• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

চলতি সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। এর মধ্য দিয়ে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের বিষয়ে বেইজিংয়ের নেওয়া বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে।


গত সোমবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে 'শান্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক সকল প্রচেষ্টার' প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং 'রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে' চীনের অবস্থান তুলে ধরেন।


ওই ফোনালাপ নিয়ে চীনের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শি বলেছেন, 'হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পথ অক্ষুণ্ন রাখা উচিত, কারণ এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করে।'


গত সাত সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি অচল হয়ে পড়েছে। তবে বিবৃতিতে যুদ্ধে জড়িত প্রধান পক্ষগুলোর কারও নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালি দিয়ে বেশিরভাগ নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং এর জবাবে ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধ আরোপ করা হয়।


এমন পরিস্থিতিতে, শি জিনপিংয়ের এই সংযত বিবৃতির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের চরম বৈপরীত্য দেখা গেছে। একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, 'আমি একটি যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি, সবকিছু খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে' এবং ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি 'চুক্তিতে' না পৌঁছানো পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে।


বিশ্লেষকদের মতে, এটি এ বিষয়েরও ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে চীন কীভাবে বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে নিজেকে অধিকতর দায়িত্বশীল হিসেবে তুলে ধরেছে। যদিও বেশিরভাগ সময়েই বেইজিং সামনের সারিতে বা কেন্দ্রে থাকার চেয়ে নেপথ্যে থাকতেই বেশি পছন্দ করে।


অ্যাব্বা ইবান ইনস্টিটিউট ফর ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড ফরেন রিলেশনস-এর এশিয়া-ইসরায়েল পলিসি প্রোগ্রামের প্রধান গেদালিয়াহ আফটারম্যান বলেন, 'চীন কোনো নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়ে নয়, বরং অপেক্ষা করা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং সুযোগ বুঝে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে। আর তারা মার্কিনিদেরই এই ঝামেলার মোকাবিলা করতে দিচ্ছে।'


অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার দীর্ঘদিনের নীতি এবং ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকরী সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে বেইজিং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেকে একটি যুক্তিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।


ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তারা দেশটির উৎপাদিত তেলের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কিনে থাকে। এছাড়া ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি একটি 'বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে' স্বাক্ষর করেছিল চীন।


একই সঙ্গে বেইজিং গত এক দশক ধরে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং চীন এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েরই অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার।


চীনের ঝেজিয়াং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মেডিটেরানিয়ান রিম ইনস্টিটিউটের ডিন মা জিয়াওলিন বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এই দেশগুলো নিজেদের মধ্যে শত্রু হলেও, তারা সবাই আমাদের বন্ধু।'


আফটারম্যানের মতে, চীনের এই অহস্তক্ষেপ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতির কারণেই সম্ভবত চলতি মাসের শুরুতে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে 'সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টা' চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। সিরিয়া এবং মিয়ানমারের মতো সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরূপ উদ্যোগেও চীন ভেটো দিয়েছে।


তাইওয়ান-ভিত্তিক সোসাইটি ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো চ্যাং চিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যের বিপরীতে—ওই অঞ্চলে বেইজিংয়ের শীর্ষ অগ্রাধিকার এখনো অর্থনীতি। তিনি বলেন, শান্তি ব্যবসার জন্য ভালো, আর যুদ্ধ তা নয়।


তিনি আরও বলেন, 'চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করে। সংঘাতে কে জিতল, তা নিয়ে তাদের আসলেই মাথাব্যথা নেই। তাদের ইচ্ছা হলো মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।'


বেইজিং-ভিত্তিক হুটং রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার ফেং চুচেং বলেন, যুদ্ধে আরও উত্তেজনা বাড়লে তা 'চীনের অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এমন মাত্রার হুমকি তৈরি করবে, যা তাদের সরাসরি জড়িত হতে বাধ্য করতে পারে। কারণ চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ৪০ শতাংশেরও বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।'


চলতি মাসে নিজ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের উদ্দেশে লেখা এক গবেষণা নোটে তিনি বলেন, 'বেইজিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের কোনো সম্পৃক্ততা ইরান এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার যে প্রচেষ্টা তারা চালাচ্ছে, তা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।'


