লাহেরী বাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপীনাথ, পাকুটিয়া চকপাড়া পূজা মন্ডপের পক্ষে বাদল চন্দ্র দাশ সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মণ্ডপ প্রতিনিধি ও সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
চেক গ্রহণকারী পূজামণ্ডপ কমিটির প্রতিনিধিরা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে এ ধরনের সহযোগিতা পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।
প্রকাশ, এবার জেলার ৫৩টি পূজামণ্ডপে মোট পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম
জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়ম এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। এ পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া ওই পোস্টে ফয়সাল লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’
তাঁর ভাষ্য, গত ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ শেষ হয়েছে। এখন আর কিছু নেই, তাই ‘খাওয়া’ স্থগিত হয়ে গেছে। সার ডিলারশিপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, এমনভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের কেউ সুযোগ পাননি। এ ক্ষেত্রে সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’
ফয়সাল আলিমের বাবা আব্দুল আলিম ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে জয়ী হন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে কেউ ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করেছেন, কেউ আবার নতুন অভিযোগ তুলেছেন।
তারিক হোসেন খান নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো। এখন মেম্বার-চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে, ওরা বলছে আসো, সবাই আসো, টাকা দাও, টিকিট নাও।’ এতে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন মন্তব্যে লেখেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ফয়সাল আলিমের নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সামনে আনা উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ তাঁর মতে, এ ধরনের পোস্টে দলের ভেতরে বিতর্ক, ভাঙন ও কোন্দল তৈরি হচ্ছে।
জিল্লুর রহমান এ ফেসবুক পোস্টকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে এভাবে লিখলে জামায়াতই সুবিধা পাবে। তিনি আরও দাবি করেন, ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন। এ দাবির পক্ষেও তিনি কোনো তথ্য দেননি।
জয়পুরহাট জেলা পরিষদ থেকে সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। ফয়সাল আলিম তাঁর পোস্টে ওই বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। জানতে চাইলে মুঠোফোনে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’
সার ডিলারশিপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব ছিল? তাঁরা পেলেন না কেন?’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফয়সাল বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’
তবে ল্যাপটপ ভাগাভাগি, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত পারসেন্টেজ এবং সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তিনি নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তাঁর কিছুই মনে হয়নি।’
সাজেক ভ্যালিতে সড়ক দুর্ঘটনা
রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে পর্যটকবাহী একটি গাড়ি উল্টে গিয়ে সাত পর্যটক আহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সিজকছড়া এলাকায় একটি জিপ উল্টে গেলে সাত পর্যটক আহত হন।
গুরুতর আহত দুই পর্যটককে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের একজনের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং অন্যজনের হাত ভেঙে গেছে।
আহতরা হলেন-মো. আজাহার মিয়া (৬০), শাহানারা আক্তার (৪৫), মো. আরিফুর রহমান (৩৫), মো. সোহরাব (২৬), নাসরিন (৩৫), মো. শাহজাহান (৪৫) ও মোছা. আশা (১৩)। তারা সবাই মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার বাসিন্দা।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ নারী-শিশুসহ ১২ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিজিবির বাধায় তা ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে ওই ১২ জন বুড়িমারী বামনদল সীমান্তরেখা থেকে প্রায় ১০০ গজ ভেতরে ভারতের ভূখণ্ডে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইন চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের লক্ষ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, শনিবার রাত ৩টার দিকে বুড়িমারী বামনদল এলাকার ৮৩৮/১ নম্বর প্রধান পিলারের কাছ দিয়ে ২ শিশু, ২ নারী ও ৮ পুরুষকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।
বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তরেখায় অবস্থান নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
মানবাধিকার সংগঠনের জেলা সভাপতি আল-আমিন হোসেন
নীলফামারীর জলঢাকায় নামধারী মানবাধিকার সংগঠনের জেলা সভাপতি আল-আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে স্ত্রী নাজমুন নাহারকে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও যৌতুকের কারণে অপদস্থ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ১৬ই অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখে জলঢাকা থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন তিনি।
এজাহারসূত্রে জানা যায়, নাজমুন নাহারের সঙ্গে আল-আমিন হোসেনের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হয়। পাশাপাশি নগদ অর্থও দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিনিয়ত যৌতুকের কারণে পারিবারিক তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। নাজমুন নাহারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকিয়া প্রেমে আসক্ত তাই অন্য নারীর সাথে বসবাস করছেন এবং সন্তানদের যথাযথ খোঁজখবর রাখছেন না। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অপদস্থ করা হয়। এজাহারে আরও দাবি করা হয়, তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তাঁর ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেন, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেও তিনি তাঁর অভিযোগ তুলে ধরেন। পরে প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন।
মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে স্ত্রীর এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত আল-আমিন ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমিও সাংবাদিক আমিও সাংবাদিক এটা নিয়ে নিউজ না করাই ভালে।তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে না দেখে যে নিউজ করবে আমি তার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলঢাকা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।