এদিকে বেইজিং এই যুদ্ধের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের সমন্বয়ে সাহায্য করতে 'সবার বন্ধু' হিসেবে তাদের অবস্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগ পর্যন্ত চীনের শীর্ষ কূটনীতিক– ওয়াং ই ২৬টি ফোনালাপ করেছেন। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন সংঘাতের মূল পক্ষগুলোর সঙ্গে প্রায় দুই ডজন বৈঠক করেছেন।


সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপের আগে, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট শি আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গেও একটি বৈঠকে অংশ নেন।


এত বিপুল কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ক্ষেত্রে বেইজিং যে ভূমিকা রেখেছিল, তার তুলনায় চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায়—নিজেদের ভূমিকাকে অপেক্ষাকৃত ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করেছে।


পর্যবেক্ষকদের মতে এর কারণ হলো, চীন একটি জটিল শান্তিচুক্তিতে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চায়।


সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ড্রিউ থম্পসন বলেন, 'চীন শান্তি প্রক্রিয়ার দায়ভার না নিয়েই শান্তিস্থাপনকারী হওয়ার চেষ্টা করছে। মূল কথা হলো মধ্যপ্রাচ্য চীনের মূল স্বার্থের জায়গা থেকে অনেক দূরে, তাই সেখানে ব্যয় করার মতো তাদের রাজনৈতিক পুঁজিও সীমিত।'


তারপরও চীনের এই প্রচেষ্টাগুলো অলক্ষ্যে থেকে যাবে না বলে মনে করেন ঝেজিয়াং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মা জিয়াওলিন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, 'আমি মনে করি, বিশ্ব জানে কারা স্থিতিশীলতা দেয়, কারা নিরাপত্তা দেয় এবং কারা আন্তর্জাতিক আইন ও শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।'


পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, চীন পর্দার আড়াল থেকে হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেওয়ার বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল, চীন ইরানে ম্যান-পোর্টেবল এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস)-এর একটি চালান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।


সিএনএনের ওই প্রতিবেদনের পর চলতি মাসে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর আরেকটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ইরান চীনের একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) সংগ্রহ করেছিল এবং তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চালাতে সেটি ব্যবহার করেছে।


বেইজিংয়ের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির পোস্টডক্টরাল ফেলো জোডি ওয়েন আল জাজিরাকে বলেন, মে মাসে শি ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি পরিকল্পিত বৈঠকের আগে বেইজিং এতটা 'অসতর্ক' হবে বলে তিনি মনে করেন না।


ওয়েন আল জাজিরাকে বলেন, 'চীন সরকারের কাছে চীন-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।'


শি জিনপিং একটি বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন শুল্কের বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার আশা করছেন। অন্যদিকে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আলাদা হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া বেইজিং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি দ্বিতীয় চীন-আরব শীর্ষ সম্মেলনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।


আফটারম্যানের মতে, ইরান যুদ্ধে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতির কথা বিবেচনা করার সময় চীন এই সব কয়টি বিষয়ই বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখবে।


তিনি বলেন, 'নিজেদের সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে চীন দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটছে। তারা যুদ্ধের পরের দিনটি নিয়ে ভাবছে... পুনর্গঠন প্রচেষ্টা, নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নতুন বিনিয়োগ নিয়ে ভাবছে। (পারস্য) উপসাগরের উভয় তীরেই চীন খুব সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চায়।'



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলায় একটি হোটেলে আগুন লেগে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে তারাপীঠ মন্দিরের কাছে এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে; খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।


এনডিটিভি জানিয়েছে, বীরভূমের মন্দির শহর তারাপীঠের একটি পাঁচতলা হোটেলের নিচতলায় ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন হোটেলের অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে দগ্ধ হয়ে ও ধোঁয়ায় দমবদ্ধ হয়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়। হোটেলটির নিচতলার অধিকাংশই পুড়ে যায়।


আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, “আমাদের এখানে রাতে পাহারার দায়িত্বে যারা ছিলেন তার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের তার বিচ্ছিন্ন করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন হোটেলের সাজসজ্জার ফাইবার আবরণগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।


“ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা ঘর ছেড়ে বাইরে এসে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। পিছন দিক দিয়ে বের হওয়ার দরজা থাকলেও অন্ধকারের মধ্যে সেটা কেউ খুঁজে পাননি। তারা রিসেপশনের সামনে দিয়ে বের হতে শুরু করলে আগুন দগ্ধ হন।”


হোটেলের উপরের তলাগুলোতে অনেকে আটকা পড়েছিলেন। তবে আগুন দোতালার উপরে উঠেনি। তাই তারা বেঁচে যান। হোটেলটির অধিকাংশ অতিথিই পুণ্যার্থী। তারা তারাপীঠ মন্দিরে পূজা দিতে এসেছিলেন। মৃতদের নাম, পরিচয় জানা যায়নি।


দমকল বিভাগের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।


ঘটনার খবর পেয়ে নিকটবর্তী থানা থেকে পুলিশ হাজির হয়েছে ও তদন্ত শুরু করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২০ পিএম

মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকার শনিবার (১৫ আগস্ট) জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের নয় বছর পূর্তির প্রাক্কালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দিলো। মিয়ানমারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাইয়ের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা তারা যাচাই করেছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। যাচাই করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।


মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সফলভাবে যাচাই করা যায়নি। এছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জন ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ছিলেন বলে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করা এসব সাবেক বাসিন্দাকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে মিয়ানমার।



এদিকে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে- এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। আর উত্তর রাখাইনে ২ লাখের বেশি মানুষ থেকে যায়।



প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুই বছরের একটি প্রত্যাবাসন কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে দেশটির সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এতে মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। এরপর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগগুলো বাস্তবে কার্যকর হয়নি।


২০২৩ সালে রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা এই যুদ্ধে আরও বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। জীবন বাঁচাতে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবনযাত্রার অবনতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা না থাকায় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য হচ্ছেন। অযোগ্য ও অনিরাপদ নৌযানে করে তারা মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে সমুদ্র পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছেন।



জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মিয়ানমার তার দেশে বসবাসরত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। এটি একটি প্রত্যাবাসন উদ্যোগের অংশ বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তবে সে সময় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং এপি’কে জানান, ওই কর্মসূচি শুধু মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। 


রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সরকার সম্মত হয়েছে- এমন প্রতিবেদনও তিনি নাকচ করে দিয়েছিলেন। সর্বশেষ বাংলাদেশে থাকা তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিয়ে রাজি হয়েছে দেশটি। তবে এতেও দেশটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভয়াবহ দমন-পীড়নের মুখে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। 


এর আগে থেকেই কয়েক দফা সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন। এসব সহিংসতা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অভিযানের ফলে সংঘটিত হয়েছিল। ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা, পরিকল্পনা ও নৃশংসতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের ব্যাপক অভিযোগ তোলে।


মিয়ানমার, যা আগে বার্মা নামে পরিচিত ছিল, দেশটির ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না। বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫৩ পিএম

  • উপকেন্দ্রের কাছের এলাকাগুলোয় এখনো পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকর্মীরা।


  • কয়েকটি প্রদেশে প্রবল কম্পন অনুভূত।


  • ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার।


ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে আজ শনিবার ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং তা পরবর্তী একের পর এক পরাঘাতের ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। 


এদিকে উদ্ধারকর্মীরা উপকেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের এলাকাগুলোয় পৌঁছাতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।


ভোররাতের এই ভূকম্পনের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটির বেশ কিছু এলাকায় ১ মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়। তবে ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।


দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন।


এর আগে বন্দর নগরী মাউমেরের উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানান, সেখানে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, আহত হয়েছেন ৬ জন এবং ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন ২ জন। ইন্দোনেশিয়ার বিশাল দ্বীপপুঞ্জের পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা রেজেন্সির প্রধান শহর হলো এই মাউমেরে।


সুহারিয়ান্তো জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি ভবনে এখনো বাসিন্দারা আটকা পড়ে আছেন এবং ভূমিধসের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


উপকেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের অঞ্চল নাগেকেওতে এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি এবং সেখানকার যোগাযোগের ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফাতুর। তিনি জানান, সড়কপথে গাড়িতে করে নাগেকেও যাওয়ার চেষ্টা ভূমিধসের কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আরেকটি দল ফেরিতে করে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।


ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘুমের মধ্যে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।


ইস্ট নুসা টেঙ্গারার তালিবুরা গ্রামের ৫১ বছর বয়সী বাসিন্দা নোনা বলেন, ভূমিকম্পটি ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী, ধাক্কাটা এতই তীব্র ছিল যে প্রাণ বাঁচাতে আমরা সবাই দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসি।


ইন্দোনেশিয়ার ভূপ্রকৃতিবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ১৫ কিলোমিটার গভীরে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং পরবর্তী সময় বেশ কয়েকটি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়।


ইন্দোনেশিয়া প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ে অবস্থিত, যা একটি ভূকম্পন সক্রিয় অঞ্চল। পৃথিবীর ভূত্বকের বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থল হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে।

সর্বশেষ সব খবর

বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ফ্লাইট ডেক থেকে উড্ডয়ন করছে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান। ৩১ জুলাই ২০২৬

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর দায়িত্ব পালন শেষে কবে নাগাদ ফেরা যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠানো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নাবিক ও সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। একই সঙ্গে তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাবিকদের পরিবার ও সহকর্মীরা। সম্প্রতি এ উদ্বেগের কথা সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। 


সান ডিয়েগোতে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত টাউন হল সভায় নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে তাঁরা এ ক্ষোভ উগরে দেন। সভায় উপস্থিত দুই নাবিকের স্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


সান ডিয়েগোর ওই সভায় আনুমানিক ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অংশ নেওয়া এক নাবিকের স্ত্রীর ভাষ্য, সভার দিনই তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে একটি বার্তা পান। 


অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি কর্মকর্তাদের জানান, তাঁর স্বামী তাঁকে লিখেছেন যে ‘তিনি আশা করেন আগামীকাল যেন তাঁর আর ঘুম না ভাঙে।’


ওই নারী আরও জানান, সভায় উপস্থিত নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সুনির্দিষ্ট বা আবেগঘন বক্তব্যের কোনো সরাসরি জবাব দেননি। তবে জাহাজে থাকা নাবিকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী, চ্যাপলিন (ধর্মীয় শিক্ষক) এবং চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তাঁরা।


একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুদ্ধজাহাজটিতে আরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ পাঠানোর কাজ চলছে বলে জানান নৌবাহিনীর সেই কর্মকর্তারা।


টানা ২৫০ দিন সমুদ্রে: চরম ক্লান্তি ও হতাশায় মার্কিন নাবিকেরা


গত সপ্তাহের সভায় যে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে, তার সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় নাবিক ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর কাছে ব্যক্ত করা মতামতের হুবহু মিল রয়েছে।


বর্তমানে কর্মরত নাবিক ও তাঁদের পরিবারের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রু সদস্যদের ডজনখানেক মন্তব্য ও পোস্ট থেকে এ সংকটের গভীরতা স্পষ্ট। তাঁদের বিবরণ অনুযায়ী, চরম ক্লান্তি ও মনোবল ভেঙে পড়ায় নাবিকেরা প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। এর মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তার মতো গুরুতর বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি অন্তত একজন ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া থেকে বিরত রাখার ঘটনাও ঘটেছে।


নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এ যুদ্ধজাহাজের নাবিকেরা। মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীন ৪০ দিন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাভিযানে অংশ নিতে হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে সমুদ্রে টানা ২৫০ দিন পার করার এক নজিরবিহীন ধকল সামলাচ্ছেন তাঁরা।


গত নভেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনের উদ্দেশ্যে এ বিমানবাহী রণতরি সান ডিয়েগো ত্যাগ করেছিল। তবে পরে সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে কোনো ধরনের বন্দরবিরতি বা যাত্রাবিরতি ছাড়াই সমুদ্রে রেকর্ডসংখ্যক দিন পার করে আট মাসের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে যুদ্ধজাহাজটি।


ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সফল করতেই ক্রুদের এ দীর্ঘ সময় পার করতে হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত মে মাসে এ মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তাঁরা ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।


সভায় মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে নৌবাহিনী ঠিক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রণতরিটিতে পরামর্শক, চ্যাপলিন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অন্যান্য জরুরি সহায়তাসহ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।


খাদ্য-পানির সংকট, বাড়ি ফিরতে চান ৫ হাজার সেনা


মার্কিন নৌবাহিনী গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নাবিকদের মানসিক সুস্থতা পর্যবেক্ষণ ও বজায় রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত মূল্যায়ন বা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যাচ্ছে।’


এদিকে প্রতিশোধ বা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় এ প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়া নাবিকদের স্ত্রী, পরিবারের অন্য সদস্য ও কর্তব্যরত নাবিকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’সেই অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে।


পরিবারের সদস্য ও নাবিকদের অভিযোগ, আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্য চরম খাদ্য ও পানিসংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিঠি বা ডাক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং একটানা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যেখানে বিশ্রামের সুযোগ মেলাই ভার।


সাধারণত সাগরে থাকাকালীন নাবিকদের একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর করতে নিয়মিত বিরতিতে বন্দরে যাত্রাবিরতি বা ‘পোর্ট কল’ দেওয়া হয়। তবে মোতায়েনের দীর্ঘ সময়ে আব্রাহাম লিংকনের ক্রুরা এমন কোনো স্বাভাবিক সুযোগ পাননি বললেই চলে।


মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, রসদ সংগ্রহ, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রুদের বিশ্রামের জন্য সাধারণত প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর বিমানবাহী রণতরিগুলো কোনো না কোনো বন্দরে নোঙর করতে হয়।


যুদ্ধজাহাজটিতে থাকা এক নাবিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুরো মোতায়েনজুড়ে আমরা কোনো বিরতি ছাড়াই জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করে গেছি।’ অথচ মোতায়েনের শুরুতে বিভিন্ন বন্দরে যাওয়া এবং বিশ্রামের আশায় সবার মনোবল বেশ চাঙা ছিল বলে তাঁর মন্তব্য।


বর্তমানে ক্রুদের মনোবল এতটাই ভেঙে পড়েছে যে তাঁরা সামনে কোনো বন্দরে বিশ্রামের সুযোগও চান না; বরং যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার স্বার্থে যেকোনো বিরতি ত্যাগ করতে তাঁরা রাজি। সেই নাবিকের আকুতি, ‘এই মুহূর্তে আসলে আমাদের আর কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা শুধু বাড়ি ফেরার একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ চাই।’


জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা: নাবিকের করুণ আকুতি


নাবিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করা সামরিক জীবনেরই অংশ। তবে সেটি তাঁরা মেনে নিলেও অনেকেরই অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা না করেই এ যুদ্ধজাহাজের ক্রুদের অস্বাভাবিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে টানা যুদ্ধাভিযান চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে।


গত জুলাই মাসে এক চিন্তিত অভিভাবক ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-কে দেওয়া এক চিঠিতে লেখেন, ‘আমার ছেলে বর্তমানে ওই যুদ্ধজাহাজে আছে। সে এবং তার সহকর্মীরা একটু স্বস্তি পেতে প্রতিনিয়ত জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভাবছে, এটি শোনা একজন বাবার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।’


নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এই অভিভাবক আরও বলেন, ‘আমরা রাতে ঘরের নরম বিছানায় আরামে ঘুমাই, অথচ আমাদের প্রিয়জনেরা ওখানে যুদ্ধ করছে। তারা আসলে কিসের জন্য জীবন বাজি রাখছে, সেটিও তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’


জাহাজে থাকা একাধিক নাবিক জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে এক ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। এক নাবিকের ভাষ্য, ‘আমাদের এখানে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে দায়িত্বরত প্রহরীদের এক নাবিককে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে আটকাতে হয়েছিল।’ ঘটনাটি পুরো জাহাজের লাউডস্পিকারে ঘোষণার মাধ্যমে সব ক্রুকে জানানো হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।


তবে এই সুনির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নের উত্তরে বাহিনী জানিয়েছে, ‘কর্তৃপক্ষ সব সময়ই পরিবারগুলোর কথা শুনতে, সেনাসদস্যদের পাশে দাঁড়াতে এবং আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের লক্ষ্য নিরাপদে ও সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সম্পদ বা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’


নাবিক, তাঁদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, এর আগে আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে খাবার রেশন করে দেওয়া, তীব্র পানির সংকট এবং টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কাপড় লন্ড্রি করতে না পারার মতো বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন সেসব সমস্যার বড় অংশই সমাধান হয়েছে এবং চিঠি বা ডাক যোগাযোগের ব্যবস্থাও ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে বলে তাঁদের মত।


মানসিক ভাঙন ও তীব্র হতাশা, তা-ও মিলছে না ফেরার তারিখ


গত জুলাইয়ের শুরুতে ওমানের একটি বন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির কারণে যুদ্ধজাহাজটিতে নতুন করে রসদ সরবরাহের সুযোগ হয়। ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস পর ক্রুরা তাজা ফলমূল ও শাকসবজি পান বলে জানান এক নাবিক। তবে সে সময় অনেক নাবিককে জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁদের বন্দর এলাকার একটি সুরক্ষিত সীমানার মধ্যেই আটকে রাখা হয়েছিল।


এর আগে গত ডিসেম্বরেও ‘আব্রাহাম লিংকন’ গুয়াম দ্বীপে একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছিল। কিন্তু জাহাজে থাকা অনেক নাবিকই সেই সময় তীরে নামার সুযোগ পাননি বলে জানান তাঁদের স্ত্রীরা।


সেনাসদস্যদের জন্য নিয়মিত বন্দরবিরতির অভাব, ডাক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ঘাটতি নিয়ে এক নাবিকের স্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিজের মানুষের (নাবিক) এই অবস্থা দেখাটা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।’ অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চোখের সামনে আমার স্বামীকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখছি। মনে হচ্ছে, তারা যেন সব আশাই হারিয়ে ফেলছে।’


নৌবাহিনী অবশ্য তাদের জবাবে উল্লেখ করেছে যে লিংকন যুদ্ধজাহাজটি বর্তমানে অত্যন্ত বৈরী ও যুদ্ধসংক্ষুব্ধ এক পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলো সামরিক সংঘাতের কারণে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।


এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে মিশনের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর তালিকায় প্রথমে খাবার, তারপর স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ও সবশেষে চিঠি বা ডাকের স্থান। 


নৌবাহিনীর দাবি, যুদ্ধজাহাজ থেকে আসা সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করছে যে সেখানে পরিষ্কার পানি, সচল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও প্রতিবেলার খাবারে দুটি আমিষের ব্যবস্থা রয়েছে। রসদ সরবরাহের এ প্রবাহ দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে।


গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দুটি সভার (একটি সশরীর ও অন্যটি অনলাইনে) একটিতে নেভাল এয়ারফোর্সেসের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল ডগলাস ভেরিসিমো, নেভাল সারফেস ফোর্সেসের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জোসেফ কাহিলসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত নৌ সেক্রেটারি হাং কাও সশরীর উপস্থিত থাকলেও ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন না।


সভায় অংশ নেওয়া এক নারী কাও, ভেরিসিমো ও কাহিলকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের এবং নেতৃত্বের মধ্যকার বিশ্বাসের জায়গাটি সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’


সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘ইউএসএনআই নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ১৬২ দিনের একটি মোতায়েন শেষে ঘরে ফেরার এক বছরের কম সময়ের মধ্যে সান ডিয়েগোর নিজস্ব বন্দর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল লিংকন। কিন্তু এর পরপরই রণতরিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং গত জানুয়ারি মাসে সেটি সেখানে পৌঁছায়। সেই থেকে আজ অবধি যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরেই অবস্থান করছে।


সামরিক নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আব্রাহাম লিংকন কবে দেশে ফিরবে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানান নাবিকদের স্ত্রীরা।


বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, লিংকন যুদ্ধজাহাজের নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের বর্ণনা করা এ পরিস্থিতিগুলো সমুদ্রে থাকা সেনাসদস্যদের জন্য তীব্র মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ।


একাডেমিক জার্নাল ‘মিলিটারি মেডিসিন’-এ ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মোতায়েনকালে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নিতে না পারা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগই নাবিকদের সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।


বিমানবাহী রণতরি, ডেস্ট্রয়ার এবং উভচর যুদ্ধজাহাজে কর্মরত ৯৫৬ জন নাবিকের ওপর পরিচালিত এ সমীক্ষায় আরও উঠে আসে যে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে জটিলতা এবং মানসিক চাপ কমানোর সুযোগের অভাবও তাঁদের বড় উদ্বেগের কারণ।


নৌবাহিনীতে দীর্ঘ ২০ বছর দায়িত্ব পালন করা ও চারবার মোতায়েন হওয়া অবসরপ্রাপ্ত চিফ পেটি অফিসার থমাস নাটজম্যান জানান, একটি মোতায়েন কবে শেষ হবে, তা না জানাটা নাবিকদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। 


দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নাটজম্যান বলেন, ‘সেখানে কোনো সোম, মঙ্গল বা বুধবার নেই; প্রতিটি দিনই যেন একটি দিন। আপনি আপনার সাধ্যমতো ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেন।’


সংকটের জায়গাটি উল্লেখ করে নাটজম্যান বলেন, ‘সমস্যা হলো, আপনি যখন অনেক লম্বা সময় সমুদ্রে থাকবেন, তখন মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা একটা সময় এসে থমকে যাবে আর ঠিক সেখান থেকেই মানসিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করবে।’ 

সর্বশেষ সব খবর

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩০ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে–মিউং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। 


আজ শনিবার তিনি বলেন, সংঘাত ঠেকাতে সিউল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি ‘শান্তিব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।


জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার স্বাধীনতালাভের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য দুই কোরিয়ার আলোচনায় বসা উচিত। তিনি ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।


উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে ওই যুদ্ধের অবসান ঘটলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি।


লি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সিউল আগাম ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।


লির এ আহ্বান মূলত গত বছর দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থাকে সম্মান জানানো এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন।


তবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক এখনো অচলাবস্থার মধ্যে আছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উন দুই কোরিয়াকে আবার এক করতে পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘদিনের নীতি বাদ দিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার ‘সবচেয়ে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।


এদিকে লির দেওয়া সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি সংক্রান্ত পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে তারা।


দ্য হিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ থেকে ৭৬ বছর আগে ১৯৫০ সালের ২৫ জুন ভোরে কমিউনিস্ট কোরিয়ান পিপলস আর্মির সেনারা সমন্বিত হামলা চালিয়ে দক্ষিণে রিপাবলিক অব কোরিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন।


কামান থেকে গোলা ছোড়ার পাশাপাশি সোভিয়েত নির্মিত ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান নিয়ে কোরিয়ান পিপলস আর্মি দ্রুত অগ্রসর হতে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী তখন একেবারেই অপ্রস্তুত ছিল। এ অবস্থায় তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে উত্তর কোরীয় বাহিনী দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল দখল করে নেয়। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও স্বৈরশাসক সিংম্যান রি উপকূলীয় শহর বুসানে অস্থায়ী রাজধানী স্থাপন করেন।


কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি আজও হয়নি। ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হলেও সংঘাতটি আইনগতভাবে এখনো স্থগিত অবস্থায় আছে। দুই পক্ষের মধ্যে কখনো কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া (উত্তর কোরিয়া) ও রিপাবলিক অব কোরিয়া (দক্ষিণ কোরিয়া) এখনো উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত। তাদের মধ্যে ১৬০ মাইল দীর্ঘ একটি ডিমিলিটারাইজড জোন আছে। দুই দেশের এ সীমান্ত এলাকায় প্রায় ২০ লাখ সেনা টহল দিয়ে থাকেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

দক্ষিণ লেবাননের একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পাশাপাশি দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় কৃষিজমিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খব পাওয়া গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে লেবানন ও সিরিয়ার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা হুলা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিমান দিয়ে টাইর জেলার ওয়াদি আদশিত আল-কুসাইর ও মানসুরি শহরে হামলা করা হয়েছে।


সংবাদমাধ্যম আল-মানার জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠেও হামলা চালায়। পাশাপাশি একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার আলি আল-তাহের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি অভিযান পরিচালনা করে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এসব হামলায় ফসফরাস শেলসহ নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।


অন্যদিকে, সিরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী কুনেইত্রা এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের আল-রাফিদ শহরের কৃষিজমিতে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন হিজবুল্লাহর নেতা শেখ নাইম কাসেম। তিনি এই আলোচনার কাঠামোকে মার্কিন-ইসরায়েলি দাবির কাছে লেবাননের সার্বভৌমত্ব সমর্পণের শামিল বলে অভিহিত করেছেন। তাই লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নাইম কাসেম। তিনি এই প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ ও অপমানজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন।


কাসেম বলেন, তথাকথিত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি মূলত ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া শর্তের সমষ্টি। সাত দফা আলোচনার পর লেবানন সরকার কী কোনো একটা কিছু অর্জন করতে পেরেছে? এমন একটি উদাহরণ দেখানোরও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।


তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর অস্ত্র বা প্রতিরোধের অস্ত্রসম্ভারকে লক্ষ্যবস্তু করছে অথচ ইসরায়েলের চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।


ইসরায়েলি সামরিক হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মাসে (চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে) এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন ১২ হাজার ২৭৭ জনের বেশি। এছাড়া প্রায় ১৫ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।


সর্বশেষ সব খবর